নুর-সুলতান ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্তহিসাবে পরিচিত ছিল। যা কাজাখস্তান দেশের রাজধানী। মার্চ ২০১৯ সালে, কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি নুর-সুলতান নাজারবায়েভ পরে এর নামকরণ করেন নুর-সুলতান। কাজাখস্তানের রাজধানী ও প্রধান শহর। এটি কাজাখস্তানের উত্তরের অংশে আকমোলা অঞ্চলে ইশিম নদীর তীরে অবস্থিত, যদিও এই অঞ্চলটি পৃথকভাবে একটি বিশেষ মর্যাদার শহর হিসাবে পরিচালিত হয়। ২০১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী ১০,২৯,৫৫৬ জন জনসংখ্যা নিয়ে এটি কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর[২], সর্ববৃহৎ শহর হল আলমাটি যা ১৯৯১-১৯৯৭ পর্যন্ত কাজাখস্তানের রাজধানী ছিল।
জলবায়ু[সম্পাদনা]
| আড়াল করুননুরসুলতান-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য | |||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| মাস | জানু | ফেব্রু | মার্চ | এপ্রিল | মে | জুন | জুলাই | আগস্ট | সেপ্টে | অক্টো | নভে | ডিসে | বছর |
| সর্বোচ্চ রেকর্ড °সে (°ফা) | ৩.৪ (৩৮.১) | ৪.৮ (৪০.৬) | ২২.১ (৭১.৮) | ২৯.৭ (৮৫.৫) | ৩৫.৭ (৯৬.৩) | ৪০.১ (১০৪.২) | ৪১.৬ (১০৬.৯) | ৩৮.৭ (১০১.৭) | ৩৬.২ (৯৭.২) | ২৬.৭ (৮০.১) | ১৮.৫ (৬৫.৩) | ৪.৫ (৪০.১) | ৪১.৬ (১০৬.৯) |
| সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) | −৯.৯ (১৪.২) | −৯.২ (১৫.৪) | −২.৫ (২৭.৫) | ১০.৯ (৫১.৬) | ২০.২ (৬৮.৪) | ২৫.৮ (৭৮.৪) | ২৬.৮ (৮০.২) | ২৫.২ (৭৭.৪) | ১৮.৮ (৬৫.৮) | ১০.০ (৫০.০) | −১.৪ (২৯.৫) | −৮.০ (১৭.৬) | ৮.৯ (৪৮.০) |
| দৈনিক গড় °সে (°ফা) | −১৪.২ (৬.৪) | −১৪.১ (৬.৬) | −৭.১ (১৯.২) | ৫.২ (৪১.৪) | ১৩.৯ (৫৭.০) | ১৯.৫ (৬৭.১) | ২০.৮ (৬৯.৪) | ১৮.৮ (৬৫.৮) | ১২.৩ (৫৪.১) | ৪.৬ (৪০.৩) | −৫.৪ (২২.৩) | −১২.১ (১০.২) | ৩.৫ (৩৮.৩) |
| সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) | −১৮.৩ (−০.৯) | −১৮.৫ (−১.৩) | −১১.৫ (১১.৩) | ০.২ (৩২.৪) | ৭.৯ (৪৬.২) | ১৩.২ (৫৫.৮) | ১৫.০ (৫৯.০) | ১২.৮ (৫৫.০) | ৬.৬ (৪৩.৯) | ০.২ (৩২.৪) | −৮.৯ (১৬.০) | −১৬.১ (৩.০) | −১.৫ (২৯.৩) |
| সর্বনিম্ন রেকর্ড °সে (°ফা) | −৫১.৬ (−৬০.৯) | −৪৮.৯ (−৫৬.০) | −৩৮.০ (−৩৬.৪) | −২৭.৭ (−১৭.৯) | −১০.৮ (১২.৬) | −১.৫ (২৯.৩) | ২.৩ (৩৬.১) | −২.২ (২৮.০) | −৮.২ (১৭.২) | −২৫.৩ (−১৩.৫) | −৩৯.২ (−৩৮.৬) | −৪৩.৫ (−৪৬.৩) | −৫১.৬ (−৬০.৯) |
| অধঃক্ষেপণের গড় মিমি (ইঞ্চি) | ১৬ (০.৬) | ১৫ (০.৬) | ১৮ (০.৭) | ২১ (০.৮) | ৩৫ (১.৪) | ৩৭ (১.৫) | ৫০ (২.০) | ২৯ (১.১) | ২২ (০.৯) | ২৭ (১.১) | ২৮ (১.১) | ২২ (০.৯) | ৩২০ (১২.৬) |
| বৃষ্টিবহুল দিনগুলির গড় | ২ | ২ | ৫ | ৯ | ১৫ | ১৩ | ১৫ | ১৩ | ১২ | ১০ | ৭ | ৩ | ১০৬ |
| তুষারময় দিনগুলির গড় | ২৫ | ২৩ | ১৯ | ৬ | ১ | ০.১ | ০ | ০ | ১ | ৭ | ১৮ | ২৪ | ১২৪ |
| আপেক্ষিক আদ্রতার গড় (%) | ৭৮ | ৭৭ | ৭৯ | ৬৪ | ৫৪ | ৫৩ | ৫৯ | ৫৭ | ৫৯ | ৬৮ | ৮০ | ৭৯ | ৬৭ |
| মাসিক সূর্যালোক ঘণ্টার গড় | ১০৩ | ১৪৭ | ১৯২ | ২৩৮ | ৩০১ | ৩৩৬ | ৩৩৬ | ২৯৪ | ২৩০ | ১৩৬ | ১০০ | ৯৪ | ২,৫০৭ |
| উৎস ১: Pogoda.ru.net | |||||||||||||
| উৎস ২: NOAA (sun, 1961–1990)[৫] | |||||||||||||
আস্তানা হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী শহর। প্রথম স্থানে আছে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোর। উলানবাটোরের পরে কানাডার অটোয়া দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু ১৯৯৭ সালে আস্তানা রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী শহরের স্বীকৃতি পায়। আস্তানায় গ্রীষ্মকালে কালেভদ্রে খুবই সংক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। এর শীতকাল খুবই দীর্ঘ, শীতল এবং শুষ্ক। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত শহরের নদীগুলোতে বরফ জমাট বেঁধে থাকে।
জনসংখ্যা[সম্পাদনা]
২০১৭ সালের কাজাখস্তানের জরিপ অনুযায়ী নুরসুলতানের (আস্তানা) মোট জনসংখ্যা ছিল ১,০২৯,৫৫৬ জন, যা ২০০২ সালের জনসংখ্যার চেয়ে ডাবল এবং তখন জনসংখ্যা ছিল ৪৯৩,০০০ জন। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহরের মোট জনসংখ্যার ৬৫.২% কাজাখ, ২৩.৮% রুশ, ২.৯% ইউক্রেনীয়, ১.৭% তাতার, ১.৫% জার্মান এবং ৪.৯% অন্যান্য জাতীয়গোষ্ঠির লোক বসবাস করে।
অনেকেই যুক্তি দিয়েছিলেন যে উত্তর- পশ্চিম দিকে জাতিগত কাজাখিদের আকৃষ্ট করার অভিযান রাজধানী স্থানান্তরিত করার মূল কারণ ছিল, যা প্রাক্তন রাজধানী আলমাতি এবং ভূমিকম্পের অঞ্চলে এর অবস্থানের জন্য সম্প্রসারণের জায়গার অভাবে অফিসিয়ালি সরানো হয়েছিল। নুর-সুলতানও আলমাতির চেয়ে 'কাজাখস্তানের শিল্প কেন্দ্রের কাছাকাছি ছিল।[৬]
১৯৮৯ সালে স্তেলিনগ্রাদের জনসংখ্যা ছিল ২৮১,০০০ জন এবং জাতিগত মিশ্রণ ছিল প্রায় ১৭.৭% কাজাখ, ৫৪.১% রুশ এবং ২৮.২% অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর।[৭]
ইসলাম এ শহরের প্রধান ধর্ম। নূর-সুলতানে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মগুলি হল খ্রিস্টান ধর্ম (প্রাথমিকভাবে রুশ অর্থোডক্স, রোমান ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্টিজম), ইহুদী ও বৌদ্ধ।[৮] বিশ্ব ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নেতাদের কংগ্রেস আয়োজন করার জন্য ২০০৬ সালে প্যালেস অব পিস অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছিল। এটিতে বিভিন্ন ধর্মের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন: ইহুদী, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ধর্ম, তাও ধর্ম এবং অন্যান্য ধর্ম।
ক্রীড়া[সম্পাদনা]
নুরসুলতান শহরে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া দল রয়েছে। প্রধান ফুটবল দলটি হল আস্তানা এফসি যা কাজাখস্তান প্রিমিয়ার লিগের একটি বড় মানের দল। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি আস্তানা চারটি লিগ শিরোপা, তিনটি কাজাখ কাপ এবং দুটি কাজাখ সুপার কাপ জিতেছে।[৯] তাদের ঘরের মাঠ হল আস্তানা অ্যারিনা, যা কাজাখস্তান জাতীয় ফুটবল দল এবং এফসি বায়তেরেকের ঘরের মাঠ হিসাবে কাজ করে। এফসি বায়তেরেক কাজাখস্তান ফার্স্ট ডিভিশনের সদস্য। ২০১২ সালে যুব ফুটবল বিকাশের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[১০] এফসি আস্তানা-১৯৬৪ কাজীমুকন মুনাইতপসভ স্টেডিয়ামে ভিত্তিক একটি ফুটবল দল, যারা আস্তানা পৌর ফুটবল লিগে খেলেছে। ক্লাবটির সবচেয়ে সফল বছরগুলি ছিল ২০০০ এর দশক, যখন তারা ৩টি লীগ শিরোপা জিতেছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন