মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

উজবেকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্র মধ্য এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ।

উজবেকিস্তান  আনুষ্ঠানিকভাবে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্র  মধ্য এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। এর রাজধানী তাশখন্দ[১১] সার্বভৌম রাষ্ট্র একটি ধর্মনিরপেক্ষ, ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, ১২ টি প্রদেশ, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র এবং একটি রাজধানী শহর গঠিত। উজবেকিস্তান সীমান্তে পাঁচটি স্থলবেষ্টিত দেশ রয়েছে: উত্তরে কাজাখস্তান; উত্তরপূর্ব কিরগিজস্তান; দক্ষিণপূর্ব তাজিকিস্তান, দক্ষিণ আফগানিস্তান; এবং দক্ষিণ পশ্চিমে তুর্কমেনিস্তান। লিচটেনস্টাইনের পাশাপাশি এটি বিশ্বের দুবার দ্বিগুণ স্থলবেষ্টিত দেশগুলির মধ্যে একটি (অর্থাৎ অন্যান্য স্থলবেষ্টিত দেশগুলির সাথে ভাগ করে নেওয়ার সীমানা)।[১২]

ইতিহাস

জারশাসিত উজবেকিস্তান[সম্পাদনা]

রুশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বর্তমান উজবেকিস্তান বুখারা আমিরাত, খিভা খানাত এবং কোকান্দ খানাতের মধ্যে বিভক্ত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে উজবেকিস্তান রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। এসময় প্রচুরসংখ্যক রুশ এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। ১৯১২ সালের হিসাব অনুযায়ী, জারশাসিত উজবেকিস্তানে বসবাসকারী রুশদের সংখ্যা ছিল ২,১০,৩০৬ জন।[১৩] প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রুশ কর্তৃপক্ষ উজবেকিস্তানসহ কেন্দ্রীয় এশিয়া থেকে সৈন্য সংগ্রহ করার প্রচেষ্টা চালালে এ অঞ্চলব্যাপী বিদ্রোহ দেখা দেয়। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের পতন ঘটে এবং রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এমতাবস্থায় রুশ সরকার উজবেকিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

সোভিয়েত উজবেকিস্তান[সম্পাদনা]

১৯২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় এশিয়ায় রুশ কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, এবং কিছু প্রতিরোধ সত্ত্বেও উজবেকিস্তানসহ সমগ্র মধ্য এশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯২৪ সালের ২৭ অক্টোবর উজবেক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলে ১৪,৩৩,২৩০ জন উজবেক সৈন্য সোভিয়েত রেড আর্মির পক্ষে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। ২,৬৩,০০৫ জন উজবেক সৈন্য যুদ্ধ চলাকালে নিহত হন এবং ৩২,৬৭০ জন নিখোঁজ হন।[১৪]

স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের ৩১ আগস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকালে উজবেকিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১ সেপ্টেম্বরকে উজবেকিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয়।

রাজনীতি

উজবেকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকারপ্রধান। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। উজবেকিস্তানে সরকারী পদপ্রাপ্তি রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ নয়, বরং কে কোন গোত্রের, তার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

Political Map of Uzbekistan
DivisionCapital CityArea
(km2)
Population (2008)[১৫]Key
Andijan Region
Uzbek: Андижон вилояти/Andijon Viloyati
Andijan
Andijon
4,3032,965,5002
Bukhara Region
Uzbek: Бухоро вилояти/Buxoro Viloyati
Bukhara
Buxoro
41,9371,843,5003
Fergana Region
Uzbek: Фарғона вилояти/Fargʻona Viloyati
Fergana
Fargʻona
7,0053,564,8004
Jizzakh Region
Uzbek: Жиззах вилояти/Jizzax Viloyati
Jizzakh
Jizzax
21,1791,301,0005
Karakalpakstan Republic
Karakalpak: Қарақалпақстан Республикасы/Qaraqalpaqstan Respublikasiʻ
Uzbek: Қорақалпоғистон Республикаси/Qoraqalpogʻiston Respublikasi
Nukus
No‘kis
Nukus
161,3581,817,50014
কাশকদারিও অঞ্চল
Uzbek: Қашқадарё вилояти/Qashqadaryo Viloyati
কার্শি
Qarshi
28,5683,088,8008
Khorezm Region
Uzbek: Хоразм вилояти/Xorazm Viloyati
Urgench
Urganch
6,464 1,776,70013
Namangan Region
Uzbek: Наманган вилояти/Namangan Viloyati
Namangan
Namangan
7,1812,652,4006
Navoiy Region
Uzbek: Навоий вилояти/Navoiy Viloyati
Navoiy
Navoiy
109,375942,8007
Samarkand Region
Uzbek: Самарқанд вилояти/Samarqand Viloyati
সমরকন্দ
Samarqand
16,773 3,651,7009
Surkhandarya Region
Uzbek: Сурхондарё вилояти/Surxondaryo Viloyati
Termez
Termiz
20,0992,462,30011
Syrdarya Region
Uzbek: Сирдарё вилояти/Sirdaryo Viloyati
Gulistan
Guliston
4,276803,10010
Tashkent City
Uzbek:Тошкент/Toshkent Shahri
তাশখন্দ
Toshkent
3272,424,1001
Tashkent Region
Uzbek: Тошкент вилояти/Toshkent Viloyati
Nurafshon
Nurafshon
15,258 2,829,30012

The provinces are further divided into districts (tuman).

ভূগোল

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বুখারার বিবি খৈয়ম মসজিদের গম্বুজ

উজবেকিস্তান প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে সংযুক্তকারী বিখ্যাত রেশম পথের উপর অবস্থিত। উজবেকিস্তানের জাদুঘরগুলোতে প্রায় ২০ লক্ষের মত প্রত্নবস্তু রয়েছে, যেগুলি মধ্য এশিয়ায় প্রায় ৭০০০ বছর ধরে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। অনেক পর্যটক এই সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্বন্ধে জানার উদ্দেশ্যে উজবেকিস্তান ভ্রমণ করেন। এছাড়াও যারা সক্রিয় পর্যটনে আগ্রহী, তাদের জন্য উজবেকিস্তানের পাহাড়গুলি চড়া এবং তুষারাবৃত পাহাড়গুলিতে স্কি করার সুব্যবস্থা আছে। উজবেকিস্তানের ২য় বৃহত্তম শহর সমরকন্দ রেশম পথের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার অধিবাসীরা মূলত তাজিক। ৩২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার এটি বিজয় করেন। সমরকন্দের প্রধান আকর্ষণ রেগিস্তান নামের এলাকা, যার চারপাশ ঘিরে আছে অনেকগুলি প্রাচীন মাদ্রাসা। এছাড়াও এখানে অনেক বিখ্যাত মসজিদ ও স্মৃতিস্তম্ভ আছে।

রন্ধন[সম্পাদনা]

উজবেকিস্তানের সিগনেচার ডিশ হল পোলাও (প্লভ বা ওশ), যা সাধারণত চাল, মাংসের টুকরো এবং ভাজা গাজর এবং পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি করা হয়।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে শর্বা (শুর্ব বা শর্বা), চর্বিযুক্ত মাংসের বড় টুকরো (সাধারণত মাটন) এবং তাজা শাকসবজি দিয়ে তৈরি একটি স্যুপ; প্রধান কোর্স; ডিম্লামা, একটি মাংস এবং সবজি স্ট্যু; এবং বিভিন্ন কাবাব, সাধারণত একটি প্রধান কোর্স হিসাবে পরিবেশন করা হয়।

মন্তি , একধরণের মোমো জাতীয় খাবার সেটিও খুব জনপ্রিয়।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

উজবেকিস্তানের প্রধান ভাষা হল উজবেক ভাষা (উত্তর উপভাষাটি)। এতে উজবেকিস্তানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোক কথা বলেন। প্রায় ১৪% লোক রুশ ভাষায় এবং প্রায় ৪% লোক তাজিকি ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে থেকে আগত অনেকগুলি ভাষা, যেমন তুর্কমেনকাজাক ওকিরঘিজ ভাষা এখানে প্রচলিত।

উজবেক ভাষা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আরবি লিপিতে লেখা হত। সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হবার পর লেনিনের অধীনে এটি লাতিন লিপিতে লেখা শুরু হয়। কিন্তু স্তালিন ক্ষমতা দখলের পর ১৯৪০-এর দশক থেকে এটি সিরিলীয় লিপিতে লেখা হতে থাকে। ১৯৯১ সালে উজবেকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশগুলির থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উজবেক সরকার ১৯৯৩ সালে উজবেক ভাষা সরকারিভাবে আবার লাতিন লিপিতে লেখার আদেশ জারি করে। উজবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধাপে ধাপে এই লিপি সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয় এবং ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি এই সংস্কার সম্পূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই লিপি সংস্কার সিরিলীয় লিপিতে অভ্যস্ত বয়স্ক ও প্রবাসী উজবেকদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাছাড়া এতে দেশটির নবীন প্রজন্মের সিরিলীয় লিপিতে লেখা ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।


উজবেক ভাষা

উজবেক ভাষা আলতায়ীয় ভাষাপরিবারের তুর্কীয় শাখার একটি ভাষা। ভাষাটি চাগাতাই তুর্কীয় ভাষা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। চাগাতাই তুর্কীয় একটি বিলুপ্ত ভাষা, যেটি অতীতে এককালে সমগ্র মধ্য এশিয়ার আন্তর্জাতিক ভাষা ছিল। চাগাতাই শব্দটি চাগাতাই খানাত বা রাজ্য থেকে এসেছে। মঙ্গোল সেনাপতি চেঙ্গিজ খানের দ্বিতীয় সন্তান চাগাতাই খান রাজ্যটি শাসন করতেন।


চাগাতাই তুর্কীয় ভাষা আরবি লিপিতে লেখা হত এবং এতে আরবি ও ফার্সি ভাষার প্রভাব পড়েছিল। ১৪শ শতকে সমরকন্দের অধিবাসী তৈমুর লঙ চাগাতাই রাজ্য দখল করেন। তৈমুরের উত্তরসূরীদের পরবর্তীকালে উজবেকরা উচ্ছেদ করে। উজবেকদের একাংশ কাজাখ নামে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯১৭ সালে কাজাখ ও উজবেক উভয় দলই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশে পরিণত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।


উজবেক ভাষাকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুইটি প্রধান উপভাষা দলে ভাগ করা যায়। ১৯৮৯ সালে উত্তর উজবেক ভাষাটি উজবেকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষায় পরিণত হয়। সেখানে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ লোক এই ভাষায় কথা বলেন। বর্তমানে ভাষাটি গণমাধ্যম, শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা ও প্রশাসনে ব্যবহার করা হচ্ছে। উজবেকিস্তানের অর্ধেকেরও বেশি সংবাদপত্র উজবেক ভাষায় প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক-পরবর্তী স্তরের জন্য উজবেক ভাষা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত। উজবেকিস্তান ছাড়াও এটি মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশে এবং উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ও ইউরোপের কিছু প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে প্রচলিত।


দক্ষিণী উজবেক ভাষায় আফগানিস্তানের প্রায় ১৫ লক্ষ লোক কথা বলেন। এদের সাক্ষরতার হার কম। দক্ষিণী উজবেক ভাষা পাকিস্তান ও তুরস্কেও প্রচলিত।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

উজবেকিস্তান ইউরেনিয়াম উৎপাদনে বৈষয়িকভাবে সপ্তম।[১৬][১৭][১৮]

খেলাধূলা[সম্পাদনা]

বক্সিং এখানকার জনপ্রিয় খেলা। অলিম্পিকে সাম্প্রতিককালে বক্সিং-এ ৫ টি স্বর্ণপদক সমেত মোট ১৫টি পদক পেয়েছে যা দেশটির সর্বোচ্চ। মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও বাখোদির জালোলভ দেশের খ্যাতনামা বক্সার।

২০১১ এএফসি এশিয়ান কাপ দেশটির ফুটবল ইতিহাসের গৌরব ক্ষণ। সেই টুর্নামেন্টে জাতীয় দল চতুর্থ স্থান অর্জন করে। রাভশান ইরমাটোভ একজন বিখ্যাত উজবেক ফুটবল ম্যাচ রেফারি ছিলেন যিনি সর্বাধিক সংখ্যক বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

আলমাতি কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর,

 


আলমাতি অতীতে আলমা-আতা (রুশ: Алма-Ата) এবং ভেরনি (রুশ: ভেরনিউই ওয়ার্নি) নামে পরিচিত। এটি কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর, যার জনসংখ্যা ১৭,৯৭,৪৩১ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮%। এটি ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তৎকাল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব এবং তার উপনিবেশসমূহের মাধ্যমে কাজাখ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। [২] আলমা-আতা ছিল ১৯৭৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্মেলনের আয়োজক শহর, যেখানে আলমা আতা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ১৯৯৭ সালে, সরকার দেশটির উত্তরে আস্তানা শহরে রাজধানী স্থানান্তর করে, যা আলমাতি থেকে রেলপথে প্রায় ১২ ঘণ্টা দূরে অবস্থিত।

আলমাতি কাজাখস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পাশাপাশি এটি দেশের সবচেয়ে জনবহুল এবং সর্বাধিক মহাজাগতিক শহর। এই শহরটি দক্ষিণ-কাজাখস্তানের ট্রান-ইলি আলাতু পাহাড়ের পাদদেশে ৭০০-৯০০ মিটার (২৩,০০-৩,০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত, যেখানে বড় এবং ছোট আলমাতিঙ্কা নদী দুটি সমভূমিতে প্রবাহিত হয়। [৩]

ইতিহাস

১৯৯৭ সালে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজরবায়েভ আলমাতি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তরে ধূলি আচ্ছাদিত এক প্রাদেশিক শহরকে রাজধানী করার জন্য বেছে নেন। প্রথমেই তিনি জায়গাটির নাম আকমলা থেকে পরিবর্তন করে আসতানা করেন। এরপর তিনি বিশ্বের নানা দেশ থেকে স্থপতিদের নিয়ে আসেন রাজধানীটি গড়ে তোলার জন্য।

শহরটির উল্লেখযোগ্য স্থাপনার একটি খান শাতইয়ার, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাঁবু। এটির নকশা করেন নরমান ফস্টার। এর ভেতরে শপিং মল ও বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। আরেকটি স্থাপনা রয়েছে বায়তারেক টাওয়ার নামে। এটি দেখতে গাছের মাথায় ডিম বসানোর মতো। টাওয়ার থেকে অন্যান্য ভবন দেখার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে সাদা ভবনের ওপর হালকা নীল রঙের গম্বুজের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ। সবুজাভ নীল রঙের সুদৃশ্য সেন্ট্রাল কনসার্ট হল রয়েছে। স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন কোনো স্পেসশিপ মাটিতে অবতরণ করে তার দরজা খুলছে।

এমন সব স্থাপনার নতুন রাজধানী তৈরি করা সম্ভব হয়েছে দেশটির তেল সম্পদের কারণে। তেল সমৃদ্ধির কারণে গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এই বছরের মার্চে ক্ষমতা ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট নজরবায়েভ। তবে নতুন শহর গড়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার নামে রাজধানীর নামকরণ করতে দেশটির পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করেছে।


এখন কাজাখস্তানের নতুন রাজধানীর নাম নুরসুলতান সিটি। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারের পর এটাই বিশ্বের সবচেয়ে শীতল শহর।[৪]

অবস্থা

আলমাতি ১৯২৯ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত, কাজাখ স্বশাসিত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ছিল। ১৯৩৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এটি কাজাখ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ছিল। ১৯৯১ সালে কাজাখস্তান স্বাধীন হওয়ার পরে, আলমাতি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ছিল দেশটির। এর পর দেশের ঐতিহাসিক রাজধানী শহর আস্তানাকে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা কার হয়। বর্তমানে আস্তানা দেশের রাজধানী।

আলমাতি হল কাজাখস্তানের বৃহত্তম, সবচেয়ে উন্নত, এবং সবচেয়ে জাতিগত এবং সংস্কৃতিগত বৈচিত্রপূর্ণ শহর। সোভিয়েত ইউনিয়নের উন্নয়নের ফলে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের শ্রমিকদের ও ইউরোপীয় অঞ্চলের শিল্পগুলির স্থানান্তরের ফলে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রয়েছে শহরটিতে। শহর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ট্রান্স ইলি আলাতু (বা জাইলিস্কি আলতাউ) পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।

উষ্ণ গ্রীষ্ম এবং বেশ ঠান্ডা শীতের সাথে তুলনামূলকভাবে হালকা জলবায়ু রয়েছে। যেহেতু শহরটি একটি টেকটনিকিকভাবে সক্রিয় এলাকায় রয়েছে, তাই ভূমিকম্পের একটি ঝুঁকি রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় না, আলমাতি কিছু বড় ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করেছে।


১৯৯৭ সালে রাজধানী দেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অংশে আস্তানাতে স্থানান্তরিত হয়। তারপর থেকে আলমাতিকে কাজাখস্তানের 'দক্ষিণ রাজধানী' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র কাজাকিস্তান

 কাজাকিস্তান এশিয়ার একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর উত্তরে রাশিয়া, পূর্বে গণচীন, দক্ষিণে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, ও তুর্কমেনিস্তান এবং পশ্চিমে ক্যাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া। কাজাকিস্তান প্রায় সম্পূর্ণভাবে এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। তবে দেশটির কিয়দংশ উরাল নদীর পশ্চিমে ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। দেশের উত্তর অংশে অবস্থিত আস্তানা (পূর্বের নাম) বা নুর-সুলতান (বর্তমান নাম) শহর দেশটির রাজধানী।

কাজাখ ভাষা কাজাকিস্তানের সরকারি ভাষা। কাজাখ নামের তুর্কীয় জাতি এখানকার প্রধান জনগোষ্ঠী। ১৮৭০-১৮৭৬ সালের মধ্যে রাশিয়া কাজাখ দখল নেয়। ১৯২২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কাজাকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে এটি স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান। ১৯৯৫ সালে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কাজাখ একটি তুর্কি শব্দ। এর অর্থ বিস্ময়। কাজাকিস্তানের অর্থ বিস্ময়ের ভূমি। খ্রিষ্টীয় পাঁচ শতকে তুরস্ক ও ইরান থেকে বহু মানুষ এ দেশে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করে। এ দেশের উপর দিয়েই এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য হতো বিখ্যাত 'সিল্ক রোড'-এর মধ্য দিয়ে।'কাজাখ' শব্দটি দ্বারা কাজাখিকদেরই বোঝানো হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমানভাবে এটি অ-কাজাখবাসীদের বোঝাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

 কিপচাকস , নোগাইস এবং অন্যান্য তুর্কি এবং মধ্যযুগীয় মঙ্গোল উপজাতির বংশধরদের

প্যালিওলিথিক যুগ থেকেই কাজাখস্তানের জনবসতি রয়েছে। [১৮] নেওলিথিকের সময় যাজকবাদ বিকশিত হয়েছিল , কারণ এই অঞ্চলের জলবায়ু এবং অঞ্চলটি যাযাবর জীবনযাত্রার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

কাজাখ অঞ্চলটি স্থল সিল্ক রোডের পূর্বপুরুষ, ইউরেশিয়ান ব্যবসায় স্টেপ্প রুটের মূল উপাদান ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বিশ্বাস করেন যে মানুষেরা প্রথমে এই অঞ্চলের বিশাল স্টেপসগুলিতে ঘোড়াটিকে (যেমন, পনিগুলি) পোষত। সাম্প্রতিক প্রাগৈতিহাসিক সময়ে মধ্য এশিয়াতে সম্ভবত প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় আফানাসিভো সংস্কৃতি , [১৯] পরে আদি ইন্দো-ইরানীয় সংস্কৃতি যেমন আন্ড্রনোভো , [২০] এবং পরবর্তীকালে সাকা ও ম্যাসেজেইয়ের মতো ইন্দো-ইরানীয় সম্প্রদায় ছিল॥ [২১] [২২] অন্যান্য গ্রুপে যাযাবর সিথিয়ানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলএবং আধুনিক দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পার্সিয়ান অ্যাকেমেনিড সাম্রাজ্য। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৯ সালে, আলেকজান্ডার গ্রেট এবং তাঁর ম্যাসেডোনিয়ার সেনাবাহিনী জ্যাক্সার্তেস নদীর তীরবর্তী সিথিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন , বর্তমানে আধুনিক কাজাখস্তানের দক্ষিণ সীমান্ত সির দারিয়া নামে পরিচিত। প্রাচীন শহর তারাজ (আউলি-আতা) এবং হজরত-এ তুর্কিস্তান দীর্ঘকাল এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্ত করে সিল্ক রোড ধরে গুরুত্বপূর্ণ পথ কেন্দ্র হিসাবে কাজ করেছিল , সত্যিকার রাজনৈতিক একীকরণ কেবল ১৩ শ শতাব্দীর প্রথমদিকে মঙ্গোল শাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। বিশ্ব ইতিহাসে বৃহত্তম মঙ্গোল সাম্রাজ্যের অধীনে প্রশাসনিক জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এগুলি অবশেষে উদীয়মান কাজাখ খানাতে (কাজাখস্তান) এর অধীনে আসে।

এই পুরো সময়কালে, ঐতিহ্যবাহী যাযাবর জীবন এবং একটি প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক অর্থনীতি স্টেপ্পে আধিপত্য অব্যাহত রেখেছে। 15 তম শতাব্দীতে, তুর্কি উপজাতির মধ্যে একটি আলাদা কাজাখি পরিচয় উত্থিত হতে শুরু করে। এর পরে কাজাখের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে যেখানে খানাতে শায়েবানিদের কাছ থেকে তার সার্বভৌমত্ব লাভ হয়। প্রক্রিয়াটি 16 তম শতাব্দীর মধ্যভাগে কাজাখ ভাষা , সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির উপস্থিতির সাথে একীভূত হয়েছিল।

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তিনটি কাজাখ জাজ দখল করা আনুমানিক অঞ্চল হলো

  জুনিয়র জুজ

  মধ্য জুজ

  দুর্দান্ত জুজ

তা সত্ত্বেও, এই অঞ্চলটি দক্ষিণাঞ্চলে দেশীয় কাজাখ আমির এবং পার্শ্ববর্তী পার্সিয়ানভাষী লোকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এর উচ্চতায়, খানাট মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল শাসন করবে এবং কুমানিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে। সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, কাজাখ খানাতে উপজাতির প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছিল, যা জনগণকে কার্যকরভাবে গ্রেট, মিডিল এবং লিটল (বা ছোট) সেনাদল (জাজ) এ বিভক্ত করেছিল। রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, উপজাতীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থলপথে বাণিজ্যিক রুটের ক্রমহ্রাসমান গুরুত্ব কাজাখ খানাটকে দুর্বল করেছিল। খিভা খানাতে এই সুযোগটি ব্যবহার করে মঙ্গিশ্লাক উপদ্বীপটি সংযুক্ত করে। রাশিয়ান আগমনের আগ পর্যন্ত সেখানে উজবেকদের শাসনকাল দুটি শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল।

১৮ শতকের শুরুতে কাজাখ খানাটের জেনিট চিহ্নিত হয়েছিল। এই সময়কালে লিটল হোর্ড কাজাখ অঞ্চলগুলিতে তাদের "মহা বিপর্যয়" আগ্রাসনের পরে জঞ্জগর খানাতে বিরুদ্ধে 1723–1730 যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। আবুল খায়ের খানের নেতৃত্বে কাজাজাখ ১৭২৬ সালে বুলান্টি নদীর তীরে এবং ১৭২৯-এ আনারকায় যুদ্ধে জঞ্জার-এর উপর বড় জয়লাভ করেছিল। [২৪]

আবলাই খান 1720 এর দশক থেকে 1750 সাল পর্যন্ত জঞ্জুরের বিরুদ্ধে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন, যার জন্য জনগণ তাকে " ব্যাটার " ("বীর") হিসাবে ঘোষণা করেছিল। কাজাখরা ভলগা কাল্মাইক দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে প্রায়শই অভিযানের শিকার হয়েছিল।

রাশিয়ান সাম্রাজ্য

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে, রাশিয়ান সাম্রাজ্য ইরতিশ লাইনটি নির্মাণ করেছিল, ওমস্ক (1716), সেমিপাল্যাটিনস্ক (1718), পাভলোদার (1720), ওরেেনবুর্গ (1743) সহ ৩৪ টি দুর্গ এবং নব্বই ছয়টি রেডবউটের একটি ধারাবাহিক নির্মিত এবং রাশিয়ান অঞ্চলে কাজাখ ও ওরাত অভিযান রোধে পেট্রোপাভ্লভস্ক (১ 17৫২), [২ 26]। [২ 27] আঠার শতাব্দীর শেষের দিকে কাজাখরা রাশিয়ান এবং ভোলগা জার্মান বসতিগুলিতে অভিযান চালানোর জন্য ভোগা অঞ্চল কেন্দ্রিক পগাচেভের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়েছিল। [২৮] উনিশ শতকে রাশিয়ান সাম্রাজ্যমধ্য এশিয়ায় এর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। " গ্রেট গেম " পিরিয়ডটি সাধারণত 1813 সাল থেকে 1907 সালের অ্যাংলো-রাশিয়ান কনভেনশন পর্যন্ত চলমান হিসাবে বিবেচিত হয়। 

রাশিয়ান সাম্রাজ্য প্রশাসনের একটি ব্যবস্থা চালু করে এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে আধিপত্যের জন্য তথাকথিত "গ্রেট গেম" তে মধ্য এশিয়ায় উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে সামরিক গ্যারিসন এবং ব্যারাক তৈরি করেছিল , যা তার প্রভাব থেকে প্রসারিত করেছিল। দক্ষিণে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। রাশিয়া তার প্রথম ফাঁড়ি বিল্ট ওরস্ক , 1735. মধ্যে রাশিয়া সব স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষার পরিচয় করিয়ে দেন।

এর সিস্টেম চাপিয়ে দেওয়ার রাশিয়ার প্রচেষ্টা কাজাখ জনগণের বিরক্তি জাগিয়ে তুলেছিল এবং 1860-এর দশকে কিছু কাজাখ রাশিয়ার শাসনকে প্রতিহত করেছিল। এটি প্রচলিত যাযাবর জীবনযাত্রা এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক অর্থনীতিকে ব্যাহত করেছিল এবং মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারে ভুগছিল, কিছু কাজাখ উপজাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। উনিশ শতকের শেষের দিকে শুরু হওয়া কাজাখ জাতীয় আন্দোলন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের তাদের অন্তর্ভুক্তি ও দমনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে মাতৃভাষা ও পরিচয় রক্ষার চেষ্টা করেছিল।

1890 এর দশকের পর থেকে, রাশিয়ান সাম্রাজ্যের বহুসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী বর্তমান কাজাখস্তান, বিশেষত সেমিরেচিয়ে প্রদেশের উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে। ঔপনিবেশিকরা সংখ্যা এখনও আরও গোলাপ একবার ট্রান্স অরল রেলওয়ে থেকে ওরেনবুর্গ থেকে তাসখন্দ 1906 একটি বিশেষভাবে নির্মিত মাইগ্রেশন বিভাগের এ সালে সম্পূর্ণ হয় সেন্ট পিটার্সবার্গে বিষয়টিই দেখাশোনা করতো এবং এলাকার রাশিয়ান প্রভাব প্রসারিত করতে মাইগ্রেশন উৎসাহিত করেন। 19 শতকে প্রায় 400,000 রাশিয়ানরা কাজাখস্তানে অভিবাসিত হয়েছিল এবং 20 শতাব্দীর প্রথম তৃতীয় সময়ে প্রায় দশ মিলিয়ন স্লাভ, জার্মান, ইহুদি এবং অন্যান্যরা এই অঞ্চলে পাড়ি জমান। [২৯] 

কাজাখ এবং নতুনদের মধ্যে জমি ও জলের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছিল যা রাশিয়ান সাম্রাজ্যের শেষ বছরগুলিতে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিরক্তি সৃষ্টি করেছিল। সবচেয়ে গুরুতর অভ্যুত্থান, মধ্য এশীয় বিদ্রোহ ১৯১৬ সালে হয়েছিল। কাজাখরা রাশিয়ান এবং কস্যাক বসতি স্থাপনকারী এবং সামরিক গ্যারিসনে আক্রমণ করেছিল। এই বিদ্রোহের ফলে কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং উভয় পক্ষের নৃশংস গণহত্যার ঘটনা ঘটে। [৩০] উভয় পক্ষই ১৯১৯ সালের শেষদিকে কম্যুনিষ্ট সরকারকে প্রতিহত করেছিল।

 নভেম্বর 1917, কাজাখ (পরে করে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাবে "কির্গিজ" উল্লেখ করা হয়েছে) একটি সংক্ষিপ্ত সময়কালের অভিজ্ঞতা স্বায়ত্তশাসন (Alash স্বায়ত্তশাসনের জন্য অবশেষে হার মানবো করার জন্য) বলশেভিকরা 'নিয়ম। 26 শে আগস্ট 1920, কির্গিজ স্বায়ত্তশাসিত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেশন সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (আরএসএফএসআর) প্রতিষ্ঠিত হয় । 1925 সালের জুনে, কির্গিজ এএসএসআরটির নামকরণ করা হয়েছিল কাজাক এএসএসআরএবং এর প্রশাসনিক কেন্দ্রটি কিজিলর্ডা শহরে এবং ১৯২৭ সালের এপ্রিল মাসে আলমা-আতাতে স্থানান্তরিত হয়।

ঐতিহ্যগত অভিজাত সোভিয়েত দমন বাধ্য সহ সঙ্ঘীকরণ প্রয়াত 1920 এবং 1930-এর দশকে আনা দুর্ভিক্ষ এবং উচ্চ মৃত্যু, অস্থিরতা নেতৃস্থানীয় (: এছাড়াও দেখুন 1932-33 এর কাজাখস্তান দুর্ভিক্ষ )। [৩১] [৩২] ১৯৩০-এর দশকে মস্কোর সোভিয়েত সরকার যে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার নীতিমালা চালিয়েছিল , তার অংশ হিসাবে কাজাকের সংস্কৃত সমাজের কিছু সদস্যকে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল ।

১৯৩৬ সালের ৫ ডিসেম্বর, কাজাখ স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (যার অঞ্চল তৎকালীন আধুনিক কাজাখস্তানের সাথে সম্পর্কিত) রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেশন সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (আরএসএফএসআর) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজাখ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে ইউএসএসআরের পূর্ণ ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্র বানিয়েছিল। সময়ে এগারো ধরনের প্রজাতন্ত্রগুলির এক, সহ কির্গিজ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।

প্রজাতন্ত্র নির্বাসিত ও দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি গণ-পুনর্বাসনের জন্য, বা 1930 এবং 1940 এর দশকে কেন্দ্রীয় ইউএসএসআর কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত নির্বাসন, যেমন ভোলগা জার্মান স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে নির্বাসিত প্রায় 400,000 ভলগা জার্মানদের মধ্যে অন্যতম ছিল সেপ্টেম্বর – অক্টোবর 1941 এবং তারপরে গ্রীক এবং ক্রিমিয়ান তাতারগুলি। ডিপোজিটি এবং বন্দীদের আস্তানার বাইরের আলেঝির ক্যাম্প সহ কয়েকটি বৃহত্তম সোভিয়েত শ্রম শিবিরে (গুলাগ) বন্দী করা হয়েছিল , যা "জনগণের শত্রু" হিসাবে বিবেচিত পুরুষদের স্ত্রীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। [33] নীতির কারণে অনেকে সরানো হয়েছিল movedসোভিয়েত ইউনিয়নে জনসংখ্যা স্থানান্তর এবং অন্যদের সোভিয়েত ইউনিয়নে অনৈচ্ছিক বসতিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সোভিয়েত-জার্মান যুদ্ধের (1941-1945) শিল্পায়ন এবং বৃদ্ধি নেতৃত্বে খনিজ নিষ্কাশন যুদ্ধ প্রচেষ্টা সমর্থনে। ১৯৫৩ সালে ইউএসএসআর নেতা জোসেফ স্টালিনের মৃত্যুর সময়, কাজাখস্তানের এখনও অপ্রতিরোধ্য কৃষি অর্থনীতি ছিল। ১৯৫৩ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ কাজাখস্তানের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমিগুলিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য একটি প্রধান শস্য-উৎপাদনকারী অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে ভার্জিন ল্যান্ডস ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলেন। ভার্জিন ল্যান্ডস নীতি মিশ্র ফলাফল এনেছে। তবে সোভিয়েত নেতা লিওনিড ব্রেজনেভের অধীনে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি(ক্ষমতায় ১৯–৪-১৮৮২), এটি কৃষি খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছিল, যা কাজাখস্তানের জনসংখ্যার একটি বিশাল শতাংশের জীবিকার উৎস হিসাবে রয়েছে। ১৯৮৯ সালের দশকে বেসরকারীতা, যুদ্ধ ও পুনর্বাসনের দশকের কারণে কাজাখ দেশটিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছিল, এবং জনসংখ্যার ৩০% ছিল। জাতিগত রাশিয়ানরা 43% ছিল। [৩৪]

১৯৪৭ সালে, ইউএসএসআর সরকার তার পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের অংশ হিসাবে উত্তর-পূর্ব শহর সেমিপালাতিনস্কের কাছে একটি পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার স্থান প্রতিষ্ঠা করেছিল , যেখানে 1949 সালে প্রথম সোভিয়েত পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 1989 সাল পর্যন্ত কয়েকশো পারমাণবিক পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল এবং নেতিবাচক পরিবেশগত এবং জৈবিক পরিণতি ছিল। [35] কাজাকস্থান এন্টি পারমাণবিক আন্দোলন 1980 একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে।

ডিসেম্বর 1986 সালে, তরুণ জাতিগত কাজাখ দ্বারা ভর বিক্ষোভ, পরে বলা জেলটোস্কান দাঙ্গা, আলমাটি সংঘটিত প্রতিস্থাপন প্রতিবাদে প্রথম সচিব এর কমিউনিস্ট পার্টির কাজাখ এর দিনমুখামেদ কোনাইভ এর সঙ্গে গেন্নাদি কোল্ভিন থেকে রাশিয়ান সরকারী সৈন্যরা অশান্তি দমন করেছিল, বেশ কয়েক জন মারা গিয়েছিল এবং অনেক বিক্ষোভকারীকে জেল খাটানো হয়েছিল। [৩ 36] সোভিয়েত শাসনের অবলুপ্ত দিনগুলিতে, অসন্তুষ্টি বাড়তে থাকে এবং সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের গ্লাসনোস্টের নীতির অধীনে অভিব্যক্তি খুঁজে পেয়েছিল।

২৫ অক্টোবর 1990, কাজাখস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি প্রজাতন্ত্র হিসাবে তার ভূখণ্ডে এর সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। ১৯৯১ সালের অগস্টে মস্কোর অভ্যুত্থানকে বাতিল করে দেওয়ার পরে, ১৯৯১ সালের ১ D ডিসেম্বর কাজাখস্তান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় , এভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য সর্বশেষ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র হয়ে উঠল। দশ দিন পরে, সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেই অস্তিত্ব বন্ধ করে দেয়।

কাজাখস্তানের কমিউনিস্ট-যুগের নেতা, নর্সুলতান নজারবায়েভ দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। নাজারবায়েভ একনায়কতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসন করেছিলেন। রাজনৈতিক সংস্কার অর্থনীতিতে সাফল্যের তুলনায় পিছিয়ে থাকাতে দেশের অর্থনীতিকে বাজারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার উপর জোর দিয়েছিলেন। 2006 সালের মধ্যে কাজাখস্তান মূলত তেল শিল্পের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার জিডিপির 60% উৎপাদন করেছিল। [১৪]

1997 সালে সরকারের কাছে রাজধানী স্থানান্তরিত আস্তানা , নূর-সুলতান পুনঃনামকরণ করা 23 মার্চ 2019 [37] থেকে আলমাটি , কাজাখস্তান সর্ববৃহৎ শহর, যেখানে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। [38]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

কাজাকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকাক্ষিক আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত। ১৩ শতকে মোঙ্গলরা এখানে রাজত্ব শুরু করে। ১৬ শতক পর্যন্ত মোঙ্গলরা বিনা বাঁধায় এখানে রাজত্ব করে। উনিশ শতক থেকে রাশিয়া এ দেশ দখল করে এবং কাজাখস্তানে জারের রাজত্ব শুরু হয়। দুই বিশ্বযুদ্ধের পরও রাজনৈতিকভাবে রাশিয়ার দখলেই থাকে দেশটি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাশিয়া থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয় দেশটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান। ১৯৯৫ সালে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়। কাজাকিস্তানের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের ওপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং দ্বিকক্ষ আইনসভা উভয়ের ওপর ন্যস্ত। এ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষই মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর এবং প্রাক্তন রাজধানী আলমাতিতে গবেষণা মূলত 52% গবেষণা কর্মী রয়েছে পাবলিক রিসার্চ মূলত প্রতিষ্ঠানগুলিতে সীমাবদ্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কেবল একটি টোকেন অবদান রেখে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রকের ছত্রছায়ায় জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল থেকে তাদের অর্থায়ন গ্রহণ করে। তাদের আউটপুট তবে বাজারের চাহিদা থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। ব্যবসায়িক খাতে, কয়েকটি শিল্প উদ্যোগ নিজস্ব গবেষণা চালায়। [201] [202]

২০১০ সালে গৃহীত তাত্পর্যযুক্ত শিল্প ও উদ্ভাবনী বিকাশের জন্য রাজ্য কর্মসূচির অন্যতম উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হ'ল ২০১৫ সালের মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ব্যয়ের দেশটির স্তর বাড়িয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে জিডিপির ১% করে দেওয়া। ২০১৩ সালের মধ্যে এই অনুপাত জিডিপির 0.18% ছিল॥ যতক্ষণ না অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকবে ততক্ষণ লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।২০০৫ সাল থেকে গবেষণা এবং বিকাশের মোট দেশজ ব্যয়ের তুলনায় অর্থনীতিটি দ্রুত (২০১৩ সালে%%) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কেবল ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পিপিপি -৯৯৮ মিলিয়ন ডলার থেকে পিপিপি-তে ১৪৭১৪ মিলিয়ন উন্নীত হয়েছে। [২০২]

২০১০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কাজাখস্তানে উদ্ভাবনের ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, কেজেডটি ২৩৫ বিলিয়ন (প্রায় ১.6 বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বা জিডিপির প্রায় ১.১% উপস্থাপন করে। মোট 11% গবেষণা এবং উন্নয়নে ব্যয় হয়েছিল। এটি উন্নত দেশগুলিতে প্রায় 40-70% উদ্ভাবনের ব্যয়ের সাথে তুলনা করে। এই বর্ধনটি পণ্য নকশার তীব্র বৃদ্ধি এবং এই সময়কালে নতুন পরিষেবা এবং উৎপাদন পদ্ধতি প্রবর্তনের কারণে, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অধিগ্রহণের ক্ষতির দিকে, ঐতিহ্যগতভাবে কাজাখস্তানের উদ্ভাবন ব্যয়ের বেশিরভাগ অংশ জুড়েছে। প্রশিক্ষণ ব্যয় উদ্ভাবনের ব্যয়ের মাত্র 2% উপস্থাপন করে, এটি উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক কম ভাগ। [201] [202]

ডিসেম্বর ২০১২ সালে, রাষ্ট্রপতি  নূরসুলতান নজরবায়েভ কাজাখস্তান 2050 কৌশল  ঘোষণা করেছিলেন  "স্ট্রং বিজনেস, স্ট্রং স্টেট" স্লোগান সহ এই বাস্তববাদী কৌশলটি 2050 সালের মধ্যে শীর্ষ 30 অর্থনীতির মধ্যে কাজাখস্তানকে উত্তোলনের জন্য সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে এই নথিতে কাজাখস্তান একটি জ্ঞান অর্থনীতিতে বিকশিত হওয়ার জন্য নিজেকে 15 বছর সময় দিয়েছে। প্রতিটি পাঁচ বছরের পরিকল্পনার সময় নতুন সেক্টর তৈরি করা হবে। এর মধ্যে প্রথমটি, ২০১০-২০১৪ সালকে আচ্ছাদিত করে, গাড়ি উৎপাদন, বিমান প্রকৌশল ও লোকোমোটিভ, যাত্রী ও পণ্যসম্ভার রেলপথের গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে শিল্প সক্ষমতা বিকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। 2019-এর দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়, এই পণ্যগুলির জন্য রফতানি বাজারের উন্নয়ন করা লক্ষ্য। কাজাখস্তানকে ভূতাত্ত্বিক অন্বেষণের বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম করার জন্য, দেশটি তেল এবং গ্যাসের মতো ঐতিহ্যবাহী এক্সট্র্যাক্টিং সেক্টরের দক্ষতা বাড়াতে চায়। এটি বৈদ্যুতিন, লেজার প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামগুলির জন্য তাদের গুরুত্বকে বিবেচনা করে বিরল পৃথিবী ধাতুগুলি বিকাশের পরিকল্পনা করে। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাটি উন্নয়নের সাথে মিলে যায়ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগের (এসএমই) জন্য ব্যবসায় ২০২০ রোডম্যাপ, যা অঞ্চলগুলিতে এসএমইগুলিকে অনুদানের বরাদ্দের ব্যবস্থা করে। সরকার এবং জাতীয় চেম্বার অব এন্টারপ্রেনাররাও শুরু করার ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করে। [202]

পরবর্তী ২০০০ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় মোবাইল, মাল্টি-মিডিয়া, ন্যানো- এবং স্পেস টেকনোলজি, রোবোটিকস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিকল্প শক্তি হিসাবে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা করা হবে। গোশত, দুগ্ধ ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের এক বৃহত আঞ্চলিক রফতানিকারক দেশকে রূপান্তর করার লক্ষ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলি চোখের বিকাশ করা হবে। স্বল্প-রিটার্ন, জলের নিবিড় ফসলের জাতগুলি উদ্ভিজ্জ, তেল এবং চারণজাত পণ্যের সাথে প্রতিস্থাপন করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে একটি "সবুজ অর্থনীতি" এ পরিবর্তনের অংশ হিসাবে, ১৫% জমির জমি জল-সংরক্ষণ প্রযুক্তি দিয়ে আবাদ করা হবে। পরীক্ষামূলক কৃষিবিদ এবং উদ্ভাবনী গুচ্ছ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং খরা-প্রতিরোধী জিনগতভাবে পরিবর্তিত ফসলের বিকাশ হবে। [202]

কাজাকস্থান 2050 স্ট্র্যাটেজি 2050 গবেষণা ও উন্নয়নে জিডিপি 3% নতুন হাইটেক সেক্টরের উন্নয়নের জন্য অনুমতি লক্ষ্য সমাধান করা হয়েছে। [202]

ডিজিটাল কাজাখস্তান

ডিজিটাল প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ডিজিটাল কাজাখস্তান প্রোগ্রামটি 2018 সালে চালু করা হয়েছিল। কাজাখস্তানের ডিজিটালাইজেশন প্রচেষ্টা দু' বছরে 800 বিলিয়ন টেজ (1.97 বিলিয়ন মার্কিন ডলার) তৈরি করেছে। এই কর্মসূচিটি ১২০,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে এবং দেশে ৩২.৮ বিলিয়ন টেনজ (৮০..7 মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।

ভূগোল[সম্পাদনা]

কাজাকিস্তানের মানচিত্র
আলতাই পর্বত, কাজাখস্তান মার্কাকোল রিজার্ভ, কারা-কোবা নদী

কাজাকিস্তানের মোট আয়তন ২.৭ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (১.০৫ মিলিয়ন বর্গমাইল), যা দেশটিকে পৃথিবীর নবম বৃহত্তম দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে। কাজাকিস্তান পৃথিবীর বৃহত্তম স্থলভূমি-বেষ্টিত দেশ। এর আয়তন পশ্চিম ইউরোপের আয়তনের সমান।

এটি ইউরোপ মহাদেশের সাথে বিভাজক রেখা হিসাবে বিবেচিত উরাল নদীর উভয় প্রান্ত জুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় , কাজাখস্তান বিশ্বের দুটি মাত্র ল্যান্ডলকড দেশগুলির মধ্যে একটি যার দুটি মহাদেশে অঞ্চল রয়েছে (অন্যটি আজারবাইজান)।

২,৭০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (১,০০,০০০ বর্গ মাইল) আয়তন সহ - পশ্চিম ইউরোপের সমান আকারে - কাজাখস্তান বিশ্বের নবম বৃহত্তম দেশ এবং বৃহত্তম ল্যান্ডলকড দেশ। যদিও এটি রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল , কাজাখস্তান তার কিছু অঞ্চল চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের কাছে হারিয়েছিল , [৩৯] এবং কিছু সোভিয়েত বছরের সময় উজবেকিস্তানের কারাকালপাখস্তানের স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের কাছে হারিয়েছিল।

এটি রাশিয়ার সাথে 6,846 কিলোমিটার (4,254 মাইল), উজবেকিস্তানের সাথে 2,203 কিলোমিটার (1,369 মাইল) , চীনের সাথে 1,533 কিলোমিটার (953 মাইল), কিরগিজস্তানের সাথে 1,051 কিলোমিটার (653 মাইল) এবং তুর্কমেনিস্তানের সাথে 379 কিলোমিটার (235 মাইল) সীমানা ভাগ করে ফেলেছে। মেজর শহর অন্তর্ভুক্ত নূর-সুলতান , আলমাটি , কারজেন্ডি, সিমকেন্ট , অত্বং। এটি অক্ষাংশ 40 ° এবং 56। N এবং দ্রাঘিমাংশ 46 ° এবং 88 ° E এর মধ্যে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে এশিয়ায় অবস্থিত অবস্থায়, কাজাখস্তানের একটি ছোট্ট অংশও ইউরালদের পশ্চিমে অবস্থিতপূর্ব ইউরোপে [40]

কাজাখস্তানের ভূখণ্ড পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ক্যাস্পিয়ান সাগর থেকে আলতায়ে পর্বতমালা এবং উত্তর দক্ষিণে পশ্চিম সাইবেরিয়ার সমভূমি থেকে মধ্য এশিয়ার মরুদ্যান এবং মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। কাজাখ স্তেপ (সাধারণ), প্রায় 804.500 বর্গ কিলোমিটার (310,600 বর্গ মাইল), একটি এলাকা দেশের এক তৃতীয়াংশ দখল করে এবং বিশ্বের বৃহত্তম শুষ্ক তৃণহীন অঞ্চল। স্টেপ্পটি ঘাসভূমি এবং বেলে অঞ্চলগুলির বৃহত অঞ্চল দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মেজর সমুদ্র, হ্রদ ও নদী অন্তর্ভুক্ত লেক বাল্কহাস , লেক জায়সান , চারিন নদী ও ঘাট , ইউরাল এবং সিরি দরিয়া নদী এবং আরাল সাগর যতক্ষণ না পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে এটি শুকিয়ে যায়  [৪১]

ক্যানিয়ন 80 কিলোমিটার (50 মাইল) দীর্ঘ, একটি লাল মাধ্যমে কাটা বেলেপাথর মালভূমিতে এবং উত্তর মধ্যে ক্যানিয়ন  নদী ঘাট বরাবর প্রসারিত টিয়ান শান এ ("স্বর্গীয় পর্বতমালা", 200 কিলোমিটার (124 মাইল) আলমাটি পূর্ব)43 ° 21′1.16 ″ এন 79 ° 4′49.28 ″ ই। খাড়া ক্যানিয়ন slালু, কলাম এবং খিলানগুলি 150 থেকে 300 মিটার (490 এবং 980 ফুট) এর উচ্চতায় বৃদ্ধি পায়। গভীর খাদ এর দুর্লভতা একটি বিরল জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল প্রদান ছাই গাছ  , যা বেঁচে বরফ যুগ সেখানে এখন কিছু অন্যান্য এলাকায় উত্থিত হয়েছে। [ উদ্ধৃতি প্রয়োজন ] বিগাচ ক্র্যাটার , এ48 ° 30′N 82 ° 00′E, একটি প্লিওসিন বা মায়োসিন গ্রহাণু প্রভাব গ্রহ , 8 কিলোমিটার (5 মাইল) ব্যাস এবং আনুমানিক 5 ± 3 মিলিয়ন বছর পুরানো।

প্রাকৃতিক সম্পদ

কাজাখস্তানে অ্যাক্সেসযোগ্য খনিজ এবং জীবাশ্ম জ্বালানী সংস্থার প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। ১৯৯৩ সাল থেকে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ উত্তোলনের কাজাখস্তানে সর্বাধিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে এবং দেশটির শিল্প উৎপাদন প্রায় 57 57% (বা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৩%) রয়েছে। কিছু অনুমান অনুসারে, [৪২] কাজাখস্তানে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরেনিয়াম , ক্রোমিয়াম , সীসা এবং দস্তা মজুদ রয়েছে; তৃতীয় বৃহত্তম ম্যাঙ্গানিজমজুদ; পঞ্চম বৃহত্তম তামার মজুদ; এবং কয়লা, লোহা এবং সোনার জন্য সেরা দশে রয়েছে। এটি হীরার রফতানিকারীও। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কাজাখস্তানে বর্তমানে পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উভয়ের একাদশতম বৃহত্তম প্রমাণিত মজুদ রয়েছে। [৪৩]

মোট, ২.7 বিলিয়ন টন (২.7 বিলিয়ন দীর্ঘ টন) পেট্রোলিয়াম সহ 160 টি আমানত রয়েছে। তেল অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে ক্যাস্পিয়ান উপকূলে আমানত অনেক বড় আমানতের একটি ছোট অংশ মাত্র। বলা হয় যে ওই অঞ্চলে 3.5 মিলিয়ন টন (3.4 বিলিয়ন দীর্ঘ টন) তেল এবং 2.5 মিলিয়ন ঘনমিটার (৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে কাজাখস্তানের তেলের আমানতের অনুমান 6.1 বিলিয়ন টন (6.0 বিলিয়ন দীর্ঘ টন) tons তবে, আটেরাউ , [44] পাভলোদার এবং শিমকেন্টে অবস্থিত দেশের মধ্যে কেবলমাত্র তিনটি শোধনাগার রয়েছে। এগুলি মোট অপরিশোধিত আউটপুট প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম নয়, এর বেশিরভাগ অংশ রাশিয়ায় রফতানি হয়। মার্কিন মতে এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাজাকস্থান প্রায় 1.540.000 ব্যারেল (245,000 মিটার উৎপাদন ছিল 3 2009 সালে দৈনিক তেল) [45]

১ October অক্টোবর ২০১৩-তে, এক্সট্রাক্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (EITI) কাজাখস্তানকে "EITI কমপ্লায়েন্ট" হিসাবে গ্রহণ করেছে, যার অর্থ এই যে প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ের নিয়মিত প্রকাশ নিশ্চিত করার জন্য দেশটির একটি মৌলিক এবং কার্যকরী প্রক্রিয়া রয়েছে। [48]

জলবায়ু

উষ্ণ গ্রীষ্ম এবং খুব শীতকালে শীতের সাথে কাজাখস্তানের একটি "চরম" মহাদেশীয় জলবায়ু রয়েছে। বস্তুত, নুরসুলতান পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী শহর উলানবাটর। বৃষ্টিপাত শুষ্ক এবং আধা শুষ্ক অবস্থার মধ্যে পরিবর্তিত হয়, শীতটি বিশেষত শুষ্ক থাকে। [4

বন্যজীবন

কাজাখস্তানে দশটি প্রাকৃতিক রিজার্ভ এবং দশটি জাতীয় উদ্যান রয়েছে যেগুলি অনেক বিরল এবং বিপন্ন গাছপালা এবং প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়। প্রচলিত গাছপালা হয় Astragalus , Gagea , Allium , Carex এবং Oxytropis ; বিপন্ন গাছের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে নেটিভ বুনো আপেল (মালুস সিভেরসি), বন্য আঙ্গুর (ভাইটিস ভিনিফেরা) এবং বেশ কয়েকটি বন্য টিউলিপ প্রজাতি (যেমন, তুলিপা গ্রেগিআই) এবং বিরল পেঁয়াজের প্রজাতি অ্যালিয়াম কারাটাভিয়েন্স , আইরিস উইলমোটিয়ানা এবং তুলিপা কাউফম্যানিয়ানাও অন্তর্ভুক্ত। [৫১] [৫২]কাজাখস্তানের 2019 ফরেস্ট ল্যান্ডস্কেপ ইন্টিগ্রিটি ইনডেক্সের গড় স্কোর 8.23 ​​/10, এটি 172 টি দেশের মধ্যে বিশ্বব্যাপী 26 তম র‌্যাঙ্কিং করেছে। [৫৩]

সাধারণ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে নেকড়ে , লাল শিয়াল , কর্সাক শিয়াল , মুজ , আরগালি (ভেড়ার সর্বাধিক প্রজাতি), ইউরেশীয় লিংস , প্যালাসের বিড়াল এবং তুষার চিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে , যার বেশ কয়েকটি সুরক্ষিত। কাজাখস্তানের রেড বুক অফ প্রোটেক্টেড স্পেসিসে রয়েছে 125 পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণিসম্পদ এবং মেরুদণ্ড, শেওলা এবং লাইকেন সহ 404 টি উদ্ভিদ। 

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ মুসলিম। বাকী ৩০ ভাগ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। মোট জনসংখ্যার ৬০ ভাগ কাজাখ। ৩০ ভাগ রুশ। বাকী ১০ ভাগ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

৭০ ভাগ মুসলিম হওয়ায় মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে দেখা যায় তাদের। অন্যান্য ধর্মালম্বীরা তাদের উৎসব পালন করে থাকে।

অর্থনীতি

কাজাকিস্তানের মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম ও শক্তিশালী অর্থনীতি রয়েছে। কাজাকিস্তানই ছিল প্রথম প্রাক্তন  সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র যে তার সমস্ত ঋণ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে পরিশোধ করেছিলো মুদ্রা তহবিল ও তফসিলের ৭ বছর আগে। কাজাকিস্তানে জিডিপি ৯১৭৯.৩৩২বিলিয়ন এবং বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৪.৫%।মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৯৬৮৬

কাজাখস্তানের শহর

প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)

  প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)   উদ্যোক্তা: মো. তাকবীর হোসেন, সিইও, কেআর গ্লোবাল লিমিটেড ও গ্...