ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের জন্য একটি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনাকে নির্ভুলভাবে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।
ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের জন্য একটি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো। এটি আপনাকে নির্ভুলভাবে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।
ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইডলাইন
ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক। আপনাকে প্রথমে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে হবে, এরপর ফি পরিশোধ করে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ, ছবি, স্বাক্ষর) জমা দিতে হবে।
ধাপ ১: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে যান: https://www.epassport.gov.bd/
নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি:
ওয়েবসাইটের উপরের ডান পাশে অথবা কেন্দ্রে থাকা "Apply Online" বা "নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন" বাটনে ক্লিক করুন।
একটি নতুন পেজ খুলবে, যেখানে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হবে। এখানে আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস লিখুন এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন (পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন থাকতে হবে)।
আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। সেই কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে টাইপ করে "Activate" বাটনে ক্লিক করুন। আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে।
এরপর আপনার ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন (Login) করুন।
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ শুরু
লগইন করার পর, আপনাকে একটি স্বাগতম বার্তা দেখানো হবে। এখানে আপনি নতুন আবেদন শুরু করতে পারবেন।
আবেদনের ধরন নির্বাচন:
"Apply for a new e-Passport" বা "ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন" অপশনটি নির্বাচন করুন।
যদি আপনার পুরনো MRP (Machine Readable Passport) থাকে এবং আপনি সেটি রিনিউ বা রিইস্যু করতে চান, তাহলে "Reissue of e-Passport" অপশনটি বেছে নিন।
ব্যক্তিগত তথ্যের সূচনা:
Country: বাংলাদেশ নির্বাচন করুন।
Present Address (বর্তমান ঠিকানা): আপনি বর্তমানে যে জেলা ও থানায়/উপজেলায় বসবাস করছেন, সেটি নির্বাচন করুন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার পাসপোর্ট অফিস এই ঠিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
Passport Type: "Ordinary" (সাধারণ) পাসপোর্ট নির্বাচন করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত বিবরণ পূরণ
এই অংশে আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
Personal Information:
Name: আপনার সম্পূর্ণ নাম (জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী) লিখুন।
Surname (পদবি): আপনার নামের শেষ অংশ বা পদবি (যদি থাকে) লিখুন।
Given Name (প্রদত্ত নাম): আপনার নামের প্রথম অংশ লিখুন (যেমন: মোহাম্মদ, আহমেদ, সুলতানা ইত্যাদি)।
Gender (লিঙ্গ): আপনার লিঙ্গ নির্বাচন করুন।
Date of Birth (জন্ম তারিখ): জন্ম নিবন্ধন সনদ বা NID অনুযায়ী জন্ম তারিখ নির্বাচন করুন।
Occupation (পেশা): আপনার বর্তমান পেশা নির্বাচন করুন। (কিছু পেশার জন্য অতিরিক্ত ডকুমেন্ট লাগতে পারে, যেমন: সরকারি চাকরিজীবী হলে NOC/GO)।
Marital Status (বৈবাহিক অবস্থা): আপনার বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করুন।
Country of Birth (জন্মস্থান): বাংলাদেশ নির্বাচন করুন।
Birth District (জন্ম জেলা): আপনার জন্ম জেলা নির্বাচন করুন।
National ID No. (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর): আপনার NID নম্বরটি নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
Birth Registration No. (জন্ম নিবন্ধন নম্বর): যদি NID না থাকে, তাহলে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর টাইপ করুন।
Other ID (অন্যান্য আইডি): প্রযোজ্য হলে অন্য কোনো আইডি নম্বর (যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স) দিতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
Citizen Type (নাগরিকত্বের ধরন): "By Birth" (জন্মসূত্রে) নির্বাচন করুন।
Contact Information (যোগাযোগের তথ্য): আপনার ফোন নম্বর (নিজস্ব) এবং ইমেইল অ্যাড্রেস লিখুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: পূর্ববর্তী পাসপোর্ট তথ্য (যদি থাকে)
যদি আপনার পূর্বে কোনো পাসপোর্ট থেকে থাকে (MRP বা ই-পাসপোর্ট), তাহলে এই অংশে তার তথ্য দিতে হবে।
Are you applying for a new passport or reissue of an old passport?
"Reissue of an old passport" নির্বাচন করুন।
"Previous Passport Number": আপনার পুরনো পাসপোর্টের নম্বরটি দিন।
"Date of Issue": পুরনো পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ।
"Date of Expiry": পুরনো পাসপোর্ট মেয়াদ শেষের তারিখ।
"Place of Issue": পুরনো পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার স্থান (সাধারণত ঢাকা/আঞ্চলিক অফিস)।
"Passport Holder Status": "Intact" বা "Damaged" অথবা "Lost" নির্বাচন করুন। যদি হারানো হয়, তাহলে জিডি নম্বর দিতে হবে।
"Any changes needed in current passport details?": যদি পুরনো পাসপোর্টের কোনো তথ্য (যেমন নাম, ঠিকানা, পেশা) পরিবর্তন করতে চান, তাহলে "Yes" দিন এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রমাণস্বরূপ ডকুমেন্ট পরবর্তীতে জমা দিতে হবে।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য
এই অংশে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য একজন ব্যক্তির তথ্য দিতে হবে।
Current Address (বর্তমান ঠিকানা):
Division, District, Upazila/Thana: আপনার বর্তমান ঠিকানার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করুন।
Post Office: আপনার এলাকার পোস্ট অফিস নির্বাচন করুন।
Post Code: পোস্ট কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে বা টাইপ করুন।
Village/Street Name: আপনার গ্রাম/রাস্তার নাম লিখুন।
House/Road No.: বাসা/বাড়ির নম্বর বা রোড নম্বর লিখুন।
Emergency Contact (জরুরী যোগাযোগ): আপনার বাবা/মা/ভাই/বোন/স্বামী/স্ত্রী-এর নাম, সম্পর্ক, ফোন নম্বর এবং ঠিকানা দিন।
Permanent Address (স্থায়ী ঠিকানা):
Is Permanent Address same as Present Address? যদি স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা একই হয়, তাহলে "Yes" নির্বাচন করুন। যদি ভিন্ন হয়, তাহলে "No" নির্বাচন করে স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: পিতা ও মাতার তথ্য
Father's Information (পিতার তথ্য):
পিতার নাম (সম্পূর্ণ), NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Mother's Information (মাতার তথ্য):
মাতার নাম (সম্পূর্ণ), NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Spouse's Information (স্বামী/স্ত্রীর তথ্য - যদি বিবাহিত হন):
স্বামী/স্ত্রীর নাম, NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: ডেলিভারি ও ফি নির্বাচন
Passport Validity (পাসপোর্টের মেয়াদ):
৫ বছর মেয়াদী (সাধারণ নাগরিকদের জন্য)
১০ বছর মেয়াদী (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) - মেয়াদ বাড়লে ফিও বাড়ে।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি মেয়াদ নির্বাচন করুন।
Number of Pages (পাতার সংখ্যা):
৪৮ পাতা
৬৪ পাতা - পাতার সংখ্যা বাড়লে ফিও বাড়ে।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাতার সংখ্যা নির্বাচন করুন।
Delivery Type (ডেলিভারির ধরন):
Regular Delivery (সাধারণ): এটিতে সাধারণত ২১ কার্যদিবস লাগে।
Express Delivery (জরুরী): এতে সাধারণত ৭ কার্যদিবস লাগে এবং ফি বেশি।
Super Express Delivery (অতি জরুরী): এতে সাধারণত ২ কার্যদিবস লাগে (শুধুমাত্র ঢাকা আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া যায়) এবং ফি সবচেয়ে বেশি।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার নির্বাচিত প্রকারভেদ অনুযায়ী মোট ফি (Total Fee) স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৮: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পেমেন্ট
Appointment (অ্যাপয়েন্টমেন্ট):
এই ধাপে আপনাকে আপনার নির্বাচিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে হবে। ক্যালেন্ডারে উপলব্ধ দিনগুলো থেকে আপনার সুবিধামতো একটি তারিখ ও সময় নির্বাচন করুন।
Payment Information (ফি পরিশোধের তথ্য):
Payment Method: "Online Payment" বা "Offline Payment" নির্বাচন করুন।
Online Payment: "Pay now with an online payment gateway" নির্বাচন করে আপনার পছন্দসই পেমেন্ট গেটওয়ে (যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটি ই-চালান (e-Chalan) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে, যা প্রিন্ট করে নিন।
Offline Payment: "Pay at a designated bank or mobile banking provider" নির্বাচন করুন। এতে একটি পে-স্লিপ (Pay Slip) তৈরি হবে, যা প্রিন্ট করে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় (যেমন সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক) গিয়ে নগদ টাকা জমা দিন। ব্যাংক আপনাকে একটি পেমেন্ট রসিদ দেবে, সেটি সংরক্ষণ করুন।
Submit বাটনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৯: আবেদনপত্র প্রিন্ট ও ডকুমেন্ট প্রস্তুতি
আবেদনপত্র প্রিন্ট: আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর, আপনার ড্যাশবোর্ডে গিয়ে "Application Summary" বা "আবেদনের সারাংশ" অপশন থেকে আবেদন ফর্মের পিডিএফ কপিটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করুন। এই ফর্মের শেষে স্বাক্ষরের জন্য স্থান থাকবে।
ডকুমেন্টস সংগ্রহ: আবেদনের সময় আপনি যেসব তথ্য দিয়েছেন তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় সকল মূল ডকুমেন্টস এবং সেগুলোর ফটোকপি (১-২ কপি) সংগ্রহ করুন। ফটোকপিগুলো সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।
ধাপ ১০: পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়া
আপনার নির্বাচিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় অনুযায়ী সকল প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।
কাগজপত্র যাচাই: আপনার জমা দেওয়া অনলাইন আবেদন ফর্ম, পেমেন্ট স্লিপ/ই-চালান এবং অন্যান্য মূল ডকুমেন্ট ও ফটোকপি সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে জমা দিন। কর্মকর্তারা আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন।
বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ: এরপর আপনাকে ছবি তোলার জন্য, আঙ্গুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দেওয়ার জন্য এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর করার জন্য নির্দিষ্ট বুথে পাঠানো হবে।
ডেলিভারি স্লিপ সংগ্রহ: সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। এই স্লিপটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন, কারণ এটি আপনার নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাসপোর্ট সংগ্রহ
পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনার মোবাইলে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। আপনার দেওয়া ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে এবং পরিচয়পত্র যাচাই করে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনি আপনার নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
নির্ভুল তথ্য: অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ছোটখাটো ভুলও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে হুবহু মিল রেখে তথ্য পূরণ করুন।
ওয়েবসাইট চেক: আবেদনের আগে এবং আবেদনের সময় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের epassport.gov.bd ওয়েবসাইটটি বারবার যাচাই করে নিন, কারণ নিয়ম বা ফি পরিবর্তন হতে পারে।
মূল ডকুমেন্ট: বায়োমেট্রিক প্রদানের দিন অবশ্যই সকল মূল ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে যাবেন।
সঠিক পেশা নির্বাচন: পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, কারণ কিছু পেশার জন্য অতিরিক্ত ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন হতে পারে।
এই গাইডলাইনটি অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সফল হোক!
ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক। আপনাকে প্রথমে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে হবে, এরপর ফি পরিশোধ করে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ, ছবি, স্বাক্ষর) জমা দিতে হবে।
ধাপ ১: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে যান: https://www.epassport.gov.bd/
নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি:
ওয়েবসাইটের উপরের ডান পাশে অথবা কেন্দ্রে থাকা "Apply Online" বা "নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন" বাটনে ক্লিক করুন।
একটি নতুন পেজ খুলবে, যেখানে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হবে। এখানে আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস লিখুন এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন (পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন থাকতে হবে)।
আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। সেই কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে টাইপ করে "Activate" বাটনে ক্লিক করুন। আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে।
এরপর আপনার ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন (Login) করুন।
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ শুরু
লগইন করার পর, আপনাকে একটি স্বাগতম বার্তা দেখানো হবে। এখানে আপনি নতুন আবেদন শুরু করতে পারবেন।
আবেদনের ধরন নির্বাচন:
"Apply for a new e-Passport" বা "ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন" অপশনটি নির্বাচন করুন।
যদি আপনার পুরনো MRP (Machine Readable Passport) থাকে এবং আপনি সেটি রিনিউ বা রিইস্যু করতে চান, তাহলে "Reissue of e-Passport" অপশনটি বেছে নিন।
ব্যক্তিগত তথ্যের সূচনা:
Country: বাংলাদেশ নির্বাচন করুন।
Present Address (বর্তমান ঠিকানা): আপনি বর্তমানে যে জেলা ও থানায়/উপজেলায় বসবাস করছেন, সেটি নির্বাচন করুন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনার পাসপোর্ট অফিস এই ঠিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
Passport Type: "Ordinary" (সাধারণ) পাসপোর্ট নির্বাচন করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত বিবরণ পূরণ
এই অংশে আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
Personal Information:
Name: আপনার সম্পূর্ণ নাম (জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী) লিখুন।
Surname (পদবি): আপনার নামের শেষ অংশ বা পদবি (যদি থাকে) লিখুন।
Given Name (প্রদত্ত নাম): আপনার নামের প্রথম অংশ লিখুন (যেমন: মোহাম্মদ, আহমেদ, সুলতানা ইত্যাদি)।
Gender (লিঙ্গ): আপনার লিঙ্গ নির্বাচন করুন।
Date of Birth (জন্ম তারিখ): জন্ম নিবন্ধন সনদ বা NID অনুযায়ী জন্ম তারিখ নির্বাচন করুন।
Occupation (পেশা): আপনার বর্তমান পেশা নির্বাচন করুন। (কিছু পেশার জন্য অতিরিক্ত ডকুমেন্ট লাগতে পারে, যেমন: সরকারি চাকরিজীবী হলে NOC/GO)।
Marital Status (বৈবাহিক অবস্থা): আপনার বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করুন।
Country of Birth (জন্মস্থান): বাংলাদেশ নির্বাচন করুন।
Birth District (জন্ম জেলা): আপনার জন্ম জেলা নির্বাচন করুন।
National ID No. (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর): আপনার NID নম্বরটি নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
Birth Registration No. (জন্ম নিবন্ধন নম্বর): যদি NID না থাকে, তাহলে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর টাইপ করুন।
Other ID (অন্যান্য আইডি): প্রযোজ্য হলে অন্য কোনো আইডি নম্বর (যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স) দিতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
Citizen Type (নাগরিকত্বের ধরন): "By Birth" (জন্মসূত্রে) নির্বাচন করুন।
Contact Information (যোগাযোগের তথ্য): আপনার ফোন নম্বর (নিজস্ব) এবং ইমেইল অ্যাড্রেস লিখুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: পূর্ববর্তী পাসপোর্ট তথ্য (যদি থাকে)
যদি আপনার পূর্বে কোনো পাসপোর্ট থেকে থাকে (MRP বা ই-পাসপোর্ট), তাহলে এই অংশে তার তথ্য দিতে হবে।
Are you applying for a new passport or reissue of an old passport?
"Reissue of an old passport" নির্বাচন করুন।
"Previous Passport Number": আপনার পুরনো পাসপোর্টের নম্বরটি দিন।
"Date of Issue": পুরনো পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ।
"Date of Expiry": পুরনো পাসপোর্ট মেয়াদ শেষের তারিখ।
"Place of Issue": পুরনো পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার স্থান (সাধারণত ঢাকা/আঞ্চলিক অফিস)।
"Passport Holder Status": "Intact" বা "Damaged" অথবা "Lost" নির্বাচন করুন। যদি হারানো হয়, তাহলে জিডি নম্বর দিতে হবে।
"Any changes needed in current passport details?": যদি পুরনো পাসপোর্টের কোনো তথ্য (যেমন নাম, ঠিকানা, পেশা) পরিবর্তন করতে চান, তাহলে "Yes" দিন এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রমাণস্বরূপ ডকুমেন্ট পরবর্তীতে জমা দিতে হবে।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য
এই অংশে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য একজন ব্যক্তির তথ্য দিতে হবে।
Current Address (বর্তমান ঠিকানা):
Division, District, Upazila/Thana: আপনার বর্তমান ঠিকানার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করুন।
Post Office: আপনার এলাকার পোস্ট অফিস নির্বাচন করুন।
Post Code: পোস্ট কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে বা টাইপ করুন।
Village/Street Name: আপনার গ্রাম/রাস্তার নাম লিখুন।
House/Road No.: বাসা/বাড়ির নম্বর বা রোড নম্বর লিখুন।
Emergency Contact (জরুরী যোগাযোগ): আপনার বাবা/মা/ভাই/বোন/স্বামী/স্ত্রী-এর নাম, সম্পর্ক, ফোন নম্বর এবং ঠিকানা দিন।
Permanent Address (স্থায়ী ঠিকানা):
Is Permanent Address same as Present Address? যদি স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা একই হয়, তাহলে "Yes" নির্বাচন করুন। যদি ভিন্ন হয়, তাহলে "No" নির্বাচন করে স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: পিতা ও মাতার তথ্য
Father's Information (পিতার তথ্য):
পিতার নাম (সম্পূর্ণ), NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Mother's Information (মাতার তথ্য):
মাতার নাম (সম্পূর্ণ), NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Spouse's Information (স্বামী/স্ত্রীর তথ্য - যদি বিবাহিত হন):
স্বামী/স্ত্রীর নাম, NID নম্বর, পেশা, জাতীয়তা ইত্যাদি পূরণ করুন।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: ডেলিভারি ও ফি নির্বাচন
Passport Validity (পাসপোর্টের মেয়াদ):
৫ বছর মেয়াদী (সাধারণ নাগরিকদের জন্য)
১০ বছর মেয়াদী (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য) - মেয়াদ বাড়লে ফিও বাড়ে।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি মেয়াদ নির্বাচন করুন।
Number of Pages (পাতার সংখ্যা):
৪৮ পাতা
৬৪ পাতা - পাতার সংখ্যা বাড়লে ফিও বাড়ে।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাতার সংখ্যা নির্বাচন করুন।
Delivery Type (ডেলিভারির ধরন):
Regular Delivery (সাধারণ): এটিতে সাধারণত ২১ কার্যদিবস লাগে।
Express Delivery (জরুরী): এতে সাধারণত ৭ কার্যদিবস লাগে এবং ফি বেশি।
Super Express Delivery (অতি জরুরী): এতে সাধারণত ২ কার্যদিবস লাগে (শুধুমাত্র ঢাকা আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া যায়) এবং ফি সবচেয়ে বেশি।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার নির্বাচিত প্রকারভেদ অনুযায়ী মোট ফি (Total Fee) স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।
Continue বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৮: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পেমেন্ট
Appointment (অ্যাপয়েন্টমেন্ট):
এই ধাপে আপনাকে আপনার নির্বাচিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে হবে। ক্যালেন্ডারে উপলব্ধ দিনগুলো থেকে আপনার সুবিধামতো একটি তারিখ ও সময় নির্বাচন করুন।
Payment Information (ফি পরিশোধের তথ্য):
Payment Method: "Online Payment" বা "Offline Payment" নির্বাচন করুন।
Online Payment: "Pay now with an online payment gateway" নির্বাচন করে আপনার পছন্দসই পেমেন্ট গেটওয়ে (যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটি ই-চালান (e-Chalan) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে, যা প্রিন্ট করে নিন।
Offline Payment: "Pay at a designated bank or mobile banking provider" নির্বাচন করুন। এতে একটি পে-স্লিপ (Pay Slip) তৈরি হবে, যা প্রিন্ট করে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় (যেমন সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক) গিয়ে নগদ টাকা জমা দিন। ব্যাংক আপনাকে একটি পেমেন্ট রসিদ দেবে, সেটি সংরক্ষণ করুন।
Submit বাটনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৯: আবেদনপত্র প্রিন্ট ও ডকুমেন্ট প্রস্তুতি
আবেদনপত্র প্রিন্ট: আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর, আপনার ড্যাশবোর্ডে গিয়ে "Application Summary" বা "আবেদনের সারাংশ" অপশন থেকে আবেদন ফর্মের পিডিএফ কপিটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করুন। এই ফর্মের শেষে স্বাক্ষরের জন্য স্থান থাকবে।
ডকুমেন্টস সংগ্রহ: আবেদনের সময় আপনি যেসব তথ্য দিয়েছেন তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় সকল মূল ডকুমেন্টস এবং সেগুলোর ফটোকপি (১-২ কপি) সংগ্রহ করুন। ফটোকপিগুলো সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই।
ধাপ ১০: পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হওয়া
আপনার নির্বাচিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় অনুযায়ী সকল প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।
কাগজপত্র যাচাই: আপনার জমা দেওয়া অনলাইন আবেদন ফর্ম, পেমেন্ট স্লিপ/ই-চালান এবং অন্যান্য মূল ডকুমেন্ট ও ফটোকপি সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে জমা দিন। কর্মকর্তারা আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন।
বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ: এরপর আপনাকে ছবি তোলার জন্য, আঙ্গুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দেওয়ার জন্য এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর করার জন্য নির্দিষ্ট বুথে পাঠানো হবে।
ডেলিভারি স্লিপ সংগ্রহ: সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। এই স্লিপটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন, কারণ এটি আপনার নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাসপোর্ট সংগ্রহ
পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনার মোবাইলে এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। আপনার দেওয়া ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে এবং পরিচয়পত্র যাচাই করে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনি আপনার নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
নির্ভুল তথ্য: অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ছোটখাটো ভুলও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে হুবহু মিল রেখে তথ্য পূরণ করুন।
ওয়েবসাইট চেক: আবেদনের আগে এবং আবেদনের সময় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের epassport.gov.bd ওয়েবসাইটটি বারবার যাচাই করে নিন, কারণ নিয়ম বা ফি পরিবর্তন হতে পারে।
মূল ডকুমেন্ট: বায়োমেট্রিক প্রদানের দিন অবশ্যই সকল মূল ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে যাবেন।
সঠিক পেশা নির্বাচন: পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, কারণ কিছু পেশার জন্য অতিরিক্ত ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন হতে পারে।
এই গাইডলাইনটি অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া সফল হোক!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন