মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা



মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (CAR), আফ্রিকার কেন্দ্রে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বন্যপ্রাণীর জন্য পরিচিত। এখানকার ম্যান্টিং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাঙ্গা সানঘা (Dzanga-Sangha) স্পেশাল রিজার্ভ গরিলা ও বন হাতির মতো বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যদিও দেশটি দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগেছে, এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, তবুও এর অপ্রতিরোধ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অস্পৃশ্য বন্যপ্রাণী কিছু অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন।

১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য):

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এখানে পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো তুলে ধরা হলো:

  • পর্যটন ভিসা (Tourist Visa):

    • উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ মাসের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসাও ইস্যু করা হতে পারে, যা আবেদন এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

    • বিশেষ বিবেচনা: পর্যটন ভিসায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।

  • ব্যবসায়ী ভিসা (Business Visa):

    • উদ্দেশ্য: ব্যবসায়িক মিটিং, আলোচনা, চুক্তি সম্পাদন, সম্মেলন বা সেমিনারে অংশগ্রহণ, বা অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের জন্য।

    • মেয়াদ: ভিসার ধরন ও ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মেয়াদ নির্ধারিত হয়, এবং এটি সিঙ্গেল বা মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে।

    • আবশ্যকতা: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র আবশ্যক।

  • ট্রানজিট ভিসা (Transit Visa):

    • উদ্দেশ্য: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে যাত্রার জন্য, যদি আপনি বিমানবন্দর ট্রানজিট এরিয়া ছেড়ে যেতে চান।

গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা: মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র CEMAC (Economic and Monetary Community of Central Africa) এর সদস্য। এই জোটভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এই জোটের সদস্য নয়, তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বাধ্যতামূলক।

২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে):

বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য সাধারণত পাশের দেশগুলোতে অবস্থিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস থেকে আবেদন করতে হয়। ভারত বা নিকটস্থ অন্য কোনো দেশে CAR-এর দূতাবাস না থাকলে, অনেক সময় তৃতীয় দেশের (যেমন ফ্রান্স) মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ই-ভিসার সুযোগ আছে, যা প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

ক. ই-ভিসা (e-Visa) আবেদন প্রক্রিয়া:

যদিও এই বিষয়ে খুব বেশি বিস্তারিত অফিসিয়াল তথ্য নেই, কিছু ভিসা সার্ভিসিং পোর্টাল উল্লেখ করে যে বাংলাদেশের নাগরিকরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এটি ভিসা পাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক পদ্ধতি।

  • ধাপ ১: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ:

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ই-ভিসা পোর্টাল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একটি বিশ্বস্ত ভিসা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা উচিত, কারণ সরাসরি সরকারি পোর্টাল লিঙ্কটি সহজে নাও পাওয়া যেতে পারে। (কিছু সূত্রে Atlys এর মতো প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ আছে যা এই ভিসার জন্য সহায়তা করে।)

  • ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ:

    • ওয়েবসাইটে নির্দেশাবলী অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন ফরমটি নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আবাসনের বিবরণ দিতে হবে।

  • ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:

    • উল্লিখিত ফরম্যাট ও সাইজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)

  • ধাপ ৪: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভিসা ফি পরিশোধ করুন। ভিসার খরচ নির্ভর করে ভিসার ধরন এবং প্রসেসিং সময়ের উপর। ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৫: আবেদন জমা দেওয়া ও নিশ্চিতকরণ:

    • সকল তথ্য ও নথি যাচাই করার পর আবেদন জমা দিন।

    • আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি নিশ্চিতকরণ ইমেল পাবেন।

  • ধাপ ৬: ভিসা প্রাপ্তি:

    • আবেদন অনুমোদিত হলে, ই-ভিসা আপনার নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানায় পিডিএফ ফরম্যাটে পাঠানো হবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন এবং ভ্রমণের সময় সাথে রাখুন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রিন্ট করা ই-ভিসা দেখাতে হবে।

    ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়: ই-ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত ৫-১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। তবে, এটি আবেদনকারীর প্রোফাইল এবং কর্তৃপক্ষের কাজের চাপের উপর নির্ভর করে বেশি সময়ও লাগতে পারে।

খ. দূতাবাস/কনস্যুলেটে সরাসরি আবেদন:

যদি ই-ভিসা ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য না হয় বা উপলব্ধ না থাকে, তবে আপনাকে নিকটস্থ দূতাবাসে আবেদন করতে হতে পারে।

  • ধাপ ১: নিকটস্থ দূতাবাস/কনস্যুলেট চিহ্নিতকরণ:

    • যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বা ভারতে সরাসরি কোনো দূতাবাস নেই। এই ক্ষেত্রে কাতার, কুয়েত, চীন (বেইজিং), বা ফ্রান্স (প্যারিস) এর দূতাবাসগুলো নিকটস্থ হতে পারে।

  • ধাপ ২: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আবেদন:

    • সংশ্লিষ্ট দূতাবাস/কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করে ভিসার আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা জেনে নিন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

  • ধাপ ৩: আবেদন জমা দেওয়া:

    • সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে আবেদনপত্র ও সকল নথি জমা দিন। সাধারণত সশরীরে উপস্থিত থাকা বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দেওয়া প্রয়োজন হয়।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা/দূতাবাস আবেদনের সাধারণ তালিকা):

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • মূল পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার একটি স্পষ্ট স্ক্যান কপি।

    • পাসপোর্টের মেয়াদ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টে অন্তত একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি ডিজিটাল পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাধারণত সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, ৩৫x৪৫ মিমি)।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি কভারিং লেটার, যেখানে আবেদনকারীর নাম, পদবী, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) ইত্যাদি উল্লেখ থাকবে।

  • ফেরত বা পরবর্তী ভ্রমণের টিকিট:

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে নিশ্চিত ফেরত টিকিট বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট।

  • আবাসনের প্রমাণ:

    • হোটেল রিজার্ভেশনের নিশ্চিতকরণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • যদি কোনো ব্যক্তি স্পনসর করেন, তবে সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত একটি আমন্ত্রণপত্র এবং তার পরিচয়পত্রের কপি।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • যদি চাকরিজীবী হন: গত ৬ মাসের বেতন বিবরণী/পে স্লিপ।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভিজিটিং কার্ড।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র।

  • হলুদ জ্বর টিকা সনদ (Yellow Fever Vaccination Certificate):

    • মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে প্রবেশের জন্য হলুদ জ্বরের টিকা সনদ বাধ্যতামূলক। একটি স্বীকৃত মেডিকেল সেন্টার থেকে টিকা নিয়ে সনদটি সংগ্রহ করুন।

  • অন্যান্য সহায়ক নথি:

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত দম্পতি একসাথে ভ্রমণ করেন, নোটারি সত্যায়িত কপি)।

    • পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথি (যেমন জন্ম সনদ)।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে বা ফরাসি ভাষায় অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। স্ক্যান করা নথিগুলির গুণমান ভালো হতে হবে যাতে স্পষ্টভাবে পড়া যায়।

৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস):

বর্তমানে বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো নিজস্ব দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই।

৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন:

যেহেতু বাংলাদেশে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কোনো দূতাবাস নেই, বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য নিকটস্থ দেশগুলোতে অবস্থিত দূতাবাস থেকে আবেদন করতে হয়।

  • নিকটস্থ দূতাবাসগুলি (সাধারণত):

    • দোহা, কাতার (Embassy of Central African Republic in Doha, Qatar):

      • এটি তুলনামূলকভাবে নিকটতম দূতাবাসগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।

      • ফোন: +974 4481 7695, +974 4483 5188

    • কুয়েত সিটি, কুয়েত (Embassy of Central African Republic in Kuwait City, Kuwait):

      • ফোন: +965 2531 9761

    • বেইজিং, চীন (Embassy of Central African Republic in Beijing, China):

      • ঠিকানা: 14 Dong Wu Jie Sanlitun, Chaoyang District, Beijing 100600.

      • ফোন: +86 10 6532 5313

    • আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া (Embassy of Central African Republic in Addis Ababa, Ethiopia):

      • ফোন: +251 927 360 233, +251 114 712 250

    • কায়রো, মিশর (Embassy of Central African Republic in Cairo, Egypt):

      • ফোন: +20 2 344 5942

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: এই দূতাবাসগুলির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে ভিসার সর্বশেষ নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এসব দূতাবাস সরাসরি ডাকযোগে আবেদন গ্রহণ করে না, তাই সশরীরে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হতে পারে।

৬. ই-ভিসা (e-Visa):

হ্যাঁ, কিছু সূত্র ইঙ্গিত করে যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা প্রদান করে। তবে, অফিসিয়াল এবং সুনির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের লিঙ্ক খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

  • সতর্কতা: ই-ভিসার জন্য আবেদন করার সময়, নিশ্চিত করুন যে আপনি শুধুমাত্র অফিসিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটটি বা একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য ভিসা সার্ভিস প্রোভাইডার ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেটে অনেক তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট বা জাল সাইট থাকতে পারে যা অতিরিক্ত ফি নেয় বা ভুয়া ভিসার প্রস্তাব দেয়। ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভিসা নীতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ রইল, ভিসা আবেদন করার সময় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নিকটস্থ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (যদি থাকে) দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

Email: grameentour@gmail.com

কানাডার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা


কানাডা: প্রকৃতির মাঝে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা!

কানাডা, সুবিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি, যেখানে আধুনিকতা আর বন্যপ্রাণীসহাবস্থান করে। এর রকি পর্বতমালার চূড়া থেকে শুরু করে স্বচ্ছ জলের হ্রদ, প্রতিটি দৃশ্যইপর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। টরন্টোর প্রাণবন্ত শহর জীবন, ভ্যাঙ্কুভারের সমুদ্র সৈকত, বাকুইবেকের ঐতিহাসিক পুরনো শহর - প্রতিটি স্থানেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণ। স্কিইং,

কানাডার পর্যটন/ভ্রমণ ভিসা: বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা

কানাডা, উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, তার বিশাল ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বহুসংস্কৃতির পরিবেশ এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মানের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। ভ্যাঙ্কুভারের পাহাড় ও সমুদ্রের দৃশ্য, টরন্টোর আধুনিক স্থাপত্য, কুইবেকের ইউরোপীয় অনুভূতি এবং বিশ্ববিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। কানাডা সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ যারা প্রাকৃতিক অ্যাডভেঞ্চার, শহুরে অভিজ্ঞতা এবং একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ খুঁজছেন।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কানাডা ভ্রমণের জন্য আগে থেকে ভিসা (Pre-arranged Visa) প্রয়োজন। কানাডার ভিজিটর ভিসা মূলত টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা (Temporary Resident Visa - TRV) নামে পরিচিত।

১. ভিসার ক্যাটাগরি (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য):

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কানাডার ভিসা মূলত উদ্দেশ্য অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এখানে পর্যটন/ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রধান ক্যাটাগরিগুলো তুলে ধরা হলো:

  • ভিজিটর ভিসা (Visitor Visa / Temporary Resident Visa - TRV):

    • উদ্দেশ্য: দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ব্যক্তিগত ছুটি কাটানো, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদী কোর্স (৬ মাসের কম), ব্যবসায়িক মিটিং (কাজ করা ছাড়া), সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইত্যাদি।

    • মেয়াদ: সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে, ভিসাটি ১০ বছর পর্যন্ত বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাল্টিপল এন্ট্রি হিসেবে ইস্যু করা হতে পারে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে আপনি যতবার খুশি কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন, তবে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন, যদি না ইমিগ্রেশন অফিসার অন্য কোনো মেয়াদ উল্লেখ করেন।

    • বিশেষ বিবেচনা: ভিজিটর ভিসায় কানাডায় কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করার অনুমতি নেই।

    • সুপার ভিসা (Super Visa): এটি ভিজিটর ভিসার একটি বিশেষ ধরন, যা কানাডিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদি/নানা-নানিকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটানা ৫ বছর পর্যন্ত কানাডায় থাকার অনুমতি দেয় এবং ১০ বছর পর্যন্ত মাল্টিপল এন্ট্রি হতে পারে। এর জন্য কিছু অতিরিক্ত আর্থিক ও বীমার শর্ত থাকে।

২. আবেদন প্রক্রিয়া (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে - অনলাইন আবেদন):

কানাডার ভিজিটর ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরাসরি কানাডিয়ান হাইকমিশনে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই; সমস্ত কাজ কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC) - VFS Global-এর মাধ্যমে হয়।

  • ধাপ ১: অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি:

    • কানাডা সরকারের ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) এর অফিসিয়াল পোর্টালে (Canada.ca) একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

  • ধাপ ২: যোগ্যতা মূল্যায়ন (Come to Canada tool):

    • IRCC ওয়েবসাইটে "Come to Canada" টুল ব্যবহার করে আপনার ভিসার যোগ্যতার প্রাথমিক মূল্যায়ন করুন। এর ভিত্তিতে আপনি কোন ভিসার জন্য যোগ্য, তা জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের একটি ব্যক্তিগত চেকলিস্ট তৈরি হবে।

  • ধাপ ৩: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ:

    • আপনার IRCC অ্যাকাউন্টে লগইন করে ভিজিটর ভিসার জন্য অনলাইন আবেদন ফরমটি (Application for Visitor Visa (IMM 5257)) নির্ভুলভাবে এবং সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। এছাড়া, Schedule 1 (IMM 5257B_1) এবং Family Information Form (IMM 5707) পূরণ করতে হতে পারে।

  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড:

    • আপনার ব্যক্তিগত চেকলিস্ট অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি (PDF, JPEG, TIFF ফরম্যাটে) অনলাইনে আপলোড করুন। (বিস্তারিত নিচে দেখুন)

  • ধাপ ৫: ভিসা ফি পরিশোধ:

    • অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ভিসা ফি (সাধারণত CAD $100 প্রতি ব্যক্তি) পরিশোধ করুন। একটি পরিবারের জন্য (৫ জন বা তার বেশি একই সময়ে আবেদন করলে) সর্বোচ্চ ফি CAD $500। ভিসা আবেদন বাতিল হলে ফি ফেরতযোগ্য নয়।

  • ধাপ ৬: আবেদন জমা দেওয়া ও বায়োমেট্রিক্স নির্দেশনা (Biometric Instruction Letter - BIL):

    • সকল তথ্য ও নথি যাচাই করার পর আবেদন জমা দিন। আবেদন জমা দেওয়ার পর, আপনি একটি বায়োমেট্রিক ইনস্ট্রাকশন লেটার (BIL) পাবেন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • ধাপ ৭: বায়োমেট্রিক্স জমা দেওয়া:

    • BIL পাওয়ার পর আপনাকে VFS Global-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে বায়োমেট্রিক্সের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। বাংলাদেশে VFS Global-এর ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামে অফিস রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনে BIL, পাসপোর্ট এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন নিয়ে উপস্থিত হয়ে আপনার ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক, যদি না আপনি গত ১০ বছরের মধ্যে কানাডার ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক্স দিয়ে থাকেন।

  • ধাপ ৮: ভিসার সিদ্ধান্ত এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়া:

    • বায়োমেট্রিক্স জমা দেওয়ার পর, IRCC আপনার আবেদন প্রক্রিয়া করবে। যদি ভিসা অনুমোদিত হয়, তাহলে আপনি একটি পাসপোর্ট রিকোয়েস্ট লেটার (Passport Request Letter) পাবেন। এই লেটার এবং আপনার মূল পাসপোর্ট VFS Global-এ জমা দিতে হবে যাতে আপনার পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করা যায়।

  • ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ:

    • ভিসা স্ট্যাম্প হওয়ার পর, VFS Global থেকে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

    ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়: কানাডার ভিজিটর ভিসার প্রক্রিয়াকরণের সময় বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে, যেমন আবেদনের ধরন, আবেদন সম্পূর্ণ কিনা, তথ্য যাচাই করতে কত সময় লাগে, এবং ভিসা অফিসের কাজের চাপ। বর্তমানে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিটর ভিসার জন্য ১ থেকে ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বায়োমেট্রিক্সের সময় এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ তালিকা):

কানাডার ভিজিটর ভিসার জন্য আবেদন করতে নিম্নলিখিত নথিগুলি সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট:

    • পাসপোর্টের মেয়াদ কানাডা থেকে আপনার প্রস্তাবিত প্রস্থান তারিখের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।

    • পাসপোর্টের বায়ো-ডেটা পৃষ্ঠার (ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত পৃষ্ঠা) এবং ব্যবহৃত সকল পৃষ্ঠার স্পষ্ট স্ক্যান কপি।

    • সকল পুরানো পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।

  • পাসপোর্ট আকারের ছবি:

    • সাম্প্রতিক (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়) ২ কপি ডিজিটাল পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা বা হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে, উচ্চ রেজোলিউশন, 35mm x 45mm)। মুখমণ্ডল যেন ফ্রেমের ৭০-৮০% দখল করে।

  • পূরণকৃত অনলাইন আবেদন ফরম:

    • IMM 5257, IMM 5257B_1 (যদি প্রয়োজন হয়) এবং IMM 5707 (Family Information Form)।

  • কভারিং লেটার:

    • আবেদনকারীর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত কভারিং লেটার, যেখানে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, তারিখ, ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচের জন্য কে দায়ী থাকবে (নিজস্ব বা স্পনসর) এবং কানাডায় আপনার থাকা, ভ্রমণ ও সময়মতো দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তা উল্লেখ থাকবে।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যাতে পর্যাপ্ত তহবিল দেখা যায়, যা কানাডায় আপনার থাকা ও ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা প্রমাণ করে)।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

    • অন্যান্য আর্থিক সম্পদের প্রমাণ (যেমন: ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ, সঞ্চয়পত্র, সম্পত্তির দলিলপত্র ইত্যাদি)।

    • যদি অন্য কেউ স্পনসর করেন: স্পনসরশিপ লেটার, স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, তার পরিচয়পত্রের কপি এবং কানাডার সাথে তার স্ট্যাটাসের প্রমাণ (যেমন: স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা নাগরিকত্বের প্রমাণ)।

  • পেশার প্রমাণ:

    • চাকরিজীবী: নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার/নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) যেখানে আপনার পদ, যোগদানের তারিখ, বেতন, দায়িত্ব এবং ভ্রমণের জন্য ছুটির মঞ্জুরি উল্লেখ থাকবে। গত ৬ মাসের বেতন স্লিপ।

    • ব্যবসায়ী: হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি (ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারাইজড), ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভিজিটিং কার্ড, চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যতা সনদ।

    • শিক্ষার্থী: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র (NOC), ভর্তির প্রমাণ।

    • অবসরপ্রাপ্ত: পেনশন বই বা অবসরকালীন ভাতার প্রমাণপত্র।

  • ভ্রমণ পরিকল্পনা:

    • বিস্তারিত ভ্রমণসূচী (Day-to-day itinerary), যা আপনার কানাডায় অবস্থানের পরিকল্পনা তুলে ধরে।

    • হোটেল/আবাসনের রিজার্ভেশনের প্রমাণ (পুরো থাকার সময়কালের জন্য)।

    • ফ্লাইট রিজার্ভেশন (আসা-যাওয়ার নিশ্চিত টিকিট)। গুরুত্বপূর্ণ: ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত টিকিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • বৈবাহিক অবস্থা ও পারিবারিক বন্ধনের প্রমাণ:

    • বিবাহ সনদ (যদি বিবাহিত হন), সন্তানদের জন্ম সনদ (যদি থাকে)। এটি দেশে আপনার পারিবারিক বন্ধন প্রমাণ করে, যা ফেরত আসার ইচ্ছাকে সমর্থন করে।

  • সম্পত্তির দলিলপত্র:

    • জমি বা স্থাবর সম্পত্তির দলিলপত্র, যা আপনার দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতাকে শক্তিশালী করে।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (কিছু ক্ষেত্রে চাওয়া হতে পারে)।

  • আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা (সুপার ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক)।

নথি সংক্রান্ত টিপস: সকল নথি ইংরেজিতে অনূদিত ও নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে, যদি মূল নথি বাংলায় থাকে। স্ক্যান করা নথিগুলির গুণমান ভালো হতে হবে যাতে স্পষ্টভাবে পড়া যায়। প্রতিটি নথির ফাইল সাইজ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

৪. আবেদনের স্থান (বাংলাদেশে দূতাবাস):

বাংলাদেশে কানাডার কোনো পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস বা হাইকমিশন নেই যা সরাসরি ভিসা আবেদন গ্রহণ করে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার জন্য কানাডা সরকারের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়ক পোর্টাল (IRCC) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

  • কানাডিয়ান হাইকমিশন, ঢাকা: কানাডার একটি হাইকমিশন ঢাকায় রয়েছে, তবে এটি মূলত কূটনৈতিক ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করে, সরাসরি ভিসা আবেদন গ্রহণ করে না।

    • ঠিকানা: ইউনাইটেড নেশনস রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

    • ফোন: +880 2 5566 8444

    • ওয়েবসাইট: www.canadainternational.gc.ca/bangladesh (ওয়েবসাইটে ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য IRCC ওয়েবসাইটে রেফার করা থাকে)।

ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC) - VFS Global: বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক্সের জন্য VFS Global-এর পরিষেবা নিতে হয়, যা কানাডা সরকারের অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান।

  • VFS Global, ঢাকা:

    • ঠিকানা: ডেল্টা লাইফ টাওয়ার, ৪র্থ তলা, প্লট # ৩৭, রোড # ৯০, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ।

    • ওয়েবসাইট: https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/can/

৫. পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন:

যেহেতু বাংলাদেশে VFS Global-এর মাধ্যমে এবং IRCC-এর অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে, তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।

৬. ই-ভিসা (e-Visa):

কানাডা সরাসরি "ই-ভিসা" বলতে একটি পৃথক ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট বোঝায় না যা প্রিন্ট করে নিয়ে যাওয়া যায়। বরং, কানাডার ভিসা প্রক্রিয়া অনেকটাই অনলাইন-ভিত্তিক। অর্থাৎ, আবেদন, নথি জমা দেওয়া এবং ফি পরিশোধ সবই অনলাইনে হয়। ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনার পাসপোর্টে একটি স্টিকার ভিসা লাগানো হয়।

কিছু দেশের জন্য কানাডা "ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA)" নামক একটি ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমতি ইস্যু করে, যা ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশের নাগরিকরা eTA-এর জন্য যোগ্য নন, তাদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে TRV (ভিজিটর ভিসা) নিতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যেকোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা এজেন্ট যারা কানাডার জন্য "ই-ভিসা" বা "সহজ ভিসা" এর প্রস্তাব দেয়, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। সবসময় কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Canada.ca) এবং VFS Global-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

সম্মানিত পাঠকের প্রতি অনুরোধ রইল, ভিসা আবেদন করার সময় কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (Canada.ca) এবং VFS Global-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করবেন, কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি, ভিসার ক্যাটাগরি, মেয়াদ এবং শর্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল উৎস ব্যবহার করুন এবং যেকোনো প্রকার দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিজের আবেদন নিজে পূরণ করার চেষ্টা করুন অথবা বিশ্বস্ত এবং নিবন্ধিত ভিসা কনসালটেন্সি সংস্থার সাহায্য নিন।


GRAMEEN TOURS & Travels

Whatsapp: 01336-556033

 Email: grameentour@gmail.com

www.grameentour.com

সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মিশরের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে।

 বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মিশরের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে শর্তসাপেক্ষে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ থাকলেও, বর্তমানে কিছু কারণে সেই "ওকে-টু বোর্ড" অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধাটি স্থগিত করা হয়েছে। এর মানে হলো, এখন বাংলাদেশীদের মিশরে ভ্রমণের জন্য ঢাকাস্থ মিশর দূতাবাস থেকে আগে থেকেই স্টিকার ভিসা নিতে হবে

তবে, মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষে অন-অ্যারাইভাল ভিসার চুক্তিটি এখনো বলবৎ রয়েছে। এই শর্তটি হলো: সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশীদের পাসপোর্টে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য অথবা শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশের বৈধ ও ব্যবহৃত ভিসা অথবা রেসিডেন্স পারমিট থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলে তারা মিশরের যেকোনো বন্দর থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পেতে পারেন।

আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, মিশরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে ঢাকার মিশরীয় দূতাবাস থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া।

মিশর ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ কাগজপত্র (স্টিকার ভিসার জন্য):

সাধারণত মিশরীয় ভ্রমণ ভিসার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:

  • বৈধ পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। পুরনো পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও সাথে রাখতে পারেন।

  • ভিসা আবেদনপত্র: সঠিকভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষর করা ভিসা আবেদনপত্র।

  • ছবি: ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, সাম্প্রতিক তোলা - ৬ মাসের বেশি পুরনো না)।

  • আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ:

    • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (গত ৬ মাসের, নূন্যতম ৩-৫ লক্ষ টাকা ব্যালেন্স সহ)। ব্যাংক থেকে স্টেটমেন্টের উপর স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষর করানো থাকতে হবে।

    • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

  • পেশাগত প্রমাণপত্র:

    • ব্যবসায়ীদের জন্য: ট্রেড লাইসেন্স (ইংরেজিতে অনুবাদ সহ নোটারি করা কপি), কোম্পানির প্যাড এবং ভিজিটিং কার্ড।

    • চাকুরীজীবীদের জন্য: অফিস থেকে NOC (No Objection Certificate) লেটার, ভিজিটিং কার্ড এবং অফিসের আইডি কার্ডের কপি।

    • শিক্ষার্থীদের জন্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র, আইডি কার্ডের কপি।

  • ভ্রমণ পরিকল্পনা:

    • বিমান টিকিটের কপি (রাউন্ড ট্রিপ)।

    • হোটেল রিজার্ভেশন বা আবাসনের প্রমাণ।

    • সম্পূর্ণ ভ্রমণপথ (Itinerary)।

  • অন্যান্য কাগজপত্র:

    • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

    • যদি সাথে স্ত্রী/স্বামী থাকেন: তাদের পাসপোর্ট, ছবি, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি, ম্যারেজ সার্টিফিকেট।

    • যদি সাথে বাচ্চা থাকে: তাদের পাসপোর্ট, ছবি, জন্ম সনদ ও স্কুলের আইডি কার্ডের কপি।

    • ট্যাক্স রিটার্ন ডকুমেন্টস (যদি থাকে)।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময় এবং খরচ:

  • প্রক্রিয়াকরণের সময়: সাধারণত ১০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে, তবে এটি দূতাবাসের কাজের চাপ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে, যদি ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়।

  • ভিসা ফি: সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য প্রায় ২৯ মার্কিন ডলার। তবে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার জন্য ফি ভিন্ন হতে পারে। কিছু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে সার্ভিস চার্জ সহ মোট ৮,০০০ টাকা বা এর বেশি খরচ হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • মিশর ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে ঢাকার মিশরীয় দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করে ভিসার সর্বশেষ নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। ভিসা সংক্রান্ত নিয়মাবলী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

  • অনেক এজেন্সি আছে যারা ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে, তবে সব তথ্য যাচাই করে তাদের মাধ্যমে আবেদন করা উচিত।

  • যদি আপনার পাসপোর্টে উল্লিখিত দেশগুলির (জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশ) বৈধ ও ব্যবহৃত ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকে, তাহলে মিশরের অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার জন্য আপনি যোগ্য হতে পারেন। তবে, এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরাসরি মিশরের দূতাবাস বা এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করুন।

ঢাকার মিশরীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের তথ্য

ঢাকায় মিশরীয় (ইজিপ্টিয়ান) দূতাবাসের যোগাযোগের তথ্য নিচে দেওয়া হলো:


📍 ঠিকানা

House No. 9, Road 90, Gulshan 2, Dhaka 1212, Bangladesh 

☎️ ফোন নম্বর

+88 02‑885 8737‑39 (মূল সিরিজ) 
আরও জরুরি নম্বর: +88 02‑22293999

📠 ফ্যাক্স

+88 02‑885 8747 

📧 ইমেইল

egypt.emb.dhaka@mfa.gov.eg 
internet_unit@hotmail.com 


🕘 অফিস সময়

  • সোমবার–বৃহস্পতিবার: 9:00 এম – ৪:০০ পি এম (বাংলাদেশ ও মিশরের সরকারি ছুটির দিন পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হতে পারে) visathing.com

  • শুক্রবার–শনিবার বন্ধ (রবিবার খোলা)


✨ সংক্ষিপ্ত পরামর্শ

  • যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে +88 02‑22293999 এ কল দিন।

  • নিয়মিত প্রসেস ও সাধারণ যোগাযোগে প্রধান নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করুন।

  • ছুটির দিন বা বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে আগেই কল করে নিশ্চিত হন।


আপনি যদি দূতাবাসে কোন নির্দিষ্ট সেবা (যেমন: ভিসা আবেদন, নাগরিক সেবা, নথিপত্র নোটারাইজেশন) নিয়ে যোগাযোগ করতে চান, আমাকে জানিয়ে দিন—আমি আপনাকে সঠিক বিভাগ বা পদ্ধতি জানিয়ে দিব।

বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মিশরের কাজের ভিসা

 বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মিশরের কাজের ভিসা


বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য মিশরের কাজের ভিসা পাওয়া একটি তুলনামূলকভাবে জটিল প্রক্রিয়া। এটি ভ্রমণ ভিসার মতো নয়, যেখানে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করা হয়। কাজের ভিসার জন্য সাধারণত মিশরের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব (job offer) এবং তাদের পক্ষ থেকে স্পনসরশিপের প্রয়োজন হয়।

এখানে মিশরীয় কাজের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. নিয়োগকর্তার ভূমিকা: মিশরে কাজ করার জন্য, একজন বাংলাদেশী নাগরিককে অবশ্যই একজন মিশরীয় নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ চাকরির প্রস্তাব পেতে হবে। এই নিয়োগকর্তা সাধারণত ভিসা প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন। মিশরের শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো স্থানীয় নাগরিকের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব নয়, এমন পদের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে।

২. কাজের ভিসার প্রকারভেদ ও প্রক্রিয়া: মিশরে কাজের ভিসাকে প্রায়শই "Employment Visa" বা "Work Visa" বলা হয়। এর পাশাপাশি একটি "Work Permit" বা কাজের অনুমতিও নিতে হয়, যা মিশরের শ্রম মন্ত্রণালয় (Ministry of Manpower) থেকে জারি করা হয়। এই দুটি আলাদা হলেও প্রক্রিয়াটি প্রায়শই সংযুক্ত থাকে।

সাধারণত প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ হয়:

  • চাকরির প্রস্তাব: প্রথমে মিশরের কোনো কোম্পানি থেকে চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগপত্র (Job Offer/Appointment Letter) পেতে হবে।

  • প্রাথমিক প্রবেশ: অনেক ক্ষেত্রে, বিদেশী কর্মীরা প্রথমে একটি ট্যুরিস্ট ভিসায় মিশরে প্রবেশ করেন।

  • ভিসা আপগ্রেডেশন ও ওয়ার্ক পারমিট: মিশরে প্রবেশের পর, নিয়োগকর্তা কর্মীর হয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেন। ট্যুরিস্ট ভিসাকে তখন কাজের ভিসায় (Employment Visa) রূপান্তরিত করা হয়। ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে এবং তিন বছরের জন্য নবায়ন করা যায়।

  • সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স: একজন বিদেশী কর্মীর জন্য মিশরের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া বাধ্যতামূলক। এই ধাপে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

  • মেডিকেল পরীক্ষা: মিশরীয় ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কিছু নির্দিষ্ট মেডিকেল পরীক্ষা জমা দিতে হয়, যার মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে): মিশরীয় দূতাবাস, ঢাকা থেকে স্টিকার ভিসার জন্য আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত সাধারণ কাগজপত্রগুলো লাগতে পারে, তবে কাজের ভিসার জন্য অতিরিক্ত এবং সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে:

সাধারণ কাগজপত্র:

  • বৈধ পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। পুরনো পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও সংযুক্ত করতে হবে।

  • ভিসা আবেদনপত্র: সঠিকভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষর করা ভিসা আবেদনপত্র।

  • ছবি: ২ কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ম্যাট প্রিন্ট, সাম্প্রতিক তোলা - ৬ মাসের বেশি পুরনো নয়)।

  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড (NID) এর কপি।

  • ব্যক্তিগত ব্যাংক স্টেটমেন্ট: গত ৬ মাসের, নূন্যতম ৩-৫ লক্ষ টাকা ব্যালেন্স সহ। (যদিও কাজের ভিসার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ মুখ্য, ব্যক্তিগত আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণও চাওয়া হতে পারে)।

  • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

কাজের ভিসার জন্য অতিরিক্ত ও নির্দিষ্ট কাগজপত্র:

  • নিয়োগপত্র/চাকরির চুক্তি (Employment Contract/Job Offer Letter): মিশরের নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত মূল নিয়োগপত্র, যেখানে পদের নাম, বেতন, কাজের সময়কাল এবং অন্যান্য শর্তাবলী স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে।

  • নিয়োগকর্তার আমন্ত্রণপত্র (Letter of Invitation from the host organization in Egypt): নিয়োগকর্তার লেটারহেডে লেখা আমন্ত্রণপত্র, যেখানে আবেদনকারীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, পদের নাম, মিশরে আসার উদ্দেশ্য এবং তার কাজের বিবরণ থাকবে।

  • মিশরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন: নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন বা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রমাণপত্র।

  • নিয়োগকারী কোম্পানির কাগজপত্র:

    • কোম্পানির নিবন্ধন শংসাপত্র (Company Registration Certificate)।

    • ট্যাক্স নিবন্ধন (Tax Registration) সংক্রান্ত কাগজপত্র।

    • নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার, যেখানে আবেদনকারীর নিয়োগের কারণ এবং পদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ থাকবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র: সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের মূল কপি এবং ইংরেজিতে অনুবাদ করা নোটারি করা কপি।

  • অভিজ্ঞতার সনদপত্র: পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র (যদি থাকে)।

  • জীবনবৃত্তান্ত (CV/Resume): বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত।

  • মেডিকেল সার্টিফিকেট: মিশরীয় দূতাবাস বা নির্দিষ্ট অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট, যেখানে শারীরিক সুস্থতার প্রমাণ এবং এইচআইভি পরীক্ষার ফলাফল থাকবে।

  • বিআইডিএ/বেপজা (BIDA/BEPZA) থেকে সুপারিশপত্র: যদি বাংলাদেশের কোনো সংস্থা বা সরকারি প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে নিয়োগ হয়।

৪. ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় এবং খরচ:

  • প্রক্রিয়াকরণের সময়: কাজের ভিসার প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ হতে পারে। প্রাথমিক আবেদন, সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন - সব মিলিয়ে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস (২-৩ মাস বা তারও বেশি) সময় লাগতে পারে।

  • ভিসা ফি: কাজের ভিসার জন্য ফি সাধারণত ভ্রমণ ভিসার চেয়ে বেশি হয়। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করে সঠিক ফি সম্পর্কে জানতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা এই খরচ বহন করেন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • মিশরীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ: সবচেয়ে নির্ভুল এবং আপডেটেড তথ্যের জন্য ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা অপরিহার্য। ভিসা সংক্রান্ত নিয়মাবলী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

  • সতর্কতা: মিশর বা অন্য কোনো দেশে কাজের ভিসার প্রলোভনে পড়ে কোনো অসাধু চক্রের ফাঁদে পা দেবেন না। কাজের জন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করার আগে সেই এজেন্সির বৈধতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করে নিন। নিয়োগকর্তার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে কোনো অর্থ লেনদেন করবেন না।

  • আইনি সহায়তা: যদি সম্ভব হয়, কাজের ভিসার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ কোনো অভিবাসন আইনজীবী বা পরামর্শকের সহায়তা নিতে পারেন।

মিশরে কাজের ভিসা পাওয়া একটি বিস্তারিত এবং নিয়মভিত্তিক প্রক্রিয়া। সঠিক কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনুসরণ করলে ভিসাপ্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ে।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

5 ক্যাটাগরির কাজ এবং প্রাদেশিক নমিনি প্রোগ্রাম (PNP)

 কানাডার প্রতিটি প্রদেশ ও টেরিটরির (কুইবেক বাদে) নিজস্ব প্রাদেশিক নমিনি প্রোগ্রাম (Provincial Nominee Program - PNP) রয়েছে, যা তাদের নির্দিষ্ট শ্রমবাজারের চাহিদা মেটায়। TEER 4 এবং TEER 5 এর কাজগুলো বিভিন্ন প্রদেশের PNP স্ট্রীমগুলির মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের (Permanent Residence) পথ খুলে দিতে পারে।

এখানে কিছু প্রদেশ এবং তাদের TEER 4 ও TEER 5 (আগের NOC C ও D) ক্যাটাগরির কাজগুলোর জন্য প্রাসঙ্গিক PNP স্ট্রীমগুলির একটি সাধারণ চিত্র দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, PNP স্ট্রীমগুলোর যোগ্যতা এবং শর্তাবলী নিয়মিত পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বদা সংশ্লিষ্ট প্রদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা অপরিহার্য।

TEER 4 এবং TEER 5 ক্যাটাগরির কাজ এবং প্রাদেশিক নমিনি প্রোগ্রাম (PNP)

সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

  • ভাষা: TEER 4/5 কাজের জন্য সাধারণত TEER 0, 1, 2, 3 এর মতো উচ্চ CLB (Canadian Language Benchmark) স্কোরের প্রয়োজন হয় না। তবে, অন্তত CLB 4 বা CLB 5 (কিছু ক্ষেত্রে CLB 6) স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, যা কাজের ধরনের ওপর নির্ভরশীল।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত হাই স্কুল ডিপ্লোমা, শর্ট কলেজ ডিপ্লোমা বা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে চাকরির জন্য প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা আবশ্যক।

  • কাজের ক্ষেত্র: এই ক্যাটাগরির কাজগুলো সাধারণত সার্ভিস সেক্টর, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন এবং আতিথেয়তা (Hospitality) শিল্পে বেশি দেখা যায়।

প্রদেশ অনুযায়ী বিবেচনা:

  1. আলবার্টা (Alberta - AINP):

    • Alberta Express Entry Stream: কিছু TEER 4/5 পেশার জন্য যোগ্য হতে পারে যদি আবেদনকারীর এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল থাকে এবং আলবার্টার শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ হয়।

    • Alberta Opportunity Stream: যারা আলবার্টায় বৈধ ওয়ার্ক পারমিটে কাজ করছেন এবং নির্দিষ্ট TEER লেভেলের চাকরির প্রস্তাব আছে, তারা এই স্ট্রীমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। কিছু TEER 4/5 পেশা এই স্ট্রীমের আওতাভুক্ত।

  2. ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (British Columbia - BC PNP):

    • Skills Immigration - Entry Level and Semi-Skilled (ELSS) Stream: এটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নির্দিষ্ট কিছু TEER 4/5 পেশার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, বিশেষ করে পর্যটন/আতিথেয়তা (tourism/hospitality), দীর্ঘমেয়াদী কেয়ার এইড (long-haul trucking), এবং উত্তর-পূর্ব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (Northeast BC) অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু পেশার জন্য।

    • BC PNP Tech Pilot: যদিও এটি মূলত উচ্চ-দক্ষতার (high-skilled) জন্য, কিছু TEER 2 বা 3 পদের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, সরাসরি TEER 4/5 এর জন্য নয়।

  3. ম্যানিটোবা (Manitoba - MPNP):

    • Skilled Worker in Manitoba Stream: যারা ম্যানিটোবায় বৈধ ওয়ার্ক পারমিটে কাজ করছেন, তাদের চাকরির প্রস্তাব বা নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এই স্ট্রীমের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। TEER 4/5 পদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

    • Skilled Worker Overseas Stream: এই স্ট্রীমের অধীনে কিছু TEER 4/5 পেশার জন্য আবেদন করা যায়, বিশেষ করে যদি আবেদনকারীর ম্যানিটোবায় শক্তিশালী সংযোগ (যেমন- পরিবার বা পূর্বের শিক্ষা/কাজের অভিজ্ঞতা) থাকে।

  4. নিউ ব্রান্সউইক (New Brunswick - NBPNP):

    • Skilled Worker Stream: নিউ ব্রান্সউইকের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ চাকরির প্রস্তাব (TEER 0, 1, 2, 3, 4, 5) থাকলে আবেদন করা যায়। কিছু TEER 4/5 পদের জন্য এটি কার্যকর।

    • NB Express Entry Stream: এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইলধারীদের জন্য, যারা নিউ ব্রান্সউইকের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করেন।

  5. নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর (Newfoundland and Labrador - NLPNP):

    • Skilled Worker Stream: প্রদেশের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ চাকরির প্রস্তাব (TEER 0, 1, 2, 3, 4, 5) থাকলে আবেদন করা যায়।

    • Atlantic Immigration Program (AIP): এটি একটি ফেডারেল প্রোগ্রাম হলেও, আটলান্টিক প্রদেশের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব থাকলে (TEER 0, 1, 2, 3, 4) আবেদন করা যায়। এই প্রোগ্রামটি তুলনামূলকভাবে কম দক্ষ (lower-skilled) কর্মীদের জন্য একটি ভালো সুযোগ।

  6. নোভা স্কশিয়া (Nova Scotia - NSNP):

    • Nova Scotia Labour Market Priorities Stream: নির্দিষ্ট TEER স্তরের পেশার জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইলধারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, যার মধ্যে TEER 4/5ও থাকতে পারে যদি প্রদেশের চাহিদা থাকে।

    • Occupations in Demand Stream: নির্দিষ্ট কিছু TEER 4/5 পেশার জন্য, যাদের নোভার স্কশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব আছে।

    • Atlantic Immigration Program (AIP): নিউফাউন্ডল্যান্ডের মতোই, নোভার স্কশিয়াতেও এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে TEER 0-4 ক্যাটাগরির কাজের জন্য আবেদন করা যায়।

  7. অন্টারিও (Ontario - OINP):

    • Employer Job Offer: In-Demand Skills Stream: এটি বিশেষভাবে TEER 4/5 (পূর্বে NOC C/D) এর নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেমন - এগ্রিকালচার, কনস্ট্রাকশন, হাউসকিপিং, লং-হল ট্রাকিং। এক্ষেত্রে অন্টারিওতে চাকরির প্রস্তাব আবশ্যক।

    • Employer Job Offer: International Student Stream: অন্টারিও থেকে স্নাতক হয়ে TEER 4/5 এর চাকরির প্রস্তাব পেলেও আবেদন করা যায়।

  8. সাসকাচুয়ান (Saskatchewan - SINP):

    • International Skilled Worker - Occupations In-Demand Stream: নির্দিষ্ট কিছু TEER 4/5 পেশা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    • Saskatchewan Experience - Semi-Skilled Agriculture Worker Stream / Hospitality Sector Project: এই স্ট্রীমগুলো নির্দিষ্ট TEER 4/5 পেশার জন্য যারা সাসকাচুয়ানে কাজ করছেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী:

  • চাকরির প্রস্তাব (Job Offer): TEER 4/5 ক্যাটাগরির বেশিরভাগ PNP স্ট্রীমের জন্য কানাডিয়ান নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি বৈধ এবং পূর্ণকালীন চাকরির প্রস্তাব থাকা প্রায়শই বাধ্যতামূলক। এই চাকরির প্রস্তাব LMIA ভিত্তিক হতে পারে, অথবা LMIA-মুক্তও হতে পারে (যদি PNP স্ট্রীমের নিয়মে LMIA প্রয়োজন না হয়)।

  • ভাষা দক্ষতা: যদিও TEER 4/5 এর জন্য ভাষার প্রয়োজনীয়তা কম থাকে, তবুও প্রতিটি প্রদেশের নিজস্ব ন্যূনতম CLB (Canadian Language Benchmark) স্কোর থাকতে পারে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: কিছু স্ট্রীমের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ট্রেনিং চাওয়া হতে পারে।

  • প্রতারণা থেকে সাবধান: কোনো এজেন্সি যদি চাকরির প্রস্তাব বা LMIA এর বিনিময়ে অর্থ চায়, তবে এটি একটি প্রতারণা। কানাডার আইনে এটি অবৈধ। নিয়োগকর্তা বা এজেন্সিকে কোনো ধরনের ফি দেবেন না।

আপনার ওয়েবসাইট www.grameentour.com এর জন্য এই তথ্যগুলো খুব সহায়ক হবে। দর্শকদের সর্বদা প্রতিটি প্রদেশের অফিসিয়াল PNP ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ এবং সবচেয়ে সঠিক তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেবেন।

শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫

কানাডায় কাজের ভিসা (Work Permit) - বিস্তারিত তথ্য

 

কানাডায় কাজের ভিসা (Work Permit) - বিস্তারিত তথ্য

কানাডায় কাজ করার জন্য সাধারণত একটি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit) প্রয়োজন হয়। এটি কানাডায় সাময়িকভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এবং নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের (Permanent Residence) জন্য আবেদন করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কাজের ভিসার প্রধান প্রকারভেদ ও প্রক্রিয়া:

  1. লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (LMIA) ভিত্তিক ওয়ার্ক পারমিট:

    • LMIA কী? কানাডিয়ান নিয়োগকর্তারা যখন বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চান, তখন তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কানাডা (ESDC) থেকে একটি LMIA নিতে হয়। এটি একটি ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ মতামত নির্দেশ করে যে, কানাডায় কোনো যোগ্য কানাডিয়ান কর্মী এই পদের জন্য উপলব্ধ নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কানাডার শ্রমবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

    • প্রক্রিয়া:

      • একজন কানাডিয়ান নিয়োগকর্তাকে প্রথমে LMIA-এর জন্য আবেদন করতে হবে এবং এটি সফলভাবে পেতে হবে।

      • নিয়োগকর্তা যদি ইতিবাচক LMIA পান, তবে তারা একজন বিদেশি কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব (Job Offer) দিতে পারেন।

      • এই LMIA এবং চাকরির প্রস্তাবের ভিত্তিতে আপনি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

  2. LMIA-মুক্ত ওয়ার্ক পারমিট (LMIA-Exempt Work Permit):

    • কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে LMIA ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়। এর কারণ হতে পারে আন্তর্জাতিক চুক্তি, কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থ, অথবা নির্দিষ্ট কিছু কাজের ধরন।

    • উদাহরণস্বরূপ:

      • ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রাম (IMP): এই প্রোগ্রামের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির কর্মীরা LMIA ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট পান, যেমন - মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে আসা কর্মী, আন্তঃকোম্পানি স্থানান্তর (intra-company transferees), কানাডার উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সুবিধা প্রদানকারী কর্মী।

      • পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP): যারা কানাডার একটি অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারা এই ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হতে পারেন। এটি LMIA-মুক্ত এবং কর্মীকে যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার সুযোগ দেয়।

      • কুইবেক সিলেকশন সার্টিফিকেট (CSQ): কুইবেক প্রদেশের নিজস্ব অভিবাসন প্রোগ্রাম রয়েছে। কুইবেকে কাজ করতে আগ্রহী কর্মীরা কুইবেক সরকারের কাছ থেকে CSQ নিয়ে LMIA-মুক্ত ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।

কাজের ভিসার জন্য সাধারণ প্রয়োজনীয়তা ও কাগজপত্র:

  • বৈধ পাসপোর্ট: কানাডায় থাকার পুরো সময়কালের জন্য মেয়াদ থাকতে হবে।

  • চাকরির প্রস্তাব: কানাডিয়ান নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি বৈধ চাকরির প্রস্তাব (Job Offer)।

  • LMIA-এর কপি: যদি LMIA ভিত্তিক ওয়ার্ক পারমিট হয়, তাহলে নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রাপ্ত LMIA-এর কপি।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র: আপনার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র। কিছু ক্ষেত্রে এডুকেশনাল ক্রেডেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট (ECA) প্রয়োজন হতে পারে।

  • কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র: পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে কাজের অভিজ্ঞতা সনদ, রেফারেন্স লেটার, বেতন স্লিপ ইত্যাদি।

  • ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র: ইংরেজি (IELTS বা CELPIP) অথবা ফরাসি (TEF বা TCF) ভাষার দক্ষতার প্রমাণ। কানাডায় কাজের জন্য অধিকাংশ প্রোগ্রামে একটি নির্দিষ্ট ভাষার স্কোর প্রয়োজন হয়।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: আপনার নিজ দেশে এবং গত ১০ বছরের মধ্যে ৬ মাস বা তার বেশি সময় বসবাস করেছেন এমন যেকোনো দেশে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই তার প্রমাণ।

  • মেডিকেল পরীক্ষা: কানাডা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্যানেল ফিজিশিয়ান দ্বারা মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হবে।

  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: কানাডায় আপনার প্রাথমিক জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রমাণ।

  • ভিজিট ভিসা আবেদন ফর্ম: সঠিকভাবে পূরণ করা এবং স্বাক্ষরিত আবেদন ফর্ম।

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি: কানাডার ভিসা ছবির নিয়মাবলী মেনে তোলা সাম্প্রতিক ছবি।

  • ভিসা আবেদন ফি: নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধের প্রমাণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী:

  • সতর্ক থাকুন, দালাল এড়িয়ে চলুন: কানাডার ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়ায় কোনো "এজেন্ট" বা দালাল নেই। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার বা নিশ্চিত চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দেয়, তবে তাদের থেকে দূরে থাকুন। এটি প্রতারণা হতে পারে।

  • সততা ও নির্ভুলতা: আপনার আবেদনে প্রদত্ত সকল তথ্য অবশ্যই সত্য ও নির্ভুল হতে হবে। মিথ্যা তথ্য বা জাল নথি জমা দিলে আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে এবং ভবিষ্যতে কানাডায় প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: কানাডা সরকারের ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.canada.ca/en/immigration-refugees-citizenship.html হলো কানাডার কাজের ভিসা সহ সকল ভিসা ও অভিবাসন তথ্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস। সকল আবেদনকারীকে সর্বদা এই ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য এবং প্রয়োজনীয়তাগুলো যাচাই করার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।

স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ইতালিতে যাওয়ার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা:

 ইতালি প্রতি বছর সীমিত সংখ্যক কোটার মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান (Self-employment) বা আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে। এই ভিসা "ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা" বা "Freelance Visa" নামেও পরিচিত হতে পারে, যা ইতালিতে থেকে দূর থেকে কাজ করার বা নিজের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেয়।

২০২৫ সালের Decreto Flussi তে স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ৭৩০টি কোটা নির্ধারিত আছে। এই কোটাটি তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায়, এটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক।

স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ইতালিতে যাওয়ার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা:

ইতালিতে স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ভিসা পেতে হলে বেশ কিছু কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. বিনিয়োগের প্রমাণ:

  • ইতালীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য, যারা ৫ লাখ ইউরোর কম নয় এমন নিজস্ব অর্থ ইতালিতে বিনিয়োগ করবেন এবং যার ফলে অন্তত তিনটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। এটি একটি উচ্চ মানদণ্ড এবং অনেকের জন্যই পূরণ করা কঠিন হতে পারে।

২. পেশাদার যোগ্যতা ও খ্যাতি:

  • উচ্চ খ্যাতিমান বা সুপরিচিত পেশাদার যোগ্যতার অধিকারী শিল্পী বা পেশাজীবীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর জন্য তাদের পেশাদার ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত পরিচিতি থাকতে হবে।

৩. আর্থিক সক্ষমতা:

  • ইতালিতে বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান থাকতে হবে। এর অর্থ হলো, আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইতালিতে নিজের খরচ চালাতে সক্ষম, এমনকি আপনার ব্যবসা শুরু হওয়ার আগেও।

৪. আবাসনের প্রমাণ:

  • ইতালিতে আপনার থাকার জন্য একটি আবাসনের ব্যবস্থা আছে তার প্রমাণ দিতে হবে। এটি ভাড়া চুক্তি বা মালিকানার দলিল হতে পারে।

৫. স্বাস্থ্য বীমা:

  • ইতালিতে বৈধ স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ থাকা বাধ্যতামূলক।

৬. অন্যান্য সাধারণ প্রয়োজনীয়তা:

  • বৈধ পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ সহ একটি বৈধ এবং আসল পাসপোর্ট।

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি: সাম্প্রতিক তোলা, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ২-৩টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

  • ভিসা আবেদন ফর্ম: পূরণকৃত এবং স্বাক্ষরিত ভিসা আবেদন ফর্ম।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: আপনার দেশে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই তার প্রমাণ।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: আপনার পেশার সাথে সম্পর্কিত ডিপ্লোমা, ডিগ্রি বা অন্যান্য যোগ্যতার প্রমাণপত্র।

  • ব্যবসায়িক পরিকল্পনা (Business Plan): আপনার প্রস্তাবিত ব্যবসা বা স্ব-কর্মসংস্থান প্রকল্পের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা, যেখানে আয়ের উৎস, সম্ভাব্য বাজার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকবে।

  • নুল্লা ওস্তা (Nulla Osta): ইতালির ইমিগ্রেশন অফিস থেকে প্রাপ্ত "নুল্লা ওস্তা" (No Objection Certificate)। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং এটি ছাড়া ভিসার আবেদন করা যাবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া (সাধারণ রূপরেখা):

  1. ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত: প্রথমে একটি বিস্তারিত এবং বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন।

  2. নুল্লা ওস্তার জন্য আবেদন: ইতালিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ভিত্তিতে "নুল্লা ওস্তা" এর জন্য আবেদন করতে হবে। এটি সাধারণত ইতালির সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্স বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হয়।

  3. কাগজপত্র সংগ্রহ: সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন এবং অনুবাদ ও নোটারাইজেশন (যদি প্রয়োজন হয়) সম্পন্ন করুন।

  4. ভিসার জন্য আবেদন: আপনার দেশের ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার জন্য আবেদন জমা দিন। অনেক ক্ষেত্রে VFS Global-এর মতো থার্ড-পার্টি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হয়।

  5. সাক্ষাৎকার: যদি প্রয়োজন হয়, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎকারে অংশ নিন।

  6. ভিসা অনুমোদন: ভিসা অনুমোদিত হলে, আপনি ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং আপনার স্ব-কর্মসংস্থান কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • প্রতারণা থেকে সাবধান: স্ব-কর্মসংস্থান ভিসা একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং অনেক দালাল বা জালিয়াত এই সুযোগে প্রতারণা করার চেষ্টা করে। সর্বদা সরাসরি দূতাবাস বা বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য নিন এবং কোনো প্রলোভনে পা দেবেন না।

  • আইনি পরামর্শ: সম্ভব হলে, ইতালীয় অভিবাসন আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

স্ব-কর্মসংস্থান ভিসা সাধারণত উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবী, উদ্যোক্তা বা বিশেষ দক্ষতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হয়। সাধারণ কাজের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য নয়।

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...