চেক প্রজাতন্ত্রের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
চেক প্রজাতন্ত্র, মধ্য ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যা তার ঐতিহাসিক শহর, মধ্যযুগীয় দুর্গ, মনোরম ল্যান্ডস্কেপ এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রাগের (Prague) বিখ্যাত চার্লস ব্রিজ (Charles Bridge), সেন্ট ভিটাস ক্যাথিড্রাল (St. Vitus Cathedral) এবং ওল্ড টাউন স্কোয়ার (Old Town Square) থেকে শুরু করে কার্লোভি ভ্যারি (Karlovy Vary)-এর স্পা টাউন এবং চেস্কি ক্রুমলভের (Český Krumlov) ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, প্রতিটি স্থানই পর্যটকদের মুগ্ধ করে। চেক প্রজাতন্ত্র সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা ইতিহাস, স্থাপত্য এবং মধ্য ইউরোপীয় সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: চেক প্রজাতন্ত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেঙেন এলাকার (Schengen Area) পূর্ণাঙ্গ সদস্য। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশের নাগরিকদের চেক প্রজাতন্ত্র ভ্রমণের জন্য শেঙেন ভিসা (Schengen Visa) প্রয়োজন।
১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য):
চেক প্রজাতন্ত্র (শেঙেন এলাকার সদস্য হিসেবে) নিম্নলিখিত প্রধান ভিসার ক্যাটাগরি প্রদান করে:
শেঙেন স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Schengen Short-Stay Visa - Type C):
উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী কোর্স (৯০ দিনের কম), ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইত্যাদি। এটি মূলত পর্যটন ভিসার সমতুল্য।
মেয়াদ: যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত শেঙেন এলাকার মধ্যে থাকার অনুমতি দেয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি, ডাবল এন্ট্রি বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার বৈধতা ইস্যুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে প্রতি ১৮০ দিনে ৯০ দিনের বেশি থাকা যাবে না।
বৈধতা: শেঙেন ভিসার মাধ্যমে আপনি চেক প্রজাতন্ত্রসহ শেঙেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত ২৬টি দেশের যেকোনোটিতে প্রবেশ করতে এবং ভ্রমণ করতে পারবেন।
বিশেষ বিবেচনা: শেঙেন ভিসায় চেক প্রজাতন্ত্র বা শেঙেন এলাকার অন্য কোনো দেশে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।
ট্রানজিট ভিসা (Airport Transit Visa - Type A):
উদ্দেশ্য: শেঙেন এলাকার কোনো বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট জোনের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে যাত্রার জন্য।
২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে):
বাংলাদেশে চেক প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব দূতাবাস রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকরা চেক প্রজাতন্ত্রের (শেঙেন) ভিসার জন্য চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস, ঢাকা এর মাধ্যমে অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার VFS Global এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা তাদের হয়ে আবেদন গ্রহণ করে।
ধাপ ১: ভিএফএস গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রবেশ:
চেক প্রজাতন্ত্রের ভিসা আবেদন VFS Global-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রথমে VFS Global-এর চেক প্রজাতন্ত্রের বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
https://www.vfsglobal.com/czechrepublic/bangladesh/
ধাপ ২: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ:
চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ভিসা অ্যাপ্লিকেশন পোর্টাল "E-Application" (বা একটি পূরণযোগ্য পিডিএফ ফরম) ব্যবহার করে অনলাইনে ফরম পূরণ করুন। VFS Global ওয়েবসাইটে এর লিঙ্ক পাওয়া যাবে। ফরমটি নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করা আবশ্যক। পূরণ করার পর প্রিন্ট করে নিতে হবে।
ধাপ ৩: অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া:
VFS Global ওয়েবসাইটে ফিরে এসে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করুন ("Schedule an appointment" সেকশন)। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায় না।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ:
আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)
ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:
শেঙেন ভিসার ফি বর্তমানে €৮০ (ইউরো) যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯,০০০-১০,০০০ টাকা। ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য €৪০। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো ভিসা ফি নেই।
VFS Global-এর মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ (প্রায় BDT ২৭০০-৩০০০) দিতে হতে পারে। ফি VFS Global সেন্টারে নগদ টাকায় বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক্স:
নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ VFS Global সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন।
আবেদনের সময় আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ এবং ছবি) দিতে হবে। এটি গত ৫৯ মাসের মধ্যে কোনো শেঙেন ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক্স না দিয়ে থাকলে বাধ্যতামূলক।
ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):
দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।
ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
শেঙেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি ৩০ থেকে ৪৫ কার্যদিবস বা তার বেশি সময়ও লাগতে পারে, বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। ছুটির দিন বা পিক সিজনে সময় বেশি লাগতে পারে।
ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অবহিত করা হবে। VFS Global-এর মাধ্যমে আপনি আপনার আবেদনের অবস্থা অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারবেন।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা):
চেক প্রজাতন্ত্রের (শেঙেন) ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্ট:
মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেঙেন এলাকা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।
পাসপোর্ট গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে।
কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।
সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
পূরণকৃত শেঙেন ভিসা আবেদন ফরম:
অনলাইনে পূরণকৃত এবং প্রিন্ট করা ফরম, যাতে আপনার স্বাক্ষর থাকবে।
পাসপোর্ট আকারের ছবি:
সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)। এটি শেঙেন ভিসার ছবির মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। (VFS Global ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে)।
কভারিং লেটার:
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে। এটি "Embassy of the Czech Republic in Dhaka" কে সম্বোধন করে লিখতে হবে।
ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:
চেক প্রজাতন্ত্র থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবাসনের প্রমাণ:
হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।
যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (চেক প্রজাতন্ত্রের পুলিশ দ্বারা সত্যায়িত), তার পরিচয়পত্রের কপি এবং চেক প্রজাতন্ত্রে তার আইনি স্ট্যাটাসের প্রমাণ।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:
গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা চেক প্রজাতন্ত্রে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।
যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।
পেশার প্রমাণ:
চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৬ মাসের বেতন স্লিপ।
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।
শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।
অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।
ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা:
ন্যূনতম €৩০,০০০ (ইউরো) কভারেজ সহ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চিকিৎসা বীমা, যা শেঙেন এলাকার মধ্যে আপনার থাকার পুরো সময়কালের জন্য বৈধ থাকতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রত্যাবাসন খরচ কভার করবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:
আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।
অন্যান্য সহায়ক নথি:
বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।
জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।
নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে।
৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস):
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চেক প্রজাতন্ত্রের ভিসা আবেদন করার প্রধান স্থান হলো চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস, ঢাকা এর অনুমোদিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার VFS Global Dhaka।
চেক প্রজাতন্ত্র ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VFS Global):
ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণী, বারিধারা, ঢাকা - ১২২৯, বাংলাদেশ। (অন্যান্য ভিএফএস সেন্টারের মতো এটিও যমুনা ফিউচার পার্কের চতুর্থ তলায় অবস্থিত)।
হেল্পলাইন: +880 9606 777111
ই-মেইল: info.czechrepublicbd@vfshelpline.com
ওয়েবসাইট:
https://www.vfsglobal.com/czechrepublic/bangladesh/
চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস, ঢাকা (Embassy of the Czech Republic in Dhaka):
ঠিকানা: বাড়ি # ৫, রোড # ৫৪, গুলশান ২, ঢাকা - ১২১২, বাংলাদেশ।
ফোন: +880 2 9861690 / 9880816 / 9880817
ই-মেইল: dhaka@embassy.mzv.cz
ওয়েবসাইট:
https://www.mzv.cz/dhaka/en/index.html দূতাবাস সাধারণত সরাসরি ভিসা আবেদন গ্রহণ করে না, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা আপিলের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন:
যেহেতু বাংলাদেশে চেক প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব দূতাবাস এবং VFS Global সেন্টার রয়েছে, তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি কেউ অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদী বাস করেন, তাহলে তারা সেই দেশের চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
৬. ই-ভিসা (e-Visa):
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, চেক প্রজাতন্ত্র (শেঙেন এলাকার সদস্য হিসেবে) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো সম্পূর্ণ ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করেনি যা দিয়ে তারা পূর্বেই অনলাইনে ভিসা পেয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেন। যদিও ভিসার আবেদন অনলাইনে শুরু করা যায় (E-Application পোর্টালের মাধ্যমে), তবে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান এবং মূল নথি জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট VFS Global সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনার পাসপোর্টে একটি স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ শেঙেন ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত VFS Global এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ রইল, ভিসা আবেদন করার সময় চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস অথবা VFS Global এর সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।
GRAMEEN TOURS & Travels
Whatsapp: 01336-556033
Email: grameentour@gmail.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন