কিরগিজস্তান মধ্য এশিয়ার পূর্বভাগের একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম কিরগিজ প্রজাতন্ত্র (Кыргыз Республикасы কেরগেজ রেস্পুব্লিকাসে)। এর উত্তরে কাজাখস্তান, পূর্বে গণচীন, দক্ষিণে গণচীন ও তাজিকিস্তান এবং পশ্চিমে উজবেকিস্তান। বিশকেক শহর দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
কিরগিজরা একটি মুসলিম তুর্কীয় জাতি যারা কিরগিজ নামের একটি তুর্কীয় ভাষাতে কথা বলে। এরা কিরগিজিস্তানের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ গঠন করেছে। উজবেক ও রুশ জাতির লোকেরা এখানকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ১৯শ শতকের শেষের দিকে কিরগিজিস্তান রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। ১৯২৪ সালে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পায়। ১৯৩৬ সালে এটিকে একটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি তখন কিরগিজিয়া নামেও পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯৩ সালে নতুন সংবিধান পাস করে।
রাজনীতি
কিরগিজিস্তানের রাজনীতি একটি অর্ধ-রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত।
প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ
ভূগোল
অর্থনীতি
সুউচ্চ পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতি কিরগিজিস্তানের পরিবহন ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। কিরগিজিস্তানের সড়কগুলি খাড়া পাহাড়ী ঢাল বেয়ে সর্পিলাকারে উঠে নেমে চলে গেছে। অনেকসময় এগুলিকে সমুদ্র সমতল থেকে ৩০০০ মিটার উঁচু গিরিপিথের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাস্তাগুলি প্রায়ই ভূমি-ধ্বস এবং হিমানী সম্প্রপাতের শিকার হয়। শীতকালে উচ্চ উচ্চতার দূরবর্তী অঞ্চলগুলিতে ভ্রমণ অত্যন্ত দুঃসাধ্য। আরেকটি সমস্যা হল সোভিয়েত আমলে নির্মিত বেশির ভাগ সড়কগুলির মধ্য দিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত চলে গেছে, ফলে এসমস্ত সড়কে সীমান্ত প্রোটোকলগুলি মেনে চলতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়। কিরগিজিস্তানে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে এখনও ঘোড়া ব্যবহৃত হয়।
জনসংখ্যা
জনসংখ্যা: ৬২,০১,৯১২ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব: ২৭ জন/ বর্গ কিমি। মোট জনসংখ্যার ৮৩% মুসলিম এবং বেশিরভাগ সুন্নি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী অর্থডক্স খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও ইহুদি। [৫]
ভাষা
কিরগিজ ভাষা কিরগিজিস্তানের সরকারি ভাষা। এই ভাষাতে কিরগিজিস্তানের অর্ধেকের বেশি লোক কথা বলেন। প্রায় ১৬% লোক রুশ ভাষাতে কথা বলেন। এখানে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার মধ্যে আছে উজবেক ভাষা, চীনা ভাষা, মঙ্গোলীয় ভাষা ও উইগুর ভাষা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন