লুক্সেমবার্গ: ইউরোপের রত্ন
লুক্সেমবার্গ, ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ছোট অথচ সমৃদ্ধ দেশ, যা তার মধ্যযুগীয়
দুর্গ, সবুজে ঘেরা উপত্যকা আর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। লুক্সেমবার্গ সিটি,
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত, তার ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর সরু গলি দিয়ে
পর্যটকদের আকর্ষণ করে। শান্ত পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আর উচ্চ জীবনযাত্রার মান
এই দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।
লুক্সেমবার্গের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
লুক্সেমবার্গ, পশ্চিম ইউরোপের একটি ছোট কিন্তু সমৃদ্ধ দেশ, যা তার ঐতিহাসিক দুর্গ, ঘন বন, মনোরম উপত্যকা এবং আধুনিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। লুক্সেমবার্গ সিটি (Luxembourg City)-এর পুরোনো শহর (ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান), অ্যাজাক্স (Éislek) অঞ্চলের মনোরম ল্যান্ডস্কেপ, মুয়েলারথাল (Mullerthal) অঞ্চলের "ছোট্ট সুইজারল্যান্ড" এবং ঐতিহাসিক ভাইন্ডেন ক্যাসেল (Vianden Castle) পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। লুক্সেমবার্গ সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইউরোপের হৃদয়স্থলে একটি অনন্য ভ্রমণ খুঁজছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য লুক্সেমবার্গ ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। লুক্সেমবার্গ শেনজেন এলাকার (Schengen Area) অংশ, তাই এর ভিসাকে শেনজেন ভিসা (Schengen Visa) বলা হয়। শেনজেন ভিসা দিয়ে আপনি ইউরোপের ২৬টি শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন।
১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)
লুক্সেমবার্গের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
শেনজেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):
উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বা ট্রানজিট।
মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেনজেন এলাকায় থাকার অনুমতি দেয়।
এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry), ডাবল এন্ট্রি (Double Entry), বা মাল্টিপল এন্ট্রি (Multiple Entry) ভিসা হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সাধারণত যাদের শেনজেন এলাকায় ভ্রমণের ভালো রেকর্ড আছে তাদের দেওয়া হয়।
বিশেষ বিবেচনা: আপনার মূল গন্তব্য (Main Destination) বা শেনজেন এলাকায় প্রথম প্রবেশকারী দেশ (First Point of Entry) যদি লুক্সেমবার্গ হয়, তাহলে লুক্সেমবার্গের দূতাবাস বা তার প্রতিনিধিত্বকারী দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)
বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের নিজস্ব কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের লুক্সেমবার্গের শেনজেন ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লুক্সেমবার্গের দূতাবাস অথবা বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিত্বকারী অন্য কোনো শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বর্তমানে, জার্মানির দূতাবাস (Embassy of Germany in Dhaka) বা বেলজিয়ামের দূতাবাস (Embassy of Belgium in Dhaka) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এদের মাধ্যমে ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) সেন্টার-এ আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের জন্য লুক্সেমবার্গের শেনজেন ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া প্রায়শই পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:
ধাপ ১: ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রবেশ (প্রতিনিধিত্বকারী দেশ):
প্রথমে নিশ্চিত করুন কোন শেনজেন দেশ বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি সাধারণত জার্মানির দূতাবাস বা বেলজিয়ামের দূতাবাস দ্বারা পরিচালিত ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) সেন্টার দ্বারা হয়ে থাকে।
ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে (যেমন: জার্মানির জন্য
বা বেলজিয়ামের জন্যhttps://visa.vfsglobal.com/bgd/en/deu/ ) প্রবেশ করুন এবং "শেনজেন ভিসা" বিভাগে যান।https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/bel/
ধাপ ২: ভিসা আবেদন ফরম পূরণ:
ভিএফএস গ্লোবাল বা দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে শেনজেন ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও পূরণ করা যেতে পারে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:
আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি ইংরেজিতে বা একটি অনুমোদিত অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।
ধাপ ৪: ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং:
ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না। শেনজেন ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনার সাথে সাথেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা জরুরি।
ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:
শেনজেন ভিসার ফি নির্দিষ্ট করা আছে এবং এটি ইউরোতে নির্ধারিত হলেও স্থানীয় মুদ্রায় (বাংলাদেশী টাকা) পরিশোধ করতে হয়।
ভিসা ফি (আনুমানিক): ৮০ ইউরো (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য), যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,৫০০ - ১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৪০ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ফি লাগে না।
ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস ফি: ভিসা ফি ছাড়াও ভিএফএস গ্লোবাল তাদের পরিষেবা বাবদ একটি অতিরিক্ত ফি নেয় (প্রায় ৩০-৩২ ইউরো সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা)।
ফি সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার সময় নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া:
নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন। আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল ছবি) সংগ্রহ করা হবে।
ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):
ভিএফএস গ্লোবাল সাধারণত সাক্ষাৎকার নেয় না, তবে দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।
ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০-৬০ কার্যদিবস পর্যন্তও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয় বা পিক সিজন হয়।
ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানো হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)
লুক্সেমবার্গের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্ট:
মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেনজেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।
পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।
সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:
যথ যথাযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।
পাসপোর্ট আকারের ছবি:
সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। ছবির পেছনে নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখতে হবে।
কভারিং লেটার:
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।
ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:
লুক্সেমবার্গ থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবাসনের প্রমাণ:
হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।
যদি লুক্সেমবার্গে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Letter of Invitation) যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত হতে পারে, তার পরিচয়পত্রের কপি, এবং তার ঠিকানার প্রমাণ। আমন্ত্রণপত্রে আপনার থাকা ও খরচের বিবরণ থাকতে হবে।
ভ্রমণ বীমা (Travel Medical Insurance):
ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ সহ শেনজেন এলাকার জন্য বৈধ ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা। এটি চিকিৎসার খরচ, জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তর, এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের খরচ কভার করবে।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:
গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা শেনজেন এলাকায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।
ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।
যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পonসরশিপ লেটার (বিশেষত শেনজেন ফরম্যাটে), স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।
পেশার প্রমাণ:
চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।
শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।
অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:
আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।
অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):
বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।
জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।
বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।
নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।
৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল)
বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের কোনো নিজস্ব দূতাবাস নেই। লুক্সেমবার্গের শেনজেন ভিসার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকরা জার্মানি বা বেলজিয়ামের দূতাবাসের মাধ্যমে ভিএফএস গ্লোবালে আবেদন করতে পারেন।
ভিএফএস গ্লোবাল, ঢাকা (VFS Global, Dhaka):
ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।
জার্মানির দূতাবাসের জন্য ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইট:
https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/deu/ বেলজিয়ামের দূতাবাসের জন্য ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইট:
https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/bel/ জার্মানির দূতাবাস, ঢাকা:
ঠিকানা: বাসা ১১, রাস্তা ৯, গুলশান ১, ঢাকা ১২১২, বাংলাদেশ।
ফোন: +880 2 55668650
ওয়েবসাইট:
https://dhaka.diplo.de/bd-en/service/05-VisaEinreise
বেলজিয়ামের দূতাবাস, ঢাকা:
ঠিকানা: ৬৯/বি, গুলশান অ্যাভিনিউ (দ্বিতীয় তলা), গুলশান ১, ঢাকা ১২১২, বাংলাদেশ।
ফোন: +880 2 55059632
ওয়েবসাইট:
https://countries.diplomatie.belgium.be/en/bangladesh
৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন
যেহেতু বাংলাদেশে লুক্সেমবার্গের জন্য ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার রয়েছে, তাই সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি কোনো কারণে কেউ অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদী বাস করেন, তাহলে তারা সেই দেশের লুক্সেমবার্গের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
লুক্সেমবার্গের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of Luxembourg in New Delhi, India):
ঠিকানা: 84, Jor Bagh, New Delhi 110003, India.
ফোন: +91 11 2464 7829
ই-মেইল: newdelhi.amb@mae.etat.lu (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।
ওয়েবসাইট:
(এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।https://newdelhi.mae.lu/en.html
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
৬. ই-ভিসা (e-Visa)
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লুক্সেমবার্গ (শেনজেন এলাকার অংশ হিসেবে) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি যা দিয়ে তারা পূর্বেই অনলাইনে ভিসা পেয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন। শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বা ভিএফএস গ্লোবালের মতো অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সশরীরে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ লুক্সেমবার্গ ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল এবং তাদের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন দূতাবাসের (যেমন জার্মানি বা বেলজিয়াম) ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।
GRAMEEN TOURS & Travels
Whatsapp: 01336-556033
Email: grameentour@gmail.com
www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন