শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

বুরুন্ডি



বুরুন্ডি

বুরুন্ডি পূর্ব আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। এর উত্তরে রুয়ান্ডা, পূর্বে ও দক্ষিণে তানজানিয়া, পশ্চিমে তাংগানিকা হ্রদ ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। দেশটির রাজধানী গিতেগা। আফ্রিকার ছোট দেশগুলোর মধ্যে বুরুন্ডি অন্যতম।


 এলাকাটি অতীতে গোত্র রাজারা শাসন করত। ১৯শ শতকের শেষে এসে জার্মানি অঞ্চলটি দখল করে উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত এটি প্রথমে জার্মান ও পরবর্তীতে বেলজীয় উপনিবেশ ছিল। বুজুম্বুরা (Bujumbura) রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

টুইক, হুতু ও টুটসী জাতির লোকেরা বুরুন্ডির আদি অধিবাসী। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে বুরুন্ডি একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। এলাকাটি অতীতে গোত্র রাজারা শাসন করত। ১৯ শ শতকের শেষে এসে জার্মানি অঞ্চলটি দখল করে উপনিবেশ স্থাপন করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বেলজিয়াম বুরুন্ডি অধিকার করে। জার্মান ও বেলজিয়ান উপনিবেশ থাকাকালীন সময়ে বুরুন্ডি এবং রোয়ান্ডা ইউরোপীয় কলোনী হিসেবে উরুন্ডি-রোয়ান্ডা নামে পরিচিত ছিল।

১৯৬২ সালে বুরুন্ডি স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭০ এর দশক এবং ১৯৯০ এর দশকে দেশটি দুটি গৃহযুদ্ধ ও গণহত্যার মুখোমুখি হয়। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট পিয়েরে নাকুনুজা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে বুরুন্ডিতে একটি রাজনৈতিক দাঙ্গা শুরু হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যো বুরুন্ডি একটি। দেশটির অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অধিক জনসংখ্যার কারণে দেশটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের অবস্থা খুবই নাজুক।

১২ বছর ধরে চলা জাতিগত গৃহযুদ্ধ বের হয়ে আসার সংগ্রাম করছে দেশটি। ২০১৮ সালে বিশ্বের সুখী দেশগুলোর তালিকায় ১৫৬ টি দেশের মধ্যে বুরুন্ডির অবস্থান একেবারে তলানিতে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ কমিটি গঠন করে। এ কমিটি গঠনে বিপক্ষে ভোট দেয়া ৩ টি দেশের মধ্যে একটি হলো বুরুন্ডি। অন্য দুটি দেশ হলো চীন ও ফিলিপাইন।

এক নজরে বুরুন্ডি:

সরকারি নাম: বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্র।
রাজধানী: গিতেগা।
স্বাধীনতা ঘোষণা: ১ জুলাই, ১৯৬২।
আইনসভা: পার্লামেন্ট।
উচ্চকক্ষ: সিনেট।
নিম্নকক্ষ: ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলী।
আয়তন: ২৭,৮১৬ বর্গ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা: ১০,১৭৮,৯২১,জন (প্রায়)।

ঘনত্ব: প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৬৫ জন।
মুদ্রা: বুরুন্ডিয়ান ফ্রাংক।
প্রধান ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম।
প্রধান ভাষা: কিরুন্ডি।
জাতিসংঘে যোগদান: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২। 

আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যভাগে ও গ্রেট আফ্রিকান জলরাশির (Great African Lakes) ধারে অবস্থিত একটি ছোট্ট দেশ বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্র (Burundi)। উত্তরে রুয়ান্ডা, পূর্ব-দক্ষিণে তানজানিয়া ও পশ্চিমে কিছুটা কঙ্গোর সীমানা বিস্তৃত। বাকি অংশজুড়ে রয়েছে তাঙ্গানিকা জলাধার (Lake Tanganyika)। দেশের আয়তন প্রায় ২৭ হাজার ৮৩০ কিলোমিটার। রাষ্ট্রীয় ভাষা কিরোন্দি ও ফ্রেঞ্চ। বুরুন্ডির রাজধানী ও প্রধান শহর বাজুম্বুরা। মুদ্রার নাম ফ্রাঙ্ক।

১৮৯৭ সালে জার্মানি বর্তমান বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডায় উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৯১৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে বেলজিয়াম দখল করে নেয়। ১৯২৩ সালে রুয়ান্ডাও বেলজিয়ামের দখলে চলে আসে। পরবর্তী সময় ১৯৬২ সালে বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডা আলাদা দুটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

বুরুন্ডির বেশির ভাগ নাগরিক খ্রিস্টান। তবে মুসলমানের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে অনেক। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মতো বুরুন্ডিতেও ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। রয়েছে ধর্মীয় অবস্থান ও আখ্যান।

বুরুন্ডিতে ইসলামের আগমন : পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মুসলিম দাঈ ও ব্যবসায়ীর পথ ধরেই বুরুন্ডিতে ইসলামের আগমন হয়েছে। জেনজিবার শাসনামলে এ অঞ্চলে দাওয়াতের মেহনত প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে। তখনকার বণিক দাঈরা মধ্য-আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে দাওয়াতের মেহনতের জন্য স্বতন্ত্র মারকাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং মুসলিম দাঈদের বিরাট একটি অংশ তানজানিয়ার রাজধানীতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। তারা তানজানিয়া প্রণালিতে নৌকার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজকর্মের জন্য বুরুন্ডির ‘রাওদাহ’ নামক স্থানে অবস্থান গড়ে তোলে। স্থানটি এখন পর্যন্ত বন্দরগাহ নামে প্রসিদ্ধ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানরা সে অঞ্চলের শাসকদের সঙ্গে কিছু চুক্তি করে। এরপর তারা তানজানিয়ার উত্তরাঞ্চলে (আজ বুরুন্ডি নামে বিশ্বদরবারে পরিচিত) ইসলামের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করে। তৎকালীন মুসলিম দাঈদের ইসলাম প্রচারের কার্যক্রম কঙ্গো (পূর্ব নাম জায়ার) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে বেলজিয়াম, জার্মানি ও ব্রিটেন সেখানে উপনিবেশবাদের জাল বিছিয়ে দেয় এবং দাওয়াতের কাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে। উপরন্তু এ অঞ্চল নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। ফলে বুরুন্ডি জার্মানির ভাগে পড়ে এবং সাম্রাজ্যের ছত্রচ্ছায়ায় ইসলামী দাওয়াত ও তাবলিগের বদলে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। ক্রমান্বয়ে খ্রিস্টানরা মুসলমানদের ওপর চড়াও হতে শুরু করে। মুসলমানদের সব ধরনের দাওয়াতি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। (ওসি আহমদ নদভি, বুরুন্ডি মে ইসলাম আওর মুসলমান)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর বেলজিয়াম বুরুন্ডি দখল করে নেয়, তখন এখানকার মুসলমানরা অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। আশপাশের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা, এমনকি দু-তিনজন মুসলমান একসঙ্গে হওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মুসলমানদের নিজস্ব জায়গাগুলো জোরপূর্বক দখল করে খ্রিস্টান মিশনারিকে দিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষাক্ষেত্রেও মুসলমানরা বিভিন্ন ধরাবাঁধার শিকার হয়। তাদের সন্তানদের খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হয়। কিন্তু মুসলমানরা নিজেদের ছেলে-মেয়েদের খ্রিস্টান মিশনারির আওতাধীন পরিচালিত স্কুলে পাঠাতে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে এবং খ্রিস্টানদের থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে মানবেতর জীবনযাপনকে প্রাধান্য দেয়। সে কারণে মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা ও দুর্বল হয়ে পড়ে। (পাক্ষিক তামিরে হায়াত, জুলাই ২০১৬ সংখ্যা, লখনউ থেকে প্রকাশিত)

যেসব অঞ্চলে মুসলমানরা বসবাস করে : বুরুন্ডির রাজধানী বুজুম্বুরায় মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে থাকে। অন্যদিকে বুরুন্ডির ‘হুতু’ অঞ্চলে মুসলমানের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে চলছে। ‘হুতু’ বুরুন্ডির সবচেয়ে বড় অঞ্চল। যার চার ভাগের এক ভাগ মুসলমানদের। এ ছাড়া বুরুন্ডির বেশির ভাগ এলাকায় প্রচুরসংখ্যক বাঙালি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় ও আরব মুসলমান বসবাস করে। (সূত্র : আরব এনসাইক্লোপিডিয়া-আল মাওসুআতুল আরাবিয়্যাহ)

বিভিন্ন ইসলামী কর্মতৎপরতা : বুরুন্ডিতে মুসলমানদের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কিছু মুসলিম সংস্থা রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। প্রচুরসংখ্যক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে ‘আল-জামইয়্যাতুল ইসলামিয়্যা’ অন্যতম। এটি ১৯৪৩ সালে বেলজিয়াম উপনিবেশবাদের সময় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংস্থাটি টিকে ছিল। এ ছাড়া ‘আল-জামইয়্যাতুল আফ্রিকিয়্যা’, ‘আল-জামইয়্যাতুল আরাবিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ’, ‘জামইয়্যাতুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’র কার্যক্রম বেশ ক্রিয়াশীল। বর্তমানে ‘আর-রাবেতাতুল ইসলামিয়্যা’ও সক্রিয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। (ইসলাম ওয়েব ডটকম)

বুরুন্ডিতে মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র  : রাজধানী বুজুম্বুরায় সাতটি মসজিদ রয়েছে। তার মধ্যে একটি বিশালায়তনের। এ ছাড়া মুসলিম এলাকাগুলোতে মসজিদের উপস্থিতি রয়েছে।

বুরুন্ডির মুসলমানরা ছেলেসন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য বেশ কিছু মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। ‘মাদরাসাতুত তাওহিদ’ নামে রাজধানী বুজুম্বুরায় বড়সড় একটি প্রাইভেট মাদরাসা রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা বুজুম্বুরার প্রধান মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ ইয়াহইয়া। রাজধানীতে আরো কিছু মাদরাসা আছে। কিছুদিন আগে দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাদরাসাগুলো নিজেদের আওতাধীন করে নেয়। ফলে শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন, শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ ও অনূদিত ইসলামী বইগুলোর বেশ প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে রাবেতাতুল আলমিল ইসলামী অনেক সহযোগিতা করেছে। (পাক্ষিক তামিরে হায়াত, জুলাই ২০১৬ সংখ্যা, লখনউ থেকে প্রকাশিত)

বুরুন্ডির মুসলমানদের সব সময় খ্রিস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মিশনারিগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ও বহির্বিশ্ব থেকে বিভিন্ন প্রকারের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে মুসলমানদের তুলনায় তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। বিভিন্ন অসুবিধা ও সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসের ওপর পুরোপুরি অটল। সংগঠন ও মতানৈক্যের আধিক্যও মুসলমানদের ঐক্যব্যবস্থা দুর্বল করে রেখেছে। আবার বংশীয় বৈপরীত্য ও দ্বন্দ্ব বেশ প্রকট।

কয়েকটি সংগঠন মিলে রাজধানীতে একটি ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা আরো অন্যান্য অঞ্চলেও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসলামিক সেন্টারগুলোতে নারীদের শিক্ষা-দীক্ষা, নৈতিকতাচর্চা ও নিন্দনীয় কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন কোর্সের আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বুরুন্ডি ফুটবল দলবঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বুরুন্ডি ফুটবল দলপূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো বেশ অদ্ভুত। এক কোটি মানুষের দেশটির আনাচে-কানাচে ফুটবল চলে। কিন্তু নিজেদের দেশে ফুটবল খেলে সেভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নেই। এমন নিয়মও হয়েছে, ম্যাচ জিতলে খেলোয়াড়েরা পারিশ্রমিক পাবেন। অন্যথায় না! এমন অদ্ভুত নিয়মের বেড়াজালে থেকেও দেশটির ফুটবল কিন্তু এগোচ্ছে। গত বছর তো আফ্রিকান নেশনস কাপেই বুরুন্ডি খেলেছে প্রথমবারের মতো।

বুরুন্ডির ফুটবলে ম্যাচ জিতলে তবেই টাকা!

তাদের ফিফা র‌্যাঙ্কিংও খারাপ নয়, অবস্থান ১৫১তে। যদিও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে তাদের দেখে অনেকের ভ্রু কুঞ্চিত হয়েছে প্রথমটায়। কেমন মানের দল তারা, এ নিয়েই ছিল সংশয়। কিন্তু দুই ম্যাচে সাত গোল দিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে বুরুন্ডি নিজেদের জাত চিনিয়েছে। এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে হুঙ্কারও ছেড়েছে তারা।অথচ এই দলটির খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ফুটবলে আয়-রোজগার বেশ কম। মাসিক ১২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার বেতন পেয়ে থাকেন। ঢাকার টুর্নামেন্টটি কাভার করতে বুরুন্ডি থেকে একজন মাত্র সাংবাদিক এসেছেন, নাম রিজিকি জ্যাকব।

সেখানকার ঈগল স্পোর্টসের কর্মকর্তা এই সাংবাদিক জানান, ‘আমাদের ওখানে অল্প টাকাতেই সবাই খুশি থাকে। কারণ জীবিকা নির্বাহ করতে বেশি টাকার প্রয়োজন পড়ে না। এই ধরুন এক ডলারের এক তৃতীয়াংশ দিয়েই একবেলার ভালো খাবার হয়ে যায়। তাহলেই বুঝে নিন।’

ক্লাব ফুটবলের কাঠামো সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন এই সাংবাদিক, ‘ক্লাব ফুটবলে ম্যাচ জিতলে কেউ পারিশ্রমিক পায়। আবার অনেকে চুক্তি করেও খেলে। সেভাবে পেশাদার লিগ নেই। তবে কয়েকটি স্তরে ফুটবল হয়ে থাকে।’

নিজেদের দেশে খেলার পাশাপাশি দেশের বাইরের লিগে প্রায় শতাধিক খেলোয়াড় খেলে থাকেন। তাদের বড় তারকা একসময় ইংলিশ লিগের স্টোক সিটিতে খেলা ফরোয়ার্ড সাদিও ব্রাহিনো (বর্তমানে বেলজিয়াম লিগে খেলছেন)। যদিও ফিফা উইন্ডো না থাকায় নিয়মিত একাদশের অনেক খেলোয়াড়ই ঢাকায় আসেননি।

জ্যাকবের চোখে বুরুন্ডিতে ঝাঁকে ঝাঁকে খেলোয়াড় উঠে আসছে একাডেমির কারণে, ‘আমাদের ওখানে পাঁচটি মূল একাডেমি আছে। যার বিভিন্ন শাখা আছে বিভিন্ন শহরে। একাডেমি থেকেই আমাদের প্রচুর খেলোয়াড় বেরিয়ে আসছে। এই জসপিনও (চার গোলদাতা) এসেছে একাডেমি থেকে।’

বুরুন্ডি দলের ম্যানেজার ইনতামবাবা মুরুগামবা অবশ্য নিজেদের দেশে পেশাদার লিগ আছে বলে দাবি করছেন, ‘আমাদের ওখানে পেশাদার লিগ আছে। সেখানে ফুটবলাররা চুক্তি করেই খেলে থাকে। আমাদের প্রচুর খেলোয়াড় দেশের বাইরে খেলে। বাংলাদেশেও খেলার যোগ্যতা আছে তাদের। যদি আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা এখানে খেলতে পারে তাহলে এ দেশের ফুটবলই এগিয়ে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...