নাইজেরিয়া: আফ্রিকার প্রাণবন্ত হৃদয়
নাইজেরিয়া, পশ্চিম আফ্রিকার এক প্রাণবন্ত এবং বিশাল দেশ, যা তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি,
বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী এবং আধুনিক শহরের জন্য পরিচিত। লাগোসের ব্যস্ত জীবন থেকে ওসুন-
ওসোগবো পবিত্র বন, এই দেশ আপনাকে দেবে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এখানকার ঐতিহ্যবাহী
সঙ্গীত, শিল্পকলা এবং উষ্ণ আতিথেয়তা নাইজেরিয়াকে এক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করে
তুলেছে। এটি সত্যিই আফ্রিকার এক সাংস্কৃতিক শক্তি।
নাইজেরিয়ার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা
নাইজেরিয়া, পশ্চিম আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ, যা তার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক সাম্রাজ্যের অবশেষ, বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বৈচিত্র্যময় ভূ-দৃশ্যের জন্য পরিচিত। লেগোসের (Lagos) ব্যস্ত মহানগরী, ওসুন-ওসোগবো স্যাক্রেড গ্রোভ (Osun-Osogbo Sacred Grove) এর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, ইবাদানের (Ibadan) ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং নাইজার নদীর (Niger River) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। এটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা আফ্রিকার একটি গতিশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ গন্তব্যে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। তবে, নাইজেরিয়ায় ভ্রমণ করার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ কিছু অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নাইজেরিয়া ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। নাইজেরিয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা-অন-অ্যারাইভাল বা ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে না। ভিসা আবেদন সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশন-এর মাধ্যমে জমা দিতে হয়, কারণ বাংলাদেশে নাইজেরিয়ার কোনো দূতাবাস নেই।
১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য)
নাইজেরিয়ার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
স্বল্প-মেয়াদী ভিসা (Short-Stay Visa / Tourist Visa):
উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ইত্যাদি।
মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি সিঙ্গেল এন্ট্রি (Single Entry) ভিসা হতে পারে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার জন্য বিশেষ কারণ দেখাতে হতে পারে।
বিশেষ বিবেচনা: পর্যটন ভিসায় নাইজেরিয়াতে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।
২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)
বাংলাদেশে নাইজেরিয়ার কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকরা নাইজেরিয়ার ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশন-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নাইজেরিয়ার ভিসা নীতি এবং যোগাযোগের বিবরণ প্রায়শই পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা আবশ্যক।
সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ হতে পারে:
ধাপ ১: হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহ:
ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশনের (High Commission of Nigeria in New Delhi, India) সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সর্বশেষ ভিসা নীতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। তাদের ওয়েবসাইট বা ফোন নম্বরের মাধ্যমে এই তথ্য পেতে পারেন।
ধাপ ২: অনলাইন আবেদন ও ফরম পূরণ:
নাইজেরিয়ার ভিসার জন্য সাধারণত নাইজেরিয়ান ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (Nigeria Immigration Service - NIS) অনলাইন পোর্টালে (যেমন:
) গিয়ে আবেদন শুরু করতে হয়। আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।https://portal.immigration.gov.ng/
ধাপ ৩: ভিসা ফি পরিশোধ:
অনলাইন পোর্টালে ভিসা ফি পরিশোধ করতে হয়, যা সাধারণত ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সম্ভব। ফি মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়।
আনুমানিক ভিসা ফি (USD): প্রায় $৩৫ - $১০০ মার্কিন ডলার।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত:
আপনার ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী সকল আবশ্যকীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)। সকল নথি অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে অথবা ইংরেজি অনুবাদ সহকারে জমা দিতে হবে।
ধাপ ৫: আবেদন জমা দেওয়া (হাইকমিশন/ভিএফএস গ্লোবাল):
অনলাইন আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার এবং ফি পরিশোধ করার পর, আপনাকে একটি রেফারেন্স নম্বর বা স্লিপ দেওয়া হবে। এরপর আপনাকে সাধারণত আপনার পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় মূল নথি সহ ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশনে অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র (যদি থাকে, যেমন ভিএফএস গ্লোবাল) সশরীরে উপস্থিত হয়ে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে জমা দিতে হতে পারে। নিশ্চিত হোন যে কোন প্রক্রিয়ায় আপনার আবেদন জমা দিতে হবে।
ধাপ ৬: সাক্ষাৎকার (যদি প্রয়োজন হয়):
হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে। এই ক্ষেত্রে, আপনাকে ভারতে ভ্রমণ করতে হতে পারে।
ধাপ ৭: ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়:
ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৫-১৫ কার্যদিবস বা তার বেশি সময় নিতে পারে, কারণ আবেদনগুলি দূর থেকে পরিচালিত হয় এবং অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
ধাপ ৮: পাসপোর্ট সংগ্রহ:
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে পাসপোর্ট ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে (সাধারণত কুরিয়ারের মাধ্যমে)।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা)
নাইজেরিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:
বৈধ পাসপোর্ট:
মূল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ নাইজেরিয়া থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার ফটোকপি।
সকল পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
পূরণকৃত অনলাইন ভিসা আবেদন ফরমের প্রিন্টআউট:
নাইজেরিয়ান ইমিগ্রেশন সার্ভিস অনলাইন পোর্টাল থেকে পূরণকৃত ও প্রিন্ট করা ফরম।
পাসপোর্ট আকারের ছবি:
সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)।
কভারিং লেটার:
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আবেদনকারীর নাম, পদবী, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের উদ্দেশ্য (পর্যটন/পরিবার দর্শন), ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) এবং ভ্রমণপথের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ থাকবে। এটি "To the High Commission of Nigeria, Visa Section" কে সম্বোধন করে লিখতে হবে।
ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:
নাইজেরিয়া থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট। (বুকিং কপি)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আবাসনের প্রমাণ:
হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।
যদি নাইজেরিয়াতে কোনো ব্যক্তি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) যেখানে আপনার থাকার ঠিকানা, উদ্দেশ্য এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, আইডি/রেসিডেন্ট কার্ডের কপি) উল্লেখ থাকবে।
আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:
গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা নাইজেরিয়াতে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।
ব্যাংক কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর করা হতে হবে।
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট, ট্রাভেলার্স চেক, বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ।
যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যেমন তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট), তার পরিচয়পত্রের কপি।
পেশার প্রমাণ:
চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৩-৬ মাসের বেতন স্লিপ।
ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ, ভিজিটিং কার্ড।
শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC)।
অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম নিবন্ধন সনদ:
আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ফটোকপি।
হলুদ জ্বরের টিকা সনদ (Yellow Fever Vaccination Certificate):
আফ্রিকার অনেক দেশের মতো, নাইজেরিয়াতে প্রবেশের জন্য হলুদ জ্বরের টিকা সনদ বাধ্যতামূলক। ভ্রমণের আগে এটি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
অন্যান্য সহায়ক নথি (যদি প্রয়োজন হয়):
বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে)।
বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary) - প্রতিদিনের কার্যকলাপের বিবরণ।
নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। সকল ফটোকপির মান ভালো হতে হবে।
৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস)
বর্তমানে বাংলাদেশে নাইজেরিয়ার কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।
৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন
যেহেতু বাংলাদেশে নাইজেরিয়ার কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকরা নাইজেরিয়ার ভিসার জন্য সাধারণত ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশন-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
নাইজেরিয়ার হাই কমিশন, নয়াদিল্লি, ভারত (High Commission of the Federal Republic of Nigeria in New Delhi, India):
ঠিকানা: 10, Satya Marg, Vasant Vihar, New Delhi 110057, India.
ফোন: +91 11 2611 6021 / +91 11 2611 6022
ই-মেইল: (যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক)।
ওয়েবসাইট: (সরাসরি নিজস্ব ওয়েবসাইট নাও থাকতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তালিকা বা নাইজেরিয়ান ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যেতে পারে)।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নয়াদিল্লি হাইকমিশন থেকে আবেদন করার আগে, সরাসরি তাদের সাথে ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান নিয়মাবলী, আবেদন প্রক্রিয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। যেহেতু দূর থেকে আবেদন করা হবে, তাই কুরিয়ার বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও নথি পাঠানো এবং ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
৬. ই-ভিসা (e-Visa) এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival)
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নাইজেরিয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো সম্পূর্ণ ই-ভিসা (e-Visa) বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল (Visa-on-Arrival) সুবিধা প্রদান করে না। যদিও ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করা হয়, তবে চূড়ান্ত ভিসা পেতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনে (যেমন নয়াদিল্লি হাইকমিশন) পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয় এবং পাসপোর্টে স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি "ই-ভিসা" বা "সহজ নাইজেরিয়া ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় নাইজেরিয়ান ইমিগ্রেশন সার্ভিস এবং তাদের অফিসিয়াল উৎসের উপর নির্ভর করুন। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সম্মানিত পাঠক, ভিসা আবেদন করার সময় নাইজেরিয়ান ইমিগ্রেশন সার্ভিস এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নাইজেরিয়ার হাইকমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। যেহেতু দূর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, তাই পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে আবেদন করা এবং সকল নথি নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাইজেরিয়াতে ভ্রমণের পূর্বে সেদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভ্রমণ সতর্কতা (Travel Advisory) সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন