শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

মালদ্বীপে ইসলাম প্রচার হয়েছিল যেভাবে

 মালদ্বীপের প্রধান বৈশিষ্ট্য - একটি অনন্য ফ্ল্যাট ত্রাণ: কোন পাহাড় নেই, নদী নেই, আর দ্বীপের দ্বীপের কোন দ্বীপটি তিন মিটারের চেয়ে বেশি পানির উপরে উঠে না। 99.66% এর বেশি এই রাজ্যের অঞ্চলের পানি পানির নিচে। প্রতিটি দ্বীপটি গ্র্যান্ড আগ্নেয়গিরির পাহাড়ের শিরোনামগুলির মধ্যে একটি, যার ভিত্তিটি ভারতীয় মহাসাগরের নীচে রয়েছে। কোরাল দ্বীপপুঞ্জের দৈর্ঘ্যটি হল: উত্তর থেকে দক্ষিণে 820 কিলোমিটার এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে 120 কিলোমিটার

দ্বীপপুঞ্জের কোন নদী ও হ্রদ নেই, এবং দেশটি তাজা পানির অভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। জল সরবরাহের উত্সগুলি বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য ওয়েলস এবং ট্যাঙ্ক।


Atollas কম মিথ্যা রিং প্রবাল কাঠামো, অগভীর জল lagows বন্ধ (প্রায় 80% সুশি পৃষ্ঠের উচ্চতা U.M.) এর চেয়ে কম 1 মিটার কম।)। তারা প্রায়ই underwater reefs দ্বারা বেষ্টিত হয়। হোয়াইট স্যান্ডি সৈকত ব্যাপকভাবে হয়।

মালদ্বীপে কোনো মুসলমান ছিল না। ইউসুফ বারবারী মাগরিবি নামে একজন আলেম ছিলেন। পর্যটক হিসেবে মালদ্বীপে এসেছিলেন। যাহাবির (রহ.) ইতিহাসগ্রন্থ তারীখে কাবীরে লেখা আছে এ ঘটনা। মালদ্বীপের নিজস্ব ইতিহাসেও আছে। তিনি যখন সে দেশে প্রবেশ করলেন, এক জায়গায় দেখলেন, কিছু লোক কাঁদছে। মানুষ মারা গেলে যেমন কাঁদে এভাবে কাঁদছে। তিনি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। কী হয়েছে?

 তারা বলল, প্রতি মাসে এ দ্বীপের মাঝে এক বিশাল বড় স্টিমার বের হয়। এটার মধ্যে ভূত থাকে না জিন, জানি না। তারা এসে আমাদের যুবতী মেয়েদের জিনা করে অথবা তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। কেউ বাধা দিলে তাকে মেরে ফেলে। এ কারণে এ দেশের বাদশা নিয়ম করেছে যে, প্রতি মাসে একেক পরিবারের মেয়েকে দিয়ে দিবে, তাহলে নাকি দেশে শান্তি হবে। সে মতে প্রতি মাসে লটারি দেওয়া হয়। যার নাম আসে তার মেয়েকে শ্মশানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 


সেখানে ভূত এসে তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে চলে যায়। আজ লটারিতে আমাদের নাম এসেছে। তাই আমরা কাঁদছি। পর্যটক এ কাহিনী শুনে ভীষণ আশ্চর্যান্বিত হলেন। তিনি আল্লাহওয়ালা ছিলেন। এখনো মুখে দাড়ি ওঠেনি। আমার মনে হয় আগত ঘটনা ঘটানোর জন্যই বোধহয় আল্লাহ মুখে এখনো দাড়ি দেননি। উনি বললেন ঠিক আছে, আমার তো দাড়ি নেই, তোমরা আমাকে মেয়ে সাজিয়ে শ্মশানে রেখে আসবে। পরে যা হওয়ার তাই হবে। 


কথামতো তাই করা হলো। তিনি শ্মশান থেকে রাতের অাঁধারে দেখতে পেলেন বিরাট বড় জাহাজ আসছে। যখন প্রায় কাছাকাছি এসে গেল তিনি তাড়াতাড়ি উঠে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিলেন। যখন একেবারে কাছে এলো তখন খুব জোরে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেন। যখন আরও কাছে এলো তখন আরও জোরে কোরআন পড়তে লাগলেন। পড়ছেন তো পড়ছেনই। হঠাৎ দেখা গেল জাহাজ আর সামনে আসতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত জাহাজ ডুবে ধ্বংস হয়ে গেল। 

সকালে লোকজন গিয়ে দেখল তিনি তেলাওয়াত করছেন। কাছে গিয়ে তারা বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার! কীভাবে আপনি এখনো বেঁচে আছেন? তিনি বললেন, আল্লাহর ফজলে সবকিছু হয়েছে। তোমাদের বিপদ দূর হয়ে গেছে, স্টিমার ডুবে ধ্বংস হয়ে গেছে।


অতঃপর দেশের বাদশার কাছে তার খবর পৌঁছে গেল। বাদশা তার প্রতি যারপরনাই খুশি হলেন। বাদশার নাম ছিল সনুরাজা। এটা ১১৪০ সালের ঘটনা। ইউসুফ বারবারী সুযোগ বুঝে বাদশাকে কালিমার দাওয়াত দিলেন। বাদশার মনে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমাকে এক মাসের সময় দিন। এক মাস পর বাদশা মুসলমান হয়ে গেলেন। তার ইসলাম গ্রহণের কারণে পুরো মালদ্বীপবাসী ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। এরপর আটশ বছর পর্যন্ত মালদ্বীপ ইসলামী রাষ্ট্র ছিল। ওই দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে মক্কার হারাম শরিফে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ইবনে বতুতায় যে ঘটনা উল্লেখ আছে সেটা কি ঠিক? বললেন, হ্যাঁ ঠিক।

এ ঘটনা বলার উদ্দেশ্য হলো, একজন আলেমের অন্তরে কী পরিমাণ দীনি জজবা থাকতে হবে তা স্মরণ করানো। একজন আলেমের উসিলায় লাখো-কোটি মানুষ হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারে। তার নজির এ ঘটনা। আলেমদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে। নতুবা কাজের সুফল পাবে না। আল্লাহপাক বলেন, (তরজমা) 'হে ইমানদারগণ আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত তেমনি ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।'

 মুসলমান কীভাবে হবো? আল্লাহ বলেন, (তরজমা) 'আর তোমরা সবাই আল্লাহর রুজ্জুকে সুদৃঢ়হস্তে ধারণ এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হও আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ।'

কোরআন ও সুন্নতের ভিত্তিতে এক হও। কোরআনকেই আসল বানাতে হবে। অনেকে বলে, হুজুর শুধু সুন্নত সুন্নত করেন, ফরজের কথা তো বলেন না? আরে ভাই একটি সুন্নতের অভাবেই তো উমর (রা.)-এর যুগে কাফেররা দেশ নিয়ে যাচ্ছিল। সুন্নত না থাকলে ফরজও থাকবে না। রসুলুুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে না দেখে শেষ জামানায় আমার একটি সুন্নত আদায় করবে, আমার সাহাবাদের সমান তার সওয়াব হবে। মজলিশে দাওয়াতুল হক রসুল (সা.)-এর সুন্নতের প্রচার-প্রসার ও বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...