শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

চেক প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত দেশটা ইতিহাসে খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল।

 বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত দেশটা ইতিহাসে খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। এই ভূখণ্ড বিভিন্ন সময়ে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং অনেক বিচিত্র নামে পরিচিত হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান রাজতন্ত্রের পতনের পূর্ব পর্যন্ত এটা বোহেমিয়ান রাজশক্তির ভূখণ্ড রূপে সেই সাম্রাজ্যের একটা রাষ্ট্রীয় উপাদান হিসেবে বোহেমিয়ার রাজত্ব গড়ে উঠেছিল: (চেক ভাষায়: 'ক্রালোভস্তভি ইস্কি', 'বোহেমিয়া' শব্দটা এসেছে চেচি লাতিন শব্দ থেকে)।


১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে মোহকের যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই ভূখণ্ড পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের ভিতর একটা স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। ওই যুদ্ধের পরবর্তীকালে বোহেমিয়ান রাজশক্তির ভূখণ্ডগুলো অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং পূর্বোল্লিখিত অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান রাজতন্ত্রে মিশে গিয়েছিল।


সাম্রাজ্যের পতনের পর ভূখণ্ডগুলো চেক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, এবং প্রথম চেকোস্লোভাক প্রজাতন্ত্রের উত্থান ঘটে, যখন বোহেমিয়া শব্দ (চেক: Čechy), বলতে বোঝায় পূর্ব রাজত্বের মূল অঞ্চল; তখন মোরাভিয়া এবং চেক সাইলেসিয়া (ঐতিহাসিকভাবে, বোহেমিয়ান রাজশক্তির অন্য দুটো মূল অঞ্চল) অঞ্চলের মানুষের আর এটা গ্রহণযোগ্য মনে হয়না। এই তিনটে অবিচ্ছেদ্য চেক ভূখণ্ডই (বোহেমিয়া, মোরাভিয়া এবং চেক সাইলেসিয়া) বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের সীমানা গঠন করেছে।


ইতিহাসের মাধ্যমে সময়কাল


পুরোনো প্রস্তর যুগ (বর্তমানের আগে ২৫০,০০০ - ৩০০,০০০) পর্যন্ত মানুষেরা এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। অ্যাকিউলিয়ান, মাইকোয়েন, মউস্টারিয়ান এবং অরিগন্যাসিয়ান সহ অনেক পুরোনো প্রস্তর যুগের সংস্কৃতির এখানে স্থাপনা হয়ছিল। বনোর নিকটবর্তী ক্রো-ম্যাগনন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ২৪,০০০ এবং ২৭,০০০-এর মাঝামাঝি সময়ের পুরোনো। [১][১][২] এখানে পাওয়া মূর্তিগুলো (ডলনি ভোস্টোনিসের ভেনাস) বিশ্বের প্রাচীনতম মাটির জিনিস বলে জানা গিয়েজিল।


আদি উপজাতিসমূহ

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত এবং প্রথম শতক থেকে বিভিন্ন জার্মান উপজাতি ( মার্কোমনি, কাদি, লম্বার্ড) এবং সেল্ট নৃগোষ্ঠী এই ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করেছিল (বোই বলা হোত যাকে, তিনি জায়গাটার নাম দিয়েছিলেন বোহেমিয়া, যার কমবেশি অর্থ হল 'বোইয়ের বাড়ি')[৩] দ্বিতীয় শতকে টলেমায়োসের মানচিত্রে জার্মান শহরগুলোর যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেমন, জিহ্লাভার জন্য করিডরগিস। পঞ্চম শতকে এই উপজাতিগুলো পশ্চিম দিকে স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্লাভরা এসেছিল। 


স্লাভদের আগমন

ষষ্ঠ শতকে প্রথম স্লাভিক জনতার (বোহেমিয়া এবং মোরাভিয়ার মোরাভীয় চেক উপজাতিগুলো) এখানে আগমন ঘটেছিল। ঐতিহাসিক দুসান ত্রেস্তিকের মতে, তারা মোরাভীয় গেট (মোরাভস্কা ব্রানা ) উপত্যকা দিয়ে অগ্রসর হয়েছিল এবং ৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব বোহেমিয়ায় লাবে (লাবে) এবং ভ্লতাভা (মোল্দাউ) নদীর তীর বরাবর কেন্দ্রীয় বোহেমিয়ায় চলে গিয়েছিল। সপ্তম শতকের প্রথমার্ধের সময়কালে দক্ষিণ দিক থেকে আসা স্লাভদের আসা তরঙ্গের তত্ত্বকে অনেক ঐতিহাসিক সমর্থন করেন। সামো সাম্রাজ্যের উত্থানের পূর্ব পর্যন্ত তারা প্রতিবেশী আভারদের সঙ্গে লড়াই করেছিল (নিচে দেখুন)।[৫]


সামোর রাজত্ব

ক্রনিকল অব ফ্রেডেগার মোতবেক যেখানে কিছু সংখ্যক স্লাভ বাস করে সেটা এখন চেক অঞ্চল, প্রধানত দক্ষিণ মোরাভিয়ায় এটা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল যে, অনেক বছর ধরে আভাররা হিংসা এবং লুঠেরা হানাদারি চালিয়েছিল, যাদের সাম্রাজ্য এখনকার দিনের হাঙ্গেরি অঞ্চল জুড়ে প্রসারিত। ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে স্লাভিক উপজাতিরা আভারদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছিল। অভিযোগ আছে যে, এই সময়কালে ফ্র্যাঙ্কিশ বণিক সামো তার পারিপার্শ্বিকদের নিয়ে চেক ভূখণ্ডে এসে আভারদের পরাজিত করার জন্য স্লাভদের সহযোগ দিয়েছিল। এইরূপে, স্লাভরা সামোকে তাদের শাসকরূপে গ্রহণ করেছিল। 'সুতরাং এটা ঘটেছিল যে, তিনি প্রথম স্লাভিক সাম্রাজ্যের স্ব-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সেই সময়ের বারোজন স্লাভিক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁদের বাইশ জন পুত্র এবং পনেরো জন কন্যা ছিল এবং তিনি ৩৫ বছর সুখে রাজত্ব করেছিলেন। অন্যান্য যে সমস্ত লড়াই স্লাভরা আভারদের সঙ্গে লড়েছিলেন সেগুলো ছিল বিজয়পূর্ণ,' ফ্র্যাঙ্কিশ কাহিনিকার রেইচ (ফ্রেডেগার বলা হোত) সামোকে নিয়ে স্লাভদের দ্বারা চেক ভূখণ্ডগুলোতে প্রাচীনতম বিদ্যমান লিখিত প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখেছিলেন।


ফ্রাঙ্কিশ শাসক প্রথম ডাগোবার্ট তার শাসনক্ষেত্র পূর্ব দিকে বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন, ফলে পরবর্তীকালে সামো এবং স্লাভরা ওই সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে ওগাস্টিসবার্গের স্মরণীয় যুদ্ধে ডাগোবার্ট পরাজিত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকরা আজ পর্যন্ত এই কেল্লার প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করার জন্যে বৃথা অনুসন্ধান করছেন। পরবর্তী পাঁচ বছরে সামো এবং স্লাভরা ফ্র্যাঙ্কিশ অঞ্চলে হানাদারির কাজ চালিয়েছিল, কিন্তু এটা কেউ জানে না যে, উত্তর-পূর্ব দিকে বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত ছাড়িয়ে ঠিক কতটা ভূখণ্ডে সামোর শাসনক্ষেত্র শেষ পর্যন্ত বিস্তারলাভ করেছিল। সামোর মৃত্যুর পরে, তাঁর সাম্রাজ্য হারিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করা হয়; বাস্তবিক পক্ষে, যাইহোক, সেখানে সুদৃঢ় সংগঠনসহ প্রকৃত রাষ্ট্র কাঠামো কখনোই ছিলনা। এই সাম্রাজ্যটা তৈরি করা হয়েছিল আভার ও ফ্রাঙ্কদের বিরুদ্ধে স্লাভদের একজোট হয়ে রক্ষা করা এবং স্লাভরা যাতে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে লুণ্ঠন অভিযান করতে পারে তা সহজতর করা। একদা আভর এবং ফ্রাঙ্কিশদের দিক থেকে আগত বিপদ কেটে গেলে, সংযুক্ত সাম্রাজ্য ছন্নছাড়া হয়ে যায় এবং সামোর বিভিন্ন অনুগামী দ্বারা খণ্ডিত অঞ্চলগুলি শাসিত হতে থাকে। এই অবশিষ্ট অঞ্চলগুলো তাদের পরবর্তী বিকাশ জারি রেখেছিল এবং ভবিষ্যতের মহান মোরাভিয়ান সাম্রাজ্যের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছিল।


মহান মোরাভিয়া

চেকদের পূর্বসূরি, সার্ব (ইংরেজি সর্বস), স্লোভাক ও পোলদের দ্বারা পত্তন করা একটি স্লাভিক রাষ্ট্র মহান মোরাভিয়া, এবং এর মূল অঞ্চলটি মোরাভা নদীর দুই তীরে অবস্থিত।

বোহেমিয়ার দুচি নবম শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দে একটি রাজত্বে উন্নীত হয়েছিল। এটি তার স্বর্ণময় যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে দেশটা অধিকতম আঞ্চলিক সীমানায় উপনীত হয়েছিল।


দ্বিতীয় ফার্দিনান্দ, যাঁর শাসনকাল ছিল ১৬১৯-১৬৩৭, তিনি সূক্ষ্মভাবে 'বোহেমিয়ান এস্টেটস' নামে পরিচিত প্রোটেস্ট্যান্ট প্রতিনিধি সমাবেশের প্রবল ক্ষমতা প্রতিহত করেছিলেন। তিনি প্রোটেস্ট্যান্ট আভিজাতদের জমি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন এবং সেগুলো তাঁর ক্যাথলিক বন্ধুদের এবং তাঁরই নিয়োজিত বিদেশি ভাড়াটে সৈন্যদের নেতৃত্বদানকারী সেনানায়কদের দিয়েছিলেন।[৬]


চেকোস্লোভাকিয়া

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে চেকোস্লোভাক প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়েছিল, তার পরই বোহেমিয়ার রাজত্ব সরকারিভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল,[৭] বোহেমিয়ান রাজশক্তি, স্লোভাকিয়া এবং কার্পাথিয়ান রুথেনিয়ার ভূখণ্ডগুলো একসঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। চেকোস্লোভাকিয়া ডাব্লুডাব্লু 2 এর আগে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের একমাত্র গণতন্ত্র হিসেবে রয়ে গিয়েছে।


দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র / দখল

চেকোস্লোভাকিয়া দখল এবং নাৎসি জার্মানির পতনের পর চেক ভূমি থেকে বৃহৎ সংখ্যক জার্মান জনগণকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জাতিগতভাবে চেক এবং স্লোভাকদের আধিপত্য নিয়ে এই চেকোস্লোভাকরা বর্তমানে তাদের দেশগঠনে প্রায় সমজাতীয় হয়ে উঠেছিল।

চেক প্রজাতন্ত্র

ভেলভেট বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি, যখন থেকে পূর্ববর্তী চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাক রিপাবলিক দুটো আলাদা রাষ্ট্রের পত্তন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে চেক প্রজাতন্ত্র ন্যাটো সংস্থার সদস্য এবং ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...