সিঙ্গাপুরে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই প্রচুর টুরিস্ট প্রতি বছর আসা যাওয়া করে।
সিঙ্গাপুর
(Singapore), আধুনিক স্থাপত্য শৈলী আর অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের
একটি একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের
পোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক পোর্ট। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিলাসবহুল
দেশ এটি। সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে নামলেই আপনি বুঝবেন যে এটি বিশ্বের সেরা কয়েকটি এয়ারপোর্টের
মধ্যে একটি। বাস হোক প্রাইভেট কার হোক ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা জ্যামের মত বিরক্তিকর
পরিস্থিতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগবে না। আর রাস্তার দুই পাশ সুন্দর গাছ
দিয়ে সাজিয়ে রাখার জন্য আপনার সফরকে আরো আরামদায়ক করে তোলে।
এত্তটুকুন
একটা শহর, অথচ তার সবকিছু ঠিকঠাক ঘুরেফিরে দেখেশুনে নিতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবেই।
অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার’ নামে বিশাল যে চরকি বানিয়ে রাখা আছে, সেটায় চড়লে এক দফাতেই
একনজর দেখে ফেলা যায় এমাথা ওমাথা। তবে তার আগে জেনে রাখুন সিঙ্গাপুর এর কোথায় কোন জায়গা
রয়েছে, পাছে কিছু মিস না হয়ে যায়।
ঙ্গাপুরের
দর্শনীয় স্থান
সিঙ্গাপুরের
দক্ষিণে অবস্থিত অসাধারণ জায়গা সেন্তোসা। সময় কখন যে ফুরিয়ে গেছে তা মালুমও করতে পারবেন
না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে কাটিয়ে দেওয়া যায়। সেখানে রয়েছে অনেক গ্যালারি, আকর্ষণীয়
দেখার জিনিসপত্র, অ্যামিউজ়মেন্ট পার্ক সহ অন্যান্য নানা আকর্ষণ। তাছাড়াও সেখানে রয়েছে
অসাধারণ সব রিসোর্ট, ওয়াটার পার্ক, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, ক্লাব হাউস। এমনকী, সেখানে
গেলে মজা নিতে পারবেন ইন্ডোর স্কাই ড্রাইভিংয়েরও।
জুরং বার্ড
পার্ক
বিশাল এলাকা
জুড়ে রয়েছে পার্কটি। তা শুধু সিঙ্গাপুরেই নয়, এশিয়ার মধ্যেই সবচেয়ে বড় পার্ক। পার্কতে
মোট ৪৯টি ভাগ রয়েছে। যেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি পাখির প্রজাতির বসবাস। সবমিলিয়ে বিনোদনের
অন্যতম কেন্দ্র। সেখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আভাইরি জলপ্রপাত। আশপাশের পরিবেশ এতো সুন্দর,
যে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।
বোটানিক
গার্ডেন
ইউনেস্কো
ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের আওতায় রয়েছে বোটানিক গার্ডেন। অসাধারণ সুন্দর সাজানো গোছানো
গার্ডেনটি। ১৮২২ সালে স্যার স্ট্যাম্ফোর্ড রেফলস্ গার্ডেনটি তৈরি করেন। তবে পরবর্তীকালে
তার অবশ্য ভোল বদলে যায়। দেশ বিদেশের মানুষের ভিড় লেগেই রয়েছে সেখানে। সিঙ্গাপুরের
অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এই বোটানিক গার্ডেনের মধ্যেই আছে ‘ন্যাশনাল অর্কিড
গার্ডেন অফ সিঙ্গাপুর’।
১৯৯৫ সালে
সিঙ্গাপুরের জাতির পিতা প্রেসিডেন্ট লি কুয়ান উদ্বোধন করেন ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন।
তিন হেক্টর জমি নিয়ে এটি অবস্থিত। এতে প্রায় ১০০০ প্রজাতির অর্কিড আছে এবং আছে অসংখ্য
হাইব্রিড। এই বাগানের সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হল এর বিভিন্ন গাছ এবং অর্কিড এর কালার
কম্বিনেশন। অধিকাংশ ভিজিটরই এখানে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে ডিসকভার করতেই পছন্দ করে। তবে
দেশ বিদেশের প্রিমিয়াম ট্রাভেলারদের জন্য আছে প্রিমিয়াম বাস যা অর্কিড গার্ডেন এ
যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং এখান থেকে নিয়ে যায়। আছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট এবং কফি
শপ যা এখানকার প্রকৃতি এবং সবুজ পরিবেশের সাথে সুন্দর করে ম্যাচ করে সাজানো হয়েছে
যাতে একটুও বেখাপ্পা না লাগে। এমনকি এই বাগানের পাবলিক টয়লেটটিও গাছপালা এবং ফুল গাছ
দিয়ে ঢেকে দেওয়া, দেখে মনে হবে যেন টয়লেটটাই আস্তো এক বাগান।
পোস্ট ওয়েডিং,
প্রি ওয়েডিং ফটোগ্রাফীর জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এটা। এখানে বেশ কিছু লের্নিং এবং
ইনফরমেশন সেন্টার আছে যা আপনাকে পরিবেশ, প্রকৃতি, অর্কিড, গাছপালা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
নিয়ে জ্ঞান আহরণ করতে সহায়তা দিবে। আর এই সবকিছুই একদমই ফ্রী।
চায়না
টাউন
এখানে দেখতে
আর শপিং এর জন্য যাওয়া যেতে পারে। চায়না টাউন এম আর টি স্টেশন থেকে বের হলেই চায়না
টাউন। এটুকু নিশ্চয়তা দেয়া যায় যে কিছু না কিছু কেনার মতো অবশ্যই পাবেন। এখানে রাস্তায়
অনেক স্ট্রিট ফুড আছে, যেমন – স্পেশালি বড় চিংড়ি, বিফ কাবাব, সি ফুড, সুপ, মালায়া
সাতে, নুডলস, টম ইয়াম সুপ ইত্যাদি আছে।
Maxwell
Food Centre
চায়না
টাউন থেকে হেঁটে কিছুটা সামনে গেলে ম্যাক্সওয়েল ফুড সেন্টার। এখানে খাঁটি সিঙ্গাপুরের
খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে। এখানে দুই সারিতে স্ট্রিট ফুডের দোকান মাঝে খাবার জায়গা।
অনেক টুরিস্ট আসে খেতে, লাইন ধরতে হয় খাবারের জন্য। বিভিন্ন জুস সহ চায়না টাউন এর
মতই খাবার। আমরা ছবি দেখে কিছু খাবার অর্ডার দিলাম। স্বাদ মোটামুটি।
Telok
Ayer মার্কেট
এটাও একটা
স্ট্রিট ফুড সেন্টার। Telok Ayer অথবা Downtown স্টেশনে নেমে কিছুটা হেঁটে যেতে হবে।
এখানে খাবার জন্য টুরিস্টদের অসম্ভব ভীড় থাকে। এই হকার সেন্টারের ভিতরে যত ভীড় বাইরের
রাস্তায় তার চেয়ে বেশী ভিড়। এখানে সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার হল চিকেন সাতে, যা অবশ্য
অবশ্য টেস্ট করা দরকার। খুবই মজাদার এই খাবার। এখানে আসতেই ‘সাতে’ রান্নার মৌ মৌ গন্ধে
আর ধোঁয়ায় নাসারন্ধ্র পুলকিত হয়ে যাবে। চিকেন ছাড়াও বীফ ও চিংড়ীর সাতে পাওয়া
যায়। এছাড়া সি ফুড, ডিম সাম, ফ্রাইড রাইস সহ অন্যান্য স্ট্রিট ফুডও আছে।
Bugis
Street
বুগিস স্টেশনের
কাছেই। এটা হল সুলভে শপিং এর একটা জায়গা। বেশ বড়। জামা, কাপড়, টি শার্ট, খেলনা,
ঘড়ি, সুভেনির ইত্যাদি পাওয়া যায়। বেস্ট রেটের জন্য কিছুটা দামাদামিও করা যায়। শপিং
এর জন্য হাইলি রেকোমেন্ডেড জায়গা। এখানে ঢুকার মুখেই জুসের দোকান। হাজারো রকমের জুস।
এছাড়া স্ট্রিট ফুড, বিউটি শপ, ফিশ স্পা ইত্যাদিও আছে মার্কেটে উপরের তলাগুলোতে।
সিঙ্গাপুর
চিড়িয়াখানা
ছোটো থেকে
বড় সকলের জন্য অন্যতম বেড়ানোর জায়গা চিড়িয়াখানা। সিঙ্গাপুরের চিড়িয়াখানাটিতেও রয়েছে
বিশেষ সব আকর্ষণ। প্রচলিত আছে, ব্রিটিশরা সিঙ্গাপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তাঁদের পোষা
প্রাণীগুলো রেখে যায়। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৩ সালে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানাটি।
সেখানে প্রায় ৩০০ প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়।
মারলাওন
পার্ক
মারলিন
বা সিংহ-মৎস্য হচ্ছে সিঙ্গাপুরীদের গর্বের প্রতীক, বীরত্বের প্রতীক। কথিত আছে বহু পূর্বে
সিঙ্গাপুর যখন তেমাসেক বা সমূদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিলো তখন প্রচণ্ড এক সামুদ্রিক ঝড়
ওঠে দ্বীপে। অধিবাসীরা যখন নিজেদের স্বপে দেয় ঈশ্বরের হাতে ঠিক তখনই সমুদ্র থেকে সিংহ-মৎস্য
আকৃতির এক জন্তু এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচিয়ে দেয় অধিবাসীদের। আর সে থেকে
মারলিন নামের সিংহ-মৎস্য সিঙ্গাপুরীদের গর্ব আর বীরত্বের প্রতীক। মারলিনের মূর্তি মেরিনা
বে এর মারলাওন পার্কে অবস্থিত।
মেরিনা
বে
রাতের বেলা
মেরিনা বে (Marina Bay) এর চারপাশে শুরু হয় চোখ জুড়ানো লেজার শো।
Orchard
Road
অর্চার্ড
রোড প্রায় ২.২ কিমি লম্বা একটা রোড। এই রাস্তায় অনেকগুলো আইকনিক শপিংং মল আছে। যেমন,
অর্চার্ড সেন্ট্রাল, আইওএন অর্চার্ড মল, প্যারাগন শপিং সেন্টার, প্লাজা সিঙ্গাপুরা
ইত্যাদি। এই মলগুলো দেখেতে ও খুব সুন্দর। দেখার জন্য হলেও একবার অর্চার্ড রোডে যাওয়া
উচিত।
ION
Orchard Mall
অর্চার্ড
এম আর টি স্টেশনে নেমে এখানে যাওয়া যায়। এটি ৫৬ তলা একটা বিল্ডিং এ অবস্থিত। বিশ্বের
বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের জিনিস এখানে পাওয়া যাবে। সিঙ্গাপুরের একটি আইকনিক শপিং ডেস্টিনেশন।
সবার নিচের ফ্লোরে ফুড কোর্ট। উপরে ৫৬ তলায় স্কাই ডেক আছে, যেখানে উঠতে ৪ তলায় আর্ট
গ্যালারি থেকে লিফটে সেখানে যেতে হয়। ২০ সি ডলারের বেশি শপিংকরলে উপরে স্কাই ডেকে
ফ্রি যাওয়া যায়।
ভিসা
দেশের বাইরে
কোথাও ঘুরতে যাবার নাম মনে নিলেই সবার আগে ভিসার ব্যাপারটা চেলে আসে। সিঙ্গাপুর বর্তমানে
বাংলাদেশিদের ই-ভিসা দিয়ে থাকে এবং তাদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ইনভাইটেশন মাস্ট লাগে।
তাই এক্ষেত্রে নিজে নিজে ট্রাই না করার চেয়ে ভাল মানের কোন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে
করানোটা ঝামেলা মুক্ত এবং সহজ।
ভ্রমণ টিপস
সিঙ্গাপুর
এ সব সময়ই গরম থাকে। এটা বিবেচনায় রেখে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। স্থানীয় নিয়ম-কানুন
মেনে পুরো সিঙ্গাপুর নিরাপদে ভ্রমণ করা যাবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, সানগ্লাস ও ক্যাপ সঙ্গে
রাখা ভালো। লিটারিং বা ময়লা ফেলা-বিষয়ক আইন কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। যেখানে-সেখানে
থুথু ফেলা বা ময়লা ফেলা এখানে অপরাধ। কাজেই লিটারিং করলে শাস্তি হচ্ছে একদিন একটি পরিবেশ
সচেতনতাবিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হবে এবং পুরো একদিন নির্দিষ্ট এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব
নিতে হবে।
যাতায়ত
সিঙ্গাপুরে
দেশটা সব দিক দিয়ে একটু Expensive তাই সেই হিসেবে এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষেত্রে
ট্যাক্সি ভাড়া অনেক হাই। ট্যুর মেম্বার বেশি হলে গ্রেভ ব্যবহার করা যায় যাতায়াত এর
ক্ষেত্রে। গ্রেভ ভাড়া ট্যাক্সি অনুযায়ী অনেকটা কম। এছাড়া লং টাইমের জন্য ঘুরতে গেলে
এমআরটির ব্যবহার করাটা সাশ্রয়ী। প্রথম বার একটু ঝামেলা হতে পারে কিন্তু একবার ব্যবহার
করার পরই আপনি নিজেই কমফোর্টেবল ফিল করবেন।
তবে এমআরটির
টিকেট মেশিন থেকে কাটতে হয় এবং টিকেট কাটার মেশিনের পাশেই এবং ডিসপ্লেতে কিভাবে কোথায়
কোন রুট দিয়ে ট্রেন যাবে তার ম্যাপ খুব সহজ ভাবে দেয়া আছে। তাই প্রথম প্রথম তাড়াহুড়ো
না করে দেখে বুঝে টিকেট কাটবেন। নরমালী টিকেট কাটার সময় মেশিনে আটো রিটার্ন জার্নি
দেয়া থাকে। বাট সিঙ্গেল জার্নির অপশনও আছে। এছাড়া এদের স্মার্ট বাস সার্ভিস আছে এবং
এসব বাসে লং টাইমের জন্য বার বার জার্নি করার জন্য এক বারে একটা কার্ড নিদিষ্ট টাকায়
কিনতে পাওয়া যায়। একি টাইপের কার্ড এমআরটির জন্যও পাওয়া যায়।
মোবাইল
সিম
Singtel
আর M1 এই দুইটা সিম সাধারনত টুরিস্টরা ব্যবহার করেন। অনলাইনে বুক দিয়ে এয়ারপোর্টে
থেকে সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া মোস্তফা সেন্টারের আশেপাশের রাস্তাতেই সিম পাওয়া যাবে।
দাম পড়বে ৮ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। Singtel Hi Prepaid সিম কার্ড, ১.৫ জিবি ইন্টারনেট,
৩০ দিন মেয়াদ। ব্যালেন্স রিচার্জ করা যায়। hi! Tourist SIM card ১২ দিনের মেয়াদ
আর ১০০ জিবি ডাটাসহ ৩০ সিঙ্গাপুর ডলার।
কিভাবে
যাবেন
ঢাকা থেকে
বিমান বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন, মালিন্ডো এয়ারলাইন, টাইগার
এয়ারলাইন ও এয়ারএশিয়া এয়ারলাইনের প্রায় প্রতিদিনই ফ্লাইট আছে। ফিরতি যাত্রাসহ ভাড়া
৩০ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা। সিঙ্গাপুরে এমআরটি আর মনোরেল খুবই জনপ্রিয় বাহন। একটা
থেকে আরেকটা স্পটে ২-৩ ডলারের মধ্যেই যাওয়া যায়। প্রথম ভ্রমণ হলে ট্যাক্সিই ভরস। এয়ারপোর্ট
থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ১৫-২০ ডলার। মেরিনা বে থেকে সেন্তোসা ১০-১৫ ডলার। সেন্তোসা থেকে জুরং পাখি উদ্যান ১৫-২০ ডলার।
জুরং পাখি উদ্যান থেকে লিটল ইন্ডিয়া ১৫-২০ ডলার।
কোথায়
থাকবেন
মেরিনা
বে ও সেন্তোসা রাত্রি যাপন ব্যয়বহুল। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্যে Little India সেরা চয়েজ।
লিটেল ইন্ডিয়া এরিয়ার Arianna Hotel ট্রাই করা যেতে পারে। এই হোটেলটি বাজেট অনুযায়ী
বেশ ভালো এবং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ঠিক মোস্তফা সেন্টারের বিপরীতে। আপনি
দেশ থেকেইbooking.comএর মাধ্যমে আগেই বুকিং দিয়ে যেতে পারেন। এখানে
৫৫ ডলারেই রুম ভাড়া করে দুজন অনায়াসে থাকতে পারবেন। এছাড়া এখানে আরো অনেক হোটেল
আছে এবং সিঙ্গেল ট্রাভেলারদের জন্য অনেক কম বাজেটে হোস্টেল পাবেন এই লিটেল ইন্ডিয়া
এরিয়াতে।
খাওয়া দাওয়া
সিঙ্গাপুরে
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই প্রচুর টুরিস্ট প্রতি বছর আসা যাওয়া করে। তাই এখানে সকল
অঞ্চলের খাবার পাওয়া যায়। আমরা যারা হালাল ফুড নিয়ে চিন্তায় থাকি তারাদের জন্য
লিটেল ইন্ডিয়া প্লেসটি এসব কমন চিন্তা মুক্তির একটা প্লেস। এখানে প্রচুর হালাল ফুড
সহ বাংলাদেশী অনেক ভাল মানের রেস্টুরেন্টে আছে। এখানে ঢাকায় নির্দিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্টে
ছাড়া বাংলা যে সব ফুড পাওয়া যায় না, সে সব ফুডও খুব সহজেই আপনি বাজেটের ভিতর পেয়ে
যাবেন। যেমন বিভিন্ন দেশী মাছ, গরুর বিভিন্ন আইটেম, দইসহ দেশীয় ডেজার্ট পর্যন্ত পাবেন।
এছাড়া পাকিস্তানি তুর্কি রেস্টুরেন্টে গুলোতে কাবাব আইটেম পাবেন সিঙ্গাপুর অনুযায়ী
বেশ সস্তায়। একজন মানুষ সিঙ্গাপুরের ৪/৫ ডলারে বেশ ভাল ভাবেই প্রতি বেলায় খেতে পারবে
এই খাটি বাংলা রেস্টুরেন্টের গুলোতে। এছাড়া লিটেল ইন্ডিয়া এরিয়াতে বেশকিছু স্ট্রিট
ফুডও পাবেন একটু ঘুরাঘুরি করলেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন