মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

ফিলিস্তিনের ভিসা নীতি

 ফিলিস্তিন, মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল, যা খ্রিস্টধর্ম, ইহুদি ধর্ম এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জেরুজালেম (Jerusalem) (বিশেষত আল-আকসা মসজিদ, ডোম অফ দ্য রক, চার্চ অফ দ্য হলি সেপালচার), বেথলেহেম (Bethlehem) (চার্চ অফ দ্য নেটিভিটি), রামাল্লাহ (Ramallah) এবং হেব্রন (Hebron) এর মতো ঐতিহাসিক শহরগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। ফিলিস্তিন সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা গভীর ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: ফিলিস্তিনে প্রবেশ একটি অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর বিষয়, কারণ এর কোনো নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা স্বতন্ত্র সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নেই। ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশ এবং প্রস্থান ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের (Israeli Authorities) নিয়ন্ত্রণাধীন। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফিলিস্তিনে সরাসরি ভিসা বা সহজ প্রবেশাধিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফিলিস্তিন ভ্রমণের জন্য কার্যত আপনাকে ইসরায়েলের ভিসা গ্রহণ করতে হবে এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে।


১. ফিলিস্তিনে প্রবেশের পদ্ধতি (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ইসরায়েলে প্রবেশ করতে পারেন না, কারণ বাংলাদেশের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে "Except Israel"। তাই, সরাসরি ইসরায়েলি ভিসার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সম্ভব নয়

তবে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতি বা বিকল্প পথ থাকতে পারে, যা অত্যন্ত জটিল এবং বিরল। এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • জর্ডান হয়ে প্রবেশ (Jordan as a Gateway):

    • এটি ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংকে প্রবেশের একটি সম্ভাব্য পথ। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রথমে জর্ডানের ভিসা নিতে হবে এবং জর্ডানে প্রবেশ করতে হবে।

    • জর্ডান থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সীমান্ত ক্রসিং (যেমন অ্যালেনবি/কিং হুসেইন ব্রিজ - Allenby/King Hussein Bridge) দিয়ে ওয়েস্ট ব্যাংকে প্রবেশ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

    • চ্যালেঞ্জ: ইসরায়েলি সীমান্ত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের প্রবেশে বাধা দিতে পারে বা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন করতে পারে। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। যদি প্রবেশ করতে দেওয়াও হয়, তবে তা ইসরায়েলি সরকারের বিশেষ বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। এটি খুবই বিরল ঘটনা।

    • আপনি যদি সফলভাবে প্রবেশ করতে পারেন, তবে আপনাকে ওয়েস্ট ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসিত শহরগুলিতে (যেমন রামাল্লাহ, বেথলেহেম) যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে, তবে ইসরায়েলি-নিয়ন্ত্রিত জেরুজালেম বা অন্য কোনো ইসরায়েলি অঞ্চলে প্রবেশাধিকার নাও পেতে পারেন।

  • বিশেষ অনুমতি বা কূটনীতিক চ্যানেল:

    • খুবই সীমিত সংখ্যক ক্ষেত্রে, যদি আপনার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (যেমন ফিলিস্তিন ন্যাশনাল অথরিটি - PNA) বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ থাকে এবং সেই আমন্ত্রণটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে বিশেষ মানবিক বা কূটনৈতিক বিবেচনায় প্রবেশের অনুমতি মিলতে পারে। এটি ব্যক্তিগত পর্যটনের জন্য প্রযোজ্য নয়।

সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশের সাধারণ পর্যটকদের জন্য সরাসরি ফিলিস্তিনে ভ্রমণ করা প্রায় অসম্ভব, কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশের পাসপোর্টের উপর "Except Israel" শর্ত।


২. ফিলিস্তিনের নিজস্ব ভিসা নীতি

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও, এর নিজস্ব ভিসা প্রদান বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই। তাই ফিলিস্তিনের নিজস্ব ভিসা বলে কিছু নেই। ফিলিস্তিনে প্রবেশকারী সকল বিদেশি নাগরিকের জন্য ইসরায়েলের প্রবেশ নীতি প্রযোজ্য হয়।


৩. আবেদন প্রক্রিয়া (যদি কোনোভাবে সম্ভব হয়)

যেহেতু সরাসরি আবেদনের কোনো পথ নেই, তাই এখানে কোনো সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপ উল্লেখ করা সম্ভব নয়। যদি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিদেশি নাগরিক (যারা ইসরায়েলে প্রবেশাধিকার রাখেন) ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে চান, তবে তাদেরকে ইসরায়েলি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য, এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনে ভ্রমণ অত্যন্ত কঠিন বা অসম্ভব একটি পরিকল্পনা।


৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যদি কোনোভাবে সম্ভব হয়)

যদি কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফিলিস্তিনে প্রবেশের অনুমতি বিবেচনা করে, তবে নিম্নলিখিত নথিগুলোর প্রয়োজন হতে পারে:

  • বৈধ পাসপোর্ট: ইসরায়েল/জর্ডান থেকে প্রস্থান করার পরও ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে।

  • ভিসা আবেদন ফরম: সংশ্লিষ্ট দেশের (যেমন জর্ডান বা যে দেশের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার পাওয়া যেতে পারে) ভিসা ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি: সাম্প্রতিক রঙিন ছবি।

  • কভারিং লেটার: ভ্রমণের উদ্দেশ্য, বিস্তারিত ভ্রমণপথ, আর্থিক সহায়তার উৎস ইত্যাদি উল্লেখ করে একটি চিঠি।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট: জর্ডান বা অন্য কোনো দেশ থেকে প্রস্থান টিকিট।

  • আবাসনের প্রমাণ: ফিলিস্তিনের কোনো হোটেল বা হোস্টেলের বুকিং (যদি বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়) বা আমন্ত্রণপত্র।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

  • পেশার প্রমাণ: চাকরি, ব্যবসা বা ছাত্রত্বের প্রমাণ।

  • স্বাস্থ্য বীমা: যদি প্রয়োজন হয়।

  • ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণপত্র (যদি থাকে): এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC): কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: এই তালিকাটি একটি সাধারণ ধারণা মাত্র। যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি ফিলিস্তিনে প্রবেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত পথ নেই, তাই এই নথিগুলি কেবল তখনই প্রাসঙ্গিক হবে যদি কোনো অপ্রত্যাশিত বিশেষ ব্যবস্থা হয়।


৫. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)

বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশে যে ফর্ডেন মিশন আছে, সেটি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (PLO)-এর একটি প্রতিনিধি অফিস, যারা ভিসা সংক্রান্ত কাজ করে না।

  • ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা (Embassy of the State of Palestine, Dhaka):

    • ঠিকানা: হাউস-৩৪, রোড-১০৯, গুলশান ২, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

    • ফোন: +880 2 9896684

    • ই-মেইল: (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: (সরাসরি নিজস্ব ওয়েবসাইট নাও থাকতে পারে)। গুরুত্বপূর্ণ: এই মিশনটি ভিসা সংক্রান্ত কাজ করে না।


৬. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যদি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফিলিস্তিনে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ থাকে, তবে তা জর্ডান বা অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে হতে পারে। তবে, এটি সরাসরি ফিলিস্তিনের ভিসার আবেদন নয়, বরং যে দেশের মাধ্যমে প্রবেশ করা হচ্ছে, সেই দেশের ভিসার আবেদন।

  • জর্ডানের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of the Hashemite Kingdom of Jordan in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: 182, Vasant Vihar, Poorvi Marg, Block B, New Delhi 110057, India.

    • ফোন: +91 11 2614 5556

    • ই-মেইল: newdelhi@fm.gov.jo (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: (সাধারণত তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়)।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: জর্ডানের ভিসা পাওয়া গেলেও, ইসরায়েলি সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ


৭. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)

ফিলিস্তিনের জন্য কোনো ই-ভিসা বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ব্যবস্থা নেই। ফিলিস্তিনে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য "Except Israel" শর্তের কারণে ফিলিস্তিনে প্রবেশ অত্যন্ত কঠিন বা প্রায় অসম্ভব। ফিলিস্তিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে, এই জটিলতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত থাকা অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ইসরায়েলি প্রবেশ নীতি সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করুন। সাধারণত, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফিলিস্তিন ভ্রমণ একটি বাস্তবিক বিকল্প নয়।


GRAMEEN TOURS & Travels Whatsapp: 01336-556033 Email: grameentour@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...