তাজিকিস্তানের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
Table of Contents
- Explore visa information
- Different types of visas
- Documents required for visa application
- Visa waiver and visa-free travel
- How to obtain a visa: a guide to the visa application process
- Processing times for visa applications
- Appealing visa refusals
- Visa validityDuration of stay
- Extending visas, renewals, and overstays
মধ্য এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ তাজিকিস্তান, যা তার রুক্ষ পর্বতমালা, বিশেষ করে পামির পর্বতমালা (Pamir Mountains), এবং শ্বাসরুদ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। এটি হাইক করা, ট্রেকিং এবং আউটডোর অ্যাডভেঞ্চারের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটির রাজধানী দুশানবে (Dushanbe) এবং এর প্রাচীন শহর খুজন্দ (Khujand) ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক আকর্ষণগুলির জন্য পরিচিত। সিল্ক রোডের অংশ হওয়ায় তাজিকিস্তানের সংস্কৃতিতে পারস্য ও মধ্য এশীয় প্রভাবের সংমিশ্রণ দেখা যায়। এটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা অফবিট অ্যাডভেঞ্চার, পর্বত আরোহণ, অনাবিষ্কৃত প্রকৃতি এবং একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক পটভূমি খুঁজছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য তাজিকিস্তান ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। তাজিকিস্তান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা (e-Visa) সুবিধা প্রদান করে, যা ভিসা পাওয়ার একটি সুবিধাজনক উপায়।
যেহেতু বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের কোনো দূতাবাস বা বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস নেই, ভিসা আবেদন সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত তাজিকিস্তানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে বা অনলাইন ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)
তাজিকিস্তান ভ্রমণের জন্য নিম্নলিখিত ভিসার ক্যাটাগরি প্রযোজ্য:
পর্যটন ই-ভিসা (Tourist e-Visa):
উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
মেয়াদ: সাধারণত ৪৫ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।
এন্ট্রি: সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry)।
আবেদন পদ্ধতি: এটি সম্পূর্ণরূপে একটি অনলাইন প্রক্রিয়া, যা তাজিকিস্তানের অফিসিয়াল ই-ভিসা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বিশেষ বিবেচনা: তাজিকিস্তানের গোর্নো-বাদাখশান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (Gorno-Badakhshan Autonomous Region - GBAO) ভ্রমণ করতে চাইলে ই-ভিসা আবেদনের সময় একটি GBAO পারমিট-এর জন্য আবেদন করতে হবে এবং এর জন্য অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হবে।
সাধারণ ভিসা (Traditional/Sticker Visa):
উদ্দেশ্য: ই-ভিসা যাদের জন্য প্রযোজ্য নয়, দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান, বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যের জন্য।
আবেদন পদ্ধতি: সরাসরি তাজিকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনে (যেমন নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাস) আবেদন করতে হয়।
২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)
বাংলাদেশের নাগরিকরা তাজিকিস্তানের ভিসার জন্য অনলাইন ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন করতে পারেন, অথবা সরাসরি ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত তাজিকিস্তানের দূতাবাসের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি আবেদন জমা দিতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: তাজিকিস্তানের ভিসা নীতি এবং যোগাযোগের বিবরণ প্রায়শই পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনের আগে সরাসরি তাজিকিস্তানের ই-ভিসা পোর্টাল এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা আবশ্যক।
পদ্ধতি ১: ই-ভিসা - অনলাইন আবেদন (সবচেয়ে প্রস্তাবিত)
ধাপ ১: অফিসিয়াল ই-ভিসা ওয়েবসাইট ভিজিট:
তাজিকিস্তানের অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টালে প্রবেশ করুন (
https://www.evisa.tj/).
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ:
অনলাইন আবেদন ফরম নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। আপনার ভিসার ধরন (পর্যটন), ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা সঠিকভাবে দিতে হবে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:
ফর্ম পূরণের সময়, আপনার প্রয়োজনীয় সকল নথি (যেমন পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি, ছবি) স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করুন। ফাইল ফরম্যাট এবং আকার সম্পর্কিত নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।
সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্টের স্ক্যান কপি (মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস)।
পাসপোর্ট আকারের ছবি (ডিজিটাল কপি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:
ভিসার ফি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
আনুমানিক ই-ভিসা ফি (USD): প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার। GBAO পারমিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ মার্কিন ডলার (মোট ৭০ মার্কিন ডলার)। এটি ভিসার ধরন এবং মেয়াদের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
ফি সাধারণত ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৫: আবেদন জমা দেওয়া:
সকল তথ্য যাচাই করে এবং ফি পরিশোধ করার পর অনলাইন আবেদন জমা দিন। আপনি একটি রেফারেন্স নম্বর বা নিশ্চিতকরণ ইমেইল পাবেন।
ধাপ ৬: ই-ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
ই-ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ২-৩ কার্যদিবস সময় নিতে পারে।
ধাপ ৭: ই-ভিসা অনুমোদন:
ই-ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনি ইমেইলের মাধ্যমে আপনার ইলেকট্রনিক ভিসা (e-Visa) PDF ফাইল পাবেন। এই অনুমোদিত ডকুমেন্টটির প্রিন্টেড কপি নিয়ে আপনি তাজিকিস্তান ভ্রমণ করতে পারবেন। তাজিকিস্তানের প্রবেশ বন্দরে (বিমানবন্দর বা স্থলবন্দর) আপনার ই-ভিসা তথ্য যাচাই করা হবে।
পদ্ধতি ২: তাজিকিস্তানের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত থেকে আবেদন (ম্যানুয়াল)
যদি কোনো কারণে অনলাইন ই-ভিসা সম্ভব না হয় বা আপনার দীর্ঘমেয়াদী ভিসার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনি ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত তাজিকিস্তানের দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
ধাপ ১: দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহ:
ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত তাজিকিস্তানের দূতাবাসের (Embassy of the Republic of Tajikistan in New Delhi, India) সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সর্বশেষ ভিসা নীতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। তাদের ওয়েবসাইট বা ফোন নম্বরের মাধ্যমে এই তথ্য পেতে পারেন।
ধাপ ২: আবেদন ফরম সংগ্রহ ও পূরণ:
দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:
আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি অবশ্যই ইংরেজিতে বা তাজিক/রুশ ভাষায় হতে হবে অথবা একটি অনুমোদিত অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।
ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:
ভিসার ফি ভারতীয় রুপিতে নির্ধারিত হবে। ফি পরিশোধের পদ্ধতি (ব্যাংক ট্রান্সফার, নগদ বা অন্য কোনো পদ্ধতি) সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
আনুমানিক ভিসা ফি (INR): প্রায় ৩,০০০ - ৬,০০০ ভারতীয় রুপি (ভিসার ধরন এবং মেয়াদের উপর নির্ভরশীল)।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৫: আবেদন জমা দেওয়া:
পূরণকৃত ফরম এবং সকল প্রয়োজনীয় নথি সহ আবেদনপত্র সরাসরি দূতাবাসে বা তাদের অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিন। যেহেতু দূর থেকে আবেদন করা হবে, তাই কুরিয়ার বা ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
ধাপ ৬: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):
দূতাবাস কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে। এই ক্ষেত্রে, আপনাকে ভারতে ভ্রমণ করতে হতে পারে।
ধাপ ৭: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবস বা তার বেশি সময় নিতে পারে।
ধাপ ৮: পাসপোর্ট সংগ্রহ:
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে (সাধারণত কুরিয়ারের মাধ্যমে)।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)
তাজিকিস্তানের ই-ভিসা বা স্টিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্ট:
মূল পাসপোর্ট (স্টিকার ভিসার জন্য), যার মেয়াদ তাজিকিস্তান থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) একটি স্পষ্ট স্ক্যান কপি (ই-ভিসার জন্য)।
পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে (স্টিকার ভিসার জন্য)।
সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:
যথযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।
পাসপোর্ট আকারের ছবি:
সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। ই-ভিসার জন্য ডিজিটাল কপি।
কভারিং লেটার (Covering Letter):
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। এটি "To the Embassy of the Republic of Tajikistan, New Delhi" কে সম্বোধন করে লিখতে হবে।
ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:
তাজিকিস্তান থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবাসনের প্রমাণ:
হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।
যদি তাজিকিস্তানে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) যেখানে আপনার থাকার ঠিকানা, উদ্দেশ্য এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, তাজিকিস্তানের আইডি/নাগরিকত্বের প্রমাণ) উল্লেখ থাকবে।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:
গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা তাজিকিস্তানে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।
ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।
যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।
পেশার প্রমাণ:
চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে।
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:
আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।
অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):
বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন)।
বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।
GBAO পারমিট (যদি গোর্নো-বাদাখশান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে)।
নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে বা তাজিক/রুশ ভাষায় অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে।
৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)
বর্তমানে বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস নেই।
৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন
যেহেতু বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকরা তাজিকিস্তানের ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত তাজিকিস্তানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
তাজিকিস্তানের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of the Republic of Tajikistan in New Delhi, India):
ঠিকানা: A-1/2, Vasant Vihar, New Delhi 110057, India.
ফোন: +91 11 2615 4282 / 2615 4283
ই-মেইল: tajembdelhi@gmail.com (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।
ওয়েবসাইট:
(এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।http://www.tajembindia.in/
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। যেহেতু দূর থেকে আবেদন করা হবে, তাই কুরিয়ার বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও নথি পাঠানো এবং ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি। তবে, ই-ভিসা হলো সবচেয়ে সহজ এবং প্রস্তাবিত পদ্ধতি।
৬. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)
ই-ভিসা (e-Visa): হ্যাঁ, তাজিকিস্তান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অনলাইন ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে। এটি তাজিকিস্তানের ভিসা পাওয়ার প্রধান এবং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival): তাজিকিস্তান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা প্রদান করে না। এর অর্থ হলো, ভ্রমণের আগে অবশ্যই একটি পূর্ব-অনুমোদিত ভিসা বা ই-ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "সহজ তাজিকিস্তান ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় তাজিকিস্তানের সরকার প্রদত্ত অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টাল (https://www.evisa.tj/) বা তাদের কূটনৈতিক মিশনের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন