পাসপোর্ট ও ডকুমেন্ট হারানোর পর প্রবাসীদের জরুরি করণীয়: বিস্তারিত গাইডলাইন
আপনি বিদেশে কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশে এসে পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে ফেলার পর যে বাস্তবসম্মত প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তিত, সেগুলোর বিস্তারিত উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলো প্রবাসীদের জন্য খুবই জরুরি।
১. দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন
পাসপোর্ট ও ডকুমেন্ট হারানোর পর আপনার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করা।
কেন GD করবেন?
এটি প্রমাণ করবে যে আপনার ডকুমেন্টগুলো চুরি হয়েছে বা হারিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে কোনো অপব্যবহার রোধে সহায়ক।
নতুন পাসপোর্ট বা অন্যান্য ডকুমেন্ট পেতে এটি একটি আবশ্যিক প্রমাণপত্র।
কিভাবে GD করবেন?
হারানোর স্থান, সময় এবং কীভাবে হারিয়ে গেল তার একটি বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করুন।
হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি ডকুমেন্টের (পাসপোর্ট, আইডি কার্ড, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ইত্যাদি) তালিকা দিন।
GD-এর একটি কপি অবশ্যই নিজের কাছে যত্ন করে রাখুন।
২. স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে (আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস) যোগাযোগ করুন
GD করার পর আপনাকে দ্রুত আপনার নিকটস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
করণীয়:
পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়ে জানান এবং নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন।
ই-পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হলে নতুন করে আবেদনের প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
আপনাকে সম্ভবত রি-ইস্যু (Reissue) ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে।
৩. অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন
যদিও আপনার পাসপোর্ট হারিয়েছে, তবুও আপনাকে অনলাইনে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে।
ধাপসমূহ:
e-Passport পোর্টালে যান: www.epassport.gov.bd
লগইন/রেজিস্ট্রেশন করুন: যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে, নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করুন।
আবেদন ফর্ম পূরণ করুন:
"Reissue of e-Passport" অপশনটি নির্বাচন করুন।
আবেদনের কারণ হিসেবে "Lost" বা "হারিয়ে গেছে" নির্বাচন করুন।
আপনার পুরনো পাসপোর্টের নম্বর (যদি মনে থাকে বা জিডিতে উল্লেখ করে থাকেন), ইস্যুর তারিখ এবং মেয়াদের তারিখ (যদি মনে থাকে) উল্লেখ করুন।
আপনার জিডি নম্বর এবং তারিখ নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করুন।
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (বাংলাদেশে আপনার ঠিকানা) নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
আবেদন ফর্মে ফি পরিশোধের অপশন থেকে আপনার সুবিধামতো পদ্ধতি (অনলাইন বা অফলাইন) নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করুন।
আবেদন সম্পন্ন করে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, যেখানে আপনি বায়োমেট্রিক তথ্য দেবেন।
আবেদন ফর্ম এবং পেমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করুন: অনলাইনে পূরণ করা ফর্ম এবং ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র (ই-চালান বা ব্যাংক স্লিপ) প্রিন্ট করে নিন।
৪. পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক ও ডকুমেন্ট জমা দিন
আপনার নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে নিম্নলিখিত কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হন:
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:
থানায় করা GD-এর মূল কপি ও ফটোকপি।
অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি।
ফি পরিশোধের মূল রসিদ/ই-চালান।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি।
পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি আপনার কাছে থাকে)।
বিদেশে আপনার ওয়ার্ক পারমিট/ভিসা/রেসিডেন্স পারমিট-এর ফটোকপি (যদি থাকে, এটি প্রমাণ করবে আপনি প্রবাসী)।
একটি হলফনামা (Affidavit): পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা তৈরি করতে হতে পারে। এর জন্য কোনো আইনজীবীর সাহায্য নিতে পারেন।
ঠিকানার প্রমাণপত্র: (যেমন: বিদ্যুৎ বিলের কপি, চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র)।
পাসপোর্ট অফিসে করণীয়:
কর্মকর্তারা আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন।
আপনার ছবি তোলা হবে, আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে, আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। এটি যত্নে রাখুন।
৫. নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং বিদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি
পাসপোর্ট সংগ্রহ: পাসপোর্ট তৈরি হলে আপনাকে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অন্যান্য কারণে সাধারণের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
দূতাবাস/কনস্যুলেটে যোগাযোগ (যদি প্রয়োজন হয়): যদি আপনার বিদেশে ফিরে যাওয়ার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বা আপনার কর্মস্থলের ডকুমেন্ট সংক্রান্ত কোনো সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশে অবস্থিত আপনার দেশের (যে দেশে আপনি কাজ করেন) দূতাবাস/হাই কমিশন বা কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করুন। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর তারা আপনাকে ভিসার জন্য সহায়তা করতে পারবেন।
৬. BMET এবং সরকারি দপ্তরের সহায়তা (ভিসা ও BMET কার্ড সংক্রান্ত)
BMET-এর ভূমিকা: যেহেতু আপনার BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) ডাটাবেজে তথ্য রয়েছে, এটি আপনার বিদেশে যাওয়ার রেকর্ড এবং বৈধতা সরকারের কাছে প্রমাণ করে। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর, আপনার নতুন পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে BMET ডাটাবেজে তথ্য আপডেট করার প্রয়োজন হতে পারে। এর জন্য আপনি BMET অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। BMET আপনার বিদেশে যাওয়ার বৈধতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে আপনার কর্মস্থলের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে দূতাবাস বা ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে পারে।
ভিসা সংক্রান্ত সহায়তায় সরকারি দপ্তর:
আপনার নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর, আপনাকে যে দেশে কাজ করেন, সেই দেশের বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাসে/হাই কমিশনে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের কাছে আপনার হারিয়ে যাওয়া ভিসার একটি ডুপ্লিকেট পেতে বা নতুন ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য আবেদন করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs): যদি আপনি দূতাবাসে যোগাযোগ করে সন্তোষজনক সাড়া না পান অথবা প্রক্রিয়াটি খুব জটিল মনে হয়, তাহলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগের (Consular & Welfare Wing) সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা বিভিন্ন দেশের দূতাবাস/হাই কমিশনের সাথে সমন্বয় করে প্রবাসীদের ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (Ministry of Expatriates' Welfare & Overseas Employment): এটি প্রবাসীদের কল্যাণে নিবেদিত মন্ত্রণালয়। আপনার ভিসার মেয়াদ, ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তারা সহায়তা করতে পারে। তারা বিদেশী দূতাবাসগুলোর সাথেও যোগাযোগ করে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।
BMET কার্ড হারানো এবং নতুন কার্ড ইস্যু:
হ্যাঁ, আপনার BMET কার্ড হারিয়ে গেলেও BMET আপনাকে নতুন কার্ড ইস্যু করবে, তবে এর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং একটি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
আপনার থানায় করা GD-এর কপি নিয়ে নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO Office) বা সরাসরি BMET প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
আপনার পুরনো BMET রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর (পুরনো ও নতুন উভয়), এবং বিদেশে আপনার কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করুন।
BMET সাধারণত একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফর্ম পূরণ করতে বলে এবং একটি নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয় নতুন কার্ডের জন্য। ফি'র পরিমাণ BMET কর্তৃক নির্ধারিত।
তারা আপনার তথ্য যাচাই করবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে একটি ডুপ্লিকেট স্মার্ট কার্ড ইস্যু করবে।
গুরুত্বপূর্ণ: বিদেশ যাত্রার জন্য BMET স্মার্ট কার্ড অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি আপনাকে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে সহায়তা করে এবং আপনার প্রবাসী কর্মী হিসেবে আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে। এটি ছাড়া আপনার বহির্গমন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৭. এয়ার টিকিট সমস্যা: পাসপোর্ট নম্বরের অমিল
আপনার নতুন পাসপোর্টের নম্বর আপনার পুরানো পাসপোর্টের নম্বরের সাথে মিলবে না। তাই আপনার এয়ার টিকিটের সাথে নতুন পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকবে না।
এয়ারলাইন্স কি নেবে?
না, অধিকাংশ এয়ারলাইন্স আপনাকে নেবে না যদি আপনার টিকিটের পাসপোর্ট নম্বর এবং আপনার হাতে থাকা পাসপোর্টের নম্বরের মিল না থাকে। এটি আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের একটি কঠোর নিয়ম।
এয়ারলাইন্স এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে চায় যে যাত্রীর পরিচয় এবং ভ্রমণের নথি সম্পূর্ণভাবে মেলে।
করণীয়:
নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সাথে সাথে আপনাকে এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
আপনার নতুন পাসপোর্ট নম্বর, পুরনো টিকিটের বিস্তারিত তথ্য এবং আপনার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করুন।
বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স পাসপোর্ট নম্বর পরিবর্তনের অনুমতি দেয়, তবে এর জন্য একটি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু এয়ারলাইন্স সামান্য ফি নিয়ে এটি পরিবর্তন করে দেবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নতুন টিকিট কাটতে বলতে পারে।
বিশেষ করে, যদি আপনি এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেটে থাকেন, তাহলে এজেন্টের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের মাধ্যমে পরিবর্তন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
আপনার জিডি কপি এবং পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে) এয়ারলাইন্সকে দেখাতে হতে পারে পরিবর্তনের জন্য।
পরামর্শ: নতুন টিকিট কাটার আগে অবশ্যই এয়ারলাইন্সের সাথে কথা বলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা যাচাই করুন। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে সামান্য ফি দিয়ে পরিবর্তন সম্ভব।
৮. নতুন পাসপোর্ট ও টিকিটের অমিলের কারণে ইমিগ্রেশন বাধা
হ্যাঁ, নতুন পাসপোর্ট নম্বর এবং আপনার ভিসার বা টিকিটের তথ্যের অমিল থাকলে বাংলাদেশী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আপনাকে বাধা দিতে পারেন।
কেন বাধা দেবে?
ইমিগ্রেশন অফিসারের প্রধান কাজ হলো যাত্রী এবং তার ভ্রমণের নথিগুলোর (পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট) মধ্যে সম্পূর্ণ মিল নিশ্চিত করা। যেকোনো অমিল সন্দেহ তৈরি করে এবং তাদের পক্ষে আপনাকে অনুমতি দেওয়া কঠিন হয়।
ভিসা এবং টিকিট পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ইস্যু করা থাকায়, নতুন পাসপোর্ট নম্বর নিয়ে যাত্রা করার চেষ্টা করলে এটি একটি অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
করণীয়:
ভিসার সমাধান: আপনার নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যে দেশে কাজ করেন, সেই দেশের দূতাবাস থেকে আপনার নতুন পাসপোর্ট নম্বরে ভিসা ট্রান্সফার বা নতুন ভিসা স্ট্যাম্পিং করিয়ে নিন। এটি সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে দূতাবাসের একটি লিখিত অনুমোদনপত্র বা ব্যাখ্যাপত্র সংগ্রহ করুন।
টিকিটের সমাধান: উপরে উল্লিখিত মতে, এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে টিকিটের পাসপোর্ট নম্বর আপডেট করিয়ে নিন।
প্রমাণপত্র সাথে রাখুন: ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপনার থানায় করা GD-এর কপি, পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে), নতুন পাসপোর্টের কপি, এবং এয়ারলাইন্স/দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত যেকোনো পরিবর্তন বা অনুমোদনের প্রমাণপত্র সাথে রাখুন।
BMET স্মার্ট কার্ড: আপনার নতুন BMET স্মার্ট কার্ড সাথে রাখুন। এটি আপনার বৈধ প্রবাসী পরিচয় প্রমাণ করবে।
পরামর্শ: যতদূর সম্ভব, উড্ডয়নের আগে ভিসা এবং টিকিটের সমস্যার সমাধান করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। ইমিগ্রেশনে পৌঁছানোর আগে সব কাগজপত্রের মিল থাকা নিশ্চিত করুন।
৯. ঘুষ দাবি বা অন্যায় দাবির ক্ষেত্রে করণীয় (এয়ারপোর্ট/ইমিগ্রেশন)
এয়ারপোর্ট বা ইমিগ্রেশনে কোনো কর্মকর্তা বা এয়ারলাইন্স কোম্পানির প্রতিনিধি যদি আপনার কাছে ঘুষ দাবি করেন বা কোনো অন্যায় দাবি করেন, তাহলে এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং আপনার নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত:
ঘুষ দিতে অস্বীকার করুন: কোনো অবস্থাতেই ঘুষ দেবেন না। ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়া উভয়ই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
শান্ত থাকুন: উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন। তাদের পরিচয় জানতে চান (ব্যাজ, আইডি)।
প্রমাণ সংগ্রহ করুন:
সম্ভব হলে, ঘটনার একটি অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করুন (সাবধানে, যাতে তারা বুঝতে না পারে)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, আইডি নম্বর, পদবি, এবং ঘটনার সময় ও স্থান টুকে নিন।
যদি কোনো অন্যায় আর্থিক দাবি হয়, তাহলে টাকার পরিমাণ বা দাবির ধরন নোট করুন।
অভিযোগ দায়ের করুন:
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ: দ্রুত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কেন্দ্রে (Complaint Desk) যোগাযোগ করুন এবং বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করুন।
বিমানবন্দরে দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সার্বক্ষণিক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকেন।
যোগাযোগের স্থান: তাদের অফিস সাধারণত বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের ভেতরেই থাকে। ইমিগ্রেশন এলাকার আশেপাশে বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তা ডেস্কে জিজ্ঞাসা করলেই তাদের নির্দিষ্ট ডেস্ক বা কক্ষের ঠিকানা জানতে পারবেন।
ফোন নম্বর: নির্দিষ্ট অফিসারের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেওয়া সম্ভব না হলেও, আপনি বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার বা এয়ারপোর্ট পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।
বিমানবন্দরের সাধারণ হেল্পলাইন নম্বর: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য +88028901400 (এই নম্বরে যোগাযোগ করে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন)।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): এটি ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধান সংস্থা। আপনি তাদের হটলাইন বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন:
দুদকের হটলাইন: ১০৬ (২৪/৭ টোল-ফ্রি)
ওয়েবসাইট: http://www.acc.org.bd/
ইমেইল: info@acc.org.bd
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর: যদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেন, তবে সরাসরি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের তথ্য পাবেন।
এয়ারলাইন্স কোম্পানি: যদি এয়ারলাইন্স স্টাফ এমন দাবি করে, তাহলে তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা এয়ারলাইন্সের কাস্টমার সার্ভিসে অভিযোগ জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী হিসেবে আপনি এই মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ জানাতে পারেন।
আপনার নিজ দেশের দূতাবাস/হাই কমিশন: আপনার যদি কর্মস্থলের দেশের দূতাবাসের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকে, তবে তাদের কনস্যুলার বিভাগে আপনার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারেন। তারা প্রয়োজনবোধে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: আপনি একজন বৈধ যাত্রী এবং আপনার সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে, আপনার অধিকার আছে কোনো অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়া। আইনি প্রক্রিয়ায় আপনার অভিযোগ জানানোর অধিকার রয়েছে এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এই ধরনের দুর্নীতি দমনে কাজ করে।
আপনার বিদেশ যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক, শুভকামনা!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন