ওমানের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
ওমান, আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি সুলতানাত, যা তার ঐতিহ্যবাহী মরুদ্যান, রুক্ষ পাহাড়, সবুজ ওয়াদি (উপত্যকা), মনোরম উপকূলরেখা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। মাস্কাটের (Muscat) গ্র্যান্ড মসজিদ (Grand Mosque) ও মুত্রাহ সৌক (Muttrah Souq), নিজওয়া দুর্গ (Nizwa Fort) ও বাজার, ওয়াদি শাব (Wadi Shab) এর প্রাকৃতিক পুল, এবং রুবা' আল খালি (Rub' al Khali) মরুভূমির বিশালতা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। ওমান তার উষ্ণ আতিথেয়তা এবং আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের সফল সমন্বয়ের জন্য পরিচিত। এটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা মধ্যপ্রাচ্যের একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ গন্তব্যে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ওমান ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। ওমান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা প্রদান করে না। পূর্বে কিছু অনলাইন ভিসা প্রক্রিয়া থাকলেও, বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু পেশা বা শর্ত ছাড়া অধিকাংশ বাংলাদেশীকে সরাসরি ওমানের রয়্যাল ওমান পুলিশ (Royal Oman Police - ROP) দ্বারা অনুমোদিত স্পনসর বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হতে পারে। যদিও ই-ভিসার একটি পোর্টাল আছে, কিন্তু সকল ক্যাটাগরির জন্য এটি উন্মুক্ত নাও থাকতে পারে।
১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)
ওমানের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পর্যটন ভিসা (Tourist Visa - Sponsorship Required):
উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ইত্যাদি।
স্পনসরশিপ: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই ভিসার জন্য ওমানের একটি স্থানীয় স্পনসর (Local Sponsor) (যেমন একটি হোটেল, ট্র্যাভেল এজেন্সি, বা ব্যক্তিগত স্পনসর) প্রয়োজন হতে পারে। স্পনসর সাধারণত ওমানের রয়্যাল ওমান পুলিশ (ROP)-এর মাধ্যমে ভিসার আবেদন করে।
মেয়াদ: সাধারণত ১০ দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry) ভিসা হতে পারে।
বিশেষ বিবেচনা: পর্যটন ভিসায় ওমানে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।
ই-ভিসা (e-Visa) - শর্ত সাপেক্ষে:
ওমানের একটি ই-ভিসা পোর্টাল রয়েছে (যেমন:
)। তবে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি পর্যটন ই-ভিসা পাওয়ার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কিছু ক্ষেত্রে, উন্নত দেশের রেসিডেন্স পারমিট (যেমন শেনজেন, ইউএস, ইউকে, কানাডা) বা নির্দিষ্ট উচ্চ পেশার অধিকারী ব্যক্তিরা (যেমন ডাক্তার, প্রকৌশলী) সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। এই শর্তগুলি নিয়মিত পরিবর্তিত হয়, তাই আবেদন করার আগে ROP ই-ভিসা পোর্টালে আপনার যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া অত্যাবশ্যক।https://evisa.rop.gov.om/ যদি আপনি সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য না হন, তবে আপনাকে স্পনসরশিপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)
বাংলাদেশে ওমানের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকরা ওমানের ভিসার জন্য সাধারণত স্পনসরশিপের মাধ্যমে অথবা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ওমানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন (যদি দূতাবাস সরাসরি পর্যটন ভিসা আবেদন গ্রহণ করে)। ই-ভিসার যোগ্যতা থাকলে সেটিও একটি বিকল্প।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: ওমানের ভিসা নীতি এবং যোগাযোগের বিবরণ প্রায়শই পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সরাসরি ওমানের রয়্যাল ওমান পুলিশ (ROP)-এর ই-ভিসা পোর্টাল, অথবা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ওমানের দূতাবাস (যদি প্রযোজ্য হয়) এর সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা আবশ্যক।
সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:
ধাপ ১: যোগ্যতা যাচাই (ই-ভিসা):
প্রথমে ROP ই-ভিসা পোর্টালে গিয়ে আপনার জাতীয়তা এবং অন্যান্য তথ্য দিয়ে আপনি সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য কিনা তা পরীক্ষা করে নিন।
ধাপ ২: স্পনসর নির্বাচন (যদি ই-ভিসা যোগ্য না হন):
যদি আপনি সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য না হন, তাহলে আপনাকে ওমানের একটি স্থানীয় হোটেল, ট্র্যাভেল এজেন্সি, বা ব্যক্তিগত স্পনসর খুঁজে বের করতে হবে যারা আপনার জন্য ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক। অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি এবং হোটেল বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই পরিষেবা প্রদান করে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:
আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে অথবা ইংরেজি অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।
ধাপ ৪: আবেদন জমা দেওয়া (ROP/দূতাবাস/স্পনসর):
যদি ই-ভিসার জন্য যোগ্য হন: সরাসরি ROP ই-ভিসা পোর্টালে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করুন, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন এবং ফি পরিশোধ করুন।
যদি স্পনসরশিপের মাধ্যমে: আপনার স্পনসর (হোটেল/এজেন্সি) আপনার কাছ থেকে সকল প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবে এবং তাদের মাধ্যমে ROP-এর কাছে ভিসার আবেদন জমা দেবে। এই প্রক্রিয়ায় আপনি সরাসরি রয়্যাল ওমান পুলিশের সাথে যোগাযোগ করবেন না, স্পনসরই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
যদি ভারতের দূতাবাসে আবেদন করতে হয় (খুব বিরল): ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ওমানের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিন তারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি পর্যটন ভিসা আবেদন গ্রহণ করে কিনা এবং তাদের প্রক্রিয়া কী। সাধারণত দূতাবাসগুলি কেবল কূটনৈতিক বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য কাজ করে।
ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:
ভিসার ফি ভিসার ধরন এবং মেয়াদের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ই-ভিসার জন্য অনলাইনে, এবং স্পনসরশিপের জন্য স্পনসরের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হয়।
আনুমানিক ভিসা ফি (OMR): ১০ দিনের জন্য ৫ ওমানি রিয়াল (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার), ৩০ দিনের জন্য ২০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৫২ মার্কিন ডলার)।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৬: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৫-১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
ধাপ ৭: ভিসা অনুমোদন:
ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনার স্পনসর আপনাকে ভিসার একটি প্রিন্টেড কপি পাঠাবে (ই-ভিসার ক্ষেত্রে আপনি ইমেইলে পাবেন)। এই অনুমোদিত ভিসার কপি নিয়ে আপনি ওমানে ভ্রমণ করতে পারবেন। ওমানের প্রবেশ বন্দরে আপনার ভিসার তথ্য যাচাই করা হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)
ওমানের ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্ট:
মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ ওমান থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) ফটোকপি।
পাসপোর্ট আকারের ছবি:
সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ১-২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন)।
কভারিং লেটার (যদি প্রয়োজন হয়):
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ থাকবে।
ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:
ওমান থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)।
আবাসনের প্রমাণ:
হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।
যদি ওমানে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) যেখানে আপনার থাকার ঠিকানা, উদ্দেশ্য এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, আইডি/রেসিডেন্ট কার্ডের কপি) উল্লেখ থাকবে।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:
গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা ওমানে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।
ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
পেশার প্রমাণ:
চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।
শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC)।
অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:
আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।
অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):
বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।
বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।
নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে।
৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)
বর্তমানে বাংলাদেশে ওমানের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।
৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন
যেহেতু বাংলাদেশে ওমানের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকরা ওমানের ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ওমানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন, যদি তারা সরাসরি আবেদন গ্রহণ করেন। তবে, প্রধান প্রক্রিয়াটি হলো ওমানের অভ্যন্তরে স্পনসরের মাধ্যমে আবেদন করা।
ওমানের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of the Sultanate of Oman in New Delhi, India):
ঠিকানা: EP-10 & 11, Chandragupta Marg, Chanakyapuri, New Delhi 110021, India.
ফোন: +91 11 2688 5622 / +91 11 2688 5623
ই-মেইল: delhi@mofa.gov.om (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।
ওয়েবসাইট: (সরাসরি নিজস্ব ওয়েবসাইট নাও থাকতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তালিকা বা ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে)।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। যেহেতু দূর থেকে আবেদন করা হবে, তাই কুরিয়ার বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও নথি পাঠানো এবং ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্পনসরের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করাটাই বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সহজ এবং প্রচলিত পদ্ধতি।
৬. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)
ই-ভিসা (e-Visa): ওমানের রয়্যাল ওমান পুলিশ (ROP) এর একটি অনলাইন ই-ভিসা পোর্টাল রয়েছে। কিন্তু, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি পর্যটন ই-ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা খুবই সীমিত। সাধারণত, যদি আপনার কাছে শেনজেন, ইউএস, ইউকে, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার বৈধ ভিসা/রেসিডেন্স পারমিট থাকে অথবা আপনি নির্দিষ্ট উচ্চ পেশার (যেমন ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক ইত্যাদি) অধিকারী হন, তবে আপনি সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। যোগ্যতার শর্তাবলী ROP ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপডেট হয়।
ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival): ওমান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা প্রদান করে না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেহেতু ওমানের ভিসা নীতি নিয়মিত পরিবর্তিত হয় এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসরশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অফিসিয়াল উৎস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা সহজে ওমানের ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সম্মানিত পাঠক, ওমান ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে, রয়্যাল ওমান পুলিশের ই-ভিসা পোর্টালে আপনার যোগ্যতা যাচাই করুন। যদি আপনি সরাসরি ই-ভিসার জন্য যোগ্য না হন, তাহলে একটি নির্ভরযোগ্য ওমানি ট্র্যাভেল এজেন্সি বা হোটেলে যোগাযোগ করে আপনার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করুন। পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন এবং সকল নথি নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করুন। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।
GRAMEEN TOURS & TravelsWhatsapp: 01336-556033 Email: grameentour@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন