মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

গ্রিসের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 




গ্রিস: প্রাচীন সভ্যতা আর নীল সমুদ্রের দেশ

গ্রিস, যেখানে প্রাচীন সভ্যতা, উজ্জ্বল নীল সমুদ্র আর মনোরম দ্বীপপুঞ্জ একে অপরের সাথেমিলেমিশে আছে। এথেন্সের পার্থেনন থেকে সান্তোরিনির সাদা বাড়ি, এই দেশ আপনাকে মুগ্ধকরবে। এখানকার সুস্বাদু ভূমধ্যসাগরীয় খাবার, উষ্ণ আবহাওয়া আর কিংবদন্তী ইতিহাসগ্রিসকে একটি অবিস্মরণীয় পর্যটন কেন্দ্র করে তুলেছে। এটি সত্যিই এক কালজয়ী সৌন্দর্য।

গ্রিসের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

গ্রীস, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এক ঐতিহাসিক দেশ, যা তার প্রাচীন সভ্যতা, অসংখ্য দ্বীপপুঞ্জ, ফিরোজা নীল জল এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি পশ্চিমা সভ্যতার জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত, যেখানে গণতন্ত্র, দর্শন, অলিম্পিক গেমস এবং থিয়েটারের জন্ম হয়েছিল। এথেন্সের অ্যাক্রোপলিস, সান্তোরিনির ঝলমলে সাদা গ্রাম, রোডসের মধ্যযুগীয় শহর এবং মাইকোনোসের প্রাণবন্ত নৈশজীবন প্রতি বছর কোটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। গ্রীস সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা প্রাচীন ইতিহাস, রোমান্টিক দ্বীপ ভ্রমণ, ভূমধ্যসাগরীয় খাবার এবং এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: গ্রীস ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেঙেন এলাকার (Schengen Area) পূর্ণাঙ্গ সদস্য। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের নাগরিকদের গ্রীস ভ্রমণের জন্য শেঙেন ভিসা (Schengen Visa) প্রয়োজন।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

গ্রীস (শেঙেন এলাকার সদস্য হিসেবে) নিম্নলিখিত প্রধান ভিসার ক্যাটাগরি প্রদান করে:

  • শেঙেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):

    • উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী কোর্স (৯০ দিনের কম), ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইত্যাদি। এটি মূলত পর্যটন ভিসার সমতুল্য।

    • মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেঙেন এলাকার মধ্যে থাকার অনুমতি দেয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি, ডাবল এন্ট্রি বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার বৈধতা ইস্যুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে প্রতি ১৮০ দিনে ৯০ দিনের বেশি থাকা যাবে না।

    • বৈধতা: শেঙেন ভিসার মাধ্যমে আপনি গ্রীস-সহ শেঙেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত ২৬টি দেশের যেকোনোটিতে প্রবেশ করতে এবং ভ্রমণ করতে পারবেন।

    • বিশেষ বিবেচনা: শেঙেন ভিসায় গ্রীস বা শেঙেন এলাকার অন্য কোনো দেশে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।

  • ট্রানজিট ভিসা (Airport Transit Visa - Type A):

    • উদ্দেশ্য: শেঙেন এলাকার কোনো বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট জোনের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে যাত্রার জন্য।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের গ্রীসের (শেঙেন) ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত গ্রিসের দূতাবাস অথবা গ্রিসের পক্ষে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো শেঙেনভুক্ত দেশের দূতাবাস (যেমন, বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস বা ইতালির দূতাবাস) এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিগতভাবে বা অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: গ্রীস তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য অন্য কোনো শেঙেন দেশের দূতাবাসকে দায়িত্ব দিতে পারে। আবেদন করার আগে নয়াদিল্লিতে গ্রিসের দূতাবাস অথবা বাংলাদেশে অবস্থিত শেঙেনভুক্ত যেকোনো দেশের দূতাবাস (যেমন ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি) এর সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়শই VFS Global ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে।

  সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:

  • ধাপ ১: সঠিক দূতাবাস/ভিসা সেন্টার নির্ধারণ:

    • প্রথমেই গ্রিসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা নয়াদিল্লিতে গ্রিসের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদনের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন। এটি সরাসরি নয়াদিল্লিতে আবেদন করতে হতে পারে, অথবা তাদের পক্ষে বাংলাদেশের অন্য কোনো শেঙেন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে।

  • ধাপ ২: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ:

    • যদি অনলাইনে ফরম পূরণের ব্যবস্থা থাকে, তবে ফরমটি নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। পূরণের পর একটি প্রিন্ট করা কপি লাগবে।

  • ধাপ ৩: অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া:

    • সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা VFS Global (যদি তারা ভিসা আবেদন গ্রহণ করে থাকে) এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না।

  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ:

    • আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • শেঙেন ভিসার ফি বর্তমানে €৮০ (ইউরো) যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,০০০-১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য €৪০ (ইউরো)। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ভিসা ফি নেই।

    • ফি পরিশোধের পদ্ধতি (নগদ, ব্যাংক ড্রাফট ইত্যাদি) দূতাবাস বা VFS Global সেন্টারে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    • সার্ভিস চার্জ: VFS Global-এর মাধ্যমে আবেদন করলে একটি অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ (প্রায় ১,৫০০-২,০০০ টাকা) প্রযোজ্য হতে পারে।

    • গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক্স:

    • নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টারে/দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন

    • আবেদনের সময় আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ছবি) দিতে হবে। এটি গত ৫৯ মাসের মধ্যে কোনো শেঙেন ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক্স না দিয়ে থাকলে বাধ্যতামূলক।

  • ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):

    • দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।

  • ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • শেঙেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০ থেকে ৪৫ কার্যদিবস বা তার বেশি সময়ও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। ছুটির দিন বা পিক সিজনে সময় বেশি লাগতে পারে।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অবহিত করা হবে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

 গ্রীসের (শেঙেন) ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেঙেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্ট গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে।

    • কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত শেঙেন ভিসা আবেদন ফরম:

    • যথযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। এটি শেঙেন ভিসার ছবির মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। এটি "To the Embassy of Greece in New Delhi, India" অথবা গ্রিসের পক্ষে যে দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া করছে তাকে সম্বোধন করে লিখতে হবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • গ্রীস থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (গ্রিক ভাষায়: "Δήλωση Φιλοξενίας"), তার পরিচয়পত্রের কপি (যেমন: গ্রিক রেসিডেন্ট পারমিট/ID কার্ড) এবং গ্রিসে তার আইনি স্ট্যাটাসের প্রমাণ।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা গ্রীসে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

    • ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা:

    • ন্যূনতম €৩০,০০০ (ইউরো) কভারেজ সহ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা, যা শেঙেন এলাকার মধ্যে আপনার থাকার পুরো সময়কালের জন্য বৈধ থাকতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রত্যাবাসন খরচ কভার করবে।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি:

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

    • জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।

  নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে,     যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)

বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যেহেতু বাংলাদেশে গ্রিসের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত গ্রিসের দূতাবাস থেকে আবেদন করতে হয়। তবে, গ্রীস প্রায়শই অন্য কোনো শেঙেনভুক্ত দেশের দূতাবাসকে (যেমন, ফ্রান্স বা ইতালি) তাদের পক্ষে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব দিতে পারে।

  • গ্রিসের দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত (Embassy of Greece in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: EP-32, Dr. S. Radhakrishnan Marg, Chanakyapuri, New Delhi - 110021, India.

    • ফোন: +91 11 2688 0700 / 0701 / 0702 / 0703 / 0704

    • ই-মেইল: gremb.del@mfa.gr (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.mfa.gr/missionsabroad/en/india.html

    • ভিসা ফি সম্পর্কিত তথ্য: ওয়েবসাইটে সরাসরি নির্দিষ্ট ফি উল্লেখ নাও থাকতে পারে, তবে শেঙেন ভিসার ফি সব দেশের জন্যই একই হয় (€৮০)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি দূতাবাস অথবা ঢাকাতে গ্রিসের পক্ষে ভিসা প্রক্রিয়াকারী দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। সশরীরে উপস্থিত থাকা বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি জমা দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa)

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, গ্রীস (শেঙেন এলাকার সদস্য হিসেবে) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো সম্পূর্ণ ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি যা দিয়ে তারা পূর্বেই অনলাইনে ভিসা পেয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন। যদিও কিছু শেঙেন দেশ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন শুরু করার সুযোগ দেয়, তবে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান এবং মূল নথি জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট VFS Global সেন্টার বা দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনার পাসপোর্টে একটি স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

 গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ শেঙেন ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় গ্রিসের দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত VFS Global (যদি থাকে) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় গ্রিসের নয়াদিল্লি দূতাবাস অথবা বাংলাদেশে গ্রিসের পক্ষে ভিসা প্রক্রিয়াকারী শেঙেনভুক্ত কোনো দূতাবাস এবং তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)

  প্রজেক্ট প্রোফাইল: প্রবাসীদের হেল্পিং হ্যান্ড (Migrants' Helping Hand)   উদ্যোক্তা: মো. তাকবীর হোসেন, সিইও, কেআর গ্লোবাল লিমিটেড ও গ্...