মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

লাটভিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 



লাটভিয়া: বাল্টিকের সবুজ রত্ন

লাটভিয়া, বাল্টিক অঞ্চলের এক সবুজ ও ঐতিহাসিক দেশ, যা তার ঘন বন, বাল্টিক সাগরের

উপকূল এবং মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। রিগার পুরাতন শহরের ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড

হেরিটেজ সাইট থেকে সিগুলদার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এই দেশ আপনাকে দেবে এক দারুণ

অভিজ্ঞতা। এখানকার বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য

লাটভিয়াকে এক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করে তুলেছে। এটি সত্যিই ইউরোপের এক

অনাবিষ্কৃত রত্ন।

লাটভিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

লাটভিয়া, বাল্টিক অঞ্চলের একটি সুন্দর দেশ, যা তার ঐতিহাসিক শহর, মধ্যযুগীয় দুর্গ, প্রশস্ত বনভূমি, বাল্টিক সাগরের উপকূল এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। রিগার (Riga) পুরোনো শহর (ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান), জুরমালার (Jūrmala) বালুকাময় সৈকত, গাউজা ন্যাশনাল পার্কের (Gauja National Park) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রুণ্ডালে প্রাসাদ (Rundāle Palace)-এর মতো স্থাপত্য নিদর্শন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। লাটভিয়া সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য লাটভিয়া ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। লাটভিয়া শেনজেন এলাকার (Schengen Area) অংশ, তাই এর ভিসাকে শেনজেন ভিসা (Schengen Visa) বলা হয়। শেনজেন ভিসা দিয়ে আপনি ইউরোপের ২৬টি শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

লাটভিয়ার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শেনজেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, বা ট্রানজিট।

    • মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেনজেন এলাকায় থাকার অনুমতি দেয়।

    • এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry), ডাবল এন্ট্রি (Double Entry), বা মাল্টিপল এন্ট্রি (Multiple Entry) ভিসা হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সাধারণত যাদের শেনজেন এলাকায় ভ্রমণের ভালো রেকর্ড আছে তাদের দেওয়া হয়।

    • বিশেষ বিবেচনা: আপনার মূল গন্তব্য (Main Destination) বা প্রথম প্রবেশকারী দেশ (First Point of Entry) যদি লাটভিয়া হয়, তাহলে লাটভিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশে লাটভিয়ার কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের শেনজেন ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লাটভিয়ার দূতাবাস অথবা অন্য কোনো শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যারা বাংলাদেশে লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে (যেমন, সুইডিশ দূতাবাস বা নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ঢাকার মাধ্যমে ভিএফএস গ্লোবাল)।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের জন্য লাটভিয়ার শেনজেন ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া প্রায়শই পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।

সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

  • ধাপ ১: ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রবেশ (প্রতিনিধিত্বকারী দেশ):

    • প্রথমেই নিশ্চিত করুন কোন শেনজেন দেশ বাংলাদেশে লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি সাধারণত সুইডেন দূতাবাস (Embassy of Sweden in Dhaka) অথবা নেদারল্যান্ডস দূতাবাস (Embassy of the Netherlands in Dhaka)-এর মাধ্যমে পরিচালিত ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) সেন্টার দ্বারা হয়ে থাকে।

    • ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে (যেমন: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/swe/ - সুইডেনের জন্য) প্রবেশ করুন এবং "শেনজেন ভিসা" বিভাগে যান।

  • ধাপ ২: ভিসা আবেদন ফরম পূরণ:

    • ভিএফএস গ্লোবাল বা দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে শেনজেন ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও পূরণ করা যেতে পারে।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:

    • আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি ইংরেজিতে বা একটি অনুমোদিত অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।

  • ধাপ ৪: ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং:

    • ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না। শেনজেন ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনার সাথে সাথেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা জরুরি।

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • শেনজেন ভিসার ফি নির্দিষ্ট করা আছে এবং এটি ইউরোতে নির্ধারিত হলেও স্থানীয় মুদ্রায় (বাংলাদেশী টাকা) পরিশোধ করতে হয়।

    • ভিসা ফি (আনুমানিক): ৮০ ইউরো (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য), যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,৫০০ - ১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৪০ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ফি লাগে না।

    • ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস ফি: ভিসা ফি ছাড়াও ভিএফএস গ্লোবাল তাদের পরিষেবা বাবদ একটি অতিরিক্ত ফি নেয় (প্রায় ৩০-৩২ ইউরো সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা)।

    • ফি সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার সময় নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হয়।

    • গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া:

    • নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন। আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল ছবি) সংগ্রহ করা হবে।

  • ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):

    • ভিএফএস গ্লোবাল সাধারণত সাক্ষাৎকার নেয় না, তবে দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।

  • ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০-৬০ কার্যদিবস পর্যন্তও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয় বা পিক সিজন হয়।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানো হবে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

লাটভিয়ার শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেনজেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:

    • যথযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। ছবির পেছনে নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখতে হবে।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • লাটভিয়া থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি লাটভিয়ায় কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Letter of Invitation) যা লাটভিয়ার ইমিগ্রেশন অফিস কর্তৃক সত্যায়িত হতে পারে, তার পরিচয়পত্রের কপি, এবং তার ঠিকানার প্রমাণ। আমন্ত্রণপত্রে আপনার থাকা ও খরচের বিবরণ থাকতে হবে।

  • ভ্রমণ বীমা (Travel Medical Insurance):

    • ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ সহ শেনজেন এলাকার জন্য বৈধ ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা। এটি চিকিৎসার খরচ, জরুরি চিকিৎসা স্থানান্তর, এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের খরচ কভার করবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা শেনজেন এলাকায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

    • ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার (বিশেষত শেনজেন ফরম্যাটে), স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

    • জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।

    • বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল)

বাংলাদেশে লাটভিয়ার কোনো নিজস্ব দূতাবাস নেই। লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন সদস্য রাষ্ট্রের দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

  • ভিএফএস গ্লোবাল, ঢাকা (VFS Global, Dhaka):

    • যে শেনজেন দেশ লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে (যেমন সুইডেন বা নেদারল্যান্ডস), তাদের ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে আবেদন করতে হবে।

    • সুইডিশ দূতাবাসের জন্য ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার:

      • ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

      • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/swe/

    • নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের জন্য ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার:

      • ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

      • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/nld/


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে লাটভিয়ার কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকরা পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লাটভিয়ার দূতাবাস-এর মাধ্যমেও আবেদন করতে পারেন। তবে, এই ক্ষেত্রে আপনাকে নয়াদিল্লিতে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য সেখানে অবস্থান করতে হতে পারে।

  • লাটভিয়ার দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of Latvia in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: B-8, Anand Niketan, New Delhi 110021, India.

    • ফোন: +91 11 4976 7100

    • ই-মেইল: embassy.india@mfa.gov.lv (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.mfa.gov.lv/en/india (এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa)

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লাটভিয়া (শেনজেন এলাকার অংশ হিসেবে) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি যা দিয়ে তারা পূর্বেই অনলাইনে ভিসা পেয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন। শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বা ভিএফএস গ্লোবালের মতো অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সশরীরে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ লাটভিয়া ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল এবং তাদের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় লাটভিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী শেনজেন দূতাবাসের (যেমন সুইডেন বা নেদারল্যান্ডস) ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)

  প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)   উদ্যোক্তা: মো. তাকবীর হোসেন, সিইও, কেআর গ্লোবাল লিমিটেড ও গ্...