মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

নুর-সুলতান কাজাখস্তানের রাজধানী ও প্রধান শহর।

 নুর-সুলতান ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্তহিসাবে পরিচিত ছিল। যা কাজাখস্তান দেশের রাজধানী। মার্চ ২০১৯ সালে, কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি নুর-সুলতান নাজারবায়েভ পরে এর নামকরণ করেন নুর-সুলতান। কাজাখস্তানের রাজধানী ও প্রধান শহর। এটি কাজাখস্তানের উত্তরের অংশে আকমোলা অঞ্চলে ইশিম নদীর তীরে অবস্থিত, যদিও এই অঞ্চলটি পৃথকভাবে একটি বিশেষ মর্যাদার শহর হিসাবে পরিচালিত হয়। ২০১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী ১০,২৯,৫৫৬ জন জনসংখ্যা নিয়ে এটি কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর[২], সর্ববৃহৎ শহর হল আলমাটি যা ১৯৯১-১৯৯৭ পর্যন্ত কাজাখস্তানের রাজধানী ছিল।

জলবায়ু[সম্পাদনা]


আড়াল করুননুরসুলতান-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাসজানুফেব্রুমার্চএপ্রিলমেজুনজুলাইআগস্টসেপ্টেঅক্টোনভেডিসেবছর
সর্বোচ্চ রেকর্ড °সে (°ফা)৩.৪
(৩৮.১)
৪.৮
(৪০.৬)
২২.১
(৭১.৮)
২৯.৭
(৮৫.৫)
৩৫.৭
(৯৬.৩)
৪০.১
(১০৪.২)
৪১.৬
(১০৬.৯)
৩৮.৭
(১০১.৭)
৩৬.২
(৯৭.২)
২৬.৭
(৮০.১)
১৮.৫
(৬৫.৩)
৪.৫
(৪০.১)
৪১.৬
(১০৬.৯)
সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা)−৯.৯
(১৪.২)
−৯.২
(১৫.৪)
−২.৫
(২৭.৫)
১০.৯
(৫১.৬)
২০.২
(৬৮.৪)
২৫.৮
(৭৮.৪)
২৬.৮
(৮০.২)
২৫.২
(৭৭.৪)
১৮.৮
(৬৫.৮)
১০.০
(৫০.০)
−১.৪
(২৯.৫)
−৮.০
(১৭.৬)
৮.৯
(৪৮.০)
দৈনিক গড় °সে (°ফা)−১৪.২
(৬.৪)
−১৪.১
(৬.৬)
−৭.১
(১৯.২)
৫.২
(৪১.৪)
১৩.৯
(৫৭.০)
১৯.৫
(৬৭.১)
২০.৮
(৬৯.৪)
১৮.৮
(৬৫.৮)
১২.৩
(৫৪.১)
৪.৬
(৪০.৩)
−৫.৪
(২২.৩)
−১২.১
(১০.২)
৩.৫
(৩৮.৩)
সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা)−১৮.৩
(−০.৯)
−১৮.৫
(−১.৩)
−১১.৫
(১১.৩)
০.২
(৩২.৪)
৭.৯
(৪৬.২)
১৩.২
(৫৫.৮)
১৫.০
(৫৯.০)
১২.৮
(৫৫.০)
৬.৬
(৪৩.৯)
০.২
(৩২.৪)
−৮.৯
(১৬.০)
−১৬.১
(৩.০)
−১.৫
(২৯.৩)
সর্বনিম্ন রেকর্ড °সে (°ফা)−৫১.৬
(−৬০.৯)
−৪৮.৯
(−৫৬.০)
−৩৮.০
(−৩৬.৪)
−২৭.৭
(−১৭.৯)
−১০.৮
(১২.৬)
−১.৫
(২৯.৩)
২.৩
(৩৬.১)
−২.২
(২৮.০)
−৮.২
(১৭.২)
−২৫.৩
(−১৩.৫)
−৩৯.২
(−৩৮.৬)
−৪৩.৫
(−৪৬.৩)
−৫১.৬
(−৬০.৯)
অধঃক্ষেপণের গড় মিমি (ইঞ্চি)১৬
(০.৬)
১৫
(০.৬)
১৮
(০.৭)
২১
(০.৮)
৩৫
(১.৪)
৩৭
(১.৫)
৫০
(২.০)
২৯
(১.১)
২২
(০.৯)
২৭
(১.১)
২৮
(১.১)
২২
(০.৯)
৩২০
(১২.৬)
বৃষ্টিবহুল দিনগুলির গড়১৫১৩১৫১৩১২১০১০৬
তুষারময় দিনগুলির গড়২৫২৩১৯০.১১৮২৪১২৪
আপেক্ষিক আদ্রতার গড় (%)৭৮৭৭৭৯৬৪৫৪৫৩৫৯৫৭৫৯৬৮৮০৭৯৬৭
মাসিক সূর্যালোক ঘণ্টার গড়১০৩১৪৭১৯২২৩৮৩০১৩৩৬৩৩৬২৯৪২৩০১৩৬১০০৯৪২,৫০৭
উৎস ১: Pogoda.ru.net
উৎস ২: NOAA (sun, 1961–1990)[৫]

আস্তানা হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী শহর। প্রথম স্থানে আছে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোর। উলানবাটোরের পরে কানাডার অটোয়া দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু ১৯৯৭ সালে আস্তানা রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী শহরের স্বীকৃতি পায়। আস্তানায় গ্রীষ্মকালে কালেভদ্রে খুবই সংক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। এর শীতকাল খুবই দীর্ঘ, শীতল এবং শুষ্ক। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত শহরের নদীগুলোতে বরফ জমাট বেঁধে থাকে।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের কাজাখস্তানের জরিপ অনুযায়ী নুরসুলতানের (আস্তানা) মোট জনসংখ্যা ছিল ১,০২৯,৫৫৬ জন, যা ২০০২ সালের জনসংখ্যার চেয়ে ডাবল এবং তখন জনসংখ্যা ছিল ৪৯৩,০০০ জন। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহরের মোট জনসংখ্যার ৬৫.২% কাজাখ, ২৩.৮% রুশ, ২.৯% ইউক্রেনীয়, ১.৭% তাতার, ১.৫% জার্মান এবং ৪.৯% অন্যান্য জাতীয়গোষ্ঠির লোক বসবাস করে।

অনেকেই যুক্তি দিয়েছিলেন যে উত্তর- পশ্চিম দিকে জাতিগত কাজাখিদের আকৃষ্ট করার অভিযান রাজধানী স্থানান্তরিত করার মূল কারণ ছিল, যা প্রাক্তন রাজধানী আলমাতি এবং ভূমিকম্পের অঞ্চলে এর অবস্থানের জন্য সম্প্রসারণের জায়গার অভাবে অফিসিয়ালি সরানো হয়েছিল। নুর-সুলতানও আলমাতির চেয়ে 'কাজাখস্তানের শিল্প কেন্দ্রের কাছাকাছি ছিল।[৬]

১৯৮৯ সালে স্তেলিনগ্রাদের জনসংখ্যা ছিল ২৮১,০০০ জন এবং জাতিগত মিশ্রণ ছিল প্রায় ১৭.৭% কাজাখ, ৫৪.১% রুশ এবং ২৮.২% অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর।[৭]

ইসলাম এ শহরের প্রধান ধর্ম। নূর-সুলতানে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মগুলি হল খ্রিস্টান ধর্ম (প্রাথমিকভাবে রুশ অর্থোডক্স, রোমান ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্টিজম), ইহুদী ও বৌদ্ধ।[৮] বিশ্ব ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নেতাদের কংগ্রেস আয়োজন করার জন্য ২০০৬ সালে প্যালেস অব পিস অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছিল। এটিতে বিভিন্ন ধর্মের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন: ইহুদী, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ধর্ম, তাও ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্ম।

ক্রীড়া[সম্পাদনা]

নুরসুলতান শহরে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া দল রয়েছে। প্রধান ফুটবল দলটি হল আস্তানা এফসি যা কাজাখস্তান প্রিমিয়ার লিগের একটি বড় মানের দল। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি আস্তানা চারটি লিগ শিরোপা, তিনটি কাজাখ কাপ এবং দুটি কাজাখ সুপার কাপ জিতেছে।[৯] তাদের ঘরের মাঠ হল আস্তানা অ্যারিনা, যা কাজাখস্তান জাতীয় ফুটবল দল এবং এফসি বায়তেরেকের ঘরের মাঠ হিসাবে কাজ করে। এফসি বায়তেরেক কাজাখস্তান ফার্স্ট ডিভিশনের সদস্য। ২০১২ সালে যুব ফুটবল বিকাশের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[১০] এফসি আস্তানা-১৯৬৪ কাজীমুকন মুনাইতপসভ স্টেডিয়ামে ভিত্তিক একটি ফুটবল দল, যারা আস্তানা পৌর ফুটবল লিগে খেলেছে। ক্লাবটির সবচেয়ে সফল বছরগুলি ছিল ২০০০ এর দশক, যখন তারা ৩টি লীগ শিরোপা জিতেছিল।

ওয়েস্টপার্ক বা পশ্চিমউদ্যান জার্মানির মিউনিখ শহরে অবস্থিত

ওয়েস্টপার্ক‌ের প্যানারোমা দৃশ্য
ওয়েস্টপার্ক বা পশ্চিমউদ্যান জার্মানির মিউনিখ শহরে অবস্থিত একটি বৃহৎ জন উদ্যান। স্থপতি পিটার ক্লুসকা এর নকশা প্রণয়ন করেন। ১৯৮৩ সালে এই উদ্যান নির্মাণ সমাপ্ত হয়। একই বছরে এখানে আন্তর্জাতিক উদ্যান প্রদর্শনী ৮৩ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭০ জন অবদানকারী অংশ নেয়। পার্কের আয়তন ৭,২০,০০০ মি২ (৭৭,৫০,০১৬ ফু২) (১৭৮ একর)। এটি পূর্ব-পশ্চিমে ২.৬ কিমি বিস্তৃত। গারিমসার (Garmischer Straße) সড়ক উদ্যানটিকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করেছে।

ওয়েস্টপার্ক মিউনিখ শহরের দক্ষিণপশ্চিমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সবুজ এলাকা সৃষ্টি করেছে। এর আশেপাশে প্রায় ১,৮০,০০০ বাসিন্দা বসবাস করে। এদের মধ্যে ৭০,০০০ জনের আবাসস্থল উদ্যানের এক কিলোমিটারের মধ্যে। পার্কের উন্মুক্ত ক্ষেত্র খেলাধুলা, জগিং, সাইকেল চালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

গোলাপের বাগান

উদ্যানের অভ্যন্তরে অবস্থিত গোলাপের বাগানে প্রায় ২০,০০০-এর অধিক গোলাপ ও ৫০০ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির গোলাপ রয়েছে। এছাড়াও এখানে দুইটি জনপ্রিয় বিয়ার বাগান রয়েছে।

হ্রদ

গ্রীষ্মকালে চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও নাটক প্রদর্শনের জন্য পশ্চিমের হ্রদ সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থান রয়েছে।

এশীয় বাগান

এশীয় বাগান নামে পরিচিত এখানে চারটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্যান রয়েছে। চিনা বাগানের পুকুরের পাশের হাটার পথ চারটি ঋতু ও জীবনের চারটি অংশের ভেতর দিয়ে যায়। মিউনিখের ভগ্নী শহর সাপোরো এখানকার জাপানি বাগানটি উপহার হিসেবে দিয়েছিল। এতে হেইআন যুগের উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে। ২০০ দক্ষ কারিগরের তৈরি একটি নেপালি প্যাগোডা এখানে পাঠানো হয়েছিল। পার্কের থাই-সালাতে জার্মানির প্রথম বৌদ্ধমূর্তি‌ অবস্থিত।

মোলসি

উদ্যানের পূর্ব অংশে কৃত্রিম হ্রদ মোলসি অবস্থিত। এটি নৌকাপ্রেমীদের আকর্ষণের স্থান।

বার্লিন জার্মানির রাজধানী, এবং ইউরোপ মহাদেশের একটি ঐতিহাসিক শহর।

Panorama vom Gendarmenmarkt Berlin 2008

 বার্লিন জার্মানির রাজধানী, এবং ইউরোপ মহাদেশের একটি ঐতিহাসিক শহর। বার্লিন শহরে ৩৪ লক্ষেরও বেশি লোক বাস করেন। শহরটি একাধারে একটি শহর এবং জার্মানির একটি রাজ্য। বার্লিনের আয়তন ৩৪৩ বর্গমাইল; এটির আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় ৯ গুণ।

বার্লিন একটি বহুসাংস্কৃতিক শহর। বিশ্বের ১৮৪টি দেশ থেকে আগত প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার অভিবাসী বার্লিনে বাস করে। এদের মধ্যে তুরস্ক থেকে আগত অভিবাসীরা সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; বার্লিনে প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার তুর্কি অভিবাসী বাস করে। তুরস্কের বাইরে বার্লিনেই ইউরোপে তুর্কিদের সবচেয়ে বড় সম্প্রদায় অবস্থিত।

Kaufhaus des Westens, বার্লিন

১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বার্লিন পূর্ব বার্লিন ও পশ্চিম বার্লিন---এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মান সরকার সেখানকার নাগরিকদের পশ্চিম বার্লিনে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে দুই বার্লিনের মাঝে একটি দেয়াল তুলে দেয়। দেয়ালটি ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল। ঐ সময় ৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি দেয়ালটি টপকানোর চেষ্টা করে; এদের মধ্যে ৩২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯১ জন নিহত হয়।

১৯৮৯ সালে দেয়ালটি ভেঙে ফেলার পর বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ ফটক পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের পুনঃএকত্রীকরণের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।


বার্লিনের স্থানীয় ফুটবল দলের নাম হের্টা বে এস ৎসে বের্লিন। তারা ঘরোয়া ম্যাচগুলি বার্লিনের "অলিম্পিয়াষ্টাডিয়ন" নামের স্টেডিয়ামে খেলে থাকে। এই স্টেডিয়ামেই ১৯৩৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক্‌স অনুষ্ঠিত হয়।

বার্লিনে কুকুর পোষা খুবই ব্যয়বহুল একটি কাজ। কুকুরের মালিককে প্রতি বছর দেড়শ ইউরো কর দিতে হয়।


বার্লিনের কাউফ্‌হাউস ডেস ভেস্টেন্‌স (Kaufhaus des Westens, সংক্ষেপে KaDeWe, কাডেভে) ইউরোপের বৃহত্তম ডিপার্টমেন্ট স্টোর। এর আট তলাবিশিষ্ট ভবনে প্রায় ৪ লক্ষ জিনিস বেচা কেনা হয়।

বার্লিনের হাম্বল্ট বিশ্ববিদ্যালয়


জার্মান সাম্রাজ্যে ইহুদিরা ছিল জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশের মতো।

 জার্মান সাম্রাজ্যে ইহুদিরা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় (১৯১৪) জার্মান সাম্রজ্যের বিস্তৃতি

জার্মান সাম্রাজ্যে ইহুদিরা (দ্বিতীয় রাইখ: ১৮৭১ - ১৯১৪) ছিল জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশের মতো।[১] ১৮৮০ সালের হিসেবে যেখানে সমগ্র রাইখের জনসংখ্যা ছিল মোট ৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬১ জন, তার মধ্যে ইহুদি জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৫ লক্ষ ৬১ হাজার ৬১২ জন, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.২৪%।[২] তবে সংখ্যার হিসেবে জার্মানির জনগণের এক অতি সামান্য বা নগন্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান-গবেষণা, শিল্প ও সঙ্গীতচর্চা, প্রভৃতি জীবনের নানা ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রতিভার ও দক্ষতার যথেষ্ট সাক্ষর রেখেছিল। শুধুমাত্র ধর্ম ছাড়া জীবনযাত্রার প্রায় আর কোনও ক্ষেত্রেই তাদের অন্য সাধারণ জার্মান নাগরিকদের সাথে তেমন কোনও পার্থক্য পরিলক্ষিত হত না।[৩] এবং বামপন্থা, যুক্তিবাদ, উদারনৈতিকতা, প্রভৃতির চর্চার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও দ্রুত শিল্পায়নের ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা যত বাড়ছিল, সাধারণভাবে সমাজজীবনে খ্রিস্টান জার্মানদের সাথে ইহুদিদের ধর্মীয় প্রভেদের গুরুত্বও ক্রমশ কমে আসছিল। এরই ফলস্বরূপ আন্তর্ধর্মীয় বিবাহর সংখ্যাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল।[১] ইহুদিদের মধ্যেও সেইসময় জার্মান জাতীয়তাবোধের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। মোটের উপর জার্মানির বহু-সাংস্কৃতিক সমাজজীবনের অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যেমন ক্যাথলিক, পোল, ফরাসি, ডেন বা সর্বদের মতো ইহুদিরাও হয়ে উঠেছিল জার্মান সমাজজীবনেরই এক অংশ। রাষ্ট্রীয় ও সমাজজীবনের সর্বত্র তাদের সমান আইনি অধিকারও স্বীকৃত হয়েছিল।[৪] আর অর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের কারুর কারুর সাফল্য ছিল রীতিমতো ঈর্ষনীয়।

জার্মানিতে ইহুদিদের বসতি প্রায় দুই সহস্রাব্দ প্রাচীন। খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে চতুর্থ শতকের মধ্যেই তারা প্রথম জার্মানিতে পদার্পণ করে। প্রথম দিকে তারা নানারকম জীবিকা গ্রহণ করলেও পরের দিকে মহাজনী কারবারে তারা বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আমাদের আলোচ্য সময়, অর্থাৎ দ্বিতীয় রাইখের সময়সীমা (১৮৭১-১৯১৪/১৯১৯) পর্যন্ত বারে বারে তাদের উপর নানা আক্রমণ নেমে এলেও এবং জার্মানির বৃহত্তর জনসংখ্যার এক অংশ তাদের প্রতি বিদ্বেষের মনোভাব পোষণ করলেও এই দীর্ঘ সময় জুড়ে জার্মানিতে তাদের অবস্থান ছিল একরকমের নিরবচ্ছিন্ন। তবে কখনোই তারা জনসংখ্যার খুব একটা বড় অংশে পরিণত হয়নি। আধুনিক যুগের অগ্রগতির সাথে সাথে তাদের আলাদা গোষ্ঠী পরিচয়ের বাইরে বেরিয়ে এসে ক্রমশ জার্মানির সাধারণ সমাজ ও জাতীয়জীবনের এক অঙ্গাঙ্গী অংশে পরিণত হওয়ার একটা প্রক্রিয়াও কাজ করতে শুরু করে; দ্বিতীয় রাইখ তথা জার্মান সাম্রাজ্যের আমলে এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট জোরদার হয়ে ওঠে। আবার একই সময় তাদের প্রতি জাতিবিদ্বেষও বাড়তে থাকে, পরবর্তীকালের নাৎসি গণহত্যা যারই ফলশ্রুতি। জার্মানিতে ইহুদিদের অবস্থানের পূর্ব ইতিহাস নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

রোমান আমল[সম্পাদনা]

মধ্য ইউরোপের জার্মানভাষী অঞ্চলে ইহুদিদের বসবাসের ইতিহাস কম করেও ১৭০০ থেকে ২০০০ বছরের পুরনো। এমনকী রোমান সাম্রাজ্যের আমলে চতুর্থ শতকেও পশ্চিম জার্মানির বেশ কিছু রোমান উপনিবেশ, যেমন - কোলনট্রিয়েরমাইনৎসওয়রমসস্পাইয়ার, প্রভৃতি শহরে ইহুদি বসতির কথা আমরা জানতে পারি।[৫][৬] ৩২১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কনস্তানতাইন কোলন শহরের কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি লিখে জানান যে শহরের সিনেটে ইহুদি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিতে তার সম্মতি রয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় সে' সময় কোলন শহরে ইতোমধ্যেই ইহুদিদের সংখ্যা অন্তত এতটাই ছিল, যে সিনেটে তাদের প্রতিনিধিত্বর প্রয়োজনিয়তা দেখা দিয়েছিল।[৭][৮][৯] মূলত রাইন নদীর পশ্চিম পাড় বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে তাদের বসতির কথা সে'সময় জানতে পারা যায়।[৫] সে' সময় স্থানীয় জার্মান উপজাতির মানুষ ছিল খুবই অনগ্রসর ও রোমানদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজের পক্ষে অনুপযুক্ত। রোমান উপনিবেশগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে নানা ধরনের কাজ পাওয়ার সুযোগের সুবাদেই তাই এই সময় ইহুদিরা এই অঞ্চলে তাদের বসতি গড়ে তোলে। সেই সময় ইহুদিরা মূলত জমির মালিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে রাইন ও নিম্ন দানিয়ুব উপত্যকায় তাদের বসতি স্থাপন করেছিল। রোমান সাম্রাজ্যের সর্বত্রই তারা অন্যান্যদের সাথে সমান নাগরিক অধিকারও ভোগ করত। এখানেও তার কোনও অন্যথা ছিল না। রোম সাম্রাজ্যে তাদের ধর্মকেও একটি অনুমোদিত ধর্ম (religio licita) বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল। ফলে রোমের রাষ্ট্রধর্মপালনের বাধ্যবাধকতা থেকে তারা মুক্ত ছিল। তবে খোলাখুলি নিজেদের ধর্মপালনসহ কোনও কোনও ক্ষেত্রে (যেমন অ-ইহুদি দাস রাখা, প্রভৃতি) কিছু কিছু বিধিনিষেধ তাদের উপর জারি ছিল।[১০] স্থানীয় মানুষের সাথে তখন তাদের যথেষ্ট সুসম্পর্ক ছিল বলেই জানা যায়। প্রশাসনের তরফেও তাদের উপর অনেক সময়েই বিভিন্ন দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। এমনকী আদেশপ্রদানকারী অফিসার পদেও এইসময় তাদের নিয়োগের কথা জানা যায়।[৫] তবে এই সময় রাইন নদীর পূর্ব বা দানিয়ুব নদীর উত্তর পাড়ে তাদের কোনও বসতির কথা জানা যায় না।

মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

৫ম - ৮ম শতাব্দী[সম্পাদনা]

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরও জার্মানির এইসব সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে ইহুদিদের বসতি বজায় থাকে। ধীরে ধীরে তারা উত্তরে ও পূর্বে দেশের আরও অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তবে কীভাবে তারা ধীরে ধীরে রাইন নদী ও দানিয়ুব নদী পার হয়ে পশ্চিম ও দক্ষিণ থেকে ক্রমশ দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সে' সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত গবেষণার অবকাশ রয়ে গেছে। কিন্তু যেহেতু তখনও পর্যন্ত জার্মান উপজাতিগুলির পুরোপুরি খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, হয়তো সেই কারণেই এই সময়ের জার্মানিতে বিভিন্ন জার্মানিক রাজ্যগুলি গির্জার দাবির কাছে নতি স্বীকার করে অন্যান্য পূর্বতন রোমান অঞ্চলগুলির মতো ইহুদিদের উপর আইনি, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের উপর নানা বিধিনিষেধ চাপাতে রাজি হয়নি। ফলে জার্মানিতে ইহুদিরা ইউরোপের অন্যান্য বহু অঞ্চলের তুলনায় সেই সময়ে অপেক্ষাকৃত স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারত। কিন্তু রোমান আমল থেকেই তাদের সাথে সাধারণ জার্মান অধিবাসীদের জাতি ও সংস্কৃতিগত কিছু পার্থক্য ছিল[৫], যা এইসময়েও বজায় থেকে যায়। তারউপর সাধারণ জনগনের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্মের প্রভাব যত বাড়তে শুরু করে, ইহুদিদের উপর নানাবিধ চাপও ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

৮ম - ১০ম শতাব্দী[সম্পাদনা]

পবিত্র রোমান সম্রাট শার্লেমাইনের আমলে (রাজত্বকাল ৭৬৮ - ৮১৪ খ্রিঃ) আমরা প্রথম জার্মানির একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ইহুদির নাম পৃথক ভাবে জানতে পারি। সে' সময়ের আখেন শহরের অন্যতম নাম করা ইহুদি ব্যবসায়ী 'ইশাক'কে সম্রাট শার্লেমাইন আরও দু'জন অভিজাত জার্মান নাগরিকের সাথে বাগদাদে খলিফা হারুন অল রশিদের কাছে ৭৯৭ - ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে তার দূত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন।[১১] শার্লেমাইনের দূতেদের হয়ে অনুবাদ করা ও তাদের গাইড হিসেবে কাজ করা ছিল তার দায়িত্ব। ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে ইশাক বাগদাদ থেকে খলিফার উপহার একটি হাতি নিয়ে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী আই লা শাপেল বা আখেনে ফিরে আসে ও সম্রাটের হাতে সেই উপহার তুলে দেয়।[১১] এতদ্‌সত্ত্বেও শার্লেমাইনের রাজত্বকাল ইহুদিদের জীবনে বাস্তবে দ্বিমুখী প্রভাববিস্তার করে বলে মনে করা হয়ে থাকে। একদিকে তিনি যেমন কূটনীতির ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেন, অন্যদিকে তার রাজত্বকালে সুবৃহৎ সাম্রাজ্যকে ধরে রাখার প্রয়োজনে গির্জাকেও আরও বেশি পরিমানে ব্যবহার করা শুরু হয়। গির্জার আইন রাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেনে নিতে শুরু করলে ধার দেওয়ার ব্যবসা সংখ্যাগুরু খ্রিস্টীয় জনগণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বিবেচিত হতে শুরু করে। ফলে মহাজনী কারবার একচেটিয়াভাবে ইহুদিদের করায়ত্ত্ব হয়ে পড়ে। দেশের বেশিরভাগ মানুষের সাথে ইহুদিদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও শীঘ্রই এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ব্যবহারিক প্রয়োজনে মানুষ তাদের খোঁজ করলেও, তাদের কারবারের প্রতি একই সাথে একধরনের অশ্রদ্ধার মনোভাবও প্রশ্রয় পেতে থাকে। পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের পরবর্তী শাসক সম্রাট প্রথম লুইসের আমলে ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদিদের যেমন একদিকে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধে দেওয়া হয়, অন্যদিকে বোহেমিয়া ও স্পেনের মধ্যে তাদের দ্বারা পরিচালিত দাসব্যবসাকেও বেশ কিছু নিয়মনীতির প্রচলন করে রাষ্ট্রীয় নজরদারির মধ্যে আনা হয়। সম্রাট কর্তৃক ইহুদিদের এইসব বিশেষ অধিকারের স্বীকৃতি লিয়ঁর আর্চবিশপ আজোবেয়ারকে এতটাই ক্ষিপ্ত করে তোলে যে তিনি তাদের filii diaboli বা 'শয়তানের বংশধর' বলে আক্রমণ করেন।[১২][১৩]

রাইন উপত্যকা ও জার্মানির দক্ষিণ অংশ হিব্রু ভাষায় আশকেনাস নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে এই শব্দটির দ্বারা সমগ্র জার্মানিকেই বোঝানো হতে শুরু করে। বিখ্যাত অস্ট্রীয় সাংবাদিক ও লেখক আর্তুর কোয়েস্টলারের তত্ত্ব অনুযায়ী মধ্যযুগ থেকেই জার্মানি তথা পূর্ব ইউরোপে বসবাসকারী যে আশকেনাস ইহুদিদের কথা জানতে পারা যায়, তারা জাতিগতভাবে ইজরায়েলীয় ছিল না। বরং তুর্ক জাতিগোষ্ঠীভুক্ত কাজারদের সাথে তাদের মিল যথেষ্ট। অষ্টম - নবম শতাব্দীতে তারা ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে ও মধ্য-পূর্ব ইউরোপে এসে তাদের বসতি স্থাপন করে।[১৪][১৫] কিন্তু এই তত্ত্ব নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। অন্য কিছু বিশেষজ্ঞের মতে - কিয়েভের গ্র্যান্ড প্রিন্স প্রথম সিয়াতোস্লাভের (৯৪২ - ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ) হাতে কাজার সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে অবশ্যই কিছু পরিমাণে কাজার জনগোষ্ঠীর মানুষ মধ্য-পুর্ব ইউরোপে পালিয়ে এসে বসতি স্থাপন করে; সেখানে তাদের সাথে আশকানাজ ইহুদিদের মিলমিশও হয়। কিন্তু তাদের সংখ্যা কখনই তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। জিনগত সাদৃশ্য বিচার করলেও দেখা যায় আশকানাজ ইহুদি জনগোষ্ঠীর মানুষের সাথে বর্তমানের নিকট প্রাচ্যের অধিবাসীদেরই বেশি মিল। অর্থাৎ, এদের এক বড় অংশই ব্যবসাবাণিজ্য বা অন্য কোনও কারণে নিকট প্রাচ্য থেকে এসে এই অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করে ও পরবর্তীকালে এখানেই থেকে যায়।[১৬][১৭]

১১শ শতাব্দী পরবর্তী সময়

১০ ও ১১ শতাব্দীতে জার্মানিতে ইহুদিদের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। দশম শতাব্দীতে যেখানে জার্মানিতে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল ৫০০০'এর কাছাকাছি, একাদশ শতাব্দীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০,০০০। এইসময় ইতালি ও দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে বহু ইহুদি ব্যবসায়ী রাইন নদী তীরবর্তী শহরগুলিতে এসে বসবাস শুরু করে। এখানে এইসময় তাদের শিক্ষা সংস্কৃতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের যথেষ্ট বিকাশ ঘটে। দশম শতাব্দীর শেষের দিক থেকে তারা আরও পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং মাগডেবুর্গমেরসেবুর্গ প্রভৃতি পূর্ব জার্মান শহরেও বসতিস্থাপন করে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অটোনীয় (৯১৯ - ১০২৪ খ্রিষ্টাব্দ) ও সালিয়ের বংশের (১০২৪ - ১১২৫ খ্রিষ্টাব্দ) সম্রাটদের আমলে ইহুদি ব্যবসায়ীরা যথেষ্টই সুযোগসুবিধা লাভ করেছিল। ব্যবসাবাণিজ্যে তাদের দক্ষতাকে শাসকরাও ব্যবহার করত।

রাইন নদী তীরবর্তী ওয়র্মসস্পাইয়ার, প্রভৃতি শহর, রাইন উপত্যকারই আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর মাইনৎস, দক্ষিণে দানিউব নদী তীরবর্তী শহর রেগেনসবুর্গ, প্রভৃতিস্থান এইসময় ইহুদিদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে। এর মধ্যে স্পাইয়ার, ওয়র্মস ও মাইনৎস শহর একত্রে শুম শহরমণ্ডলী (SchUM) বলে খ্যাত ছিল। হিব্রু ভাষায় শহরগুলির নামের আদ্যাক্ষরগুলি নিয়ে এই শুম শব্দটি গড়ে উঠেছিল। মধ্যযুগে ইহুদিদের জ্ঞানচর্চার প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই এই শুম শহরমণ্ডলীর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মাইনৎস শহরের ইতিহাস থেকেও আমরা জানতে পারি যে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ সময় থেকেই এই শহর মধ্য ইউরোপে ব্যবসাবাণিজ্যের এক অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। এই সময় ও তার পরবর্তী ৪০০ বছর, শহরের সমৃদ্ধ ব্যবসা বাণিজ্য দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে অনেক ইহুদি ব্যবসায়ীই এখানে বসতি স্থাপন করে; তাদের সাথে সাথে এখানে এসে জড়ো হন বিভিন্ন ইহুদি রাব্বি ও পণ্ডিতগণ। তাদের শিক্ষা পাণ্ডিত্য সংলাপ ও সিদ্ধান্তের খ্যাতি এক সময় এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে ইহুদি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে মাইনৎস ও পার্শ্ববর্তী রাইনতীরবর্তী শহরগুলির গুরুত্ব বাগদাদকেও ছাপিয়ে যায়। আশকেনাস বা জার্মান ইহুদিদের প্রধান কেন্দ্রই হয়ে ওঠে মাইনৎস, ব্যাবিলনের প্রভাব কাটিয়ে উঠে স্বতন্ত্র পথে শুরু হয় তাদের বিকাশ।[১৮] সুবিখ্যাত ইহুদি পণ্ডিত গেরশম বেন জুডা (৯৬০ - ১০৪০) দশম শতাব্দীতেই মাগেনৎসায় (মাইনৎস শহরের হিব্রু নাম) একটি ইয়েশিভা বা ইহুদি ধর্মচর্চার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।[১৮] এই বিদ্যালয়ের খ্যাতিতে আকৃষ্ট হয় সারা মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপের ইহুদি পণ্ডিতরা। বিখ্যাত পণ্ডিত ও বাইবেলবিদ ফ্রান্সের ত্রোয়ার রশিও (১০৪০ - ১১০৫) এই বিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন।[১৯] চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই শহর মধ্য ইউরোপের ইহুদিদের সবচেয়ে বড় বাসস্থল রূপে পরিগণিত হত। তখন এখানে ইহুদি জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০০।

জার্মানিতে পাণ্ডিত্যপূর্ণ যোগাযোগের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার

 জার্মানিতে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার

জার্মানিতে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রকাশনাগুলির বিকাশ, ১৯৯০-২০১৮

জার্মানিতে পাণ্ডিত্যপূর্ণ যোগাযোগের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার ২০০০ এর দশকের প্রথম থেকেই দ্রুত বিকশিত হয়েছে। প্রকাশক বেলস্টেইন-ইনস্টিটিউট, কোপার্নিকাস পাবলিকেশনস, ডি গ্রুইটার, নলেজ আনল্যাচড, লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর সাইকোলজি ইনফরমেশন, সায়েন্সঅপেন, স্প্রিঞ্জার নেচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা গ্যাটিনজেন আন্তর্জাতিক ওপেন অ্যাক্সেস স্কলারলি পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর অন্তর্ভুক্ত।

উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রকাশনা লেখকদের আইনি ভিত্তি জার্মান কপিরাইট আইন-এর সেকশন ১২-এ রয়েছে, যা উরহেবারেচট (লেখকদের অধিকার) রক্ষা করে।

সমস্ত বড় বড় জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমনঃ বার্লিন-ব্র্যান্ডেনবার্গে একাডেমি অফ সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস, ডয়চে ফোরসচংসেমেইনচ্যাফট, নেটওয়ার্ক তথ্যের জন্য জার্মান উদ্যোগ [de] সহ বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের জ্ঞান সম্পর্কে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার সম্পর্কিত ২০০৩ এর বার্লিন ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, ফ্রেউনহোফার সোসাইটি, জার্মান রেকটার্স সম্মেলন এবং ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক সোসাইটি ।

ফেডারেল শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে "জার্মানিতে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার" শিরোনামে তার উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের কৌশল পত্রটি প্রকাশ করেছে যাতে মুক্ত প্রবেশাধিকার এবং মুক্ত বিজ্ঞানের নীতিগুলির প্রতি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

খতিয়ান

উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার জার্নালগুলি ডিজিটাল প্লাটফর্মে পাওয়া যায় যেমনঃ কোপার্নিকাস পাবলিকেশনস (গ্যাটিনজেন সদর দপ্তর), ডিজিটাল পিয়ার পাবলিকেশনস  জার্মান মেডিক্যাল সাইন্সএবং লিভিং রিভিউস ।

বিভিন্ন জার্মান ভাণ্ডার, ২০১৮ সালে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার প্রকাশনার সংখ্যা

জার্মানি ডিজিটাল উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার সংগ্রহস্থল গুলি বেশ কয়েকটি বৃত্তি পেয়েছে। এগুলিতে আছে জার্নাল নিবন্ধ, বইয়ের অধ্যায়, তথ্য এবং অন্যান্য গবেষণা আউটপুট যা পড়া মুক্ত । যুক্তরাজ্য ভিত্তিক উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার সংগ্রহস্থল গুলির ডিরেক্টরী অনুসারে, মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত জার্মানির ১৬১টি সংগ্রহস্থল তালিকাবদ্ধ করা হয়েছিল। 

জার্মানীর সংগ্রহস্থলগুলি পাওয়া যাবে জার্মান-ভিত্তিক রেজিস্ট্রির মধ্যে যেমনঃ বিলেফেল্ড একাডেমিক সার্চ ইঞ্জিন (বিএএসই-বেইস) এবং ডাচ ইনিশিয়েটিভ ফার নেটজার্ক ইনফরমেশন (ডিআইএনআই) এবং আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্রিগুলি যেমনঃ ডিরেক্টরি অফওপেন অ্যাক্সেস রিপোজিটরিস (ওপেনডিওএআর), রেজিস্ট্রি অফ ওপেন অ্যাক্সেস রিপোজিটরিস (আরওআর), এবং ওপেন আর্কাইভ ইনিশিয়েটিভ ওএআই-পিএমএইচ নিবন্ধিত তথ্য সরবরাহকারী -তে পাওয়া যায়।বিশেষজ্ঞরা বিএএসই(বেইস)-কে জার্মানির সর্বাধিক বিস্তৃত রেজিস্ট্রি হিসাবে বিবেচনা করে।

২০১২ সালে, জার্মান সংস্থাগুলি সর্বাধিক সংখ্যক ডিজিটাল সম্পদ যুক্ত ছিল জার্মান এরো-স্পেস সেন্টারের (৪৬,১৩৬ আইটেম); জার্মান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইকনোমিক্স এর ইকনস্টার-এর (৪৫,২৬৮টি আইটেম); জার্মান মেডিকেল সায়েন্স (৪১,৭৫৩টি আইটেম); ইউনিভার্সিটি বিলেটফিল্ডের পুব (৩২,৬৯৫টি আইটেম); এবং আলফ্রেড- ওয়েজনার -ইনস্টিটিউট এর (২৯,৪৮০ টি আইটেম)।  "জার্মানির সর্বাধিক ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার সংগ্রহস্থল গুলোর মধ্যে ভীষন জনবহুল হচ্ছেঃ ল্যান্ডার: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া (২৭), বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ (২৮) এবং বেভারিয়া (২২)।"

আসন্ন ২০১৯ সালে "হ্যামবার্গে উন্মুক্ত প্রবাশাধিকার সংগ্রহস্থল সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন" অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলন এবং প্রচার

২০০৩ সালে বার্লিনে ''ইনিশিয়াল বার্লিন কনফারেন্স-২০০৩'' আদলে প্রতিবছর কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এটা জার্মানিতে হয় প্রায়শই। [৬]

"ওপেন-অ্যাক্সেস-ট্যাগ" (উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের দিনগুলি) বার্লিন, ড্রেসডেন, গ্যাটিনজেন, হামবুর্গ, ক্যালন, কনস্তানজ, মিউনিখ, রেজেনসবার্গ সহ বিভিন্ন স্থানীয় জার্মান-ভাষাভাষীদের মধ্যে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর পালন করা হয়। [৭] ২০১৮ সালের ইভেন্টটি অস্ট্রিয়ার গ্রেজে অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৭ সালে বেশ কয়েকটি জার্মান প্রতিষ্ঠান "উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার.নেট" নামে সাধারণ তথ্য সংবলিত ওয়েবসাইট চালু করে। ২০০৮ সালে সালে অ্যালিয়েনজ ডার উইজেন্সচ্যাফ্টস অর্গানাইজেশনেন [ডি] "ডিজিটাল প্রকাশের সম্ভাবনা নিঃশেষিত করার জন্য" উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারকে প্রসারিত করার প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন।[৮]

বিলিফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারটি "নিবন্ধের চার্জগুলির জন্য স্বচ্ছ অবকাঠামো" প্রকল্পের উপস্থাপন করে, যা জার্মানি এবং অন্য কোথাও প্রকাশনাগুলির জন্য নিবন্ধ প্রক্রিয়াকরণ চার্জগুলি ধারণ করে। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের দিকে শুরু হয়েছিল।

সময়রেখা

জার্মানিতে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের বিকাশের মূল ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ২০০১
    • ১৬ মার্চ: জার্মান উইকিপিডিয়া, একটি জার্মান ভাষার উন্মুক্ত শিক্ষামূলক সংস্থান, প্রকাশনা শুরু করে।
  • ২০০৩
    • বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের জ্ঞানের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার সম্পর্কিত বার্লিন ঘোষণা জারি করা হয়েছে।
  • ২০০৪
    • বিলেফেল্ড একাডেমিক সার্চ ইঞ্জিন চালু হয়েছে।
    • অ্যাকশন জোট "কপিরাইট ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ" গঠিত হয়েছিল। [৯]
  • ২০০৫
    • বিলেফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহস্থলগুলিতে আমানত উৎসাহিত করে তার উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নীতি শুরু করে।
  • ২০০৬
    • ডয়চে ফোরসচংসমেমেনশ্যাফ্ট তার গ্র্যান্টদের জন্য উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নীতি গ্রহণ করে। [১২]
  • ২০০৭
    • ওপেন-অ্যাকসেস.নেট চালু হয়েছে।
    • "ওপেন-প্রবেশাধিকার-ট্যাগ" (ওপেন অ্যাক্সেস দিন) শুরু হয়।
  • ২০০৮
    • "ডিজিটাল ইনফরমেশন" (অগ্রাধিকার উদ্যোগ "ডিজিটাল তথ্য") শুরু হয়। 
  • ২০১০
    • কনফেডারেশন অফ ওপেন অ্যাক্সেস রিপোজিটরিগুলির সদর দপ্তর গ্যাটিনজেনে স্থানান্তর। 
  • ২০১১
    • 'ওপেন-অ্যাক্সেস পাবলিশিং' প্রোগ্রামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থায়িত প্রকাশনা ফি ধার্য শুরু হয়"
  • ২০১২
    • ডয়চে ইনিশিয়েটিভ ফর নেটজওয়ার্কি ইনফরমেশন (ডিআইএনআই) শুরু হয়। 
  • ২০১৩
    • রেজিস্ট্রি অফ রিসার্চ ডেটা রিপোজিটরিস এর সদর দপ্তর জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়।
  • ২০১৪
    • "নিবন্ধের চার্জের জন্য স্বচ্ছ অবকাঠামো" প্রকল্প শুরু হয় (তারিখ আনুমানিক)।
  • ২০১৫
    • ব্যবসায়ের দিক থেকে "বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম একাডেমিক প্রকাশক" বার্লিন ভিত্তিক স্প্রিংগার নেচার। 2018 এর হিসাবে "মুক্ত-প্রবেশাধিকার জার্নালগুলি স্প্রিংগার নেচার -এর গবেষণা উপার্জনের প্রায় ১০ শতাংশ উৎপন্ন করে।

প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)

  প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)   উদ্যোক্তা: মো. তাকবীর হোসেন, সিইও, কেআর গ্লোবাল লিমিটেড ও গ্...