মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা



মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (CAR), আফ্রিকার কেন্দ্রে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বন্যপ্রাণীর জন্য পরিচিত। এখানকার ম্যান্টিং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাঙ্গা সানঘা (Dzanga-Sangha) স্পেশাল রিজার্ভ গরিলা ও বন হাতির মতো বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যদিও দেশটি দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগেছে, এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, তবুও এর অপ্রতিরোধ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অস্পৃশ্য বন্যপ্রাণী কিছু অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন।

১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য):

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এখানে পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো তুলে ধরা হলো:

  • পর্যটন ভিসা (Tourist Visa):

    • উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ মাসের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসাও ইস্যু করা হতে পারে, যা আবেদন এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

    • বিশেষ বিবেচনা: পর্যটন ভিসায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।

  • ব্যবসায়ী ভিসা (Business Visa):

    • উদ্দেশ্য: ব্যবসায়িক মিটিং, আলোচনা, চুক্তি সম্পাদন, সম্মেলন বা সেমিনারে অংশগ্রহণ, বা অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের জন্য।

    • মেয়াদ: ভিসার ধরন ও ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মেয়াদ নির্ধারিত হয়, এবং এটি সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে।

    • আবশ্যকতা: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র আবশ্যক।

  • ট্রানজিট ভিসা (Transit Visa):

    • উদ্দেশ্য: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে যাত্রার জন্য, যদি আপনি বিমানবন্দর ট্রানজিট এরিয়া ছেড়ে যেতে চান।

গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র CEMAC (Economic and Monetary Community of Central Africa) এর সদস্য। এই জোটভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এই জোটের সদস্য নয়, তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বাধ্যতামূলক।

২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে):

বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সাধারণত পাশের দেশগুলোতে অবস্থিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস থেকে আবেদন করতে হয়। ভারত বা নিকটস্থ অন্য কোনো দেশে CAR-এর দূতাবাস না থাকলে, অনেক সময় তৃতীয় দেশের (যেমন ফ্রান্স) মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ই-ভিসার সুযোগ আছে, যা প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

ক. ই-ভিসা (e-Visa) আবেদন প্রক্রিয়া:

যদিও এই বিষয়ে খুব বেশি বিস্তারিত অফিসিয়াল তথ্য নেই, কিছু ভিসা সার্ভিসিং পোর্টাল উল্লেখ করে যে বাংলাদেশের নাগরিকরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এটি ভিসা পাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি।

  • ধাপ ১: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ:

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ই-ভিসা পোর্টাল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একটি বিশ্বস্ত ভিসা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা উচিত, কারণ সরাসরি সরকারি পোর্টাল লিঙ্কটি সহজে নাও পাওয়া যেতে পারে। (কিছু সূত্রে Atlys এর মতো প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ আছে যা এই ভিসার জন্য সহায়তা করে।)

  • ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ:

    • ওয়েবসাইটে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন ফরমটি নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আবাসনের বিবরণ দিতে হবে।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:

    • উল্লিখিত ফরম্যাট ও সাইজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)

  • ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভিসা ফি পরিশোধ করুন। ভিসার খরচ নির্ভর করে ভিসার ধরন এবং প্রসেসিং সময়ের উপর। ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৫: আবেদন জমা দেওয়া ও নিশ্চিতকরণ:

    • সকল তথ্য ও নথি যাচাই করার পর আবেদন জমা দিন।

    • আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি নিশ্চিতকরণ ইমেল পাবেন।

  • ধাপ ৬: ভিসা প্রাপ্তি:

    • আবেদন অনুমোদিত হলে, ই-ভিসা আপনার নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানায় পিডিএফ ফরম্যাটে পাঠানো হবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন এবং ভ্রমণের সময় সাথে রাখুন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রিন্ট করা ই-ভিসা দেখাতে হবে।

    ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়: ই-ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৫-১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, এটি আবেদনকারীর প্রোফাইল এবং কর্তৃপক্ষের কাজের চাপের উপর নির্ভর করে বেশি সময়ও লাগতে পারে।

খ. দূতাবাস/কনস্যুলেটে সরাসরি আবেদন:

যদি ই-ভিসা ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য না হয় বা উপলব্ধ না থাকে, তবে আপনাকে নিকটস্থ দূতাবাসে আবেদন করতে হতে পারে।

  • ধাপ ১: নিকটস্থ দূতাবাস/কনস্যুলেট চিহ্নিতকরণ:

    • যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বা ভারতে সরাসরি কোনো দূতাবাস নেই। এই ক্ষেত্রে কাতার, কুয়েত, চীন (বেইজিং), বা ফ্রান্স (প্যারিস) এর দূতাবাসগুলো নিকটস্থ হতে পারে।

  • ধাপ ২: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আবেদন:

    • সংশ্লিষ্ট দূতাবাস/কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করে ভিসার আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা জেনে নিন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

  • ধাপ ৩: আবেদন জমা দেওয়া:

    • সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে আবেদনপত্র ও সকল নথি জমা দিন। সাধারণত সশরীরে উপস্থিত থাকা বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দেওয়া প্রয়োজন হয়।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা/দূতাবাস আবেদনের সাধারণ তালিকা):

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার একটি স্পষ্ট স্ক্যান কপি।

    • পাসপোর্টের মেয়াদ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে অন্তত একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি ডিজিটাল পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাধারণত সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আবেদনকারীর নাম, পদবী, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি কোনো ব্যক্তি স্পনসর করেন, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র এবং তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • যদি চাকরিজীবী হন: গত ৬ মাসের বেতন বিবরণী/পে স্লিপ।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র।

  • হলুদ জ্বর টিকা সনদ (Yellow Fever Vaccination Certificate):

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে প্রবেশের জন্য হলুদ জ্বরের টিকা সনদ বাধ্যতামূলক। একটি স্বীকৃত মেডিকেল সেন্টার থেকে টিকা নিয়ে সনদটি সংগ্রহ করুন।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি:

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে বা ফরাসি ভাষায় অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। স্ক্যান করা নথিগুলির গুণমান ভালো হতে হবে যাতে স্পষ্টভাবে পড়া যায়।

৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস):

বর্তমানে বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।

৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন:

যেহেতু বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য নিকটস্থ দেশগুলোতে অবস্থিত দূতাবাস থেকে আবেদন করতে হয়।

  • নিকটস্থ দূতাবাসগুলি (সাধারণত):

    • দোহা, কাতার (Embassy of Central African Republic in Doha, Qatar):

      • এটি তুলনামূলকভাবে নিকটতম দূতাবাসগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।

      • ফোন: +974 4481 7695, +974 4483 5188

    • কুয়েত সিটি, কুয়েত (Embassy of Central African Republic in Kuwait City, Kuwait):

      • ফোন: +965 2531 9761

    • বেইজিং, চীন (Embassy of Central African Republic in Beijing, China):

      • ঠিকানা: 14 Dong Wu Jie Sanlitun, Chaoyang District, Beijing 100600.

      • ফোন: +86 10 6532 5313

    • আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া (Embassy of Central African Republic in Addis Ababa, Ethiopia):

      • ফোন: +251 927 360 233, +251 114 712 250

    • কায়রো, মিশর (Embassy of Central African Republic in Cairo, Egypt):

      • ফোন: +20 2 344 5942

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: এই দূতাবাসগুলির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে ভিসার সর্বশেষ নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এসব দূতাবাস সরাসরি ডাকযোগে আবেদন গ্রহণ করে না, তাই সশরীরে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হতে পারে।

৬. ই-ভিসা (e-Visa):

হ্যাঁ, কিছু সূত্র ইঙ্গিত করে যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে। তবে, অফিসিয়াল এবং সুনির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের লিঙ্ক খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

  • সতর্কতা: ই-ভিসার জন্য আবেদন করার সময়, নিশ্চিত করুন যে আপনি শুধুমাত্র অফিসিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটটি বা একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য ভিসা সার্ভিস প্রোভাইডার ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেটে অনেক তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট বা জাল সাইট থাকতে পারে যা অতিরিক্ত ফি নেয় বা ভুয়া ভিসার প্রস্তাব দেয়। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ রইল, ভিসা আবেদন করার সময় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নিকটস্থ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (যদি থাকে) দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

কানাডার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা


কানাডা: প্রকৃতির মাঝে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা!

কানাডা, সুবিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি, যেখানে আধুনিকতা আর বন্যপ্রাণীসহাবস্থান করে। এর রকি পর্বতমালার চূড়া থেকে শুরু করে স্বচ্ছ জলের হ্রদ, প্রতিটি দৃশ্যইপর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। টরন্টোর প্রাণবন্ত শহর জীবন, ভ্যাঙ্কুভারের সমুদ্র সৈকত, বাকুইবেকের ঐতিহাসিক পুরনো শহর - প্রতিটি স্থানেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণ। স্কিইং,

কানাডার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

কানাডা, উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, তার বিশাল ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বহুসংস্কৃতির পরিবেশ এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মানের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। ভ্যাঙ্কুভারের পাহাড় ও সমুদ্রের দৃশ্য, টরন্টোর আধুনিক স্থাপত্য, কুইবেকের ইউরোপীয় অনুভূতি এবং বিশ্ববিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। কানাডা সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা প্রাকৃতিক অ্যাডভেঞ্চার, শহুরে অভিজ্ঞতা এবং একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ খুঁজছেন।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কানাডা ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। কানাডার ভিজিটর ভিসা মূলত টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা (Temporary Resident Visa - TRV) নামে পরিচিত।

১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য):

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কানাডার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এখানে পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো তুলে ধরা হলো:

  • ভিজিটর ভিসা (Visitor Visa / Temporary Resident Visa - TRV):

    • উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী কোর্স (৬ মাসের কম), ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইত্যাদি।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে, ভিসাটি ১০ বছর পর্যন্ত বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাল্টিপল এন্ট্রি হিসেবে ইস্যু করা হতে পারে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে আপনি যতবার খুশি কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন, তবে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন, যদি না ইমিগ্রেশন অফিসার অন্য কোনো মেয়াদ উল্লেখ করেন।

    • বিশেষ বিবেচনা: ভিজিটর ভিসায় কানাডায় কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।

    • সুপার ভিসা (Super Visa): এটি ভিজিটর ভিসার একটি বিশেষ ধরন, যা কানাডিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদি/নানা-নানিকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটানা ৫ বছর পর্যন্ত কানাডায় থাকার অনুমতি দেয় এবং ১০ বছর পর্যন্ত মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে। এর জন্য কিছু অতিরিক্ত আর্থিক ও বীমার শর্ত থাকে।

২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে - অনলাইন আবেদন):

কানাডার ভিজিটর ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি কানাডিয়ান হাইকমিশনে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই; সমস্ত কাজ কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC) - VFS Global-এর মাধ্যমে হয়।

  • ধাপ ১: অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি:

    • কানাডা সরকারের ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) এর অফিসিয়াল পোর্টালে (Canada.ca) একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

  • ধাপ ২: যোগ্যতা মূল্যায়ন (Come to Canada tool):

    • IRCC ওয়েবসাইটে "Come to Canada" টুল ব্যবহার করে আপনার ভিসার যোগ্যতার প্রাথমিক মূল্যায়ন করুন। এর ভিত্তিতে আপনি কোন ভিসার জন্য যোগ্য, তা জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের একটি ব্যক্তিগত চেকলিস্ট তৈরি হবে।

  • ধাপ ৩: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ:

    • আপনার IRCC অ্যাকাউন্টে লগইন করে ভিজিটর ভিসার জন্য অনলাইন আবেদন ফরমটি (Application for Visitor Visa (IMM 5257)) নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। এছাড়া, Schedule 1 (IMM 5257B_1) এবং Family Information Form (IMM 5707) পূরণ করতে হতে পারে।

  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:

    • আপনার ব্যক্তিগত চেকলিস্ট অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি (PDF, JPEG, TIFF ফরম্যাটে) অনলাইনে আপলোড করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভিসা ফি (সাধারণত CAD $100 প্রতি ব্যক্তি) পরিশোধ করুন। একটি পরিবারের জন্য (৫ জন বা তার বেশি একই সময়ে আবেদন করলে) সর্বোচ্চ ফি CAD $500। ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া ও বায়োমেট্রিক্স নির্দেশনা (Biometric Instruction Letter - BIL):

    • সকল তথ্য ও নথি যাচাই করার পর আবেদন জমা দিন। আবেদন জমা দেওয়ার পর, আপনি একটি বায়োমেট্রিক ইনস্ট্রাকশন লেটার (BIL) পাবেন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • ধাপ ৭: বায়োমেট্রিক্স জমা দেওয়া:

    • BIL পাওয়ার পর আপনাকে VFS Global-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে বায়োমেট্রিক্সের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। বাংলাদেশে VFS Global-এর ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামে অফিস রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে BIL, পাসপোর্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন নিয়ে উপস্থিত হয়ে আপনার ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক, যদি না আপনি গত ১০ বছরের মধ্যে কানাডার ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক্স দিয়ে থাকেন।

  • ধাপ ৮: ভিসার সিদ্ধান্ত এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়া:

    • বায়োমেট্রিক্স জমা দেওয়ার পর, IRCC আপনার আবেদন প্রক্রিয়া করবে। যদি ভিসা অনুমোদিত হয়, তাহলে আপনি একটি পাসপোর্ট রিকোয়েস্ট লেটার (Passport Request Letter) পাবেন। এই লেটার এবং আপনার মূল পাসপোর্ট VFS Global-এ জমা দিতে হবে যাতে আপনার পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করা যায়।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা স্ট্যাম্প হওয়ার পর, VFS Global থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

    ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়: কানাডার ভিজিটর ভিসার প্রক্রিয়াকরণের সময় বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে, যেমন আবেদনের ধরন, আবেদন সম্পূর্ণ কিনা, তথ্য যাচাই করতে কত সময় লাগে, এবং ভিসা অফিসের কাজের চাপ। বর্তমানে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিটর ভিসার জন্য ১ থেকে ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বায়োমেট্রিক্সের সময় এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা):

কানাডার ভিজিটর ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • পাসপোর্টের মেয়াদ কানাডা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার স্পষ্ট স্ক্যান কপি।

    • সকল পুরানো পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি ডিজিটাল পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, 35mm x 45mm)। মুখমণ্ডল যেন ফ্রেমের ৭০-৮০% দখল করে।

  • পূরণকৃত অনলাইন আবেদন ফরম:

    • IMM 5257, IMM 5257B_1 (যদি প্রয়োজন হয়) এবং IMM 5707 (Family Information Form)।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত কভারিং লেটার, যেখানে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) এবং কানাডায় আপনার থাকা, ভ্রমণ ও সময়মতো দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তা উল্লেখ থাকবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা কানাডায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

    • অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ (যেমন: ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ, সঞ্চয়পত্র, সম্পত্তির দলিলপত্র ইত্যাদি)।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, তার পরিচয়পত্রের কপি এবং কানাডার সাথে তার স্ট্যাটাসের প্রমাণ (যেমন: স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা নাগরিকত্বের প্রমাণ)।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভিজিটিং কার্ড, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • ভ্রমণ পরিকল্পনা:

    • বিস্তারিত ভ্রমণসূচী (Day-to-day itinerary), যা আপনার কানাডায় অবস্থানের পরিকল্পনা তুলে ধরে।

    • হোটেল/আবাসনের রিজার্ভেশনের প্রমাণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • ফ্লাইট রিজার্ভেশন (আসা-যাওয়ার নিশ্চিত টিকিট)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • বৈবাহিক অবস্থা ও পারিবারিক বন্ধনের প্রমাণ:

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত হন), সন্তানদের জন্ম সনদ (যদি থাকে)। এটি দেশে আপনার পারিবারিক বন্ধন প্রমাণ করে, যা ফেরত আসার ইচ্ছাকে সমর্থন করে।

  • সম্পত্তির দলিলপত্র:

    • জমি বা স্থাবর সম্পত্তির দলিলপত্র, যা আপনার দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতাকে শক্তিশালী করে।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (কিছু ক্ষেত্রে চাওয়া হতে পারে)।

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা (সুপার ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক)।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। স্ক্যান করা নথিগুলির গুণমান ভালো হতে হবে যাতে স্পষ্টভাবে পড়া যায়। প্রতিটি নথির ফাইল সাইজ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস):

বাংলাদেশে কানাডার কোনো পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস বা হাইকমিশন নেই যা সরাসরি ভিসা আবেদন গ্রহণ করে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য কানাডা সরকারের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক পোর্টাল (IRCC) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

  • কানাডিয়ান হাইকমিশন, ঢাকা: কানাডার একটি হাইকমিশন ঢাকায় রয়েছে, তবে এটি মূলত কূটনৈতিক ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করে, সরাসরি ভিসা আবেদন গ্রহণ করে না।

    • ঠিকানা: ইউনাইটেড নেশনস রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

    • ফোন: +880 2 5566 8444

    • ওয়েবসাইট: www.canadainternational.gc.ca/bangladesh (ওয়েবসাইটে ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য IRCC ওয়েবসাইটে রেফার করা থাকে)।

ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC) - VFS Global: বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক্সের জন্য VFS Global-এর পরিষেবা নিতে হয়, যা কানাডা সরকারের অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান।

  • VFS Global, ঢাকা:

    • ঠিকানা: ডেল্টা লাইফ টাওয়ার, ৪র্থ তলা, প্লট # ৩৭, রোড # ৯০, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

    • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/can/

৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন:

যেহেতু বাংলাদেশে VFS Global-এর মাধ্যমে এবং IRCC-এর অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে, তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।

৬. ই-ভিসা (e-Visa):

কানাডা সরাসরি "ই-ভিসা" বলতে একটি পৃথক ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট বোঝায় না যা প্রিন্ট করে নিয়ে যাওয়া যায়। বরং, কানাডার ভিসা প্রক্রিয়া অনেকটাই অনলাইন-ভিত্তিক। অর্থাৎ, আবেদন, নথি জমা দেওয়া এবং ফি পরিশোধ সবই অনলাইনে হয়। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনার পাসপোর্টে একটি স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

কিছু দেশের জন্য কানাডা "ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA)" নামক একটি ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমতি ইস্যু করে, যা ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশের নাগরিকরা eTA-এর জন্য যোগ্য নন, তাদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে TRV (ভিজিটর ভিসা) নিতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা কানাডার জন্য "ই-ভিসা" বা "সহজ ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Canada.ca) এবং VFS Global-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ রইল, ভিসা আবেদন করার সময় কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Canada.ca) এবং VFS Global-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

 Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...