বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়

 বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়, কারা এর যোগ্য, খরচ কত, কী কী কাগজপত্র লাগে এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা কেমন। 


 

বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল (Visa on Arrival - VoA) ভিসা: বিস্তারিত তথ্য

বাংলাদেশে আগমনের পর বিমানবন্দরে বা স্থলবন্দরে সরাসরি যে ভিসা প্রদান করা হয়, তাকে ভিসা অন অ্যারাইভাল বা VoA বলে। এটি সাধারণত স্বল্প সময়ের পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য।

কারা অন অ্যারাইভাল ভিসার যোগ্য?

সকল দেশের নাগরিকেরা বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসার জন্য যোগ্য নন। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিম্নলিখিত ক্যাটাগরির ব্যক্তিরা এই সুবিধা পেতে পারেন:

  • যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস/হাই কমিশন/কনস্যুলেট নেই: এই দেশগুলোর নাগরিকেরা বাংলাদেশে আসার পর ভিসা পেতে পারেন, যদি তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য বাস্তবসম্মত হয়।

  • নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিক: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিকরা (পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ বা সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে) এই সুবিধা পেতে পারেন।

  • বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক: যারা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক এবং তাদের স্বামী/স্ত্রী/সন্তানরা, যদি তারা তাদের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ (যেমন: পুরাতন বাংলাদেশী পাসপোর্ট/এনভিআর/জন্ম সনদ) দেখাতে পারেন।

  • বিদেশী মিশনের কর্মকর্তা/জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মকর্তা: বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী মিশনের কর্মকর্তা, জাতিসংঘ বা এর অঙ্গসংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের নিয়োগপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভিসা পেতে পারেন। শুধুমাত্র জাতিসংঘের পাসপোর্টধারীরা বিনামূল্যে ভিসা অন অ্যারাইভাল পাবেন।

  • বিদেশী বিনিয়োগকারী/ব্যবসায়ী: বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারীরা যদি আগ্রহী বাংলাদেশী কোনো সংস্থা বা কোম্পানি থেকে আমন্ত্রণপত্র (যা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) বা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (BEPZA) দ্বারা সত্যায়িত) দেখাতে পারেন। এক্ষেত্রে আমন্ত্রণকারী সংস্থাকে বিদেশী ভিজিটরের আগমনের পূর্বে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

  • যেকোনো বিদেশী নাগরিক যিনি তার নিজের দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে আসছেন, যেখানে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশন নেই।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: ভিসা অন অ্যারাইভাল ইস্যু করার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রবেশ পথে (বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ইত্যাদি) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের উপর নির্ভরশীল।

অন অ্যারাইভাল ভিসার মেয়াদ ও খরচ

  • মেয়াদ: ভিসা অন অ্যারাইভাল-এর সর্বোচ্চ মেয়াদ সাধারণত ৩০ (ত্রিশ) দিন

  • খরচ: ভিসা ফি সাধারণত ৫০ মার্কিন ডলার (USD 50.00)। এই ফি বিদেশি মুদ্রায় (মার্কিন ডলার/পাউন্ড স্টার্লিং/ইউরো ইত্যাদি) নগদ বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। কিছু সূত্রের মতে, ট্যাক্স সহ মোট খরচ প্রায় ৫১ মার্কিন ডলার (US$ 51) হতে পারে। যে দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রযোজ্য নয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অন অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা জরুরি:

  1. বৈধ পাসপোর্ট: পাসপোর্টের মেয়াদ বাংলাদেশে প্রবেশের তারিখ থেকে কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

  2. প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র: ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র দেখাতে হবে:

    • ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে: আপনার নিজস্ব কোম্পানি বা যে কোম্পানিতে কাজ করেন তাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত চিঠি, এবং আগ্রহী বাংলাদেশী কোম্পানীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র। আমন্ত্রণকারী বাংলাদেশী কোম্পানীকে ভ্রমণকারীর আগমনের পূর্বে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    • পর্যটনের ক্ষেত্রে: হোটেল বুকিং-এর কপি, রিটার্ন টিকেট। যদি বাংলাদেশে আপনার কোনো আমন্ত্রণকারী থাকে, তবে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন - আইডি প্রুফ, আমন্ত্রণপত্র) জমা দিতে হবে।

    • বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য: অরিজিনের প্রমাণপত্র (যেমন পুরাতন বাংলাদেশী পাসপোর্ট/এনভিআর/জন্ম সনদপত্র)। বিদেশী স্ত্রী/স্বামীর ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/এনভিআর, সন্তানের জন্য পিতামাতার পাসপোর্ট/এনভিআর সহ জন্ম গ্রহণকারী দেশ কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম সনদপত্র দাখিল করতে হবে।

    • জাতিসংঘ বা কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের জন্য: নিয়োগপত্র বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি।

  3. রিটার্ন টিকেট: ভ্রমণকারীর কাছে অবশ্যই তার ফিরতি টিকেট থাকতে হবে।

  4. পর্যাপ্ত অর্থ: ভ্রমণকারীর কাছে কমপক্ষে ৫০০ মার্কিন ডলার (USD 500.00) বা এর সমপরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় নগদ বা ক্রেডিট কার্ডে বহন করতে হবে। (যারা সরকারি কাজে আসেন, তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়)।

  5. ভিসা ফি: উপরে উল্লিখিত ৫০ বা ৫১ মার্কিন ডলার নগদে বা ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

  6. অন্যান্য কাগজপত্র: ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসার অভিজ্ঞতা

সাধারণত, যেসব বিদেশি নাগরিক যোগ্য এবং সঠিক কাগজপত্র নিয়ে আসেন, তাদের জন্য বাংলাদেশে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সহজ। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আগত ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করে এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্তুষ্ট হলে ভিসা প্রদান করে।

  • সুবিধা: যাত্রার আগে ভিসার জন্য দূতাবাসে আবেদন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের কোনো মিশন থাকে না, তখন এটি খুবই সুবিধাজনক।

  • সতর্কতা: কিছু এয়ারলাইনস ভিসা ছাড়া যাত্রীদের বিমানে উঠতে নাও দিতে পারে। তাই যাত্রা করার আগে আপনার নির্দিষ্ট এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।

  • অনলাইন আবেদন: যদিও এটি 'অন অ্যারাইভাল' ভিসা, কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রাক-আবেদন করার একটি প্রক্রিয়াও থাকতে পারে (যেমন বাংলাদেশের ই-ভিসা পোর্টাল)। এটি প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করতে পারে।

  • ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার বিচক্ষণতা: মনে রাখবেন, ভিসা অন অ্যারাইভাল প্রদান সম্পূর্ণরূপে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার বিচক্ষণতার উপর নির্ভর করে। তাই সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভুলভাবে প্রস্তুত রাখা এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

সর্বদা মনে রাখবেন, ভিসার নীতিমালা এবং শর্তাবলী সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ সরকারের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (dip.gov.bd) বা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশী দূতাবাস/মিশনের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...