মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

আলমাতি কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর,

 


আলমাতি অতীতে আলমা-আতা (রুশ: Алма-Ата) এবং ভেরনি (রুশ: ভেরনিউই ওয়ার্নি) নামে পরিচিত। এটি কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর, যার জনসংখ্যা ১৭,৯৭,৪৩১ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮%। এটি ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তৎকাল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব এবং তার উপনিবেশসমূহের মাধ্যমে কাজাখ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। [২] আলমা-আতা ছিল ১৯৭৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা সম্মেলনের আয়োজক শহর, যেখানে আলমা আতা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ১৯৯৭ সালে, সরকার দেশটির উত্তরে আস্তানা শহরে রাজধানী স্থানান্তর করে, যা আলমাতি থেকে রেলপথে প্রায় ১২ ঘণ্টা দূরে অবস্থিত।

আলমাতি কাজাখস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পাশাপাশি এটি দেশের সবচেয়ে জনবহুল এবং সর্বাধিক মহাজাগতিক শহর। এই শহরটি দক্ষিণ-কাজাখস্তানের ট্রান-ইলি আলাতু পাহাড়ের পাদদেশে ৭০০-৯০০ মিটার (২৩,০০-৩,০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত, যেখানে বড় এবং ছোট আলমাতিঙ্কা নদী দুটি সমভূমিতে প্রবাহিত হয়। [৩]

ইতিহাস

১৯৯৭ সালে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজরবায়েভ আলমাতি থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার উত্তরে ধূলি আচ্ছাদিত এক প্রাদেশিক শহরকে রাজধানী করার জন্য বেছে নেন। প্রথমেই তিনি জায়গাটির নাম আকমলা থেকে পরিবর্তন করে আসতানা করেন। এরপর তিনি বিশ্বের নানা দেশ থেকে স্থপতিদের নিয়ে আসেন রাজধানীটি গড়ে তোলার জন্য।

শহরটির উল্লেখযোগ্য স্থাপনার একটি খান শাতইয়ার, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাঁবু। এটির নকশা করেন নরমান ফস্টার। এর ভেতরে শপিং মল ও বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। আরেকটি স্থাপনা রয়েছে বায়তারেক টাওয়ার নামে। এটি দেখতে গাছের মাথায় ডিম বসানোর মতো। টাওয়ার থেকে অন্যান্য ভবন দেখার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে সাদা ভবনের ওপর হালকা নীল রঙের গম্বুজের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ। সবুজাভ নীল রঙের সুদৃশ্য সেন্ট্রাল কনসার্ট হল রয়েছে। স্থাপনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন কোনো স্পেসশিপ মাটিতে অবতরণ করে তার দরজা খুলছে।

এমন সব স্থাপনার নতুন রাজধানী তৈরি করা সম্ভব হয়েছে দেশটির তেল সম্পদের কারণে। তেল সমৃদ্ধির কারণে গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এই বছরের মার্চে ক্ষমতা ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট নজরবায়েভ। তবে নতুন শহর গড়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার নামে রাজধানীর নামকরণ করতে দেশটির পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করেছে।


এখন কাজাখস্তানের নতুন রাজধানীর নাম নুরসুলতান সিটি। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারের পর এটাই বিশ্বের সবচেয়ে শীতল শহর।[৪]

অবস্থা

আলমাতি ১৯২৯ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত, কাজাখ স্বশাসিত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ছিল। ১৯৩৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এটি কাজাখ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ছিল। ১৯৯১ সালে কাজাখস্তান স্বাধীন হওয়ার পরে, আলমাতি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ছিল দেশটির। এর পর দেশের ঐতিহাসিক রাজধানী শহর আস্তানাকে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা কার হয়। বর্তমানে আস্তানা দেশের রাজধানী।

আলমাতি হল কাজাখস্তানের বৃহত্তম, সবচেয়ে উন্নত, এবং সবচেয়ে জাতিগত এবং সংস্কৃতিগত বৈচিত্রপূর্ণ শহর। সোভিয়েত ইউনিয়নের উন্নয়নের ফলে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের শ্রমিকদের ও ইউরোপীয় অঞ্চলের শিল্পগুলির স্থানান্তরের ফলে রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রয়েছে শহরটিতে। শহর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ট্রান্স ইলি আলাতু (বা জাইলিস্কি আলতাউ) পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।

উষ্ণ গ্রীষ্ম এবং বেশ ঠান্ডা শীতের সাথে তুলনামূলকভাবে হালকা জলবায়ু রয়েছে। যেহেতু শহরটি একটি টেকটনিকিকভাবে সক্রিয় এলাকায় রয়েছে, তাই ভূমিকম্পের একটি ঝুঁকি রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় না, আলমাতি কিছু বড় ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করেছে।


১৯৯৭ সালে রাজধানী দেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অংশে আস্তানাতে স্থানান্তরিত হয়। তারপর থেকে আলমাতিকে কাজাখস্তানের 'দক্ষিণ রাজধানী' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...