মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মাদাগাস্কারের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 



মাদাগাস্কার: অনন্য বন্যপ্রাণী আর প্রাচীন ল্যান্ডস্কেপ

মাদাগাস্কার, আফ্রিকা উপকূলের এক বিশাল দ্বীপরাষ্ট্র, যা তার অনন্য বন্যপ্রাণী, বিশেষতলেমুর, এবং আদিম রেইনফরেস্ট ও রুক্ষ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এখানকার বাওবাবগাছের অরণ্য থেকে রেইনি ফরেস্টের জীববৈচিত্র্য, এই দেশটি আপনাকে দেবে এক অবিস্মরণীয়অভিজ্ঞতা। মাদাগাস্কারের ভিন্ন সংস্কৃতি, মনোরম সৈকত এবং প্রকৃতির অফুরন্ত ভান্ডারএটিকে এক অসাধারণ পর্যটন গন্তব্য করে তুলেছে।

মাদাগাস্কারের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

মাদাগাস্কার, আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ রাষ্ট্র। এটি তার অনন্য জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে লেমুর (lemurs), বিরল উদ্ভিদ, বিশাল বাওবাব গাছ (baobab trees) এবং মনোরম সমুদ্র সৈকতের জন্য পরিচিত। আন্টানানারিভোর (Antananarivo) ঐতিহাসিক শহর, ইয়াভোহাঙ্গা রয়্যাল হিল (Ambohimanga Royal Hill), রেনফরেস্ট এবং সুদূরপ্রসারী জাতীয় উদ্যানগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। মাদাগাস্কার সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা অ্যাডভেঞ্চার, অনন্য বন্যপ্রাণী এবং প্রকৃতির বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা খুঁজছেন

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মাদাগাস্কার ভ্রমণের জন্য বর্তমানে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival - VoA) সুবিধা রয়েছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) নেওয়াও সম্ভব


. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

মাদাগাস্কারের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

·         পর্যটন ভিসা (Tourist Visa) - ভিসা-অন-অ্যারাইভাল:

o       উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ইত্যাদি

o        যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা মাদাগাস্কারের প্রধান প্রবেশ বন্দরগুলিতে (যেমন ইভাটো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আন্টানানারিভো - Ivato International Airport, Antananarivo) পৌঁছানোর পর ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিতে পারবেন

o       মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন, ৬০ দিন বা ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। আপনি প্রবেশ বন্দরে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করতে পারবেন

o        এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry) ভিসা

o        বিশেষ বিবেচনা: এটি একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি, তবে নিশ্চিত করুন আপনার সকল প্রয়োজনীয় নথি (যেমন ছবি, ফিরতি টিকিট) সাথে আছে এবং ফি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ ইউরো বা মার্কিন ডলার প্রস্তুত রাখুন

·         পর্যটন ভিসা (Tourist Visa) - প্রচলিত/স্টিকার ভিসা (যদি প্রয়োজন হয়):

o        উদ্দেশ্য: যদি আপনি ভ্রমণের আগেই ভিসা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বা কোনো কারণে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা ব্যবহার করতে না চান

o        মেয়াদ: সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত

o        আবশ্যকতা: নিকটস্থ মাদাগাস্কারের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে


. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশে মাদাগাস্কারের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকরা মূলত মাদাগাস্কারের প্রবেশ বন্দরে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিতে পারেন

ভিসা-অন-অ্যারাইভাল প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

·         ধাপ : মাদাগাস্কার পৌঁছানো:

o    n  মাদাগাস্কারের যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা প্রবেশ বন্দরে পৌঁছান

·         ধাপ : ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ফর্ম সংগ্রহ পূরণ:

o        ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন। এটি সতর্কতার সাথে এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন

·         ধাপ : প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি জমা:

o        পূরণকৃত ফর্মের সাথে আপনার পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফিরতি বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট (প্রমাণ হিসেবে) এবং ভিসা ফি জমা দিন

o         ভিসা ফি: মাদাগাস্কারে ভিসা-অন-অ্যারাইভালের ফি ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে

§             1 দিন পর্যন্ত থাকার জন্য: সাধারণত বিনামূল্যে (তবে এটি নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)

§             ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য: প্রায় ৩৫-৪০ ইউরো বা সমপরিমাণ মার্কিন ডলার

§             ৬০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য: প্রায় ৫০-৫৫ ইউরো বা সমপরিমাণ মার্কিন ডলার

§              ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার জন্য: প্রায় ৬৫-৭৫ ইউরো বা সমপরিমাণ মার্কিন ডলার

o              ফি সাধারণত নগদ ইউরো বা মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে হয়। কার্ড পেমেন্টের ব্যবস্থা নাও        থাকতে পারে

·         ধাপ : ভিসা ইস্যু এবং প্রবেশ:

o         ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার আবেদন পরীক্ষা করবেন এবং সকল নথি সঠিক থাকলে আপনার পাসপোর্টে ভিসার স্টিকার লাগিয়ে দেবেন। এরপর আপনি দেশে প্রবেশ করতে পারবেন

প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন (যদি প্রয়োজন হয়):

যদি আপনি মাদাগাস্কার ভ্রমণের আগে প্রচলিত ভিসা নিতে চান, তাহলে আপনাকে নিকটতম মাদাগাস্কারের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে (যেমন: ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মাদাগাস্কারের দূতাবাস) যোগাযোগ করতে হবে। তাদের ওয়েবসাইটে বা সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিতে হবে


. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

মাদাগাস্কারের ভিসা-অন-অ্যারাইভালের জন্য নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

·         বৈধ পাসপোর্ট:

o    মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ মাদাগাস্কার থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে মাস থাকতে হবে

o    পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে

·         পূরণকৃত ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ফরম:

o           বিমানবন্দরে সরবরাহকৃত ফরম, যা নির্ভুলভাবে পূরণ করা স্বাক্ষর করা হবে

·         পাসপোর্ট আকারের ছবি:

o          সাম্প্রতিক ( মাসের বেশি পুরনো নয়) - কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন)

·         ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

o           মাদাগাস্কার থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট (প্রমাণ হিসেবে)

·         আবাসনের প্রমাণ (ঐচ্ছিক, তবে সুপারিশকৃত):

o          হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)

o          অথবা, যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে তার দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র এবং তার পরিচয়ের প্রমাণ

·         আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ (ঐচ্ছিক, তবে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে):

o         যদিও সরাসরি চাওয়া হয় না, তবে প্রয়োজনে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের বিবরণীর মাধ্যমে মাদাগাস্কারে আপনার থাকা ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হতে পারে

·         হলুদ জ্বরের টিকা সনদ (Yellow Fever Vaccination Certificate):

o         যদি আপনি হলুদ জ্বরের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে (যেমন আফ্রিকার কিছু দেশ) ভ্রমণ করেন, তবে হলুদ জ্বরের টিকা সনদ বাধ্যতামূলক হতে পারে। বাংলাদেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নেই, তবে ট্রানজিট রুট বা পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য সঙ্গে রাখা ভালো

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথির মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই সাথে রাখুন। ফটোকপির মান ভালো হতে হবে


. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)

বর্তমানে বাংলাদেশে মাদাগাস্কারের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই


. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে মাদাগাস্কারের কোনো দূতাবাস নেই এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে, তাই সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আগে থেকে ভিসার জন্য আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি কেউ আগে থেকে ভিসা নিতে চান, তাহলে তারা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মাদাগাস্কারের দূতাবাস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন

·         মাদাগাস্কারের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of Madagascar in New Delhi, India):

o          ঠিকানা: D-2 / 6 Vasant Vihar, New Delhi 110057, India.

o          ফোন: +91 11 4132 1081 / +91 11 4132 1082

o         -মেইল: ambamad.delhi@gmail.com (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)

o        ওয়েবসাইট: (সরাসরি নিজস্ব ওয়েবসাইট নাও থাকতে পারে, তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা অন্যান্য কূটনৈতিক তালিকা থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে)

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত


. -ভিসা (e-Visa)

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মাদাগাস্কার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো -ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মাদাগাস্কার ভ্রমণের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রবেশ বন্দরে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নেওয়া

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "-ভিসা" বা "সহজ মাদাগাস্কার ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় মাদাগাস্কারের সরকার প্রদত্ত অফিসিয়াল তথ্যের উপর নির্ভর করুন এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভালের জন্য প্রস্তুত থাকুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, মাদাগাস্কার ভ্রমণের আগে দেশটির সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। যেহেতু ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে, তাই আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ, পর্যাপ্ত ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা, ফিরতি টিকিট এবং নগদ ইউরো/মার্কিন ডলার প্রস্তুত রাখুন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা ফর্ম নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...