বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর যদি সাধারণ সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে এবং আপনি কোনো সুস্পষ্ট কারণ জানতে না পারেন, তাহলে কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করবেন, তার বিস্তারিত যোগাযোগের ঠিকানা সহ নিচে দেওয়া হলো:
পাসপোর্ট নবায়নের সাধারণ সময়সীমা (বিদেশে)
ই-পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/কনস্যুলেটগুলোতে সাধারণত নিম্নলিখিত সময়সীমা প্রযোজ্য হয়:
সাধারণ আবেদন (Regular Application): সাধারণত ২১ থেকে ৪৫ কার্যদিবস (৩ থেকে ৯ সপ্তাহ) সময় লাগতে পারে।
জরুরী আবেদন (Express/Urgent Application): কিছু দূতাবাস/কনস্যুলেটে জরুরি সেবার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে অতিরিক্ত ফি দিয়ে আবেদন করলে ৭ থেকে ২১ কার্যদিবসের (১ থেকে ৪ সপ্তাহ) মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যেতে পারে।
তবে, এই সময়সীমাগুলো আনুমানিক এবং নিম্নলিখিত কারণগুলোর উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে:
দূতাবাসের কাজের চাপ: নির্দিষ্ট দূতাবাস/কনস্যুলেটে আবেদনের সংখ্যা বেশি থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।
প্রযুক্তিগত সমস্যা: সার্ভার সমস্যা বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে বিলম্ব হতে পারে।
কাগজপত্রের ত্রুটি: আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্রে কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণতা থাকলে তা সংশোধনের জন্য সময় লাগতে পারে।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া: কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে সময় বেশি লাগে।
ডাকযোগে প্রেরণ: যদি পাসপোর্ট ডাকযোগে পাঠানো হয়, তাহলে ডাক বিভাগের সময়ও এর সাথে যুক্ত হবে।
যদি নিয়মের বাইরে অনেক সময় লাগে, তাহলে কোথায় অভিযোগ করবেন?
যদি আপনার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন সাধারণ সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয় এবং আপনি কোনো সুস্পষ্ট কারণ জানতে না পারেন, তাহলে আপনি নিম্নলিখিত ধাপে অভিযোগ করতে পারেন:
১. প্রথম ধাপ: সংশ্লিষ্ট দূতাবাস/কনস্যুলেট
* যোগাযোগ: প্রথমে আপনি যে দূতাবাস/কনস্যুলেটে আবেদন করেছেন, তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা (Application Status) সম্পর্কে জানতে চান। আপনার ডেলিভারি স্লিপে থাকা অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করুন।
* সরাসরি সাক্ষাৎ: যদি ফোন বা ইমেইলে সমাধান না হয়, তাহলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বা ওয়াক-ইন (যদি অনুমতি থাকে) করে সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। আপনার সমস্যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিন এবং দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করুন।
২. দ্বিতীয় ধাপ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ
যদি দূতাবাস/কনস্যুলেট থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পান বা সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আপনি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
* **যোগাযোগের ঠিকানা:** * **কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ (Consular & Welfare Wing)** * **ঠিকানা:** পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ১ আব্দুল গণি রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। * **ইমেইল:** consular@mofa.gov.bd (সাধারণত কনস্যুলার সেবার জন্য ব্যবহৃত হয়) * **ফোন:** +8802223381400 (সাধারণ হেল্পলাইন, কনস্যুলার সেবার জন্য নির্দিষ্ট নম্বর ওয়েবসাইটে পাওয়া যেতে পারে) * **ওয়েবসাইট:** [https://mofa.gov.bd/](https://mofa.gov.bd/) (ওয়েবসাইটে "Contact Us" বা "Citizen Charter" অংশেঅভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ইমেইল ঠিকানা খুঁজে দেখতে পারেন)।
৩. তৃতীয় ধাপ: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP), বাংলাদেশ
পাসপোর্ট ইস্যু এবং নবায়নের মূল দায়িত্ব ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের। যদি সমস্যাটি প্রযুক্তিগত বা কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণের কারণে হয়, তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সহায়ক হতে পারে।
* **যোগাযোগের ঠিকানা:** * **ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর** * **ঠিকানা:** ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭,বাংলাদেশ। * **ইমেইল:** info@passport.gov.bd (সাধারণ যোগাযোগের জন্য) * **ফোন:** +880255040401 (সাধারণ হেল্পলাইন) * **ওয়েবসাইট:** [https://www.epassport.gov.bd/](https://www.epassport.gov.bd/) (ওয়েবসাইটে "Contact Us"বা "অভিযোগ" অংশে নির্দিষ্ট যোগাযোগের তথ্য থাকতে পারে)।
৪. চতুর্থ ধাপ: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (যদি প্রযোজ্য হয়)
যদি আপনি একজন প্রবাসী কর্মী হন এবং আপনার পাসপোর্ট নবায়নে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও আপনার অভিযোগের একটি সম্ভাব্য স্থান হতে পারে।
* **যোগাযোগের ঠিকানা:** * **প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়** * **ঠিকানা:** প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। * **ইমেইল:** secretary@probashi.gov.bd (সচিবের দপ্তরের জন্য, তবে সাধারণ অভিযোগের জন্য ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টইমেইল থাকতে পারে) * **ফোন:** +880241050001 (সাধারণ হেল্পলাইন) * **ওয়েবসাইট:** [https://probashi.gov.bd/](https://probashi.gov.bd/) (ওয়েবসাইটে "যোগাযোগ" বা "অভিযোগপ্রতিকার ব্যবস্থা" অংশে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে)।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
লিখিত যোগাযোগ: সবসময় লিখিতভাবে (ইমেইল) যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন এবং যোগাযোগের তারিখ ও সময়, কার সাথে কথা বলেছেন, কী আলোচনা হয়েছে – এসবের রেকর্ড রাখুন।
সব ডকুমেন্টের কপি: আপনার আবেদন ফর্ম, ডেলিভারি স্লিপ, পুরনো পাসপোর্টের কপি এবং দূতাবাসের সাথে করা সব যোগাযোগের কপি নিজের কাছে রাখুন।
ধৈর্য ধরুন: সরকারি প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তাই ধৈর্য ধরে প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনার পাসপোর্ট নবায়নের সমস্যা সমাধান হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন