বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫

কৃষক মাঠ স্কুলের (FFS) সনদপত্র -FFS কী?

FFS কী?

FFS মূলত দলভিত্তিক শিক্ষণ প্রক্রিয়া, যা কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) সহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে শিখতে সাহায্য করে। এর মূল ধারণা হলো, কৃষকদেরকে শুধুমাত্র তথ্য প্রদান না করে, তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ এবং আলোচনার মাধ্যমে শিখতে উৎসাহিত করা। প্রথম FFS গুলো ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ইন্দোনেশিয়ায় চালু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার প্রচার।


FFS এর উদ্দেশ্য

কৃষক মাঠ স্কুলের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:

  • বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা বৃদ্ধি: কৃষকদের তাদের ফসলের অবস্থা বিশ্লেষণ করার এবং সমস্যা সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো।
  • ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন: কৃষি সম্পর্কিত নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান দেওয়া।
  • আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি: কৃষকদেরকে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম করা।
  • উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি: উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের ফলন ও কৃষকদের আয় বাড়ানো।
  • পরিবেশবান্ধব কৃষি: রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি শেখানো।
  • সামাজিক বন্ধন ও নেতৃত্ব বিকাশ: কৃষকদের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি করা।
  • কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান, যা শ্রমের অভাব মোকাবিলায় এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করে।

FFS এর কার্যক্রম ও বৈশিষ্ট্য

FFS এর কার্যক্রমগুলো একটি নির্দিষ্ট ফসলের মৌসুম জুড়ে পরিচালিত হয় এবং এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • মাঠভিত্তিক শিক্ষা: FFS এর প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হলো কৃষকের নিজস্ব কৃষি জমি। এখানেই শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে কৃষকরা সরাসরি ফসলের বৃদ্ধি, রোগবালাইয়ের আক্রমণ এবং অন্যান্য সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেন।
  • অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি: এখানে কোনো শিক্ষক লেকচার দেন না, বরং একজন সহায়ক (Facilitator) কৃষকদের আলোচনা, পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সহায়তা করেন। কৃষকরা নিজেরাই প্রশ্ন করেন, উত্তর খোঁজেন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
  • মৌসুমব্যাপী কার্যক্রম: একটি FFS সাধারণত একটি ফসলের পুরো মৌসুম জুড়ে চলে। সপ্তাহে অন্তত একবার করে নিয়মিত ক্লাস বা সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৫-৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
  • পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: প্রতিটি FFS এ কৃষকরা দুটি প্লট তৈরি করেন: একটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করা হয় এবং অন্যটিতে FFS থেকে শেখা নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। কৃষকরা নিয়মিত দুটি প্লটের মধ্যে পার্থক্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন।
  • এগ্রো-ইকোসিস্টেম বিশ্লেষণ (AESA): এটি FFS এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে কৃষকরা ফসলের মাঠের পরিবেশ, উপকারী ও ক্ষতিকর পোকামাকড়, রোগবালাই, আবহাওয়া ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে ফসল ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেন।
  • বিশেষ বিষয় ও দলীয় কার্যক্রম: AESA এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ বিষয় (যেমন - সার ব্যবস্থাপনা, বীজ শোধন, সেচ) নিয়ে আলোচনা হয় এবং কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
  • ক্ষুদ্র দল গঠন: FFS এ অংশগ্রহণকারী কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয় (সাধারণত ৫ জন করে), যাতে সবাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
  • মাঠ দিবস (Field Day): মৌসুম শেষে একটি মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়, যেখানে FFS এর ফলাফল অন্যান্য কৃষকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
  • স্বেচ্ছামূলক অংশগ্রহণ: FFS এ অংশগ্রহণ স্বেচ্ছামূলক এবং সাধারণত কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় না, বরং শেখার আগ্রহই মূল প্রেরণা।

FFS এর সুবিধা

FFS কৃষকদের জন্য বহুমুখী সুবিধা নিয়ে আসে:

  • গভীর জ্ঞান অর্জন: কৃষকরা ফসলের বৃদ্ধি চক্র, পোকামাকড়ের জীবনচক্র এবং পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারেন।
  • সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: নিজেদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তারা কখন, কোন বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে বা কখন সার দিতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
  • রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস: সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও আয় বৃদ্ধি: সঠিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং ফসলের গুণগত মান ও ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের আয় বাড়ে।
  • ক্ষমতায়ন: কৃষকরা সমস্যা সমাধানে নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে শেখেন এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা বিকশিত হয়।
  • তথ্য বিনিময় ও নেটওয়ার্কিং: কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, যা কৃষি সম্প্রসারণে সহায়ক।

বাংলাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), FAO এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে FFS কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি অনুশীলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


কৃষক মাঠ স্কুলের (FFS) সনদপত্র

হ্যাঁ, কৃষক মাঠ স্কুল (FFS) প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সাধারণত সনদপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

এই সনদপত্রটি সাধারণত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) বা সংশ্লিষ্ট যে সংস্থা FFS কার্যক্রম পরিচালনা করে (যেমন - FAO, বিভিন্ন এনজিও বা কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান), তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এই সনদপত্রটি কৃষকদের অংশগ্রহণ এবং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে।

যদিও এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক ডিগ্রি নয়, তবে এই সনদপত্র কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে:

  • আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি: প্রশিক্ষণ শেষ করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে এটি কাজ করে।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: কৃষকদের মধ্যে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ভবিষ্যত সুযোগ: কিছু ক্ষেত্রে, এই সনদপত্র কৃষকদের অন্যান্য কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণে বা সরকারি-বেসরকারি কৃষি প্রকল্পে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে সহায়ক হতে পারে।
  • স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন: গ্রাম বা স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে স্বীকৃতি দেয়।

সুতরাং, যদি আপনি কোনো FFS প্রোগ্রামে অংশ নেন, তবে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবেন।

FFS প্রোগ্রামে অংশ ও  প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পত্রে কতো দিন প্রশিক্ষণ উল্লেখ  থাকে? 

কৃষক মাঠ স্কুলের (FFS) সনদপত্রে প্রশিক্ষণের সময়কাল সাধারণত ৬ মাস উল্লেখ থাকে। এই ৬ মাসের প্রশিক্ষণে সাধারণত ৪৬টি সেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা সপ্তাহে দুই দিন করে পরিচালিত হয়।

এটি একটি মৌসুমব্যাপী পরিচালিত অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, যেখানে হাতে-কলমে কৃষকদের বিভিন্ন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং কলাকৌশল শেখানো হয়।

কৃষক মাঠ স্কুল  FFS প্রোশিক্ষন কি এন.জি.ও  মাধমেও পরিচালিত হয় ?বাংলাদেশে কোন কোন এন.জি.ও  মাধমেও পরিচালিত হয় ?

হ্যাঁ, কৃষক মাঠ স্কুল (FFS) প্রশিক্ষণ এনজিও (Non-Governmental Organization) গুলোর মাধ্যমেও পরিচালিত হয়। আসলে, FFS ধারণাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) দ্বারা প্রবর্তিত হলেও, এর বিস্তার এবং বাস্তবায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এনজিও, সরকারি সংস্থা (যেমন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর - DAE) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করে।


এনজিওর মাধ্যমে FFS পরিচালনার কারণ

এনজিওগুলো FFS পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ:

  • মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষমতা: এনজিওগুলোর মাঠ পর্যায়ে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে, কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকে।
  • স্থানীয় প্রেক্ষাপট বোঝা: তারা স্থানীয় কৃষকদের প্রয়োজন, চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভালোভাবে বোঝে, যা প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
  • সম্পূরক সহায়তা: অনেক এনজিও কৃষি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের অন্যান্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সহায়তা করে থাকে, যেমন - ঋণ সহায়তা, বাজার সংযোগ, বা দুর্যোগ মোকাবিলা।
  • তহবিল সংগ্রহ: আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং অন্যান্য উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে FFS কার্যক্রম বাস্তবায়নে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশে FFS পরিচালনাকারী কিছু এনজিও

বাংলাদেশে অনেক এনজিও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় FFS কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বা করছে। এদের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য এনজিও এবং তাদের কার্যক্রমের ধরণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • সারা বাংলা কৃষক সোসাইটি (SBKS): এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের কৃষক সংগঠন, যা FAO এর সহযোগিতায় "Integrating Sustainable Agricultural Mechanization (SAM) into Farmer Field School (FFS)" এর মতো কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারা কৃষক সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং যান্ত্রিকীকরণের প্রসারে কাজ করছে।
  • আরডিআরএস বাংলাদেশ (RDRS Bangladesh): এই এনজিওটি কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে। তারা কৃষক ফোরাম এবং কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও চাষাবাদের কৌশল শেখায়, যেমন - শস্য নিবিড়তা, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন, মাছ চাষ, পশুপালন ইত্যাদি।
  • ওয়াইপিএসএ (YPSA - Young Power in Social Action): এটি মূলত সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে, তবে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং কমিউনিটি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে, যেখানে কৃষি সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশিক্ষণ থাকতে পারে।
  • ব্র্যাক (BRAC): যদিও ব্র্যাকের প্রধান কার্যক্রম স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনে, তবে তাদের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও কাজ করে থাকে, যেখানে FFS-এর মতো প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।
  • বিভিন্ন স্থানীয় ও ক্ষুদ্র এনজিও: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অসংখ্য ছোট-বড় এনজিও রয়েছে, যারা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (যেমন FAO, UNDP) সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে FFS কার্যক্রম পরিচালনা করে। এদের মধ্যে কিছু এনজিওর নাম পাওয়া যায়, যেমন:
    • অবলম্বন (নেত্রকোনা)
    • মহিলা ও শিশু পুনর্বাসন সংস্থা (শেরপুর)
    • দীপ্ত সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (নড়াইল)
    • সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (ঝালকাঠি)
    • হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (সিলেট)
    • রুরাল পোভার্টি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (সুনামগঞ্জ)
    • গ্রাম উন্নয়ন সমিতি (নরসিংদী)
    • পলি জননী উইমেন ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (নরসিংদী)

এছাড়াও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা যেমন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), ড্যানিডা (DANIDA) তাদের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সরাসরি বা স্থানীয় এনজিও ও সরকারি সংস্থার মাধ্যমে FFS কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো অঞ্চলে।

যদি আপনি নির্দিষ্ট কোনো FFS প্রোগ্রামে অংশ নিতে আগ্রহী হন, তাহলে আপনার এলাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় বা স্থানীয় পরিচিত এনজিওগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বাংলাদেশে বেসরকারী  কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গুলো  কৃষি সম্পর্কে কি কি কোর্স সমুহ পরিচালিত করে ?

বাংলাদেশে বেসরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ATI) গুলো মূলত ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার (Diploma in Agriculture) কোর্স পরিচালনা করে থাকে। এই কোর্সটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত হয় এবং এর মেয়াদ ৪ বছর (৮ সেমিস্টার)

বাংলাদেশের ১৮টি সরকারি এটিআই (কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) এর পাশাপাশি প্রায় ১৬২টিরও বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ডিপ্লোমা কোর্সটি পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার কোর্সের বিষয়বস্তু:

এই ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সটি শিক্ষার্থীদেরকে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির উপর তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো:

  • ফসল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা:
    • উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসলের (ধান, গম, ভুট্টা, আলু, সবজি, ফল, ডাল, তৈলবীজ, মসলা, ফুল) চাষাবাদ পদ্ধতি।
    • বীজ শোধন, চারা উৎপাদন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা।
    • সুষম সার ব্যবহার ও জৈব সার উৎপাদন।
    • সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা।
    • ফসলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।
  • মাটি বিজ্ঞান ও উর্বরতা ব্যবস্থাপনা:
    • মাটির প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য।
    • মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ।
    • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ কৌশল।
    • মাটি ক্ষয় রোধ ও পরিবেশবান্ধব অনুশীলন।
  • উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও কীটতত্ত্ব:
    • ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের প্রকারভেদ ও জীবনচক্র।
    • রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিতকরণ।
    • সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) - রাসায়নিক ও জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে দমন।
    • কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের সঠিক ব্যবহার।
  • কৃষি প্রকৌশল ও যান্ত্রিকীকরণ:
    • কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ (যেমন: পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, রিপার, থ্রেশার)।
    • সেচ পাম্প ও আধুনিক সেচ পদ্ধতি।
    • খামার পরিকল্পনা ও অবকাঠামো নির্মাণ।
  • পশুপালন ও পশুচিকিৎসা:
    • বিভিন্ন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও ছাগল-ভেড়ার জাত ও পালন পদ্ধতি।
    • পশুসম্পদের রোগবালাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা।
    • খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও পুষ্টি।
    • কৃত্রিম প্রজনন।
  • মৎস্য বিজ্ঞান:
    • বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ পদ্ধতি।
    • পুকুর ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য খামার।
    • মৎস্য রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার।
    • সমন্বিত মৎস্য চাষ (যেমন: ধান-মাছ চাষ)।
  • কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন:
    • কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল।
    • কৃষক মাঠ স্কুল (FFS) সহ বিভিন্ন সম্প্রসারণ পদ্ধতি।
    • কৃষি সমবায় ও সংগঠন।
    • গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
  • কৃষি ব্যবসা (Agribusiness):
    • কৃষি পণ্যের বিপণন ও বাজারজাতকরণ।
    • কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি।
    • কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা ও ব্যবহার।
  • অন্যান্য সাধারণ বিষয়:
    • বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি মৌলিক বিষয়গুলোও কোর্সের অন্তর্ভুক্ত থাকে।
    • কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং/মাঠ সংযুক্তি: এই কোর্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং বা মাঠ সংযুক্তি প্রশিক্ষণ, যা সাধারণত ৭ম সেমিস্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিস, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি খামার বা বেসরকারি কৃষি ফার্মে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পায়, যা তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক।এই কোর্সটি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার, বা নিজস্ব কৃষি খামার স্থাপন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

 http://www.facebook.com/grameentour

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...