মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

লাওসের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 



লাওস: শান্তিপূর্ণ ভূমি আর বৌদ্ধ সংস্কৃতির দেশ

লাওস, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক শান্তিপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক দেশ, যা তার বৌদ্ধ মন্দির, মনোরম

জলপ্রপাত এবং মেকং নদীর শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। লুয়াং প্রবাং-এর ঐতিহাসিক শহর

থেকে এখানকার প্রাকৃতিক গুহা এবং সবুজ ধানক্ষেত, এই দেশটি আপনাকে দেবে এক দারুণ

অভিজ্ঞতা। এখানকার স্থানীয় মানুষের সরল জীবনযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান এবং

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লাওসকে এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্র করে তুলেছে।

লাওসের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

লাওস, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যা তার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সমৃদ্ধ বৌদ্ধ সংস্কৃতি, মনোরম ল্যান্ডস্কেপ, প্রাচীন মন্দির এবং মেকং নদীর (Mekong River) শান্ত প্রবাহের জন্য পরিচিত। লুয়াং প্রাবাঙ্গের (Luang Prabang) ঐতিহ্যবাহী শহর (ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য), ভিয়েনতিয়েনের (Vientiane) শান্ত রাজধানী, ভ্যাং ভিয়াংয়ের (Vang Vieng) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ফোর থাউজেন্ড আইল্যান্ডসের (Four Thousand Islands / Si Phan Don) দ্বীপময় জীবন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। লাওস সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা একটি শান্ত, সাংস্কৃতিক এবং প্রকৃতির কাছাকাছি অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য লাওস ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। লাওস কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival - VoA) সুবিধা এবং ই-ভিসা (e-Visa) সুবিধা প্রদান করে। বর্তমানে, বাংলাদেশের নাগরিকরা লাওসের ই-ভিসার জন্য যোগ্য এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধাও পেতে পারেন।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

লাওসের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ই-ভিসা (e-Visa):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, বিনোদন, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, বন্ধুবান্ধব/আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে।

    • যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা এখন লাওসের ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এটি একটি সুবিধাজনক এবং কার্যকর পদ্ধতি।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা।

    • প্রবেশের পোর্ট: ই-ভিসা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রবেশ বন্দরগুলির (বিমানবন্দর এবং কিছু স্থল সীমান্ত ক্রসিং) মাধ্যমে প্রবেশের জন্য বৈধ। যেমন: ভিয়েনতিয়েনের ওয়াটাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Wattay International Airport), লুয়াং প্রাবাঙ্গের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং থাখেকের (Thakhek) ফার্স্ট থাই-লাও ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ (First Thai-Lao Friendship Bridge)।

  • ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival - VoA):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, বিনোদন, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন।

    • যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা লাওসের নির্দিষ্ট প্রবেশ বন্দরগুলিতে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পেতে পারেন।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা।

    • প্রবেশের পোর্ট: লাওসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (যেমন ওয়াটাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, লুয়াং প্রাবাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) এবং কিছু আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

    • বিশেষ বিবেচনা: এটি একটি দ্রুত বিকল্প, তবে নিশ্চিত করুন আপনার সকল প্রয়োজনীয় নথি (যেমন ছবি, ফিরতি টিকিট) সাথে আছে এবং ফি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ মার্কিন ডলার প্রস্তুত রাখুন।

  • প্রচলিত ভিসা (Conventional / Sticker Visa):

    • উদ্দেশ্য: যদি ই-ভিসা বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল প্রযোজ্য না হয় বা আপনি ভ্রমণের আগে ভিসা পেতে চান।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

    • আবশ্যকতা: নিকটস্থ লাওসের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশে লাওসের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকরা লাওসের ভিসার জন্য মূলত অনলাইন ই-ভিসা পোর্টাল-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন অথবা লাওসের প্রবেশ বন্দরে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিতে পারেন।

সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

  • ধাপ ১: ই-ভিসা আবেদন (প্রস্তাবিত পদ্ধতি):

    • লাওসের অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টালে (Lao eVisa: https://laoevisa.gov.la/) প্রবেশ করুন।

    • একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং অনলাইন আবেদন ফরমটি নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন

    • ফর্ম পূরণের সময় আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং পাসপোর্টের বায়ো-ডাটা পৃষ্ঠার স্ক্যান করা কপি আপলোড করতে হবে। ছবি এবং স্ক্যান করা নথির আকার এবং গুণমান নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী হতে হবে।

    • অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যেমন ফেরত ফ্লাইটের টিকিট এবং আবাসনের প্রমাণ (হোটেল রিজার্ভেশন বা আমন্ত্রণপত্র) আপলোড করতে হতে পারে।

    • সকল তথ্য এবং নথি আপলোড করার পর, ভিসা ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন (সাধারণত ভিসা, মাস্টারকার্ড বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে)।

    • অনুমোদন পেলে, আপনি ই-মেইলে আপনার ই-ভিসা অনুমোদনপত্র (Approval Letter) পাবেন। এটি প্রিন্ট করে নিন এবং ভ্রমণের সময় সাথে রাখুন। লাওসে পৌঁছানোর পর এই অনুমোদনপত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

  • ধাপ ২: ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (বিমানবন্দর/স্থল সীমান্ত):

    • লাওসের নির্দিষ্ট প্রবেশ বন্দরে (যেমন ওয়াটাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পৌঁছান।

    • ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ফর্ম সংগ্রহ করে পূরণ করুন।

    • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (পাসপোর্ট, ছবি, ফিরতি টিকিট) এবং ভিসা ফি (নগদ মার্কিন ডলার) সহ ফরম জমা দিন।

    • ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার আবেদন পরীক্ষা করে ভিসার স্টিকার পাসপোর্টে লাগিয়ে দেবেন।

  • ধাপ ৩: প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন (যদি প্রয়োজন হয়):

    • যদি আপনি ই-ভিসা বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিতে না চান বা আপনার ভ্রমণের জন্য প্রচলিত ভিসার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনাকে নিকটতম লাওসের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে (যেমন: ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লাওসের দূতাবাস) যোগাযোগ করতে হবে।

    • তাদের ওয়েবসাইট থেকে ফরম ডাউনলোড করে অথবা সরাসরি সংগ্রহ করে হাতে পূরণ করতে হতে পারে।

    • দূতাবাস/কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন আছে কিনা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    • নির্ধারিত দিনে সকল মূল নথি এবং সেগুলোর ফটোকপি সহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন

    • ভিসা ফি দূতাবাসে নগদ টাকায় বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

  • ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • ই-ভিসার ফি: সাধারণত $৫০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৫,৫০০-৬,০০০ টাকা), অনলাইন প্রসেসিং ফি সহ কিছু অতিরিক্ত চার্জ থাকতে পারে।

    • ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ফি: সাধারণত $৩৫-$৪০ মার্কিন ডলার। ছুটির দিনে বা অফিস সময়ের বাইরে প্রবেশ করলে অতিরিক্ত ফি (ওভারটাইম চার্জ) লাগতে পারে।

    • প্রচলিত ভিসার ফি: দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করলে ফি ভিন্ন হতে পারে।

    • গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৫: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • ই-ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৩ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ৫ কার্যদিবস পর্যন্ত লাগতে পারে।

    • ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সাধারণত দ্রুত হয় (১৫-৩০ মিনিট)।

    • প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করলে ৭-১০ কার্যদিবস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

লাওসের ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ লাওস থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি (ই-ভিসার জন্য স্ক্যান করা কপি)।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:

    • অনলাইন ই-ভিসা পোর্টালে পূরণকৃত ফরমের প্রিন্ট কপি (যদি ই-ভিসা ব্যবহার করেন), বা এয়ারপোর্টে প্রাপ্ত ফরম।

    • যদি প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করেন, টাইপ করা বা হাতে লেখা ও স্বাক্ষর করা আবেদন ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ১-২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, সাধারণত ২x২ ইঞ্চি বা ৩৫x৪৫ মিমি)। ই-ভিসার জন্য ডিজিটাল ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে।

  • কভারিং লেটার (যদি প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করেন):

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • লাওস থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি লাওসে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র এবং তার পরিচয়পত্রের কপি। আমন্ত্রণপত্রে আপনার থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ (ঐচ্ছিক/কিছু ক্ষেত্রে):

    • যদিও সরাসরি চাওয়া হয় না, প্রয়োজনে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের বিবরণীর মাধ্যমে লাওসে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হতে পারে।

    • গত ৩-৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যদি চাওয়া হয়)।

  • পেশার প্রমাণ (যদি প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করেন):

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC)।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ (যদি প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করেন):

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):

    • বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে বা ফরাসি ভাষায় অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে। ভিসা-অন-অ্যারাইভালের জন্য, ফটোকপির পরিবর্তে মূল নথি সাথে রাখা ভালো এবং নগদ অর্থ প্রস্তুত রাখা উচিত।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)

বর্তমানে বাংলাদেশে লাওসের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে লাওসের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সাধারণত অনলাইন ই-ভিসা পোর্টাল-ই সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প। যদি কোনো কারণে প্রচলিত ভিসার প্রয়োজন হয়, তবে নিকটতম লাওসের কূটনৈতিক মিশন যেমন ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লাওসের দূতাবাস-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

  • লাওসের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of Laos in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: A-103, Vasant Kunj, New Delhi 110070, India.

    • ফোন: +91 11 4132 3505

    • ই-মেইল: laoembdelhi@gmail.com (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: (সাধারণত সরাসরি ওয়েবসাইট থাকে না, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা অন্যান্য কূটনৈতিক তালিকা থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে)।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)

লাওস বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য উভয় ই-ভিসা এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা প্রদান করে, যা ভিসা প্রাপ্তির একটি সহজ এবং দ্রুত উপায়।

  • ই-ভিসা পোর্টাল: https://laoevisa.gov.la/

    • অনলাইন পোর্টালে আবেদন, নথি আপলোড এবং ফি পরিশোধের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনুমোদিত ভিসা ইমেইলে সরাসরি পাওয়া যায়, যা প্রিন্ট করে ভ্রমণের সময় সাথে নিতে হয়।

  • ভিসা-অন-অ্যারাইভাল:

    • লাওসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কিছু স্থল সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে এই সুবিধা পাওয়া যায়। এখানে পৌঁছে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নগদ অর্থ জমা দিয়ে ভিসা পাওয়া যায়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা লাওসের নামে প্রতারণামূলক "ই-ভিসা" বা "সহজ লাওস ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় লাওসের অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় লাওসের অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টাল (https://laoevisa.gov.la/) অথবা আপনি যদি ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিতে চান, তবে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য কিনা এবং প্রয়োজনীয় সকল নথি ও নগদ অর্থ প্রস্তুত রাখুন। প্রয়োজনে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত লাওসের দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)

  প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)   উদ্যোক্তা: মো. তাকবীর হোসেন, সিইও, কেআর গ্লোবাল লিমিটেড ও গ্...