EU লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
EU লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

শেনজেন ভিসার আবেদন করবেন যেভাবে

শেনজেন ভিসার আবেদন করবেন যেভাবে

ইউরোপে ভ্রমণ করতে ইচ্ছে হয় না কার! সব দেশের পর্যটকরাই এই মহাদেশে বেড়াতে চায়। ইউরোপে আকর্ষণীয় অসংখ্য গন্তব্য, স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে। এগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের ভ্রমণে উৎসাহিত করে তোলে নিঃসন্দেহে। তাই প্রতিবছরই পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউরোপ তথা শেনজেন দেশগুলোতে পর্যটন কিংবা যেকোনও কাজে প্রত্যেক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারেন। এজন্য পেতে হয় শেনজেন ভিসা। এক ভিসাতেই ২৬টি দেশে বেড়ানো যায়। তাই এটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আরাধ্য।শেনজেন ভিসার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয় তা জানতে আগ্রহী অনেকে। কিন্তু ভিসার জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া পরিশ্রম ও ঝামেলার কাজ! সেই সঙ্গে ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই। ঠিক এসব কারণেই ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের শরণাপন্ন হন ভ্রমণপ্রেমীরা। স্বাভাবিকভাবেই ইউরোপে যাওয়ার খরচ বেড়ে যায় তাদের।

বর্তমানে শেনজেন ভিসা দিয়ে থাকে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিকটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লাক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।

শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনের পরিকল্পনা করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। এগুলো হলো –

১. তিন-চার মাস আগে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। ইউরোপের যেসব দেশ বা শহর কাছাকাছি সেগুলো নির্বাচন করলে বেড়ানো সম্ভব হয়। এতে করে খরচ লাগে কম। আর সময়ও বাঁচানো যায়। এক্ষেত্রে পূর্ব ইউরোপ বা পশ্চিম ইউরোপের দিকে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।


২. বিমানের রিটার্ন টিকিট কম টাকায় বুকিং দিতে নিয়মিত গবেষণা করতে হয়। এক্ষেত্রে হ্রাসকৃত মূল্যে টিকিটের খোঁজ পেতে চার-পাঁচটি বুকিং ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা যেতে পারে। ছুটির দিন বাদে ভ্রমণের তারিখ বেছে নিলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ভিসা পাওয়ার আগে কোনোভাবেই টিকিট কেনা যাবে না। শুধু বুকিং দিলেই চলবে।


৩. ফ্লাইটের মতো হোটেলও আগাম বুকিং দিন। এক্ষেত্রে টাকা ফেরতযোগ্য অপশন বেছে নিতে হবে। ভিসা না পেলে কিংবা অন্য কোথাও থাকার পরিকল্পনা করলে অথবা যেকোনও সময় অন্য বিকল্প নির্বাচন করে যেন পুরনো বুকিং বাতিল করা যায়। পরিবারের সঙ্গে গেলে দুই-তিন তারকা মানের হোটেল বুকিং দিলে ভালো। বন্ধুদের নিয়ে কিংবা দলবেঁধে গেলে হোস্টেল বেছে নিতে পারেন।


৪. ব্যাংকের সিলসহ নিজের অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয় সব কাগজ সংগ্রহ করুন। বিবাহিত কিংবা বিবাহিতা হলে বিয়ের সনদ, ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সেভিংস স্টেটমেন্ট ও অন্যান্য কাগজ নিতে হবে যার মাধ্যমে নিজের মোট অর্থ দেখানো যায়।


৫. চাকরিজীবীরা কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্র (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করে নিন। এর সুবাদে ভিসা বাতিলের আশঙ্কা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।


৬. অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কিংবা বাসের টিকিট আগাম বুকিং দিন। ইউরোপের বিভিন্ন শহরে কম ভাড়ায় বাস ও বিমান চলাচল করে। তবে সেখানে ট্রেন ব্যয়বহুল, তাই এই বাহন এড়ালে টাকা বাঁচবে।

৭. বীমা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ট্রাভেল হেল্থ ইন্স্যুরেন্স করিয়ে নিন। ইউরোপ ভ্রমণের জন্য এটি অত্যাবশ্যকীয়। বাংলাদেশে শেনজেন ভিসার বীমা প্রদানের জন্য শেনজেন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আছে।


৮. ব্যাংকের কাগজপত্র, হোটেল বুকিং, বীমা ও আন্তঃনগর ফ্লাইটের বুকিং কিংবা বাসের টিকিট প্রিন্ট দিন। আবেদনের তিন মাসের মধ্যে তোলা নির্ধারিত মাপের দুই কপি ছবি লাগবে। আবেদনে শেনজেন দেশ থেকে ফেরার উল্লেখ করা তারিখের পর কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট থাকা চাই।

৯. যেসব কাগজে স্বাক্ষর প্রয়োজন সেগুলোতে নিজের নাম লিখুন। প্রথমে যে দেশে যাবেন সেই দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অনলাইনে ফ্রান্স দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়।

১০. অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে হাজির হবেন। সব কাগজ দূতাবাসে ভিসা অফিসারের কাছে জমা দিন। সাক্ষাৎকারে তিনি সন্তুষ্ট হলে ভিসা ফি চাইবেন। শেনজেন ভিসার মূল্য ৬০ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৮০ ইউরো করা হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। টাকা প্রদানের পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়।


ভিসার জন্য আবেদন জমাদানের পর কমপক্ষে ১৫ দিন অপেক্ষা করুন। দেশভেদে ২১ দিন লাগতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্রমণের ছয় মাস আগেই আবেদন করা যাবে। একবার শেনজেন ভিসা পেয়ে গেলেই ইউরোপে পর্যটকদের দারুণ সময় কাটবে নিঃসন্দেহে। যতটা সম্ভব খরচ কম রাখতে এখানে টিপস দেওয়া হলো।

শেনজেন ভিসার জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তার পরিপূর্ণ গাইডলাইনস

 শেনজেন ভিসার জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তার পরিপূর্ণ গাইডলাইনস

পাঠকদেরকে সঠিক তথ্য দিতে এই নিবন্ধটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয়। সুতরাং আপনার ভিসা আবেদনের সময় পড়ে দেখে নিন কোনো নতুন তথ্য যোগ হয়েছে কি না

যেকোনো কারণে শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি ব্যক্তিকে তার জাতীয়তার উপর নির্ভর করে ভিসার শর্ত পূরণ করে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।

শেনজেন বলতে বোঝানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টফ্রি জোন বা অঞ্চল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ এ চুক্তির অধীনে রয়েছে। শেনজেনভুক্ত অঞ্চলের যেকোনো সদস্যদেশের ভিসা থাকলে যেকোনো ব্যক্তি অন্যকোনো সদস্যদেশ ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন। শেনজেন অঞ্চলের মধ্যে কোনো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নেই।

আপনি যদি আগে কখনও ইউরোপে না গিয়ে থাকেন তবে আপনাকে প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে শেনজেন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য আপনার কি ভিসা দরকার?” তারপর আপনার প্রয়োজন অনুসারে আপনার জন্য উপযুক্ত ভিসার জন্য আবেদনা করুন।

আপনার যদি ইউরোপে ভিসার জন্য আবেদনের প্রয়োজন হয় তবে এই নিবন্ধটি পড়ুন যা একটি শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত গাইডলাইন এবং প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয়।

১। আপনার কোন ক্যাটাগরির শেনজেন ভিসা দরকার তা নির্ধারণ করুন।

শেনজেন অঞ্চলে আপনাকে যে উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে হবে তার উপর নির্ভর করে আপনি নিম্নলিখিত শেনজেন ভিসা ক্যাটাগরির একটিতে আবেদন করতে পারেন:

– ট্রানজিট ভিসা

– পর্যটন ভিসা

– পরিবার বা বন্ধুদের সাক্ষাতের জন্য ভিসা

– ব্যবসা ভিসা

– সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য ভিসা

– অফিসিয়াল দর্শনার্থীর জন্য ভিসা

– স্টাডি ভিসা

– মেডিক্যাল কারণের জন্য ভিসা

২। আপনাকে কোথায় আবেদন করতে হবে তা সন্ধান করুন।

শেঞ্জেন অঞ্চলের দেশগুলি আপনি যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশে কীভাবে ভিসা জমা নেয়ার বিষয়টি পরিচালনা করে তার উপর নির্ভর করে আপনাকে নিম্নলিখিত প্রতিষ্টানগুলির মধ্যে যেকোনো একটিতে আপনার শেঞ্জেন ভিসা আবেদন আবেদন করতে পারবেন।

– তাদের দূতাবাস অথবা কনস্যুলেট।

– আপনার গন্তব্য দেশের (যে দেশে আপনি যাবেনদূতাবাস ভিসা জমা নেওয়ার জন্য নিয়োগ করেছে এমন কোনো ভিসা কেন্দ্র।

– অন্য একটি শেঞ্জেন রাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেট যাকে আপনার গন্তব্য দেশের দূতাবাস ভিসা জমা নেয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।

আবেদনের জন্য সঠিক দেশ কিভাবে নির্ধারণ করবেন?

আপনি যদি কেবল একটি শেনজেন দেশ ঘুরে দেখতে যাচ্ছেনসেই দেশের দূতাবাস কনস্যুলেট ভিসা কেন্দ্রে আবেদন করুন।

আপনি যদি দুটিরও বেশি শেনজেন দেশ ঘুরে দেখতে ইচ্ছুক সেক্ষেত্রে যেখানে আপনি বেশিরভাগ সময় ব্যয় করবেন সেই দেশের দূতাবাস কনস্যুলেট ভিসা সেন্টারে আপনার আবেদন জমা করুন।

আর যদি আপনি প্রতিটি দেশে সমান পরিমাণ সময় ব্যয় করেন তাহলে প্রথম যে দেশে পা রাখবেন সেই দেশের দূতাবাস কনস্যুলেট ভিসা সেন্টারে আপনার আবেদন জমা করুন।

৩। কখন আবেদন করবেন?

বিশ্বব্যাপী শেনজেন দূতাবাস কনস্যুলেটদের শেনজেন ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপনি আপনার ভিসার আবেদনটি করতে পারবেন।

শেঞ্জেন ভিসার জন্য আবেদনের অনুমোদিত সময়সীমা নিম্নরূপ:

সর্বোচ্চ কতদিন আগে আবেদন করতে পারেবন?

– আপনি আপনার পরিকল্পিত ভ্রমণ শুরু করার সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সর্বনিম্ন কতদিন আগে আবেদন করতে পারেবন?

– আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ কার্যদিবসের আগে পর্যন্ত আপনি আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনার পরিকল্পিত ভ্রমণ শুরু করার কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে ভিসা আবেদন করা উত্তম।

৪। একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।

আপনার আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি শেনজেন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।

বেশিরভাগ দেশ অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ দেয়। অন্যথা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি গিয়ে অথবা টেলিফোন করে আপনার গন্তব্য দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে।

৫। ভিসার আবেদনের ফর্মটি পূরণ করুন।

ভিসা আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করে সঠিক এবং সততার সাথে পূরণ করুন। কোন দেশের ভিসার জন্য আপনি আবেদন করছেন তা বিবেচনা করেই শেনজেন ভিসা আবেদন ফর্মটি নির্ধারণ করুন এবং ডাউনলোড করুন।

আপনার শেনজেন ভিসা আবেদন ফর্মে যে তথ্য দিতে হবে:

– আপনার ব্যক্তিগত তথ্য(আপনার নামঠিকনা পেশা ইত্যাদি)

– আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড

– আপনার উদ্দেশ্য (আপনি কেন শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ করতে চান)

– আপনার ভ্রমণ সম্পর্কিত অন্যান্য বিবরণ (কতদিন থাকবেনকোথায় থাকবেন ইত্যাদি)

ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ এবং জমা দেওয়ার জন্য কিছু জরুরি টিপস:

অ্যাপ্লিকেশনটির সর্বশেষতম ফর্মটি ডাউনলোড করুন যেহেতু এটিই একমাত্র স্বীকৃত ফর্ম।

আপনি প্রয়োজনীয় প্রতিটি জায়গা পূরণ করেছেন কি না তা নিশ্চিত করুন। এখানে আপনি কীভাবে ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করবেন সে সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট নির্দেশিকা পাবেন।

কোনও কলাম ফাঁকা রাখবেন না। আপনি যদি মনে করেন যেএমন কলামগুলি রয়েছে যা আপনার অবস্থার সাথে মিলে নাসেগুলি এনএ (কোনও উত্তর নেইদিয়ে পূরণ করুন।

পূরণকৃত ফর্মটির ২টি কপি প্রিন্ট করতে ভুলবেন না। উভয় কপির শেষে স্বাক্ষর করুন।

আপনি যদি নাবালক/নাবালিকা হন তবে আপনার পিতামাতাকে একটি লিখিত সম্মতি জমা দিতে হবে এবং আবেদন ফর্মের সংশ্লিষ্ট কলামে সাইন করতে হবে।

৬। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।

প্রয়োজনীয় নথি(ডকুমেন্টসআপনার ভিসা আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আবেদন করতে যা যা লাগবে তা নিচে দেয়া হলো।

– ভিসা আবেদন ফর্ম।

– বৈধ পাসপোর্ট।

– দুটি অভিন্ন রঙিন ছবি।

– ভ্রমণ বীমা (ট্রাভেল ইন্সুরেন্স)। আপনি এটি সহজেই অনলাইনে কিনতে পারবেন অথবা আপনার ব্যাংক থেকে নিতে পারেন।

– শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ এবং ফেরত আসার জন্য টিকিট(ফ্লাইট রিজার্ভেশনযেখানে ভ্রমণের তারিখ এবং ফ্লাইট নম্বর থাকবে।

– থাকার ব্যবস্থা। (হোটেল রিজার্ভেশন অথবা কোনো আত্মীয়ের বাসার ঠিকানা)

– আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ। (ব্যাংক স্টেটমেন্ট)

– আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিক প্রমান করতে সহায়ক নথি।(ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী)

শেনজেন ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির(ডকুমেন্টসবিস্তারিত তালিকা দেখতে ক্লিক করুন।

৭। ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাত্কারে অংশ নিন।

আপনাকে আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানে আপনার একজন ভিসা কনস্যুলারের সাথেসাক্ষাৎ হবে যার কাছে আপনার দেয়া তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্টসের কপি থাকবে।

ইন্টারভিউ বা সাক্ষাত্কারের সময় আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থানভ্রমণ এবং অন্যান্য ভ্রমণ সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে। আপনার উত্তরগুলি দৃঢ় এবং সঠিকভাবে দেওয়ার চেষ্টা করুন। একইসাথে আপনার উত্তর এবং জমাকৃত ডকুমেন্টসের সাথে সামঞ্জস্য আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। সাক্ষাত্কারটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।

কিছু সাধারণ প্রশ্ন:

– শেনজেন অঞ্চলের কোন দেশগুলি আপনি ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

– আপনার কি পরিবারের কোনও সদস্য বা বন্ধু ইউরোপে বসবাস করেন?

– আপনার ভ্রমণের কারণ কি?

– আপনি কি কোন নির্দিষ্ট পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখতে চান?

– আপনি কি বিবাহিতযদি হ্যাঁআপনার স্ত্রী কী করেনআপনি কতদিন ধরে বিবাহিত?

– আপনার কি কোন সন্তান আছেযদি হ্যাঁতাদের বয়স কততারা কী করে?

– আপনি কত দিন ইউরোপে থাকবেন এবং কোথায় থাকবেন?

– আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি?

– আপনি কোন সংস্থার জন্য কাজ করেন?

৮। ভিসা ফি প্রদান করুন।

আপনার ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্য আবেদন করার সময় আপনাকে প্রশাসনিক ফি প্রদান করতে হবে যা ফেরতযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে ভিসা ফি সব সদস্য দেশের জন্যই সমান।

৯। আপনার আবেদনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করুন।

আপনি আপনার ভিসার আবেদনে সম্পন্ন করার পর ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৫ দিন সময় লাগে। কিছু কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সময়কাল ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

ইতালি পশ্চিম ইউরোপের একটি একীভুত প্রজাতান্ত্রিক সংসদীয় রাষ্ট্র

 ইতালি পশ্চিম ইউরোপের একটি একীভুত প্রজাতান্ত্রিক সংসদীয় রাষ্ট্র। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একটি দেশ শেনঝেন চুক্তি স্বাক্ষরকারী বিধায় শেনঝেন ভিসা নিয়ে এ দেশে প্রবেশ করা যায়। ইউরো অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বিধায় এর মুদ্রা ইউরো। এ দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু আছে।

ইতালির উত্তর সীমান্তে আল্পস পর্বতমালা সংলগ্ন ফ্রান্সসুইজারল্যান্ডঅস্ট্রিয়া ও স্লোভেনিয়া অবস্থিত এবং দক্ষিণে সম্পূর্ণ ইতালীয় উপদ্বীপ, মেডিটারিয়ান সমুদ্র সংলগ্ন দুই মহাদ্বীপ সিসিলি ও সারদিনিয়া এবং আরো অনেক ছোট ছোট দ্বীপে পরিবেষ্টিত। সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটি নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ইতালি অধিভুক্ত, অপরদিকে কাম্পিওনে দি'ইতালিয়া বহির্ভূত সুইজারল্যান্ড ধারণ করেছে। ইতালীর সীমানাক্ষেত্রটি প্রায় ৩,০১,৩৩৮ বর্গ কিলোমিটার (১,১৬,৩৪৬ বর্গ মাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ঋতুময় ইতালীয় জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। ৬০•৬ মিলিয়ন (সাড়ে ছয় কোটির উপরে) অধিবাসী সংবলিত ইতালি জনসংখ্যার দিকে ইউরোপে পঞ্চম ও বিশ্বে ২৩তম জনবহুল দেশ। এর রাজধানী রোম (ইতালীয় শব্দ রোমা) শহর। শতাব্দীর পশ্চিমা সভ্যতায় রোমান সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল হওয়ার কারণে এটিকে রাজধানী করা হয়। এর অবনতির পর, ইতালি বহুসংখ্যক ভিনদেশী, জার্মানিক উপজাতি যেমন লোম্বার্ডস ও ওস্ট্রুগোথস থেকে শুরু করে বাইজান্টাইন্স এবং পরবর্তীতে নর্মান্স, সাথে আরো অনেকের অনুপ্রবেশ সহ্য করেছে। পরবর্তী শতাব্দী রেনেসাঁর জন্মভূমি হয়ে উঠে। ইতালির অখণ্ড আকারের পরবর্তীকালীন ইউরোপীয় বুদ্ধিদীপ্ত গতিবিধি ও চিন্তা ধারণা ব্যাপকভাবে উর্বরতা পায়।
রোমানোত্তর ইতিহাসে যদিও ইতালি অনেক রাজ্য ও নগরে বিভক্ত ছিলো - সারদিনিয়া রাজ্য, দুই সিসিলিয়া রাজ্য, ডাচি অব মিলান কিন্তু ১৮৬১ সালে একীভূত হয়, ইতিহাসের এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে, যা “ইল রিসরজিমেন্ত” (পুনরুত্থান) নামে পরিচিত। ১৯ শতকের শেষের দিকে, ১ম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইতালি ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। এর শাসন লিবিয়াইরিথ্রিয়াসোমালিয়াইথোপিয়াআলবেনিয়াডোডেকানিস পর্যন্ত বর্ধিত করে ও চীনের তিয়াঞ্জিন শহরও এতে সম্মতি প্রদান করে।

বর্তমান ইতালি একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটাকে বিশ্বের ২৩তম উন্নত দেশ রূপে গণনা করা হয় ও জীবনের মান নির্দেশ বিচারে বিশ্বের সেরা দশে ইহার স্থান। ইতালীয়রা খুব উন্নত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এবং প্রতি কাপিটাতে আছে উচ্চ নমিনাল জিডিপি ।ইতালি হচ্ছে ইউরোপিয়া ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ইউরোজোনেরও একটি অংশ। এছাড়াও এটির জি৮জি২০ এবং ন্যাটোর সদস্যপদ রয়েছে। ইতালির রয়েছে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম নমিনাল জিডিপি, দশম উচ্চতর জিডিপি (পিপিপি)) এবং ষষ্ঠ বৃহত্তম সরকারি বাজেট।এটি অরগানাইজেশন ফর ইকনোমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনকাউন্সিল অব ইউরোপওয়েস্টার্ন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইউনাইটেড ন্যাশন্সের সদস্য। ইতালির রয়েছে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ডিফেন্স বাজেট এবং ন্যাটো নিউক্লিয়ার সরঞ্জামের অংশীদারত্ব। ইতালির ইউরোপীয় ও পৃথিবীব্যাপী সামরিক, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশাল ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটিকে দিয়েছে আঞ্চলিক শক্তি। দেশটির রয়েছে সরকারি উচ্চ শিক্ষা কাঠামো ও উচ্চ বিশ্বায়িত জাতি।

ইতিহাস

ব্যুৎপত্তি

“ইতালিয়া” (Italia) নামের বুৎপত্তিটির অনেক সংখ্যক পুর্বধারণা আছে এবং এর সমাধানের পথ নিয়ে ইতিহাসবিদরা ও ভাষাবিদরা বিস্তৃত ধারণা দিয়েছেন।অনেকগুলো বর্ণনা থেকে অন্যতম ব্যাখ্যা হলো, ইতালিয়া শব্দটি ল্যাটিনঃ ইতালিয়া থেকে এসেছে,}}, যা গ্রিক শব্দ ওসকান (Oscan); Víteliú; যার অর্থ দাঁড়ায় “ছোট গবাদিপশুদের চারণভূমি” (land of young cattle) (cf. Lat vitulus "calf", Umb vitlo "calf"); থেকে ধার করা হয়েছে।.ষাঁড় ছিলো একটি দক্ষিণ ইতালীয় উপজাতির প্রতীক এবং স্বাধীন ইতালির সামনিট যুদ্ধের সময় রোমান উদ্ধত নেকড়েকে রক্তাক্ত করে বলে প্রায়ই শোনা যায়। গ্রিক ইতিহাসবিদ ডিওনিসিয়াস অব হালিকারনাসাস এর মতে, লোককাহিনীর বরাত দিয়ে তিনি ইতালিকে ইটালুস (Italus) আখ্যা দেন,এরিস্টটল ও থুসিদিদেসও (Thucydides)একই মত দেন। ইতালি নামটি প্রকৃত অর্থে বর্তমান দক্ষিণ ইতালির জন্য প্রযোজ্য যা এন্টিওচুস অব সাইরাকাস এর মতে, ব্রুত্তিউম উপদ্বীপের দক্ষিণভাগ (বর্তমান কালাব্রিয়া)। তার সময়ে ইতালি ও এনোট্রিয়া (Oenotria) সমার্থক ছিল। এটি লুকানিয়ার কিছু অঞ্চলের জন্যও ব্যবহৃত হত। যা বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য গ্রিকরা ইতালিয়াতে ধীরে ধীরে প্রচলন করেন কিন্তু পুরো উপদ্বীপ রোমানরা জয়লাভের আগ পর্যন্ত এর ব্যাপকতা ছিল না।প্রাক্‌-ইতিহাস ও প্রাচীন রোম

৭০-৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের কলসিউমটি স্থাপিত হয়

দুই লক্ষ বছর আগের পিলিওলিথিক যুগেও (Paleolithic period) সমগ্র ইতালি জুড়ে আধুনিক সভ্য মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। রোমান পূর্ববর্তী ইতালীয় জাতিসমূহ যেমন উম্ব্রিয়ানল্যাটিন (যারা রোমানদের কাছ থেকে আবির্ভূত হয়েছিলো), ভোস্কিসামনিটচেলটিক এবং লিগুইররা ছিলো ইতালির উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা, অনেকে ছিলো ইন্দো-ইউরোপীয় গোত্রের; তবে মূল ঐতিহাসিক মানুষগুলো ছিলো উত্তরাধিকার সূত্রে ইট্রুষ্কানইলিমিয়ান ও সিসিলীয় সিকানী এবং প্রাক-ঐতিহাসিক সার্দিনিয়ান গোত্রের।

খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তাদশ থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে মাইসেনিয়ান গ্রিকরা ইতালির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেএবং খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম ও সপ্তম শতাব্দীতে গ্রিকরা সিসিলীয়ার উপকূলের পুরো জায়গা জুড়ে ও ইতালি উপদ্বীপের (Peninsula) দক্ষিণ অংশে মানিয়া গ্রেয়েসিয়া নামে উপনিবেশিক বসতি (Greek Colony) গড়ে তোলে। এদের সাথে ফোনেসিয়ানরাও (Phoenicians) সারদিনিয়া ও সিসিলিয় উপকূলে বসতি নিবাস স্থাপন করে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে প্রাচীন রোমে একটি ক্ষুদ্র কৃষি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিলো। পুরো শতাব্দী জুড়ে মেডিটারিয়ান সাগর বেষ্টিত কলোসাল সাম্রাজ্য, যেখানে আদি গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক নতুন সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এই সভ্যতার একটি অংশ বর্তমান আইনপ্রশাসনদর্শন, এবং কলা'র মধ্যেই টিকে আছে পশ্চিমীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি হিসেবে। চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিক হতে ৩৯৫ খ্রিষ্টাব্দে রোম সাম্রাজ্যকে শেষ পর্যন্ত দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়ঃ পশ্চিমা সভ্যতা (ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশন) ও প্রাচ্য সভ্যতা (ইস্টার্ন সিভিলাইজেশন)। পূর্ব ইউরোপের ফ্রাঙ্ক (সাধাসিধে উপজাতি), ভ্যান্ডল (ধ্বংসকারী উপজাতি), হুনগোথ (বর্বর উপজাতি) এবং অন্যান্যদের জনসংখ্যাধিক্যে পশ্চিমাভাগ পরিশেষে বিলুপ্ত হয় ও ইতালীয় উপদ্বীপ ত্যাগের মাধ্যমে একটি ছোট স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী ১৩০০ বছরে নগর রাজ্যগুলোতে কলহ, দ্বন্দ্ব্ব লেগে ছিলো। শুধুমাত্র প্রাচ্যরাই (বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যই) রোমান সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে উঠে।

মধ্যযুগ

ইতালির নাভাল জ্যাক, প্রধান সামুদ্রিক প্রজাতন্ত্রের চিত্রাঙ্কিত ঢাল। ঘড়ির কাটার মতন বাম থেকে ভেনিসজেনোভাপিজাআমালফি

৬ষ্ট শতাব্দীতে বাইজান্টাইন সম্রাট ১ম জাস্টিনিয়ান ওস্ট্রুগথদের হাত থেকে ইতালী পুনরায় জয় করেন। একই শতাব্দীর শেষের দিকে লোম্বার্ডদের ও জার্মানীয় উপজাতিদের অধিক্রমণে বাইজান্টানদের এক্সারচ্যাট অব রেভান্না-সহ দক্ষিণ ইতালীর অন্যান্য অংশে উপস্থিতি কমতে শুরু করে। লোম্বার্ডদের শাসনামলে ৮ম শতাব্দীর শেষ ভাগে ফ্রাঙ্কিস সাম্রাজ্যের চার্লম্যাগণ উত্তর ও ইতালির মধ্যভাগের বেশিরভাগ এলাকা শাষিত হয়। ফ্রাঙ্কিস রাজা মধ্য ইতালির রোম থেকে রেভান্না পর্যন্ত বিস্তৃত করে পোপকে একটি যথাযথ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সাহায্যও করেছিলেন যদিও তিনি মধ্যযুগের, বর্তমান লাত্‌জিও শহর, বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইতালীয় রাজনীতি জার্মান পবিত্র রোমান সম্রাট এবং পোপ কর্তৃক বেশিরভাগ ইতালীয় রাষ্ট্রগুলো শাসিত হয় ক্ষণস্থায়ী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে। কর্তৃত্ব শুন্য অত্যাবশরে ইতালীয় অঞ্চল সিনোরীয়া ও মিদীয়েভাল কম্যুনের মতন প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠতে দেখা দেখেছে। ইতালীয় মিদীয়েভাল নগর- রাষ্ট্রে প্রায়ই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করত, যারফলে বেশিরভার মানুষই চাইত এমন একজন মানুষ যিনি নিয়ম নীতি পুনরায় অধিষ্ঠিত করতে পারেন এবং ব্যক্তি, পরিবার, বংশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব্ব সংঘাত কমাতে সক্ষম হবেন। বহুসংখ্যক যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর, ইতালি বিশেষত উত্তরে, নগর সভ্যতা ধরে রাখে, যা পরবর্তীতে স্বতন্ত্রতার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক প্রজাতন্ত্র বিকশিত হয়। নগররাষ্ট্র ছিল বাস্তবে বণিক শাসকগোষ্ঠীরা যার তত্ত্বাবধানে প্রাতিষ্ঠানিক এবং শৈল্পিক অগ্রগতি প্রতিপালিত হত। দ্বাদশ শতাব্দীতে উত্তর ইতালির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো মিলান, যা লোম্বার্ড লীগ নেতৃত্বে জার্মান সম্রাট ফ্রেডেরিক বারবারোসসা পরাজিত হয় যা অবধারিতরূপে কার্যকর প্রক্রিয়ায় উত্তর এবং মধ্য ইতালীয় শহরগুলোর স্বাতন্ত্র্যতা ত্বরান্বিত করে।

একই সময়ে, ইতালি বিপুল সংখ্যক সমুদ্রতীরবর্তী (Maritime) প্রজাতন্ত্র গড়ে উঠতে দেখেছে। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলো ভেনিসজেনেভাপিজা এবং আমালফি। রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে এই সকল প্রজাতন্ত্রও সক্রিয়ভাবে ক্রুসেডে অংশগ্রহণ করেছিল। পূর্বের বাণিজ্যের জন্যে ভেনিস এবং জেনেভা শীঘ্রই ইউরোপের মুখ্য প্রবেশদ্বার হয়ে উঠে এবং কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত ঔপনিবেশ গড়ে উঠে ও এর প্রায়ই ভুমধ্যসাগরীয় ইসলামী দুনিয়ার সাথে বাইজেন্টান সাম্রাজ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হত। তখন মিলান পশ্চিমের লোম্বার্দিকে দখলে নিয়ে ডাচি অব মিলান (ডিউকের শাসিত এলাকা মিলান) নামে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠিত হয়। মধ্যযুগের শেষের দিকে পিয়েদ্‌মন্ত একটি অপ্রধান স্যাভয় রাজ্য থেকে মাঝারি আকারের ডাচিতে পরিণত বিকাশ লাভ করেছিল। ফোলেন্স ইতিমধ্যে একটি পরিপাটি সুগঠিত বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক শহররূপে গড়ে উঠে এবং বহু শতাব্দী পর্যন্ত সিল্ক, পশম, ব্যাংক এবং মণিরত্নের জন্য ইউরোপীয় রাজধানী ছিল।

নবম শতাব্দীতে দক্ষিণে সিসিলি একটি ইসলামিক আমিরাত হয়ে উঠে এবং একদশ শতাব্দীর শেষ দিকে এটি লোম্বার্ড ও বাইজান্টাইনের অধিকাংশ এলাকা নোর্মান কর্তৃক জয়লাভের আগ পর্যন্ত সমৃদ্ধশালী ছিল। ক্রমান্বয়ে 'হাউস অফ অয়েনস্টাউফেন' (House of Hohenstaufen), এরপর 'হাউস ওব আঞ্জো' (House of Anjou); পঞ্চাদশ শতাব্দী 'হাউস অব আরাগণ' (House of Aragon) (যদিও সিসিলি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে ১৫শ শতাব্দীতে আঞ্জোর শাসনে চলে গিয়েছিল) থেকে অনেক গুলো জটিল ক্রমান্বয়িক ঘটনার মধ্য দিয়ে ইতালি একীভূত রাজ্য হিসেবে স্থায়ী ছিল। পূর্বেকার বাইজান্টান প্রদেশ সারদিনিয়া 'জুদিকাতি' নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছিল। আরাগোনিজরা ইহা জয় করার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ দ্বীপগুলো ছিলো জেনোয়েজ (জেনেভা বাসী) বা পিজানদের অধীনস্থ।

রেনেসার যুগ (১৫শ – ১৬শ শতাব্দী )

রোমান স্থপতি ভিট্রুভিয়াসের বর্ণনা অনুসারে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কর্তৃক অঙ্কিত ভিট্রুভিয়ান মানব-এর সুষম অঙ্গসৌষ্ঠব হচ্ছে রেনেসাঁর সেরা শিল্পকর্ম প্রতিভূ।

ইতালির এক তৃতীয়াংশ লোক ১৩৪৮ সালের মহামারীতে প্রাণ হারায়। [৩৩][৩তথাপি, মহামড়কের বিপর্যয় থেকে পুনরুত্থান নগর জুড়ে ব্যবসা এবং অর্থনীতি ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছে। সংস্কৃতিক অর্জনের দিক দিয়ে যা ছিল মানবতা এবং রেনেসাঁর (নবজাগরণের) সাফল্যমন্ডিত অর্জন। রেনেসাঁর সাহিত্য বিবেচনায় পেট্রার্ক (স্বদেশীয় ভাষায় পরিমার্জিত রুচিসম্পন্ন পরিশীলিত সনেট ইল কান্সনিয়েরের ধারার জন্য সবচেয়ে পরিচিত) ও তার বন্ধু এবং একিকালীন বোক্কাচ্চ ('ডেকামেরন' এর লেখক)। ১৫শ শতাব্দীর স্বদেশীয় বিখ্যাত কবি ও মহাকাব্যিক লেখকদের মধ্যে লুইগি পুলচি (মরগান্তে), মাত্তেও মারিয়া বোইয়ার্দ (অর্লান্ডো ইন্নামওরাতো), এবং লুদোভিকো আরিওস্ত (অর্লান্ডো ফুরিওজো) অন্যতম। ১৫শ শতাব্দীর লেখকরা যেমন কবি পোলিজিয়ানো এবং প্লাটনিস্ট দার্শনিক মার্সিলো ফিচিনো ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় ব্যাপক অনুবাদ করেন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে কাস্তিলিওনে (দ্য বুক অব দ্য কোরটিয়ার) একজন আদর্শ ভদ্র লোক ও মহিলার উপর রচিত যেখানে মাকিয়াভেল্লি “লা ভেরিতা এফফেত্তুয়ালে দেল্লে কজে”তে (বস্তুর প্রকৃত সত্য) একজন জন্ডিস চোখা ব্যক্তিকে দিয়ে অভিনয় করান, “দ্য প্রিন্স”-এ তিনি মানবতান্ত্রিক, সৃজন শৈলী সম্পর্কযুক্ত সমান্তরালভাবে পুরানো ও আধুনিক গুণের উদাহরণ।

ইউরোপীয় পেন্টিং এর পিছনে ইতালীয় রেনেসাঁস পেন্টিং শতাব্দী ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে। তাদের মধ্যে যেমন জোত্তো দি বন্দোনেমাসাচ্চপিয়েরো দেল্লা ফ্রাঞ্চেসকাডোমেনিকো ঘিরলান্দাইওপেরুজিনোমিকেলাঞ্জেলোরাফায়েলবোত্তিচেলিলিওনার্দ দা ভিঞ্চি এবং তিতিয়ান শিল্পীদের নাম উল্লেখযোগ্য। স্থাপত্যশিল্পে একই দশা ব্রুনেল্লেস্কিলিওনে আল্বেরতিআন্দ্রেয়া পাল্লাদিও, ও ব্রামান্তেরা তাদের নিদর্শনের ছাপ রাখেন। ফ্লোরেন্স ক্যাথেড্রাল, রোমের স্টু পিটার বাসিলিকা ও রুমিনির তেম্পিও মালাতেস্তিয়ানো (ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যতীত কিছু উল্লেখ করা হল) উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। সব শেষে, আলদিন প্রেস, আলদো মানুৎজিও প্রিন্টার ভেনিসে চালু আছে যারা ইতালীয় টাইপ উদ্ভাবন করেন। ছোট-খাট সস্তা বই ছাপানো হয় যা পকেটে বহনযোগ্য সাথে সাথে প্রাচীন গ্রিকের সংস্করণ প্রথম প্রকাশকও তারাই।

বিদেশী শাসন এবং নাপোলিয়নিক যুদ্ধ (১৭ -১৯শ শতাব্দী)

মারেনগো যুদ্ধে নাপোলিয়ন-এর বিজয় ইতালিকে ফান্সের নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাঁর সম্রাট হওয়ার পথ আস্তরিকৃত হয়।

আধুনিক সময়ে শুরুর দিকে ইতালির ইতিহাস ছিল বিদেশী শাসনঃ ফলশ্রুতিতে ইতালীয় যুদ্ধ (১৪৯৪ থেকে ১৫৫৯ সাল), ইতালি অপেক্ষাকৃত শান্তি দেখেছিল প্রথম স্পেনের হাবসবুর্গ (১৫৫৯ থেকে ১৭১৩ সাল) এবং তারপর অস্ট্রিয়ার হাবসবুর্গ। মহামড়ক ইতালিতে ১৪শ থেকে ১৭শ শতাব্দীতে বারংবার উদিত হত। ভেনিসে ১৫৭৫ – ১৫৭৭ সালের প্লেগ রোগে ৫০,০০০ লোক শিকার হয় বলে দাবি করা হয়।১৭শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে প্লেগের কারণে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার লোক শিকার হয় বলে দাবি করা হয়েছিল যা সমগ্র ইতালির লোকসংখ্যার ১৪%।মিলানের প্লেগ-এর দূরাবস্থা দেখা দেয় ১৬২৯ থেকে ১৬৩১ সালে। লোম্বার্দি ও ভেনিস বিশেষত মৃত্যুহার ব্যাপক হয়। ১৬৫৬ সালে ৩ লক্ষের মতো নেপলিস্‌ অধিবাসী প্লেগে মারা যায়।নাপোলিয়নিক যুদ্ধের সময়, ১৭৯৬ থেকে ১৮১৪ সালের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চল পুনর্গঠন করে ইতালির নতুন রাজ্য গঠন করা হয়, তখন এটি ছিল ফান্স সাম্রাজ্যের একটি খরিদ্দার রাষ্ট্র (Client State)। যখন উপদ্বীপটির দক্ষিণাঞ্ছল জোয়াকিম মুরাত (নেপোলিয়ানের ভগ্নিপতি) , যিনি ছিলেন নেপ্লিসের রাজা (King of Naples)। ১৮শ দশকের শেষের দিকে ভিয়েন্না কংগ্রেস (১৮১৪ সাল) পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে এনেছিল যা ইতালির একীভূতীকরণের অংশ হিসেবে উপক্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি বিপর্যস্ত হয়েছিল।

ইতালির একীভূতিকরণ এবং অসাম্প্রদায়িক ইতালি (১৮৬১ – ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ)

ইতালির জাতীয়তাবাদী ও স্যাভয়ের ঘরের (হাউস অফ স্যাভয়) অণুগত রাজতন্ত্রবাদীদের কর্ম প্রচেষ্টার ফলে সংযুক্ত ইতালি রাজ্য সৃষ্টির হয় যা ইতালি উপদ্বীপকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে রাখে। ১৮৪৮ সালে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে অস্ট্রিয়াতে ঘোষিত ব্যর্থ যুদ্ধ মুক্ত বিপ্লবের আলোড়ন বয়ে যায়। জোসেফ গারিবালদি দক্ষিণ ইতালির প্রজাতন্ত্রীকরণের পক্ষে একীভূতীকরণের কাজ চালিয়ে যান। যখন উত্তর ইতালির পিয়েদমন্ত-সারদিনিয়া রাজতন্ত্রের সরকার ছিলেন কামিল্লো বেন্সো, “কন্তে দি কাভোর” যার আকাঙ্ক্ষা ছিলো স্বীয় বিধানের একটি সংযুক্ত ইতালির। ইতালির ২য় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অস্ট্রিয়ার সাম্রাজ্যকে সাফল্যের সহিত ৩য় নেপোলিয়নকে সাথে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্ব্বীতা করে লোম্বার্দি-ভেনেসিয়া মুক্ত করেন। যার ফলে এক সময় তুরিন শহর হয়েছে উঠে এই নতুন রাষ্ট্রের রাজধানী। ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজধানীটি ফ্লোরেন্সে স্থানান্তরিত হয়। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ২য় এমানুয়েল প্রুসিয়াতে অস্ট্র-প্রুসিয়ান যুদ্ধের সময় রাজ্যটি ঢেলে সাজান। অতঃপর ইতালির ৩য় স্বাধীনতা যুদ্ধের সঞ্চালনের সময় ভেনিস সংযোজিত হয়। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে ফান্স-প্রুসিয়া যুদ্ধের সময় ফান্সের বিপর্যয়ের মতো

রোম তার অবস্থান থেকে পরিত্যক্ত হয় ফলে ইতালি তড়িঘড়ি করে কর্তৃত্ব শূন্যতা পূরণে সার্বভৌম ফ্রান্স থেকে পোপীয় রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয়া হয়।

অবশেষে ইতালি একীভূত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য ইতালির রাজধানী ফ্লোরেন্স থেকে রোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সরকার যতদিন রাজতন্ত্র সরকারের সংসদীয় পদ্ধতি হয়েছিল লিবারেলরা শাসন করেছিল।

ইতালির উত্তারাঞ্চল হয়ে উঠে শিল্পায়িত ও আধুনিকীকরণ, দক্ষিণ ইতালি এবং উত্তরের গ্রামীণ অঞ্চলগুলো অণুন্নত ও অচল হয়ে যায় এবং লক্ষাধিক সংখ্যক মানুষ শ্রমশিল্পে জড়িত হয়ে পড়ে, কিছু বিদেশ গমন করে। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের সারদিনিয়ার আলবার্টিন সংবিধি ১৮৬১ সালে ইতালির সমগ্র রাজ্যে প্রণয়ন করা হয় যাতে মৌলিক চাহিদাগুলো সমুন্নত রেখে নির্বাচনী আইনে ভুমধ্যিকারীবিহীন ও অশিক্ষিত সম্প্রদায়ের ভোটের চাহিদা নিশ্চিত করা হয় নি। ১৯১৩ সালে সার্বজনীন নির্বাচনী অধিকার গৃহীত হয়।

ইতালীয় সোস্যলিষ্ট পার্টি প্রচলিত উদারনীতি ও রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ করে শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। ১৯১৩ সালে ইতালীয় সর্বোচ্চ বাস্তুত্যাগ (প্রবাস গমন) পৌছায়, যখন ৮,৭২,৫৯৮ জন লোক ইতালি ছেড়ে বিদেশে চলে যায়।ঊনবিংশ শতকের শুরুর বিগত ২ দশক, ইতালি সোমালিয়াইরিথ্রিয়া এবং পরে লিবিয়া ও ডোদেকানিজদের অধীনস্থ করার মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শক্তি গড়ে তোলে। ১ম বিশ্ব যুদ্ধের সময়, ইতালি প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল এবং কিন্তু ১৯১৫ সালে ট্রিটি অব লন্ডন (লন্ডনের আপোসনামা) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং আওস্ট্র-হাঙ্গরিয়ান সাম্রাজ্য ও সঙ্গে অত্তমান সাম্রাজ্য হতে ট্রেন্তো, ট্রিএস্তে, গোরিৎজিয়া এবং গ্রাদিস্কা, ইস্ত্রিয়া এবং দক্ষিণাত্য দালমাশিয়া পাওয়ার অঙ্গীকার লাভ করে এন্তান্তে'তে প্রবেশ করে। যুদ্ধের সময় সাড়ে ৬ লক্ষেরও বেশি ইতালীয় সৈন্য প্রাণ হারায়[ ও সাথে অর্থনীতি ভেঙ্গে যায়। সাইন্ট -জার্মাইন চুক্তি অনুসারে , রাপাল্লো ও রোম, ইতালি ফিউমে (ইতালীয় ভাষায়) হাঙ্গেরীয় পোতাশ্রয় সহ অঙ্গীকারকৃত ভূমি লাভ করে। কিন্তু জারা ছাড়া তখন যুগোস্লাভিয়ার অধীনস্থ দালমাশিয়া লাভে ব্যর্থ হয়। জাতীয়তাবাদীরা এই জয়কে “বিকলাঙ্গ” জয় বলে আখ্যায়িত করেছিল।

ফ্যসিবাদী একনায়ক তন্ত্র (১৯২২ – ১৯৪৩ সাল )

রাজনীতি

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ

  1. লোম্বার্ডি
  2. কাম্পানিয়া
  3. তাসকেনি

ভূগোল

অর্থনীতি১.৮ বিলিয়ন জিডিপি নিয়ে ইতালি ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম ও বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি । ২০২০ সালের ইতালীয় অর্থনীতির জন্য জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস + ০.৪%। 

জনসংখ্যা

ধর্মবিশ্বাস

ইতালিতে বিশ্বের বেশিরভাগ বৃহত্তম, প্রাচীনতম এবং আকর্ষণীয় গীর্জার অবস্থান রয়েছে।

সংস্কৃতি

মিলান একটি বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র এবং বিশ্বের একটি ফ্যাশন রাজধানী

আর্কিটেকচার

পিসা টাওয়ার

চাক্ষুষ শিল্প দ্য লাস্ট সাপার (লিওনার্দো দা ভিঞ্চি) - লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

সাহিত্য নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি

খেলাধুলা ফুটবল ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ইতালি ৪ বার ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে। ফুটবলের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন খেলায় ইতালি অংশগ্রহণ করে থাকে।

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...