মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

নরওয়ের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 




নরওয়ে: ফিয়র্ড ও অরোরার দেশ

নরওয়ে, প্রকৃতির এক অনবদ্য সৃষ্টি, যেখানে গভীর নীল ফিয়র্ড, বরফে ঢাকা পর্বতমালা আররাতের আকাশে অরোরা বোরিয়ালিসের নৃত্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। অসলোর আধুনিক শহর থেকেশুরু করে লফোটেন দ্বীপপুঞ্জের মনোরম দৃশ্য, প্রতিটি স্থানই যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।মাছ ধরা, হাইকিং, ক্যানোয়িংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার কার্যকলাপের পাশাপাশি, নরওয়ের শান্তপরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। এটি সত্যিই স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একপ্রাকৃতিক বিস্ময়।

নরওয়ের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

নরওয়ে, উত্তর ইউরোপের একটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ, যা তার শ্বাসরুদ্ধকর ফিয়র্ড (fjord), মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মধ্যরাতের সূর্য (Midnight Sun) এবং নর্দান লাইটস (Northern Lights) এর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অসলোর (Oslo) আধুনিক স্থাপত্য ও জাদুঘর, ফিয়র্ডের গভীর নীল জল, লফোটেন দ্বীপপুঞ্জের (Lofoten Islands) গ্রামগুলি, বার্গেনের (Bergen) ঐতিহাসিক ব্রাইগেন (Bryggen) এবং আর্কটিক অঞ্চলের বন্যপ্রাণী পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। নরওয়ে শেনজেন (Schengen) অঞ্চলের একটি অংশ, যা এটিকে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। এটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার এবং একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নরওয়ে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন, যা একটি শেনজেন ভিসা (Schengen Visa)। নরওয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা-অন-অ্যারাইভাল বা ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে না। ভিসা আবেদন সাধারণত ঢাকায় অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাস অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global)-এর মাধ্যমে জমা দিতে হয়।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

নরওয়ে ভ্রমণের জন্য নিম্নলিখিত ভিসার ক্যাটাগরি প্রযোজ্য:

  • শেনজেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বা ট্রানজিট।

    • মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেনজেন এলাকায় (এবং নরওয়েতে) থাকার অনুমতি দেয়।

    • এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry), ডাবল এন্ট্রি (Double Entry), বা মাল্টিপল এন্ট্রি (Multiple Entry) ভিসা হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সাধারণত যাদের শেনজেন এলাকায় ভ্রমণের ভালো রেকর্ড আছে তাদের দেওয়া হয়।

    • বিশেষ বিবেচনা: যেহেতু নরওয়ে শেনজেন অঞ্চলের অংশ, তাই আপনি এই ভিসা নিয়ে শেনজেন এলাকার অন্য ২৬টি দেশেও (নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে) ভ্রমণ করতে পারবেন। আপনার মূল গন্তব্য (Main Destination) বা শেনজেন এলাকায় প্রথম প্রবেশকারী দেশ (First Point of Entry) যদি নরওয়ে হয়, তাহলে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস বা তার প্রতিনিধিত্বকারী ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশের নাগরিকরা নরওয়ের ভিসার জন্য ঢাকায় অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাস অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global)-এর মাধ্যমে শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নরওয়ে/শেনজেন ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া প্রায়শই পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই নরওয়েজিয়ান দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।

সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

  • ধাপ ১: ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রবেশ:

    • ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে নরওয়ের জন্য নির্দিষ্ট পেজে (যেমন: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/nor/) প্রবেশ করুন এবং "শেনজেন ভিসা" বিভাগে যান।

  • ধাপ ২: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ:

    • নরওয়ের ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে তাদের অফিসিয়াল অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন পোর্টাল (UDI-এর ওয়েবসাইট) https://www.udi.no/en/ বা https://www.norway.no/en/bangladesh/ এর মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হতে পারে। পূরণ করার পর ফরমটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন এবং একটি কভার লেটার তৈরি করুন।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:

    • আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি ইংরেজিতে বা একটি অনুমোদিত অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।

  • ধাপ ৪: ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং:

    • ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না। শেনজেন ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনার সাথে সাথেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা জরুরি।

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • শেনজেন ভিসার ফি নির্দিষ্ট করা আছে এবং এটি ইউরোতে নির্ধারিত হলেও স্থানীয় মুদ্রায় (বাংলাদেশী টাকা) পরিশোধ করতে হয়।

    • ভিসা ফি (আনুমানিক): ৮০ ইউরো (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য), যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,৫০০ - ১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৪০ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ফি লাগে না।

    • ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস ফি: ভিসা ফি ছাড়াও ভিএফএস গ্লোবাল তাদের পরিষেবা বাবদ একটি অতিরিক্ত ফি নেয় (প্রায় ৩০-৩২ ইউরো সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা)।

    • ফি সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার সময় নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হয়।

    • গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া:

    • নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন। আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল ছবি) সংগ্রহ করা হবে।

  • ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):

    • ভিএফএস গ্লোবাল সাধারণত সাক্ষাৎকার নেয় না, তবে নরওয়েজিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।

  • ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০-৬০ কার্যদিবস পর্যন্তও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয় বা পিক সিজন হয়।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানো হবে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

নরওয়ের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেনজেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:

    • যথাযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম (অনলাইন পোর্টাল থেকে প্রিন্ট করা)।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। ছবির পেছনে নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখতে হবে।

  • কভারিং লেটার (Covering Letter):

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। এটি "To the Royal Norwegian Embassy, Visa Section" কে সম্বোধন করে লিখতে হবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • নরওয়ে/শেনজেন এলাকা থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • নরওয়ে এবং/অথবা শেনজেন এলাকার জন্য হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি নরওয়েতে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) যেখানে আপনার থাকার ঠিকানা, উদ্দেশ্য এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, নাগরিকত্বের প্রমাণ, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ) উল্লেখ থাকবে।

  • ভ্রমণ বীমা (Travel Medical Insurance):

    • ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ সহ শেনজেন এলাকার জন্য বৈধ ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা। এটি চিকিৎসার খরচ, জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তর, এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের খরচ কভার করবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা নরওয়ে/শেনজেন এলাকায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)। প্রতিদিনের থাকার জন্য নরওয়ে সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (যেমন ৫০০ নরওয়েজিয়ান ক্রোন প্রতি দিন) প্রদর্শনের আবশ্যকতা রাখে।

    • ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

    • ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার (শেনজেন ফরম্যাটে), স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

    • জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ (যা দেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্য প্রমাণ করে)।

    • বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল)

বাংলাদেশের নাগরিকরা নরওয়ের ভিসার জন্য ঢাকাস্থ ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন। ভিসা প্রক্রিয়া নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

  • রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, ঢাকা (Royal Norwegian Embassy, Dhaka):

    • ঠিকানা: হাউস ৫, রোড ১১২, গুলশান ২, ঢাকা ১২১২, বাংলাদেশ।

    • ফোন: +880 2 5566 8700

    • ই-মেইল: emb.dhaka@mfa.no (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.norway.no/en/bangladesh/ (এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।

  • ভিএফএস গ্লোবাল, ঢাকা (VFS Global, Dhaka) - নরওয়ের জন্য:

    • ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ।

    • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/nor/


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাস এবং ভিএফএস গ্লোবালের সুবিধা রয়েছে, তাই সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ ঢাকা থেকে আবেদন করতে না পারেন, তবে তারা পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন, যেমন:

  • রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Royal Norwegian Embassy, New Delhi, India):

    • ঠিকানা: 50-C, Shantipath, Chanakyapuri, New Delhi 110021, India.

    • ফোন: +91 11 4202 1200

    • ই-মেইল: emb.newdelhi@mfa.no (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.norway.no/en/india/

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: অন্য দেশ থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নরওয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ই-ভিসা (e-Visa) বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival) সুবিধা প্রদান করে না। শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বা ভিএফএস গ্লোবালের মতো অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সশরীরে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ নরওয়ে ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় নরওয়েজিয়ান দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল এবং তাদের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় নরওয়েজিয়ান দূতাবাস এবং ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। শেনজেন ভিসা একটি বিস্তারিত এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হতে পারে, তাই পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে আবেদন করা উচিত। আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সচ্ছলতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

WWW.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...