বিশ্বের জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় শহর হল লন্ডন।শুধু তাই নয় সেই সাথে আমাদের অনেকেরই একটি শহরের নাম হলো লন্ডন।আর লন্ডন হলো সাধারণত ইউরোপের সেরা একটি শহর।একদিকে যেমন রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য তেমনি রয়েছে এর চমৎকার নানা ইতিহাস। তাই আমার মতে যারা সাধারণত ভ্রমণকারী আমরা তাদেরকে এই লন্ডন শহর ভ্রমণ করার পরামর্শ দিই।যদি আপনি লন্ডনে প্রথমবারের মতো যেতে চান এবং আপনি লন্ডনে গিয়ে কোথায় থাকবেন কোন কোন জায়গায় ভ্রমণ করবেন তাই নিয়েই মূলত আমাদের আজকের এই পোস্টটি।আর সাধারনত এর জন্য আপনাদেরকে বিস্তারিত আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে আপনি লন্ডন ভ্রমণ গাইড এর সম্পূর্ণ তথ্য এখান থেকে পাবেন।
লন্ডনের ইতিহাস
লন্ডন হল ইংল্যান্ডের রাজধানী। সাধারণত লন্ডন শহরটি হলো গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এবং ইংল্যান্ড নামের প্রশাসনিক বিভাগের দক্ষিণ পূর্ব অংশের টেমস নদীর ধারে অবস্থিত। আর বিশাল এই মহানগরটিতে রয়েছে ৮৮ লক্ষ মানুষের বসবাস। আর সাধারনত তাই নয় এটি হলো ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম একটি শহর। আর সাধারনত যুক্তরাজ্যের ১৩ শতাংশেরও বেশি লোক লন্ডনে বসবাস করে থাকেন। ১৭০০ শতকের পর থেকে আজ পর্যন্ত এখনো লন্ডন ইউরোপের বৃহত্তম একটি শহর। আর উনিশ শতকের ছিল একটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী একটি নগরী। আর সে সময় সাধারণত শহরটি সুবৃহৎ এবং সমৃদ্ধশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
লন্ডন ভ্রমণে যাওয়ার আগে প্রাথমিক উপকরণ
ইউরোপকে ইউরোপীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম হিসেবে ভেবে দেখুন। ওখানে বৃষ্টি হচ্ছে প্রচুর।আর এজন্য আপনি আপনার প্রয়োজনীয় প্যাকিং এর মধ্যে একটি হালকা ছাতা বা একটি বৃষ্টি জ্যাকেট রাখতে পারেন। এখানে ছাতা রাখার মূল উদ্দেশ্য শুধু পানি নয় ছাতা রাখার মাধ্যমে আপনার ভিতরে পর্যটক এর ভাবটা ফুটে উঠবে। আর সাধারনত ভোল্টেজে রূপান্তকারী দিয়ে ট্রাভেল এডাপ্টারটি আনতে ভুলবেন না যাতে আপনি হোস্টেলের ডর্মে আপনার হেয়ার ডায়ারটি বিস্ফোরিত না করে। তাছাড়া আপনাকে লন্ডনে রাস্তাগুলোতে চলতে অবশ্যই একটি ভালো আরামদায়ক জুতা লাগবে। সাধারণত লন্ডন হল একটি বিরাট জায়গায় এবং আপনি যদি পর্যটন আকর্ষণ থেকে পরের দিকে যেতে চান তাহলে আপনার অবশ্যই ভালো পরিমাণের টাকা ব্যয় করা লাগবে।
আপনি যেভাবে লন্ডনে প্রবেশ করবেন
আপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে আপনি স্টাডা ট্রাভেলের মতো স্টুডেন্ট এয়ার ফেয়ার এজেন্সির মাধ্যমে লন্ডনের সেরা বিমান ভাড়া পেয়ে যাবে। আপনি যদি ছাত্র হন তাহলে আপনি ৫০০ ডলার খরচ করে লন্ডনে গিয়ে আবার রিটার্ন আসতে পারবেন। কিছু এয়ারলাইন্সের ” শিক্ষার্থী বিমানবন্দর” দ্বারা বোকা হবেন না কেননা শিক্ষার্থীদের জন্য বিমান ভাড়া সংস্থাগুলোর সাথে আসল চুক্তি আছে। তবে আপনি যদি ছাত্র হয়ে না থাকেন তাহলে আপনার লন্ডন ভ্রমণ করার জন্যে বেশ ভালো পরিমাণে টাকা ব্যয় করতে হবে। আপনি বাংলাদেশের অনেক এজেন্সি থেকে ৯৯,৫০০ তার কিছু কম টাকার মাধ্যমে লন্ডনে খুব ভালোভাবে সাতদিন ভ্রমণ করতে পারবেন । তাছাড়া আরও অনেক ভাবে আপনি লন্ডন যেতে পারেন কিন্তু আমার মনে হয় এই ভাবে গেলে সব থেকে ভালো হবে।
লন্ডনে কোথায় থাকবেন এবং খরচ কেমন হবে
সাধারণত লন্ডনে অন্যতম এবং সস্তার অঞ্চল হলো শহরের পূর্ব এবং দক্ষিণ আশে পাশের অঞ্চল গুলো। এখানে রয়েছে একটি দম্পত্তির পছন্দের হ্যাকনি,শোরেডিচ এবং ব্রিক্সটন অন্তর্ভুক্ত,হিপস্টার অঞ্চলের চমৎকার খাবার, বার এবং অনেক কফি শপ। সাধারণত এই গুলো উপভোগ করতে হলে আপনাকে মূল আকর্ষণ গুলোর বাইরে ও কিছু পথ যেতে হবে, তবে বেশিরভাগ জিনিসই এখনো দূরত্বের মধ্যে রয়েছে এবং এগুলো ব্যবহার করা অনেক সহজ। যদিও লন্ডনের আশপাশে বেশিরভাগ সস্তা অঞ্চল রয়েছে, তারপরেও লন্ডন ওখানে দেখার মত অন্যতম জায়গা। তবে আপনি যদি ছাত্র হন তাহলে হোস্টেলের কোন ছাত্রাবাসে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন এক্ষেত্রে আপনাকে খরচ করতে হবে ২০ থেকে ২৫ ডলার এক রাতে।
আপনার কেমন বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে
সাধারণত ইংল্যান্ডের মুদ্রা হলো পাউন্ড আপনি দেশের ভেতরে পাউন্ড বাদে কোন মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন না। সাধারণত লন্ডন শহর এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল তাই আপনাকে প্রতিদিন অন্তত 50 ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করা উচিত। খাবার এবং বিছানা গুলো মূল্যবান তবে জাদুঘর গুলির বিনামূল্যে ঘুরতে পারবেন। আর আপনি যদি মনে করেন যে খাওয়ার বিল টা কম করবেন তাহলে আপনি আপনার হোস্টেলে রান্নাঘরে নিজে রান্না করে খেতে পারেন আর যদি নিজে রান্না করতে পারেন তাহলে অনেক বড় বড় হোটেল রয়েছে সেখানে আপনি খেতে পারেন যা অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে যাবে। বিশেষ করে এই বাজেটটা নির্ভর করে আপনি সেখানে কতদিন থাকবেন এবং আপনি কীভাবে চলবেন এই বিষয় এর উপর।
সুরক্ষা, অপরাধ এবং ভ্রমণ স্বাস্থ্যসেবা
সাধারণত আর্টফুল ডজার লন্ডনের নলটিতে লুকিয়ে থাকে। আপনি সাধারণত বেসরকারি ভ্রমণ সুরক্ষা অবলম্বন করে সমস্ত লন্ডনে শারীরিকভাবে নিরাপদ বোধ করতে পারেন। যদিও সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা লন্ডনে বিনামূল্যে ঘর যত্ন পান।তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বীমা সম্ভবত আপনাকে কভার করে দিলেও, সবকিছুই আপনার দেওয়া হিসেবে পরিশোধ করা হয়। তাছাড়া লন্ডনে একটা জিনিস সেটি হল খাবার এবং কলেজ জল এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাই আপনি এগুলো প্রয়োজনে নিঃসন্দেহে খেতে পারেন।
পর্যটকদের জন্য মেইল, ইন্টারনেট এবং ফোন করে সুবিধা
সাধারণত আমেরিকার সুবিধার্থে স্টোর বা ভোডাফোন বা EE এর মত ফোন স্টোরগুলোতে ইংল্যান্ডে ফোন করার জন্য এবং আপনি যদি চান ডাটা ব্যবহার করবেন তাহলে আপনি স্থানীয় সিম কার্ড নিতে পারেন।
আর সাধারনত লন্ডনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেটি হলো সারা লন্ডনে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে। তাই আপনার যদি আনলক করা ফোন না থাকে এবং আপনি যদি স্থানীয় সিম কার্ড কিনতে না চান তাহলে আপনার ওয়াইফাই সংযোগ স্থাপনে কোন রকম সমস্যা হবে না। আর আপনি যদি হোটেল বা হোস্টেলে থাকেন তাও আপনার জন্য সাধারনত ফ্রি ওয়াইফাই এর সুবিধা সেখানে পাবেন।
পর্যটকদের জন্য টুর গ্রুপ
সাধারণত লন্ডন জায়গাটা অনেক সুন্দর এবং আকর্ষণীয় হলেও জায়গাটি ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে বেশ ভালো পরিমাণে টাকা ব্যয় করতে হবে।আর সাধারনত আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে লন্ডনে না গিয়ে একটু টুর গ্রুপ ধরে যান তাহলে আপনার খরচ এখানে অনেকাংশে কমে যাবে। সাধারণত লন্ডন পরিদর্শন এতটাই ব্যয়বহুল যে একটি টুর গ্রুপের সাথে যাওয়া এখানে একটি দূর্দান্ত ধারণা এটি সাধারণত নিজেই দেখার জন্য সহজতর এবং সস্তা হতে পারে। তাই আপনার যদি তেমন সুযোগ থাকে যে আপনি টুর গ্রুপ করে লন্ডনের যাবেন তাহলে অবশ্যই যেতে পারেন এখানে আপনার খরচটা অনেকাংশে কমে যাবে।
লন্ডনের আকর্ষণীয় স্থান সমূহ
সাধারণত লন্ডন অবশ্য একটি চমৎকার শহর। আর একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভ্রমণের তালিকায় লন্ডন শহরের নাম থাকতে হবে। টেমস নদীর তীরে অবস্থিত লন্ডন শহরটি আসলে দুই হাজার বছরের পুরাতন একটি শহর। যেহেতু লন্ডনের অনেক আকর্ষণীয় জায়গা রয়েছে তার মধ্যে লন্ডনের বেশ কয়েকটি অতি আকর্ষণীয় স্থান এর নাম দেওয়া হলঃ
টাওয়ার অব লন্ডন
সাধারণত লন্ডন শহরের টেমস নদীর উত্তর তীরে প্রায় হাজার বছরের চেয়েও বেশি পুরনো এই “টাওয়ার অব লন্ডন”অবস্থিত। আর সম্রাট উয়িলিয়াম ১০৭০ খ্রিস্টাব্দে যখন এই দুর্গটি তৈরীর আদেশ দিয়েছিলেন তখন তিনি চেয়েছিলেন, এই দুর্গটি আসলে হবে ক্ষমতার প্রতিভূ স্বরূপ এবং সুরক্ষার প্রথম এবং প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু এর দূরদর্শিতা যে এক হাজার বছর পরেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাবে সেটা হয়তো সম্রাট উইলিয়াম তখন কল্পনাও করতে পারেননি। সাধারণত তারপর থেকে অনেক কিছুই ঘটে গিয়েছে অনেক রাজা এসেছেন অনেক রানী এসেছেন তাঁদের আদেশেই দুর্গের কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণত মধ্যযুগীয় রাজাদের আমলে টাওয়ার অব লন্ডন ছিল একদিকে বাসস্থান এবং বাইরে শত্রুদের থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রথম একটি ধাপ। আর টিউডর রাজত্বে এই দুর্গের ব্যবহার হয় মূলত অত্যাচার, শান্তি এবং শিরাশ্ছেদের কেন্দ্র হিসেবে। তাছাড়া টাওয়ার অব লন্ডন এর আরো অনেক ইতিহাস রয়েছে আপনি যদি কোন সময় লন্ডনে যান তাহলে অবশ্যই টাওয়ার অব লন্ডন ভ্রমণ করতে ভুলবেন না।
ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম
সাধারণত ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এর বিভিন্ন চমৎকার প্রদর্শনী আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর সাধারনত এখানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ডাইনোসর গ্যালারি, যেখানে ডাইনোসরের ফসিল, আর বিস্তারিত ইতিহাস আপনাকে নিয়ে চলে যাবে ডাইনোসর যুগে। তাছাড়া এখানে আরও রয়েছে ম্যামালস গ্যালারি। তাছাড়া এখানে আরও রয়েছে বড় নীল তিমির প্রতিকৃতি যা কখনো ভুলার নয়। তাছাড়া এখানে যদি কোন সময় আসেন তাহলে অবশ্যই ডারউইন সেন্টারে যাবেন, যেখানে সাধারণত আপনারা নিজে নিজে ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং দেখতে পারবেন বিজ্ঞানীরা ওখানে কি কি কাজ করছে।
বাকিংহাম প্যালেস
বাকিংহাম প্যালেস হল ইংল্যান্ডের বর্তমান রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর বাড়ি। আর যখন সাধারণত রাজপরিবারের গৃষ্ম কালীন অবকাশ চলে তখন সেই সুযোগে আপনি একবার বেরিয়ে আসতে পারেন এই বাড়িটি। তবে এখানে আপনি রানীর ব্যক্তিগত কোয়ার্টারে কোন সময় প্রবেশ করতে পারবেন না।
আপনি চাইলে স্টেট কোয়ার্টারে প্রবেশ করতে পারবেন যেখানে সাধারণত রানী তাঁর অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকেন এবং বিভিন্ন অফিশিয়াল ও সামাজিক কাজে যোগ দেন। আর এখানে সাধারণত রাজকীয় সংগ্রহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আপনার নজর কাড়বে। আর প্রসাদটির ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং আভিজাত্য আপনার ভ্রমণে যোগ করবেন নতুন একটি মাত্রা।
হাইড পার্ক
সাধারণত আপনি যখন বাকিংহাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে পড়বেন তখন আপনার আসতে আসতে চোখে পড়বে বিশাল একটি পার্ক। আর এর নামই হলো সাধারণত হাইড পার্ক। লন্ডনে এই পার্কটি খুব পরিচিত একটি পার্ক। লন্ডনে আসতে হলে এখানে আসতেই হবে। হাইড পার্ক হলো লন্ডনের বিখ্যাত এক রয়েল পার্ক। সাধারণত এখানে রয়েছে চারিপাশে বিশাল বিশাল বড় বড় গাছ,বসার স্থান ,বড় মাঠ সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি জায়গা এটি। মানুষ এখানে এসে শুধুমাত্র বসে থাকেনা কেউ বা এখানে সাইকেল চালায় কেউবা এখানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারে আবার কেউবা এখানে দৌড়েও বেড়ায়। সাধারণত আমি একবার গিয়েছিলাম হেডেন পার্কে বসন্তকাল। তখন চারদিক ছিল সবুজে ঘেরা । এবার গিয়েছিলাম হেমন্ত কালে। দেখলাম গাছের সব পাতা হলদে হয়ে গিয়েছে এবং ঝরতে শুরু করেছে ম্যাপল পাতা। আর সাধারনত সেই পাতার স্তুপের নিচে খাবার খুঁজে চলেছে বড় বড় সব কাঠবিড়ালীরা। যাদের সাধারণত দেখে মনে হচ্ছে কোন ভয় ডর নেই।তাছাড়া পার্কের ভেতরে রয়েছে অসাধারণ একটি লেক।যা সাধারনত পার্কটিকে আরো আকর্ষণীয় এবং মনমুগ্ধকর করে তুলেছে।
মাদাম তুসো মিউজিয়াম
সাধারণত মাদাম তুসো মিউজিয়াম এটি হলো বিশ্বের বিভিন্ন বর্ণ ব্যক্তিদের মোমের অবয়বের সংগ্রহশালা। আপনি এখানে সাধারণত বিভিন্ন দেশের সম্মানিত নেতাদের, সংগীতশিল্পী, বলিউড-হলিউড তারকারা, বিভিন্ন সময়ের বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের মূর্তি দেখতে পারবেন আপনি এখানে। আর আপনি সাধারণত মিউজিয়ামে প্রবেশের মুখে পাহারাদারের দেখলে অনেকটাই চমকে উঠবেন। এদের দেখে আসলে মানুষ মনে হলেও এরা মূর্তি। আর আপনি সাধারণত এদের দেখেই বুঝতে পারবেন যে ভেতরে আপনার জন্য কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে।
ওয়েস্ট মিনিস্টার এবে
সাধারণত প্রাচীন এই চার্চটি ষোলটি রাজকীয় বিয়ের সাক্ষী তাছাড়া এটি খুব ব্যস্ত একটি জায়গা। তাছাড়া ঐতিহাসিক কোন কিছু যেন আপনার চোখ এড়িয়ে না যেতে পারে সেজন্য আপনি এই চার্চটি সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করে যেতে পারেন। আর আপনি যদি বই পেয়াসু একজন মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই “কবি কন্নারে” যাবেন। তাছাড়া এখানে আরও রয়েছে বিখ্যাত লেখক জিওফ্রি চসার বং চার্লস ডিকেন্স এর কবর।তাছাড়া এখানে আরো রাজ পরিবারের কয়েকজন বিশেষ সদস্যসের সমাধি রয়েছে। তাছাড়া ওয়েস্টমিনিস্টারের অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী আপনাকে আরো মুগ্ধ করে দেবে।
বিগ বেন
বিগ বেন সাধারণত ওয়েস্টমিনিস্টার অবস্থিত এবং এর ডাক নাম হল গ্রেট বেল। আর সাধারনত এখানকার বিশাল ঘন্টার জন্য এর নামকরণ হয়েছে। তবে অফিশিয়াল ভাবে এটি এলিজাবেথ টাওয়ার হিসাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।আর এর নামকরণ হয়েছে সাধারণত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর নামে। আরে এটিউ সাধারণত একটি চমৎকার স্থাপনা । আর দেখে মনে হয় বিগবেনের ঘড়ি টি যেন লন্ডনের ল্যান্ডমার্ক। তাই যদি কোন সময় লন্ডন ভ্রমণ করতে যান অবশ্যই বিগ বেন থেকে ঘুরে আসবেন। লন্ডনে গেলেন বিগ বেনে গেলেন না তাহলে আপনি লন্ডন ভ্রমণ এর সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাটা পাবেন না। তাই অবশ্যই একবার হলেও এই জায়গাটি ভ্রমণ করবেন।
লন্ডনের পাশাপাশি কাছাকাছি গন্তব্য
সাধারণত এখানে আয়ারল্যান্ডের সস্তা ইউরোপীয় বিমান চ্যাম্প রায়ানার রয়েছে যা সাধারণত লন্ডনের অনেক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় এবং এটি সাধারণত আয়ারল্যান্ড এবং ইউরোপে নিয়ে যায়। তাছাড়া আপনি যদি মনে করেন যে লন্ডনের বাইরে অন্যান্য জায়গায় ভ্রমণ করবেন তাহলে আপনি ফেরি করে যেতে পারেন সেখানে ফেরিরও ব্যবস্থা রয়েছে।
আমার নিজের লন্ডন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
আমি পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর একটি শহর লন্ডন ভ্রমণ ইতিমধ্যে করেছি।আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ হয়ে থাকেন এবং আপনি যদি ভ্রমণের সম্পূর্ণ স্বাদ নিতে চান তাহলে অবশ্যই আপনি জীবনে একবার হলেও লন্ডন ভ্রমণ করবেন । লন্ডন শহরটি যেমন দেখতে আকর্ষনীয় অন্যদিকে তেমনি রয়েছে অজানা সব ইতিহাস।আপনি লন্ডন ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনে অনেক কিছুই ভ্রমণের স্বাদ নিতে পারবেন। লন্ডন শহরটি পৃথিবীর সুখী শহরের মধ্যে একটি শহর বলা হয়। আপনি যদি লন্ডন ভ্রমণ না করেন তাহলে বুঝতে পারবেন না জায়গাটি কতটা আকর্ষণীয় এবং অন্যান্য সব বৈচিত্রে ভরপুর। আমার সাধারণত লন্ডন ভ্রমণ করতে খুব ভালো লেগেছে এবং আমি এই ভ্রমণের সময় টা অনেক ভালোভাবে উপভোগ করেছি। তাই আপনারা যদি ভ্রমণের মজাটা পরিপূর্ণভাবে পেতে চান তাহলে ঘুরে আসুন একবার লন্ডন।
পরিশেষে, সাধারণত লন্ডন হল বিশ্বের সেরা একটি শহর প্রাচীন এই শহরটির যেমন রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য তেমনি রয়েছে এর নানা ইতিহাস। অনেকের ইচ্ছা থাকে লন্ডন ভ্রমণের কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়ে ওঠেনা কিছু কারণে।তবে যাদের সাধ্য রয়েছে বা ভ্রমণপিপাসু মানুষ তারা অবশ্যই একবার হলেও লন্ডন ভ্রমণ করে আসবেন কেননা লন্ডন ভ্রমণ এর মাধ্যমেই আপনি ভ্রমণের আসল মজাটা পাবেন। আর এর মাধ্যমে আপনি জীবনের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন