মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মাল্টার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 



মাল্টা: ভূমধ্যসাগরের ঐতিহাসিক দুর্গ

মাল্টা, ভূমধ্যসাগরের এক ছোট কিন্তু ঐতিহাসিক দ্বীপরাষ্ট্র, যা তার প্রাচীন দুর্গ, মেগালিথিক

মন্দির এবং ফিরোজা জলের জন্য পরিচিত। ভ্যালেটার ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শহর থেকে

গোজো দ্বীপের শান্ত পরিবেশ, এই দেশটি আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানকার সুস্বাদু খাবার, উষ্ণ

আবহাওয়া এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস মাল্টাকে এক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করে তুলেছে।

মাল্টার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

মাল্টা, ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ, যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, প্রাচীন মন্দির, দুর্গ, মনোরম সমুদ্র সৈকত এবং পরিষ্কার ফিরোজা জলের জন্য পরিচিত। ভ্যালেটার (Valletta) রাজধানী শহর (ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য), সাইলেন্ট সিটি নামে পরিচিত মদিনা (Mdina), ব্লু লাগুন (Blue Lagoon) এবং জুরিয়েক-এর ব্লু গ্রোটো (Blue Grotto of Wied iz-Zurrieq) পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। মাল্টা সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা ঐতিহাসিক স্থান, ভূমধ্যসাগরীয় সৌন্দর্য এবং একটি আরামদায়ক ছুটি খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টা ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। মাল্টা শেনজেন এলাকার (Schengen Area) অংশ, তাই এর ভিসাকে শেনজেন ভিসা (Schengen Visa) বলা হয়। শেনজেন ভিসা দিয়ে আপনি ইউরোপের ২৬টি শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

মাল্টার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শেনজেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বা ট্রানজিট।

    • মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেনজেন এলাকায় থাকার অনুমতি দেয়।

    • এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry), ডাবল এন্ট্রি (Double Entry), বা মাল্টিপল এন্ট্রি (Multiple Entry) ভিসা হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সাধারণত যাদের শেনজেন এলাকায় ভ্রমণের ভালো রেকর্ড আছে তাদের দেওয়া হয়।

    • বিশেষ বিবেচনা: আপনার মূল গন্তব্য (Main Destination) বা শেনজেন এলাকায় প্রথম প্রবেশকারী দেশ (First Point of Entry) যদি মাল্টা হয়, তাহলে মাল্টার দূতাবাস বা তার প্রতিনিধিত্বকারী দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশে মাল্টার নিজস্ব কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের মাল্টার শেনজেন ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মাল্টার হাইকমিশন অথবা বাংলাদেশে মাল্টার প্রতিনিধিত্বকারী অন্য কোনো শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বর্তমানে, ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে মাল্টার ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের জন্য মাল্টার শেনজেন ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া প্রায়শই পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।

সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

  • ধাপ ১: ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রবেশ (প্রতিনিধিত্বকারী দেশ):

    • ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে মাল্টার জন্য নির্দিষ্ট পেজে (যেমন: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/mlt/ - মাল্টার জন্য) প্রবেশ করুন এবং "শেনজেন ভিসা" বিভাগে যান।

  • ধাপ ২: ভিসা আবেদন ফরম পূরণ:

    • ভিএফএস গ্লোবাল বা হাইকমিশনের ওয়েবসাইট থেকে শেনজেন ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও পূরণ করা যেতে পারে।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:

    • আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি ইংরেজিতে বা একটি অনুমোদিত অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।

  • ধাপ ৪: ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং:

    • ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না। শেনজেন ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনার সাথে সাথেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা জরুরি।

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • শেনজেন ভিসার ফি নির্দিষ্ট করা আছে এবং এটি ইউরোতে নির্ধারিত হলেও স্থানীয় মুদ্রায় (বাংলাদেশী টাকা) পরিশোধ করতে হয়।

    • ভিসা ফি (আনুমানিক): ৮০ ইউরো (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য), যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,৫০০ - ১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৪০ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ফি লাগে না।

    • ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস ফি: ভিসা ফি ছাড়াও ভিএফএস গ্লোবাল তাদের পরিষেবা বাবদ একটি অতিরিক্ত ফি নেয় (প্রায় ৩০-৩২ ইউরো সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা)।

    • ফি সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার সময় নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হয়।

    • গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া:

    • নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন। আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল ছবি) সংগ্রহ করা হবে।

  • ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):

    • ভিএফএস গ্লোবাল সাধারণত সাক্ষাৎকার নেয় না, তবে হাইকমিশন বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।

  • ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০-৬০ কার্যদিবস পর্যন্তও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয় বা পিক সিজন হয়।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানো হবে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

মাল্টার শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেনজেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:

    • যথযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। ছবির পেছনে নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখতে হবে।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • মাল্টা থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি মাল্টাতে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Letter of Invitation) যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত হতে পারে, তার পরিচয়পত্রের কপি, এবং তার ঠিকানার প্রমাণ। আমন্ত্রণপত্রে আপনার থাকা ও খরচের বিবরণ থাকতে হবে।

  • ভ্রমণ বীমা (Travel Medical Insurance):

    • ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ সহ শেনজেন এলাকার জন্য বৈধ ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা। এটি চিকিৎসার খরচ, জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তর, এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের খরচ কভার করবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা শেনজেন এলাকায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

    • ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার (বিশেষত শেনজেন ফরম্যাটে), স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

    • জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।

    • বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল)

বাংলাদেশে মাল্টার কোনো নিজস্ব দূতাবাস নেই। মাল্টার শেনজেন ভিসার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকরা ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

  • ভিএফএস গ্লোবাল, ঢাকা (VFS Global, Dhaka) - মাল্টার জন্য:

    • ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/mlt/

    • সরাসরি মাল্টার কোনো দূতাবাস ঢাকায় নেই। ভিএফএস গ্লোবাল আবেদনপত্র সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য শেনজেন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে বা সরাসরি নয়াদিল্লির মাল্টার হাইকমিশনে ফরোয়ার্ড করে।


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে মাল্টার জন্য ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার রয়েছে, তাই সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি কোনো কারণে কেউ অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদী বাস করেন, তাহলে তারা সেই দেশের মাল্টার দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

  • মাল্টার হাইকমিশন, নয়াদিল্লি, ভারত (High Commission of Malta in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: N 60, Panchsheel Park, New Delhi 110017, India.

    • ফোন: +91 11 4767 7000

    • ই-মেইল: highcommission.newdelhi@gov.mt (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://foreignandeu.gov.mt/en/Embassies/HC_New_Delhi/Pages/HC_New_Delhi.aspx (এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি হাইকমিশন থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa)

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাল্টা (শেনজেন এলাকার অংশ হিসেবে) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি যা দিয়ে তারা পূর্বেই অনলাইনে ভিসা পেয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন। শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বা ভিএফএস গ্লোবালের মতো অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সশরীরে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ মাল্টা ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় মাল্টার প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন দূতাবাস/হাইকমিশন/ভিএফএস গ্লোবাল এবং তাদের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় মাল্টার ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...