মলদোভা প্রজাতন্ত্র পূর্ব ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। এর পশ্চিমে রোমানিয়া এবং উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণে ইউক্রেন। ঐতিহাসিকভাবে এটি মলদোভা রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। ১৮১২ সালে রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। রুশ সাম্রাজ্যের পতনের পর এটি ১৯১৮ সালে রোমানিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়।
প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ, চিচিনু, মলদোভা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালের ২৭শে আগস্ট এটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত, মলদোভার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া এবং উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্বে ইউক্রেনের সীমানা বেষ্টিত। এর বেশিরভাগ অঞ্চল এই অঞ্চলের দুটি প্রধান নদী, নিস্ত্রু এবং প্রুতের মধ্যে অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে ইউক্রেনের সাথে মলদোভার সীমান্তের একটি ছোট্ট অংশ নিস্ত্রু তৈরি করেছে, তবে এটি মূলত দেশটির পূর্ব অংশে প্রবাহিত হয়ে বেসারাবিয়া এবং ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। প্রুথ নদী রোমানিয়ার সাথে মলদোভার পুরো পশ্চিম সীমানা গঠন করে। দানিউব তার দক্ষিণ প্রান্তে মলদোভান সীমানা স্পর্শ করে এবং ২০০ মিটার (৬৫৬ ফুট) সীমানা গঠন করে।
মলদোভীয় ভাষা (যা প্রকৃতপক্ষে রোমানীয় ভাষা) মলদোভার সরকারী ভাষা এবং এটিতে দেশের ৭০% লোক কথা বলেন। এছাড়া রুশ ভাষাতে প্রায় ১২% লোক কথা বলেন এবং ভাষাটিকে আন্তঃসাম্প্রদায়িক যোগাযোগের ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মলদোভার ত্রান্সনিস্ত্রিয়া এবং গাগাউজিয়া অঞ্চলে যথাক্রমে ইউক্রেনীয় ও গাগাউজীয় ভাষাকে সহ-সরকারী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দেশের পশ্চিমাংশে পোলীয়, জার্মান এবং বুলগেরীয় ভাষাও স্বল্পমাত্রায় প্রচলিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫ বছর মলদোভা রোমানিয়ার অন্তর্গত ছিলো। ১৯৪৫ সালে দেশটিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে মলদোভা স্বাধীন হয়। মলদোভায় অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। আজ আপনাদের জানাবো মলদোভার সেরা ৮ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে। আসুন জানা যাক-
১. স্টিফান কেল মেয়ার সেন্ট্রাল পার্ক, চিসিনাউ
স্টিফান কেল মেয়ার সেন্ট্রাল পার্ক মলদোভার রাজধানী চিসিনাউয়ে অবস্থিত। ১৭ একর জায়গা জুড়ে এর অবস্থান। এই চিসিনাউয়ের সবচেয়ে পুরনো পার্ক। পার্কটিতে ৫০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের এই পার্কে বেশি ভ্রমণ করতে দেখা যায়।
২. ডেনড্রারিয়াম পার্ক, চিসিনাউ
প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ভ্রমণের জন্য ডেনড্রানিয়ম পার্ক উপযুক্ত জায়গা। পার্কটি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। গোলাপ, শাপলাসহ আরও নানা ফুল ফোঁটে এই পার্কে। পরিবারের সঙ্গে এই পার্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার সুবর্ণসুযোগ রয়েছে।
৩. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং ইটার্নাল ফ্লেম, চিসিনাউ
চিসিনাউ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিখ্যাত দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং ইটার্নাল ফ্লেম। এখানে স্থাপিত ৫টি লাল পিলারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রোমানিয়ার অন্তর্গত থাকার প্রতীক হিসেবে বলা হয়।
৪. ক্যাটেড্রালা নাসটিরিয়া ডমনুলুই, চিসিনাউ
চিসিনাউয়ের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে অত্যন্দ পছন্দের স্থান ক্যাটেড্রালা নাসটিরিয়া ডমনুলুই। গীর্জাটি অর্থোডক্স খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের দ্বারা পরিচালিত। ক্যাটেড্রালা নাসটিরিয়া ডমনুলুই ১৮৩০ সালে স্থাপিত হয়। এর স্থাপত্য নব্যধ্রুপদী যুগের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বারবার এই গীর্জায় হামলা করা হয়। পরবর্তীতে অর্থোডক্স খ্রিস্টীয় স্থাপত্যে গীর্জাটি তৈরি করা হয়।
৫. ওল্ড ওরেই, ওরেই
চিসিনাউয়ের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ওল্ড ওরেই। এর আশেপাশের অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রয়েছে সুরক্ষিত দুর্গ। ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকরা সহজেই ওল্ড ওরেইয়ে ভ্রমণ করতে আগ্রহী হন।
৬. মুজিউল ন্যাশনাল দে ইটনোগ্র্যাফি সি ইসটোরি ন্যাটুরালা, চিসিনাউ
মলদোভার সবচেয়ে পুরনো মিউজিয়াম মুজিউল ন্যাশনাল দে ইটনোগ্র্যাফি সি ইস্টোরি ন্যাটুরালা। ইংরেজিতে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইথনোগ্র্যাফি অ্যান্ড ন্যাচারাল হিস্টোরি বলা হয়। মিউজিয়ামটিতে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার আর্টিফ্যাক্ট সংরক্ষণ করা রয়েছে। মিউজিয়ামের পাশে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন।
৭. সরোকা দুর্গ, সরোকা
সরোকা দুর্গ মলদোভার সরোকা শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটি ১৪৯৯ সালে স্টিফেন দ্য গ্রেট নির্মাণ করেন। দুর্গটির স্থাপত্য ইউরোপের মধ্যযুগের সময়ের। পর্যটকদের কাছে এটি অনেক পছন্দের জায়গা।
৮. ভালিয়া মরিলর, চিসিনাউ
মলদোভার চিসিনাউ শহরের বুইয়ুকানি শহরে ভালিয়া মরিলর পার্ক অবস্থিত। এইখানে ভালিয়া মরিলর লেক রয়েছে। পার্কটি রবার্ট কুর্জের নেতৃত্বে নির্মিত হয়। এই পার্কে থাকা জলপ্রপাতের জন্য পার্কটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন