মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মালয়েশিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

 



মালয়েশিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
: বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সম্ভার

মালয়েশিয়া, যেখানে বহুসংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একত্রিত হয়েছে। কুয়ালালামপুরের

আইকনিক পেট্রোনাস টাওয়ার থেকে ল্যাংকাউইয়ের মনোরম সৈকত, বা বোর্নিওর রেইনফরেস্ট

— এই দেশ আপনাকে দেবে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এখানকার মুখরোচক খাবার, উষ্ণ পরিবেশ,

আর আধুনিক শহরের সাথে ঘন বনের সহাবস্থান মালয়েশিয়াকে এক দারুণ পর্যটন কেন্দ্র করে

তুলেছে। এটি সত্যিই এক সংমিশ্রিত সংস্কৃতির দেশ।

মালয়েশিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

মালয়েশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি জনপ্রিয় গন্তব্য, যা তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক শহর এবং বিশ্বমানের আকর্ষণগুলোর জন্য পরিচিত। কুয়ালালামপুরের আইকনিক পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার্স (Petronas Twin Towers), লংকাউইয়ের (Langkawi) মনোরম দ্বীপপুঞ্জ, ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের (Cameron Highlands) সবুজে ঘেরা চা বাগান এবং ঐতিহাসিক মালাক্কার (Malacca) ঔপনিবেশিক স্থাপত্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। মালয়েশিয়া সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা আধুনিকতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। মালয়েশিয়া সাধারণত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা উইদাউট রেফারেন্স (Visa Without Reference - VWR) সুবিধা প্রদান করে।


১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)

মালয়েশিয়ার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ই-ভিসা (e-Visa):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা ইত্যাদি।

    • যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা অনলাইনে ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

    • এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry) ভিসা।

    • সুবিধা: ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ অনলাইনে হয়, যার ফলে দূতাবাসে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ভিসার প্রিন্টআউট নিয়ে ভ্রমণ করা যায়।

    • দ্রষ্টব্য: ই-ভিসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী পূরণ করতে হয়, যেমন নিশ্চিত হোটেল বুকিং, ফিরতি টিকিট এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সচ্ছলতা।

  • ভিসা উইদাউট রেফারেন্স (Visa Without Reference - VWR):

    • উদ্দেশ্য: পর্যটন, ব্যবসা, বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

    • যোগ্যতা: বাংলাদেশের নাগরিকরা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

    • এন্ট্রি: এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry) ভিসা।

    • সুবিধা: এই ভিসা সরাসরি দূতাবাসে আবেদন করে পাওয়া যায় এবং এটি ই-ভিসা পাওয়ার যোগ্য না হলে বা ই-ভিসার চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদ বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার প্রয়োজন হলে বিবেচনা করা যেতে পারে (যদিও পর্যটন ভিসার জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি বিরল)।


২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)

বাংলাদেশের নাগরিকরা মালয়েশিয়ার ই-ভিসা অথবা প্রচলিত ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

ক. ই-ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া:

  • ধাপ ১: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ:

    • মালয়েশিয়ার ই-ভিসা ওয়েবসাইটে (সাধারণত https://www.windowmalaysia.my/) প্রবেশ করুন। এই ওয়েবসাইটটি সরকার অনুমোদিত এবং ই-ভিসা আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

  • ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং লগইন:

    • যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এরপর আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

  • ধাপ ৩: আবেদন ফরম পূরণ:

    • সতর্কতার সাথে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন।

  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:

    • সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পেজ, ফেরত বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট, হোটেল রিজার্ভেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে আপলোড করুন। নিশ্চিত করুন যে ছবি এবং নথির মান ভালো এবং সুস্পষ্ট।

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • অনলাইনে ভিসা ফি পরিশোধ করুন। ফি সাধারণত ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

    • ই-ভিসা ফি (আনুমানিক): প্রায় ৩০-৪০ মার্কিন ডলার (প্রসেসিং ফি সহ)।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা এবং প্রক্রিয়াকরণ:

    • আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনি একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন। ই-ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সাধারণত ২-৫ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

  • ধাপ ৭: ই-ভিসা প্রিন্টআউট:

    • ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনি ই-মেইলের মাধ্যমে ই-ভিসার একটি কপি পাবেন। এটি প্রিন্ট করে আপনার ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখুন।

খ. প্রচলিত ভিসা (VWR) আবেদন প্রক্রিয়া (মালয়েশিয়ান হাইকমিশন, ঢাকা):

  • ধাপ ১: হাইকমিশনের ওয়েবসাইট/এজেন্টের সাথে যোগাযোগ:

    • মালয়েশিয়ার ঢাকার হাইকমিশনের ওয়েবসাইট (https://www.kln.gov.my/web/bgd_dhaka/home) অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট (যেমন ভিএফএস গ্লোবাল) এর মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করুন।

  • ধাপ ২: আবেদন ফরম সংগ্রহ ও পূরণ:

    • সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে ভিসা আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন অথবা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টার থেকে সংগ্রহ করে নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:

    • আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে অথবা ইংরেজি অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।

  • ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • ভিসার ফি ভিসার ধরন এবং মেয়াদের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ফি সাধারণত দূতাবাসের নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হয়।

    • VWR ভিসা ফি (আনুমানিক): প্রায় ৯,০০০ - ১০,০০০ টাকা (একক প্রবেশ)।

  • ধাপ ৫: ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট (যদি প্রয়োজন হয়):

    • কিছু ক্ষেত্রে, হাইকমিশন বা ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার প্রয়োজন হতে পারে।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া:

    • নির্ধারিত সময়ে সকল মূল নথি এবং তাদের ফটোকপি সহ হাইকমিশনে বা ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিন

  • ধাপ ৭: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):

    • দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারেন।

  • ধাপ ৮: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:

    • প্রচলিত ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৭-১৪ কার্যদিবস সময় নিতে পারে।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হবে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানো হবে।


৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)

মালয়েশিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ মালয়েশিয়া থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।

    • সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।

  • পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফরম:

    • যথযথভাবে পূরণ করা ও স্বাক্ষর করা ফরম।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, ম্যাট ফিনিশ, ৩৫x৫০ মিমি)।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ, এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • মালয়েশিয়া থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি মালয়েশিয়াতে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Letter of Invitation) তার পরিচয়পত্রের কপি, এবং তার ঠিকানার প্রমাণ। আমন্ত্রণপত্রে আপনার থাকা ও খরচের বিবরণ থাকতে হবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা মালয়েশিয়াতে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

    • ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:

    • আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

    • জমির দলিল বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির প্রমাণ।

    • বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করার প্রয়োজন হতে পারে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।


৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস/ভিএফএস গ্লোবাল)

বাংলাদেশের নাগরিকরা মালয়েশিয়ার ভিসার জন্য সরাসরি ঢাকার মালয়েশিয়ান হাইকমিশনে অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

  • মালয়েশিয়ার হাইকমিশন, ঢাকা (High Commission of Malaysia in Dhaka):

    • ঠিকানা: হাউস ১৯, রোড ৬, গুলশান ১, ঢাকা ১২১২, বাংলাদেশ।

    • ফোন: (+880) 2 5881 9050, (+880) 2 5881 9051

    • ই-মেইল: mwdhaka@kln.gov.my (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.kln.gov.my/web/bgd_dhaka/home (এখানে ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যাবে)।

  • ভিএফএস গ্লোবাল, ঢাকা (VFS Global, Dhaka):

    • মালয়েশিয়ার ভিসা আবেদনের জন্য ভিএফএস গ্লোবালকে তাদের অনুমোদিত অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে।

    • ঠিকানা: যমুনা ফিউচার পার্ক, ক-২৪৪, প্রগতি সরণি, বারিধারা, ঢাকা ১২২৯, বাংলাদেশ। (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.vfsglobal.com/malaysia/bangladesh/


৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন

যদি কোনো কারণে বাংলাদেশের নাগরিকরা ঢাকা থেকে আবেদন করতে না পারেন, তবে তারা পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে আবেদন করতে পারেন, যেমন:

  • মালয়েশিয়ার হাইকমিশন, নয়াদিল্লি, ভারত (High Commission of Malaysia in New Delhi, India):

    • ঠিকানা: 50-M, Satya Marg, Chanakyapuri, New Delhi 110021, India.

    • ফোন: +91 11 2611 1297 / +91 11 2611 1298

    • ই-মেইল: mwdelhi@kln.gov.my (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।

    • ওয়েবসাইট: https://www.kln.gov.my/web/ind_new-delhi/home

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: অন্য দেশ থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।


৬. ই-ভিসা (e-Visa)

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে, যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প, কারণ এতে সশরীরে দূতাবাসে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং প্রক্রিয়াকরণের সময়ও কম লাগে।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা তাদের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট ভিএফএস গ্লোবালের ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com 

www.grameentour.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...