মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

জার্মানি ইউরোপের অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ।

 


জার্মানি সরকারিভাবে সংযুক্ত প্রজাতন্ত্রী জার্মানি ইউরোপের অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ। এটি ১৬টি রাজ্য নিয়ে গঠিত একটি সংযুক্ত ইউনিয়ন। এটি মধ্য ইউরোপ  পশ্চিম ইউরোপের একটি দেশ। এই দেশটি উত্তর সীমান্তে উত্তর সাগর  বাল্টিক সাগরের মাঝখানে এবং দক্ষিণে আল্পস পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত। জার্মানির পূর্ব সীমান্তে পোল্যান্ড  চেক প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সীমান্তে ফ্রান্স, লুক্সেমবুর্গ, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ড্‌স, উত্তর সীমান্তে ডেনমার্ক এবং দক্ষিণ সীমান্তে অস্ট্রিয়া  সুইজারল্যান্ড এবং অবস্থিত। জার্মানির ইতিহাস জটিল এবং এর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ, তবে ১৮৭১ সালের আগে এটি কোন একক রাষ্ট্র ছিল না। ১৮১৫ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত জার্মানি একটি কনফেডারেসি এবং ১৮০৬ সালের আগে এটি অনেকগুলি স্বতন্ত্র ও আলাদা রাজ্যের সমষ্টি ছিল।

আয়তনের দিক থেকে জার্মানি ইউরোপের ৭ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। উত্তর উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরের উপকূলীয় নিম্নভূমি থেকে মধ্যভাগের ঢেউ খেলানো পাহাড় ও নদী উপত্যকা এবং তারও দক্ষিণে ঘন অরণ্যাবৃত পর্বত ও বরফাবৃত আল্পস পর্বতমালা দেশটির ভূ-প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। দেশটির মধ্য দিয়ে ইউরোপের অনেকগুলি প্রধান প্রধান নদী যেমন রাইনদানিউবএলবে প্রবাহিত হয়েছে এবং দেশটিকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করেছে।

জার্মানিতে নগরায়নের হার অত্যন্ত উঁচু। বার্লিন দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। তবে প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানির রাজধানী বন শহরে এখনও বেশ কিছু সরকারী অফিস রয়েছে। জার্মান ভাষা এখানকার প্রধান ভাষা। দুই-তৃতীয়াংশ লোক হয় রোমান ক্যাথলিক অথবা প্রোটেস্টান্ট খ্রিস্টান।

জার্মানরা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বহু অবদান রেখেছে। জার্মানিতে বহু অসাধারণ লেখক, শিল্পী, স্থপতি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং দার্শনিক জন্মগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে সম্ভবত ইয়োহান সেবাস্টিয়ান বাখ ও লুডভিগ ফান বেটোফেন সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ফ্রিডরিশ নিৎসেইয়োহান ভোলফগাং ফন গোটে এবং টমাস মান জার্মান সাহিত্যের দিকপাল।

জার্মানি বিশ্বের একটি প্রধান শিল্পোন্নত দেশ। এটির অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , চীন ও জাপানের পরে বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম। জার্মানি লোহাইস্পাত, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং মোটরগাড়ি রপ্তানি করে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।

১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তি যুক্তরাজ্যমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত করে। মিত্র দেশগুলি দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে: ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যকার মিত্রতা ১৯৪০-এর দশকের শেষে ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকী তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে। যদিও জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অনেক অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তা সত্ত্বেও এটিকেও দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বহু লক্ষ পূর্ব জার্মান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার বার্লিনে একটি প্রাচীর তুলে দেয় এবং দেশের সীমান্ত জোরদার করে।

১৯৮৯ সালে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের বাসিন্দারা বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এই ঘটনাটিকে পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদের পতন ও জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর দুই জার্মানি একত্রিত হয়ে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র গঠন করে। তবে দুই জার্মানির ভিন্ন সংস্কৃতি ও রীতিনীতির মিলন একত্রিত জার্মানির সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি করে; উচ্চ বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস এদের মধ্যে অন্যতম।



জার্মানিয় জাতিগোষ্ঠীসমূহ

ধারণা করা হয় সুপ্রাচীন নর্ডীয় ব্রোঞ্জ যুগ অথবা প্রাক-রোমান লৌহ যুগে জার্মানিতে আদি জাতিগোষ্ঠীগুলোর বসবাস শুরু হয়েছে। দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং উত্তর জার্মানি থেকে এই গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসতি স্থাপন শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে। এই সম্প্রসারণের ফলে তারা গলের কেল্টীয় গোষ্ঠী এবং পূর্ব ইউরোপের ইরানীয়, বাল্টিক ও স্লাভিক গোষ্ঠীগুলোর সান্নিধ্যে আসে। জার্মানির সেই প্রাচীন ইতিহাস সম্বন্ধে খুব অল্পই জানা গেছে। এখন পর্যন্ত মানুষ যা জানতে পেরেছে তা হলো ঐ জাতিগুলোর সাথে রোমান সাম্রাজ্যের কিছু লিখিত যোগাযোগের দলিল প্রমাণাদির মাধ্যমে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এই তথ্যগুলোর অনেকাংশই উদ্‌ঘাটিত হয়েছে।

অগাস্টাসের রাজত্বকালে রোমান জেনারেল পুবলিয়াস কুইঙ্কটিলিয়াস ভ্যারাস জার্মানিয়াতে (রাইন থেকে উরাল পর্যন্ত অঞ্চলকে রোমানরা মাঝেমধ্যেই এই নামে ডাকতো) আগ্রাসন চালানো শুরু করে। এই আগ্রাসন চলাকালেই জার্মানির গোষ্ঠীগুলো রোমানদের যুদ্ধকৌশল সম্বন্ধে জানতে পারে। এই গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই রোমান যুদ্ধ কৌশলের অনেকাংশ রপ্ত করতে সক্ষম হয়।  খ্রিষ্টাব্দে টেউটোবুর্গ বনের যুদ্ধে জার্মানির চেরুস্কান নেতা আরমিনিউস, রোমান জেনারেল ভ্যারাসের নেতৃত্বে পরিচালিত নয় লেজিয়নের এক সৈন্যদলকে পরাজিত করে। এর ফলে আধুনিক জার্মানি তথা রাইন এবং দানিয়ুব রোমান সাম্রাজ্যের বাইরেই থেকে যায়।

বর্তমান জার্মানি অঞ্চলটি ৮৪৩ অব্দে ক্যারোলিঙ্গিয়ান সাম্রাজ্যের বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়। সাম্রাজ্যটিতে ফ্রান্সও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর বহু শতাব্দী যাবৎ জার্মানি ছিল দুর্বলভাবে একত্রিত জমিদারিভিত্তিক কতগুলি দেশের সমষ্টি। ১৬শ শতকের পর থেকে জার্মান রাষ্ট্রগুলি ইউরোপের যুদ্ধ ও ধর্মীয় সংঘাতে ক্রমশ বেশি করে জড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৯শ শতকের শুরুতে ফ্রান্স জার্মান রাষ্ট্রগুলি দখল করলে জাতিগতভাবে একত্রিত এক জার্মানির জন্য জনমত প্রবল হয় এবং ১৮১৫ সালে প্রুশিয়ার নেতৃত্বে জার্মান রাষ্ট্রগুলি একটি কনফেডারেশন গঠন করে, যা ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

১৮৭১ সালে অটো ফন বিসমার্কের অধীনে একত্রিত হবার পর জার্মানিতে দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানি ইউরোপে আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা চালালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ১৯১৮ সালে যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ঘটলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এর উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার ফলে নাৎসি পার্টির আবির্ভাব ঘটে। নাৎসি পার্টি ১৯৩০-এর দশকে আডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। ১৯৩৯ সালে জার্মানির আগ্রাসনের ফলে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বযুদ্ধ হয়।

১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তি যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত করে। মিত্র দেশগুলি দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে: ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যকার মিত্রতা ১৯৪০-এর দশকের শেষে ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকী তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে। যদিও জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অনেক অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তা সত্ত্বেও এটিকেও দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বহু লক্ষ পূর্ব জার্মান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার বার্লিনে একটি প্রাচীর তুলে দেয় এবং দেশের সীমান্ত জোরদার করে।

জার্মানিয় জাতিগোষ্ঠীসমূহ

ধারণা করা হয় সুপ্রাচীন নর্ডীয় ব্রোঞ্জ যুগ অথবা প্রাক-রোমান লৌহ যুগে জার্মানিতে আদি জাতিগোষ্ঠীগুলোর বসবাস শুরু হয়েছে। দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং উত্তর জার্মানি থেকে এই গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসতি স্থাপন শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে। এই সম্প্রসারণের ফলে তারা গলের কেল্টীয় গোষ্ঠী এবং পূর্ব ইউরোপের ইরানীয়, বাল্টিক ও স্লাভিক গোষ্ঠীগুলোর সান্নিধ্যে আসে। জার্মানির সেই প্রাচীন ইতিহাস সম্বন্ধে খুব অল্পই জানা গেছে। এখন পর্যন্ত মানুষ যা জানতে পেরেছে তা হলো ঐ জাতিগুলোর সাথে রোমান সাম্রাজ্যের কিছু লিখিত যোগাযোগের দলিল প্রমাণাদির মাধ্যমে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এই তথ্যগুলোর অনেকাংশই উদ্‌ঘাটিত হয়েছে।

অগাস্টাসের রাজত্বকালে রোমান জেনারেল পুবলিয়াস কুইঙ্কটিলিয়াস ভ্যারাস জার্মানিয়াতে (রাইন থেকে উরাল পর্যন্ত অঞ্চলকে রোমানরা মাঝেমধ্যেই এই নামে ডাকতো) আগ্রাসন চালানো শুরু করে। এই আগ্রাসন চলাকালেই জার্মানির গোষ্ঠীগুলো রোমানদের যুদ্ধকৌশল সম্বন্ধে জানতে পারে। এই গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই রোমান যুদ্ধ কৌশলের অনেকাংশ রপ্ত করতে সক্ষম হয়।  খ্রিষ্টাব্দে টেউটোবুর্গ বনের যুদ্ধে জার্মানির চেরুস্কান নেতা আরমিনিউস, রোমান জেনারেল ভ্যারাসের নেতৃত্বে পরিচালিত নয় লেজিয়নের এক সৈন্যদলকে পরাজিত করে। এর ফলে আধুনিক জার্মানি তথা রাইন এবং দানিয়ুব রোমান সাম্রাজ্যের বাইরেই থেকে যায়।

বর্তমান জার্মানি অঞ্চলটি ৮৪৩ অব্দে ক্যারোলিঙ্গিয়ান সাম্রাজ্যের বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়। সাম্রাজ্যটিতে ফ্রান্সও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর বহু শতাব্দী যাবৎ জার্মানি ছিল দুর্বলভাবে একত্রিত জমিদারিভিত্তিক কতগুলি দেশের সমষ্টি। ১৬শ শতকের পর থেকে জার্মান রাষ্ট্রগুলি ইউরোপের যুদ্ধ ও ধর্মীয় সংঘাতে ক্রমশ বেশি করে জড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৯শ শতকের শুরুতে ফ্রান্স জার্মান রাষ্ট্রগুলি দখল করলে জাতিগতভাবে একত্রিত এক জার্মানির জন্য জনমত প্রবল হয় এবং ১৮১৫ সালে প্রুশিয়ার নেতৃত্বে জার্মান রাষ্ট্রগুলি একটি কনফেডারেশন গঠন করে, যা ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

ভাইমার প্রজাতন্ত্র

ভাইমার প্রজাতন্ত্র ১৯১৯ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত যে জার্মান রাজ্য বিদ্যমান ছিল তার ডাকনাম। ইতিহাসবিদরা এই নামটি রেখেছিলেন ঐতিহাসিক শহর ভাইমার-এর নামানুসারে। এই শহরেই জার্মানির নতুন সংবিধান রচিত হয় এবং এটি কার্যকর করার জন্য এক বিশাল জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পতনের পর ঐতিহাসিক জার্মান রাইখ-এর জন্য নতুন সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯১৯ সালের ১১ আগস্ট থেকে তা কার্যকর হয় ।

বিশ্বযুদ্ধ

১৮৭১ সালে অটো ফন বিসমার্কের অধীনে একত্রিত হবার পর জার্মানিতে দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানি ইউরোপে আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা চালালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ১৯১৮ সালে যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ঘটলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এর উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার ফলে নাৎসি পার্টির আবির্ভাব ঘটে। নাৎসি পার্টি ১৯৩০-এর দশকে আডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। ১৯৩৯ সালে জার্মানির আগ্রাসনের ফলে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বযুদ্ধ হয়।

স্নায়ুযুদ্ধ

১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তি যুক্তরাজ্যমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত করে। মিত্র দেশগুলি দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে: ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যকার মিত্রতা ১৯৪০-এর দশকের শেষে ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকী তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে। যদিও জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অনেক অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তা সত্ত্বেও এটিকেও দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বহু লক্ষ পূর্ব জার্মান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার বার্লিনে একটি প্রাচীর তুলে দেয় এবং দেশের সীমান্ত জোরদার করে।

রাজনীতি

জার্মানি ফেডারেলসংসদীয়, প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৪৯ সালের প্রণীত সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী জার্মানির রাজনীতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। জার্মানির সংবিধান মূলত ফেডারেল জার্মানির মূল আইন বা গ্রুন্ডগেযেটস (Grundgesetz) নামে পরিচিত। সংবিধান প্রনেতারা তাদের এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে যখন জার্মানি আবার একটি রাষ্ট্র হিসেবে পুনঃএকত্রিত হবে তখন এই সংবিধান একটি উপযুক্ত সংবিধান দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। সংবিধানের সংস্কারের জন্য সংসদের উভয় সভার দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টাতার দরকার হয়। সংবিধানের মৌলিকনীতি গুলোর মধ্যে জনগনের আত্মমর্যাদার নিশ্বয়তা, ক্ষমতার বিভাজন, ফেডারেল অবকাঠামো এবং আইনের চিরস্থায়ী ধারা সমুহ বিদ্যমান।

জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান হল রাষ্ট্রপতি যিনি বুনডেসটাগ (Bundestag) ও প্রত্যেক রাষ্ট্রের সমসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত সম্মিলিত সভার দ্বারা নির্বাচিত হন। জার্মানির সরকার ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান হল চ্যান্সেলর বর্তমানে অ্যান্জেলা মারকেল যিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর মত বিশেষ ক্ষমতা পেয়ে থাকেন। ফেডারেল আইন তৈরির ক্ষমতা থাকে বুনডেসটাগ (Bundestag) ও বুনডেসরাট (Bundesrat) নামে সংসদের দুইটি সভার মধ্যে যারা মিলিত ভাবে একটি অদ্বিতীয় আইন প্রনয়নকারী পরিষদ তৈরি করে। বুনডেসটাগ (Bundestag) সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় অপরদিকে বুনডেসরাট (Bundesrat) হল ষোলটি ফেডারেল রাষ্ট্রের সরকারের প্রতিনিধি। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের সরকার তাদের প্রেরিত প্রতিনিধি নিয়োগ ও অপসরনের ক্ষমতা রাখে।

১৯৪৯ সাল থেকে জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দল হল খ্রিষ্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন ও সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জার্মানি। তাছাড়াও মুক্ত গণতান্ত্রিক দল নামে একটি ছোট রাজনৈতিক দল রয়েছে।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ

জার্মানির কিছু বড় শহর হচ্ছে :

নামজনসংখ্যা
বার্লিন৩৭, ১০,১৫৬
হামবুর্গ১৭,৮৭,৪০৮
মিউনিখ১৪,৫০,৩৮১

ভূগোল

জার্মানির মোট আয়তন ৩,৫৭,০২২ বর্গকিলোমিটার যার মধ্যে ৩,৪৯,২২৩ বর্গকিমি ভূমি এবং ৭,৭৯৮বর্গকিমি জলভাগ। আয়তনের বিচারে জার্মানি ইউরোপের মধ্যে সপ্তম এবং বিশ্বের মধ্যে ৬৩তম। জার্মানির সীমন্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ গুলো হল উত্তরে ডেনমার্ক, পূর্বে পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণে অষ্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ পশ্চিমে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গ এবং উত্তর পশ্চিমে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ড

ঈগল: জার্মানির জাতীয় পাখি।
জার্মানির ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র

জার্মানি মধ্য ইউরোপের একটি বড় রাষ্ট্র। এটি দক্ষিণে আল্পস পর্বতমালা থেকে উত্তর ইউরোপীয় সমভূমি হয়ে উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সামুদ্রিক জলসীমার অন্তর্গত এলাকা গণনায় ধরে জার্মানির আয়তন ৩,৫৭,০২১ বর্গকিলোমিটার এবং আয়তনের দিক থেকে দেশটি ইউরোপের ৭ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। আল্পস পর্বতমালাতে অবস্থিত ২,৯৬২ মিটার উঁচু ৎসুগষ্পিৎসে জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। জার্মানির মধ্যভাগে আছে অরণ্যাবৃত উচ্চভূমি এবং উত্তরে আছে নিম্ন সমতলভূমি। এই নিম্নভূমি দিয়ে ইউরোপের কিছু প্রধান নদী বয়ে গেছে, যাদের মধ্যে আছে রাইনদানিউব, এবং এলবে নদী। বোডেন্‌জে দেশের বৃহত্তম হ্রদ। কেন্দ্রীয় অবস্থানের কারণে ইউরোপের অন্য যেকোন দেশের চেয়ে জার্মানির সাথেই সীমান্তবর্তী অন্য দেশের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

পরিবেশ

জার্মানিতে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বায়ুকল এবং সৌর শক্তি সংগ্রাহক রয়েছে।
বাইসাইকেলে চড়ে বার্লিন শহর ভ্রমণকারী পর্যটক, জার্মানি

জার্মানি পরিবেশ সচেতন জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। বেশির ভাগ জার্মানরাই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ব্যাপারে সচেতন। এই রাষ্ট্রটি কিয়োটো প্রোটোকল চরমভাবে মেনে চলে তাছাড়াও ক্ষতিকর গ্যাসের অল্প নির্গমন নিশ্চিত করে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জার্মান সরকার বিপুল হারে দূষন রোধের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং দেশটির সামগ্রিক দূষন দিন দিন কমছে। যদিও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরনের হার ইউরোপের অন্য সকল দেশের চেয়ে বেশি কিন্তু অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,সৌদি আরব এবংমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা ও ঝড়ো বাতাস প্রায় সকল অঞ্চলে দেখা যায়।

প্রাণীবৈচিত্র্য

উদ্ভিদতাত্ত্বিক ভৌগোলিক বৈশিষ্টানুযায়ী জার্মানি বোরিয়াল জগতের অন্তর্গত সারকামবোরিয়াল রিজিওনের আটলান্টিক ইউরোপিয়ান ও সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান এই দুটি অঞ্চলে বিভক্ত। জার্মানি অঞ্চলকে দুটি বাস্তুঅঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে, ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান পার্বত্য মিশ্র বনভুমি অঞ্চল এবং উত্তরপূর্ব আটলান্টিক মহীসোপান অঞ্চল। জার্মানিতে চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ, স্থায়ী চারণভুমি ১৫ শতাংশ এবং বনভূমির পরিমাণ ৩১ শতাংশ। সাধারণত মধ্য ইউরোপের প্রাণী এবং উদ্ভিদই জার্মানিতে দেখা যায়। মোট বনভূমির এক তৃতীয়াংশ জুড়ে আছে বীচগাছ (মসৃণ কাণ্ড ও পত্রবিশিষ্ট একজাতীয় লম্বা গাছ), ওকগাছ এবং অন্যান্য পর্ণমোচী বৃক্ষ। সরলাকৃতির বৃক্ষসমূহ পাওয়া যায় উচ্চপর্বত ভূমিতে এবং বেলে মাটিতে পাইন আর লার্চ গাছের আধিক্য আছে। বিভিন্ন ফুল, ফার্ণ, ফাঞ্জাই ও মসের বহু প্রজাতি জার্মানিতে পাওয়া যায়। উত্তরসাগর এবং নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। হরিণ, বন্য শুয়োর, শিয়াল, ব্যাজার, খরগোশ এবং ভোঁদড় পাওয়া যায়। হেমন্ত এবং বসন্তে বহু অতিথিপাখি জার্মানিতে আসে। ওয়াডেন সী ন্যাশনাল পার্ক, জাসমুন্ড ন্যাশনাল পার্ক, ফরপোমার্ণ লেগুন এরিয়া ন্যাশনাল পার্ক, মুইরিস ন্যাশনাল পার্ক, লোয়ার অডার ভ্যালী ন্যাশনাল পার্ক, হার্জ ন্যাশনাল পার্ক, স্যাক্সন সুইজারল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক এবং ব্যাভারিয়ান ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্ক সমূহ জার্মান ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে অন্যতম। জুওলগিক্যাল গার্ডেন, পাখিশালা, একুরিয়াম ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষন পার্কের জন্য জার্মানি সুপরিচিত। একক দেশের হিসেবে জার্মানিতেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চিড়িয়াখানা ও এনিম্যাল পার্ক আছে, যার সংখ্যা ৪০০। বার্লিনের জুওলজিশার গার্ডেন জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন চিড়িয়াখানা এবং বিশ্বের একক বৃহত্তম প্রানীসংগ্রহশালা।

অর্থনীতি

যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রমিক, উন্নত অবকাঠামো, মূলধনের বৃহৎ মজুদ, দুর্নীতির নিম্নহার ও উচ্চ উদ্ভাবনীক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সোশ্যাল মার্কেট ইকোনমি জার্মানিতে বিদ্যমান। ৩.৫ ট্রিলিয়ন জিডিপি নিয়ে জার্মানি ইউরোপের বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। সামগ্রিক জিডিপির ৭০ শতাংশ সার্ভিস সেক্টর, ২৯.১ শতাংশ শিল্প ও ০.৯ শতাংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি। জুলাই ২০১০ এ দেশের গড় বেকারত্বের হার ছিল ৭.৫ শতাংশ। সর্বনিম্ন ব্যাভারিয়াতে ৪.১ শতাংশ ও সর্বোচ্চ বার্লিনে ১৩.৬ শতাংশ। শিল্পায়নের শুরু থেকেই জার্মানি বৈশ্বিক অর্থনীতির চালক, উদ্ভাবক এবং সুবিধাভোগী। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, জি৮, জি২০ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য জার্মানি ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিশ্বের রপ্তানীকারক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে ছিল। ২০০৯ সালে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানীকারক দেশ এবং তৃতীয় শীর্ষ আমদানিকারক দেশ এবং এর বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত ১৮৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রপ্তানীযোগ্য পণ্যের বেশিরভাগই প্রকৌশলসংক্রান্ত, বিশেষকরে যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং ধাতু। বিশ্বে বায়ুমিল ও সৌরশক্তি প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক দেশ জার্মানি। হ্যানোভার, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং বার্লিনের মতো বড় শহরগুলোতে বৃহত্তম বাণিজ্যমেলা ও বাণিজ্যসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ইউরোপীয়ান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংহতির প্রবক্তা জার্মানি। ইইউভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে লিখিত বাণিজ্যিকচুক্তি ও ইইউ একক বাজার আইনের আওতায় জার্মানির বাণিজ্য নীতি পরিচালিত হয়। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে জার্মানিই ইউরোপের অভিন্ন মুদ্রা ইউরো চালু করে। ফ্রাঙ্কফুর্টের ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কর্তৃক এর আর্থিকনীতি নির্ধারিত হয়। একত্রীকরণের দুইদশক পরে জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানির স্টেটসমূহ পুর্ব জার্মানির স্টেটগুলোর চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এগিয়ে আছে। পুর্বজার্মান অর্থনীতির আধুনিকীকরণ ও বিশেষায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে আছে যা ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতি বছর পশ্চিম জার্মানি থেকে পুর্ব জার্মানিতে প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমান অর্থ স্থানান্তরিত হয়। ২০০৯ সালে এঙ্গেলা মার্কেলের নেতৃত্বাধীন জার্মান সরকার ৫০ বিলিয়ন ইউরো (৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এর একটি অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেয় যার উদ্দেশ্য ছিল কিছু ক্ষেত্রকে নিম্নগামীতার হাত থেকে রক্ষা করা ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হার রোধ করা।

কর্পোরেশনসমূহ

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কর্তৃক নির্বাচিত ২০১০ সালের রাজস্বের ভিত্তিতে বিশ্ব স্টকমার্কেটের তালিকাভূক্ত সেরা ৫০০ কর্পোরেশনের ৩৭টির প্রধান কার্যালয় জার্মানিতে। সুপরিচিত বৈশ্বিক জার্মান ব্রান্ডগুলো হলো বিএমডব্লিও, ভক্সওয়াগন, এডিডাস, মার্সিডিস বেঞ্জ, অডি, পোরশে, ডিএইচএল, টিমোবাইল, লুফথানসা, এসএপি, নিভিয়া ইত্যাদি। জার্মানি মূলত উচ্চবিশেষায়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারিধরনের এন্টারপ্রাইজের জন্য সুপরিচিত। প্রায় ১০০০ প্রধানত পারিবারিক ব্যবসা কোম্পানিগুলো তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এরা মুলত হিডেন চ্যাম্পিয়ন নামে পরিচিত। নিচের টেবিলটি ২০০৯ সালের তথ্যানুযায়ী তৈরী। এখানে রাজস্ব ও লাভের পরিমাণ মিলিয়ন ইউরোতে প্রকাশ করা হয়েছে এবং কর্মীসংখ্যা সমগ্র বিশ্বে কর্মরত কর্মীদের মোটসংখ্যা।

সারিনামসদররাজস্বলাভকর্মী
ভক্সওয়াগনহোলসবুর্গ১০৮,৮৯৭৪,১২০৩২৯,৩০৫
এইমলারস্টুর্টগার্ট৯৯,৩৯৯৩,৯৮৫২৭২,৩৮২
সিমেন্সমিউনিখ/বার্লিন৭২,৪৮৮৩,৮০৬৩৯৮,২০০
ই অনডুসেলডর্ফ৬৮,৭৩১৭,২০৪৮৭,৮১৫
মেট্রোডুসেলডর্ফ৬৪,৩৩৭৮২৫২৪২,৩৭৮
ডয়চে পোস্টবন৬৩,৫১২১,৩৮৯৪৭৫,১০০
ডয়চে টেলিকমবন৬২,৫১৬৫৬৯২৪১,৪২৬
বিএএসএফলুডভিগজাফেন৫৭,৯৫১৪,০৬৫৯৫,১৭৫
বিএমডব্লিউমিউনিখ৫৬,০১৮৩,১২৬১০৭,৫৩৯
১০থাইসেনক্রুপএসেন/ডুইসবুর্গ৫১,৭২৩২,১০২১৯১,৩৫০

পরিবহন

ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পরিবহনখাতের গুরুত্বের দিক দিয়েও জার্মানি কেন্দ্রে অবস্থিত। জার্মানির বহুমুখী ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এরই পরিচয় বহন করে। বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম মোটরওয়ে জার্মানিতে অবস্থিত যা স্থানীয়ভাবে অটোবান নামে পরিচিত। উচ্চগতিসম্পন্ন রেলের একটি বহুকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক জার্মানি তৈরি করেছে। আন্তনগর এক্সপ্রেস হচ্ছে জার্মানির সর্বাধিক অগ্রসর সার্ভিস যা নগর অতিক্রম করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। রেলের সর্বোচ্চগতি ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩০ মিনিট, এক ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সার্ভিস পাওয়া যায়। জার্মানির বৃহত্তম বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুটোই লুফথানসার বৈশ্বিক কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জার্মানি সবসময় নেতৃত্বপুর্ণ অবদান রেখে আসছে এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ফ্রান্সের সাথে কঠিন সন্ধি বজায় রেখেছে। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে বা ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে খ্রিষ্টান গণতন্ত্র পন্থী হেলমুট কোল (Helmut Kohl) ও সমাজতান্ত্রিক এফ. মিটেরান্ডের (François Mitterrand) শাসন আমলে এই সন্ধি কার্যত ভেঙ্গে যায়। জার্মানি ইউরোপের সেই সব দেশের মধ্যে অন্যতম যারা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অধিকতর রাজনৈতিক ঐক্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়। নিকট ভবিষ্যতের ইতিহাস এবং বৈদেশিক শক্তির আগ্রাসনের কারণে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ফেডারেল জার্মান প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কে তুলনামূলক ভাবে কম অংশ গ্রহণ করেছে।

বৈদেশিক কূটনীতিক দের সাথে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল

বিজ্ঞান ও শিক্ষা ব্যবস্থা

সামরিক বাহিনী

জার্মানির সামরিক বাহিনী সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সেবা দ্বারা গঠিত। । ১৮ বছরেরর পুরুষদের জন্য সামরিক বাহিনীর সেবা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তারা বছরে অন্তত নয় মাস দায়িত্ব পালন করে।

সামরিক খাতে ২০০৩ সালে দেশটির জিডিপির ১.৫% খরচ হয়। বিগত ১০০ বছর ধরে এই দেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাজেট করে থাকছে। যুদ্ধ ব্যতীত অন্য সময় সামরিক বাহিনীর সেনাপতি থাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। জার্মানির সংবিধান শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দেয় যার সেনাপতি হবে ।

জার্মান সামরিক বাহিনীতে ২,০০,৫০০ পেশাদার সৈনিক, ৫৫,০০০ ১৮-২৫ বছরের সাময়িক সেনা সদস্য যারা বছরে অন্তত নয় মাস দায়িত্ব পালন করে এবং যে কোন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকা ২,৫০০ সংরক্ষিত(reserve) সেনা। আত্মরক্ষার অথবা যুদ্ধের জন্য সবসময় প্রায় ৩,০০,০০০ জন্য সংরক্ষিত সৈনিক সব সময় পাওয়া যায়। যদিও ২০০১ সাল থেকে সামরিক বাহিনীর সকল কাজে মেয়েদের অবাধ অংশ গ্রহণ চালু রয়েছে তারপরও তাদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক নয়। বর্তমানে ১৪,৫০০ জন মহিলা সেনা কর্মরত আছে। এ পর্যন্ত দুই জন মহিলা চিকিৎসা কর্মকর্তাকে জেনারেল পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে।

ইউরোফাইটার টাইফুন বিমান বাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমান। এটি এফ-১৮ বা ডেসল্ট রাফাল এর সমগোত্রীয়।

জনসংখ্যা

জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। সারা পৃথিবীতে জার্মানি ১৫তম জনবহুল দেশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২৯.৪ জন অধিবাসী বাস করে। জার্মান ভাষা জার্মানির সরকারি ভাষা। এছাড়া অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরও অনেকগুলি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে আরবিগ্রিকইতালীয়কুর্দি এবং তুর্কি ভাষা উল্লেখযোগ্য। লুসাটিয়া অঞ্চলে সর্বীয় ভাষা এবং দক্ষিণ শ্লেসভিগ অঞ্চলে ডেনীয় ভাষার আঞ্চলিক সরকারি মর্যাদা রয়েছে। উপকূলীয় দ্বীপগুলিতে ফ্রিজীয় ভাষা প্রচলিত। জার্মানির পূর্ব সীমান্তে পোলীয় ভাষা এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে ওলন্দাজ ভাষা প্রচলিত। এছাড়াও এখানে অনির্দিষ্ট সংখ্যক রোমানি ভাষাভাষী বাস করে।

খেলাধূলা

ফুটবল জার্মানদের জাতীয় খেলা, আর ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানি চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়াও ক্লাব ফুটবলে জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। তাছাড়া খেলাধুলার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জার্মানিরা সবসময় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে গিয়েছে এবং যাচ্ছে, যেমনটা দেখা যায় ব্রাজিলের রিও দি জেনেরিও শহরে ৫ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সর্বমোট পদক তালিকায় তাদের ৭ম স্থানে অবস্থান।

সংস্কৃতি

জার্মান ভাষায় জার্মানিকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে “ডাস লাণ্ড ড্যার ডিখটার উন্ড ডেনকার”, যার অর্থ হচ্ছে “কবি ও চিন্তাবিদদের দেশ”। একটি জাতির দেশ হিসেবে জার্মানির উত্থানের অনেক আগে থেকেই জার্মান সংস্কৃতির আবির্ভাব, এবং এর বিস্তৃতি ছিল গোটা জার্মান ভাষী এলাকা জুড়ে। গোড়া থেকেই জার্মান সংস্কৃতি ইউরোপের তৎকালীন সব হালচালে প্রভাবিত হয়ে এসেছে এবং এই প্রভাবে ধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতা দুটোই ছিল। এই জন্যে জার্মান সংস্কৃতিকে ইউরোপের উচ্চ সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা মুশকিল। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, ইতিহাসের কিছু জাঁদরেল মনীষী, যেমন ভোল্‌ফগাংক্‌ আমাডেয়ুস মোৎসার্টফ্রানৎস কাফকাকার্ল মার্ক্সফ্রিডরিখ এঙ্গেলসএবং পাউল কেলান যদিও বা আধুনিক অর্থে জার্মান নাগরিক ছিলেন না, কিন্তু তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান, কাজ ও সামাজিক গুরুত্ব বুঝতে হলে অবশ্যই তাদের দেখতে হবে জার্মান সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে।


নাৎসি যুগে জার্মানির নারী.

 

নাৎসি যুগে জার্মানির নারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মহিলা লেবার পার্টির পতাকা
কর্মস্থলে জার্মান সচিব

নাৎসি যুগে জার্মানির নারী একটি সংকুচিত পরিসরে জীবনযাপন করত। কার্যতঃ এ সময়ের নারীরা মা ও স্ত্রী’র প্রাগৈতিহাসকি ভূমিকা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা গ্রহণ করতে পারতো না। তাদের রাজনৈতিক ও শিক্ষায়তনিক কোনো পদ অলংকরণের সুযোগ ছিল না। উইমার প্রজাতন্ত্রের অধীন নাৎসি নীতি নারীর উন্নয়ন ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। জার্মান সাম্রাজ্যের অধীনে পুরুষতান্ত্রিক ও রক্ষণশীল কর্তৃত্বের অবস্থান থেকে সমতার নীতি আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। সন্তানদের শিক্ষা এবং গৃহস্থালির দায়িত্ব ছাড়া নাৎসি নারীর কোন পেশা ছিল না। যুগের পরিক্রমায় নারীবাদী নেতা গেরট্রুড শুলজ ক্লিংক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, চিকিৎসা পেশা এবং পার্লামেন্ট সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছিল তবে তা বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সে সময়ে সরকারী দায়িত্বে এবং কিছু সিস্টেমে নারীরা কাজ করত। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ম্যাগদা গোয়েবলস। আবার তাদের মধ্যে কেহ কিছুক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, যেমন চলচ্চিত্র পরিচালক লেনি রিফেনস্টাহল এবং ক্যাপ্টেন পাইলট হানা রাইখ। এছাড়াও কিছু নারী নাৎসি শাসনকে উৎখাত করার প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের জীবন দিয়েছিল। যেমন লিবার্টাস শুলজ, সোফি স্কল।

মুক্তি থেকে বর্জন[সম্পাদনা]

উইমার প্রজাতন্ত্র[সম্পাদনা]

উইমার প্রজাতন্ত্রের অধীনে ইউরোপে নারীদের অবস্থান সবচেয়ে উন্নত ছিল। ১৯ জানুয়ারি ১৯১৯ সালে উইমার সংবিধানে নারীদের ভোটের অধিকার, লিঙ্গ সমতা, নারী আমলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীনতা, মাতৃত্বের অধিকার এবং স্বামী/স্ত্রীদের মধ্যে সমতা ঘোষণা করে।[১] জার্মান নারীবাদী আন্দোলনের প্রতীক ক্লারা জেটকিন ১৯২০-১৯৩৩ সাল পর্যন্ত রিকস্ট্যাগে সংসদ সদস্য ছিলেন। কিন্তু উইমার সাম্রাজ্য নারীমুক্তির জন্য বড়কোন অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেনি এবং পার্লামেন্টে এখনও নারীদের জন্য কম আসন বরাদ্য করা হয়।[২] ১৯২১ সালের জানুয়ারি থেকে নাৎসি পার্টির মতবাদ স্পষ্ট হয় এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে নারীকে বাদ দেওয়ার গোপন ষড়যন্ত্র করা হয়।[৩] সেইসময় কিছু অঞ্চলে রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে নারীকে মনোনয়ন দেয়।[৪] দ্য নাৎসি পার্টি ঘোষণা করে, "নারীরা তাদের দলের সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু নির্বাহী কমিটি বা প্রশাসনিক কমিটিতে তা পারবে না।"[৪] সাধারণভাবে নারীকে নাৎসি পার্টির সদস্য হতে তারা বাধা দেয়নি। কেননা তারা বলে, জার্মান পুরুষরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে লড়াইয়ের দক্ষতা রাখে ও তারা ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখে। কিন্তু নারীরা তা পারে না।[৫] যদিও উইমার প্রজাতন্ত্রের কাঠামোতে বেশিরভাগ দল তাদের প্রার্থীসহ নির্বাচন করেছিল এবং কিছু এলাকায় নারীরা জয়ী হয়েছিল। তবে নাৎসি দলে তা ছিল না। ১৯৩৩ সালে জোসেফ গোয়েবলস এই অবস্থানের ন্যায্যতা ব্যাখ্যা করে বলেন, "পুরুষদের চাকরি পুরুষদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক।”[২] জার্মানি সিদ্ধান্ত নেয়, জার্মানির নির্বাচনের পর ৫৭৭ আসনের মধ্যে ৩৭ জন মহিলা সংসদ সদস্য হবে অথচ নভেম্বর ১৯৩৩ সালে কেহই সংসদ সদস্য ছিল না।।[২]

জার্মানিতে নাৎসি যুগের সূচনা[সম্পাদনা]

"এসএস লাইথেফট ফেবরুয়ারী ১৯৪৩" ম্যাগাজিনের জন্য হিটলার ইয়ুথের ইউনিফর্মে মা, মেয়ে ও ছেলের নাৎসি প্রচার।

১৯৩৩ সালে মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ের নিয়মগুলো পরিবর্তন করা হয়। বিশেষ করে তাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করা থেকে নিরুৎসাহিত করা। নারীরা ল্যাটিন ভাষায় পাঁচ বছরের কোর্স এবং তিন বছরের বিজ্ঞানের কোর্সের পরিবর্তে জার্মান ভাষায় কোর্স সম্পন্ন করে দক্ষতা অর্জন করত।[৬] কিন্তু এর সুফল পাওয়া যায়নি। বিপুল সংখ্যক ছেলেমেয়েরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে ঠিকই কিন্তু "বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১০% ভর্তির উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সফল হয়নি। এইভাবে মেডিকেল স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ২০% থেকে ১৭% পর্যন্ত হ্রাস পায়।" নারীদের সংগঠন, বিশেষত কমিউনিস্ট এবং সমাজতান্ত্রিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার বা হত্যা করা হয়। ইহুদি সদস্যদের সমস্ত সমিতিকে বন্ধের দাবি ওঠে যেমন প্রোটেস্ট্যান্ট নারী ইউনিয়ন। কিন্তু সমিতির বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সময়ের তালে দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। কেউ কেউ পুরোপুরি হারিয়ে যায়, যেমন "ফেডারেশন অফ জার্মান উইমেন অর্গানাইজেশনস" ১৮৯৪ সালে তৈরি হয়, যা সেন্সর এড়ানোর জন্য ১৯৩৩ সালে বিলুপ্ত হয়। শিক্ষা ও প্রচার মন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের তত্ত্বাবধানে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত একটি নারী সংগঠন চালু ছিল। রুডলফ হেস নাৎসি পার্টির একটি নারী শাখা খোলার মাধ্যমে জার্মান ফ্রাওয়ার্ক তৈরি করেছিল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক নারী লীগও রয়েছে যার উদ্দেশ্য ছিল “শাসনের সমর্থক একটি নারী গণসংগঠনে রূপান্তরিত করা।”

আদর্শ নাৎসি নারী[সম্পাদনা]

জার্মানিতে আধুনিক নারী[সম্পাদনা]

জার্মান জিমন্যাস্ট

অ্যাডলফ হিটলারের ইচ্ছা অনুযায়ী নাৎসি নারীকে জার্মান সমাজের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হয়েছিল। তাদেরকে জাতিগতভাবে বিশুদ্ধ এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “নারীর চাকরি করা উচিত নয়, তাদের মাতৃত্বের জীবন যাপন করা উচিত।” জার্মানির সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়ামের স্লোগান ছিল নারীরা তিনটি কাজ করবে- (১) শিশু লালনপালন করবে, (২) রান্নাঘরের কাজ করবে এবং (৩) গির্জায় উপাসনা করবে। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত একটি নথিতে দেখা যায়, দ্য নাইন কমান্ডস অফ দ্য ওয়ার্কার্স স্ট্রাগল, হারমান গুরিং নাৎসি যুগে জার্মান নারীদের ভবিষ্যতের ভূমিকাকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিলেন। তা হলো "একটি বাটি নিন এবং একটি ঝাড়ু নিন এবং একজন পুরুষকে বিয়ে করুন।" তিনি নারীবাদী আন্দোলনের বৈরী ছিলেন। নারীদের রাজনৈতিক অধিকার (যেমন উচ্চপদস্থ পদ প্রাপ্তি) বিবেচনা করা নাৎসিরদের স্বভাবের বিপরীত ছিল। তাদের অধিকার ছিল, তারা জাতির স্বার্থে অন্য কাজ করতে পারে। ম্যাগদা গোয়েবলস ১৯৩৩ সালে বলেন, "জার্মান নারীদের তিনটি পেশা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সে তিনটি হলো-(১) সেনাবাহিনী, (২) সরকারি দায়িত্ব এবং (৩) বিচার বিভাগ।” যদি কোনও জার্মান মেয়েকে বিয়ে বা পেশার ক্ষেত্রে বেছে নিতে হয়, তাহলে তাকে বিয়েতে বেছে নেওয়া উচিত, কারণ নারীরা রক্ষণশীল হওয়া ভাল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মানসিকভাবে তাদের উপরে উঠা সম্ভব নয় যা দ্বিতীয় সম্রাটের যুগে প্রচলিত ছিল। এটা সে সময় নারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে সমাজের দ্বারা তা বাতিল করা হয়। বিপরীত ভাবে, নারী মা এবং স্ত্রীর ভূমিকায় নিম্ন স্তরে অংশ নেবে বলে আশা করা হয়। ১৯ শতকে নারীরা কি করতে পারে তার অনুমতি দেয়া হয়নি। বিশের দশকের গোড়ার দিকে কিছু রক্ষণশীল ভোটার ও বাসিন্দা নারী মুক্তির জন্য নিজেদেরকে খুব অনিশ্চিত ভাবত, তবে তারা নতুন আইনে সন্তুষ্টি ছিল। আর সেটা হলো নারীরা "হাজার বছরের রাজত্ব" নির্মাণে অংশগ্রহণ করুক।

আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং বাধ্যবাধকতা[সম্পাদনা]

অনুকরণীয় জার্মান মায়ের সম্মানসূচক ক্রস

জার্মান নারীদের মুখের সাজসজ্জা বা মেকআপ ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। তারা উয়েমার প্রজাতন্ত্রের সময়ে এটাকে নম্রতা হিসাবে মনে করত। ১৯৩৩ সালে জার্মান ওয়ার্কার্স ফ্রন্টের নারী বিভাগের সভাগুলিতে ঘোষণা করা হয়েছিল, (১) যেসব নারী মেক-আপ ব্যবহার করে তাদের সমস্ত কাজ থেকে নিষিদ্ধ করা হবে; (২) যেসব নারী পাবলিক প্লেসে যেমন হোটেল, ক্যাফে, রাস্তায় ইত্যাদির সামনে ধূমপান করে তাদেরকে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া হবে; (৩) যে ক্রিয়াকলাপগুলি বেশি ভাল বা কম ঐতিহ্যগত সেগুলো করার সুপারিশ করা হয় যেমন সঙ্গীত, কায়িক শ্রম এবং জিমন্যাস্টিকস। প্রগতিশীল তরুণীদের বিকৃত বা অসামাজিক মনে করা হতো। মায়েদের সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হতো যেমন হিটলার ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিবাহকে উৎসাহিত করার জন্য একটি আইন জারি করে শর্ত দেয়, একজন জার্মানকে বিয়ে করলে প্রত্যেককেই সরকার থেকে ১,০০০ জার্মান মার্ক দেওয়া হবে। এতে পরিবারে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশু পিতা বা মাতার ধর্ম থেকে ২৫% হ্রাস পায়। তবে এই আইন মানুষকে বিয়ে করতে এবং একটি প্রাচীন জার্মান জাতি প্রতিষ্ঠার জন্য সন্তান ধারণ করতে উৎসাহিত করে। সেই অনুযায়ী জার্মান আদর্শ মায়ের জন্য সম্মানসূচক ক্রুসেডার তৈরি করে যা চারটি শিশু বা তার বেশিকে নির্দেশ করে। জার্মান মা দিবসও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ৩ মিলিয়ন জার্মান মাকে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। ১৯৩৫ সাল অবধি কঠোরভাবে গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং এই ধরনের সমস্যাকে রিপোর্ট করা রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসকদের দায়িত্ব ছিল। তারা শিশুর প্রাকৃতিক ক্ষতি সম্পর্কেও তদন্ত করত। ১৯৪৩ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল "পারিবারিক সুরক্ষা, বিবাহ এবং মাতৃত্ ” দেখাশুনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র ও বিচার মন্ত্রীদের কাজ। এ আইনের দ্বারা দোষী মায়েদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হত।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

হিটলার মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলে ছেলেমেয়েদের সমান ভিত্তিতে বসাত। মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত উৎসাহিত করা হয়েছিল, তবে তা সীমিত ছিল। ১৯৩৫ সাল থেকে মেয়েদের সেবার অনুকূলে ছয় মাসের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেয়া হত। এডলফ হিটলার ১৯৪২ সালের ১২ এপ্রিল বলেন "সমস্ত শ্রেণীর ছেলেমেয়েদের একত্রিত করতে হবে যাতে তারা জার্মান শিক্ষার মাধ্যমে সকল যুবকদের মুখোমুখি হতে পারে। শিক্ষা নির্দেশিকায় বলা হয়- সমস্ত মেয়েদের জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, ভোট প্রদান ও আন্দোলনের ইতিহাস জানা উচিত। তাদেরকে জার্মানির ভূগোল, ভার্সাই চুক্তি ও ইতিহাস বিস্তারিত জানতে হবে। মেয়েদের শিক্ষার অর্থ হলো রাজনৈতিক শিক্ষা করা। সেখানে রাজনীতি অধ্যয়নের জন্য অভিজাত স্কুল ছিল। ১৯৩৯ সালে মেয়েদের জন্যভিয়েনায় একটি স্কুল খোলা হয়েছিল এবং শেষটি ১৯৪২ সালে লুক্সেমবার্গে ছিল । এই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধুমাত্র নারীদের রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের ক্ষমতায়ন করার জন্য নয়, বরং নারী বিষয়ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত পদগুলি পূরণ করার জন্য তাদের শিক্ষা দেয়া হত। এটাতে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী লোটাস ভন ক্রেউজিগ, একজন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন । তিনি ১৯৪২ সালের ৫ জুন স্কুলে মেয়েদের বৃত্তি বন্ধের হুমকি দেন এবং মেয়েদের রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত করতে অস্বীকার করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

ফ্রান্সে জার্মান সামরিক উপস্থিতির সময় প্যারিসে জার্মান মহিলা সৈন্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট পার্টি তার নীতি পরিবর্তন করার আগে, নারীদের জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেয়। অ্যাডলফ হিটলার এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ তারিখে নারী সমাজতান্ত্রিক দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমাদের সুস্থ প্রজন্মের একটি প্রজন্ম আছে - এবং আমরা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জার্মানিকে মহিলা গ্রেনেডিয়ার বা স্নাইপার হিসাবে কল্পনা করি না।” দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারীরা যুদ্ধে জড়িত ছিল না, কিন্তু সামরিক কর্মীদের সাহায্যকারিনি হিসেবে বিবেচনা করা হত, তবে যুদ্ধে পুরুষদের সংখ্যার সাথে নারীরা অপ্রতুল ছিল। কেননা রসদ ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রগুলি কম ছিল। নারীরা কারখানায় ও সামরিক শিক্ষায়ও কাজ করত। ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানির সদস্যরা ‘স্কার্ট’ নামে সামরিক ইউনিফর্ম পরত।

জার্মান সেনাবাহিনীতে

১৯৪৫ সালে সশস্ত্র বাহিনী তথা স্থল বাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীতে নারীদের সংখ্যা প্রায় ৫,০০,০০০ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক স্বেচ্ছাসেবক ছিল। অন্যরা যুদ্ধের কাজের সাথে যুক্ত থেকে বাধ্যতামূলক সেবা সম্পাদন করত। কেবল মুল দেশের মধ্যেই নয়, বরং বিভিন্ন দখলকৃত অঞ্চলগুলিতে যেমন দখলকৃত পোল্যান্ড, ফ্রান্স, যুগোস্লাভিয়া, গ্রীস এবং রোমানিয়াতে নারীরা কাজ করত।

এসএস বিভাগে নারী

এসএস এর নারী শাখা ছিল। তারা শুধুমাত্র জরুরি সেবায় স্বেচ্ছাসেবী কাজ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এসএস নারীরা হিলফ্রিয়েনেন ছিলেন। তারা নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রক্ষী হিসাবে অথবা এসএস-ক্রিগশিলফ্রেনেনে কাজ করতেন। তারা একটি বেসরকারি স্কুলে প্রশিক্ষণ নিতো, আর অন্যরা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিতো। নারী এসএস (টেলিফোন অপারেটর, রেডিও অপারেটরদের) সহযোগিতা করত। এসএসের নারী শাখায় একটি অভ্যন্তরীণ শ্রেণিবিন্যাস ছিল, যা পুরুষ বাহিনীর উপর কোন প্রভাব ছিল না, যদিও নারীদের নির্দিষ্ট শিরোনামগুলি কখনও কখনও তাদের অফিসারদের উপর প্রভাব ফেলেছিল।

জেলের মধ্যে

বার্লিন পতনের পর মিত্রবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর ওয়ার্ডেন ইরমা গ্রেস

নাৎসি নারীরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ছিল এবং সাধারণত এসএস -এর অধীন প্রহরী, নিরাপত্তা বা নার্স এর কাজ করত। তারা যুদ্ধের আগে লিচটেনবার্গ অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ১৯৩৮ সালের ৮ ও ৯ অক্টোবর ক্রিস্টাল রাতের পরে বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দী ও শ্রমিকদের প্রয়োজনের কারণে এটি ঘটেছিল। ১৯৩৯ সালের পরে, নারী সৈন্যরা বার্লিনের কাছে ক্যাম্প রেভেনসব্রুকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তাদের অধিকাংশই নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছিল। নারীরা কেবল ঐতিহ্যবাহী পেশা যেমন হেয়ারড্রেসিং ও শিক্ষাদানে কাজ করত এবং পুরুষদের মত সামরিক চাকরিতে তারাও বাধ্য ছিল। সমস্ত নাৎসি ক্যাম্পে ৫৫,০০০ জন রক্ষীর মধ্যে ৩৬,০০ জন নারী ছিল, তাদের শতকরা হার ছিল প্রায় ১০% জন। তবে কোনও নারীকে পুরুষদের কমান্ড করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

নাৎসিবাদ প্রত্যাখ্যানকারি নারী

১৯৩৩ সালে, কমিউনিস্ট ছাত্র লিসোলিথ হারম্যান অ্যাডলফ হিটলারকে চ্যান্সেলর নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। সে জার্মান পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তথ্য প্রচার করত এবং বিদেশী সরকারদের কাছে তা পৌঁছে দিতো। তার এ অপরাধের কারণে ১৯৩৫ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯৩৮ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জার্মান ইতিহাসে তিনি নাৎসি শাসনের শুরুতে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ছিলেন।

নাৎসিবাদের পতনের পর

নাৎসি শাসনের পতনের পর, জার্মান পুনর্নির্মাণে অনেক নারী অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধে জার্মন ধ্বংসস্তূপে পতিত হয় এবং দুই মিলিয়নেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়। তাদের একজন বার্লিনে “এ ওম্যান” নামে একটি বইয়ে এই অভিজ্ঞতার স্মরণ করিয়ে স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন। যদিও তারা নাৎসি শাসনের নেতৃত্বের সাথে জড়িত ছিল না, কিন্তু যুদ্ধের পরে কিছু নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ১৯৪০-১৯৪৩ সালে রাভেনসব্রুকের নুরেমবার্গের ডক্টরস ট্রায়ালে নাৎসি চিকিৎসা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একমাত্র নারী চিকিৎসক যার নাম হের্টা ওবারহাউজার ছিল। তাকে ৮৬ জন নারীকে ভাইরাসে আক্রান্ত করা এবং শিশুদের হত্যার জন্য দায়ী করা হয়। এ অপরাধে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ইনজ ভেরিমিটজ মামলা থেকে খালাস পায়।

নাৎসি সমাজে প্রভাবের বৃত্ত

মেটভোডের কবর তার বোন ডায়ানার পাশে
লাল পদক

যদিও নাৎসি শাসনের অধীন নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল না, তবে অ্যাডলফ হিটলারের চারপাশে নারীদের প্রভাবের একটি বৃত্ত বিদ্যমান ছিল। এই বৃত্তের মধ্যে হিটলার ব্রিটিশ ফ্যাসিস্ট ইউনিটি মিটফোর্ডের গোয়েবলসের তথ্য মন্ত্রীর স্ত্রী ম্যাগদা গোয়েবলস সাথে পরিচিত হন যিনি একজন নাৎসি সহানুভূতিশীল নারী ছিলেন। ম্যাগদা গোয়েবলস "নাৎসি শাসনের ফার্স্ট লেডি" হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সরকারী সফর ও বিদেশীদের সাথে পরিচয়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে গোয়েবলসের সাথে তার বিয়ে জার্মান সমাজে একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত ছিল। কারণ পরিচালক লেনি রিফেনস্টাহল ছিলেন তার একজন বিশিষ্ট অতিথি। ১৯২০ সাল থেকে হিটলারের বন্ধু লেডি অ্যান্ড দ্য ড্রেড এলিয়েনর স্ত্রী ছিলেন অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া একমাত্র নারী। তাকে “লাল পদক” দেওয়া হয়েছিল। তিনি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনায় অংশ নিয়েছিলেন এবং হেনরিচ হিমলারের কাছাকাছি থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন। তাকে কর্নেল ওয়ালেস বলে ডাকতেন। তাকে ডাকাউ অঞ্চলের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বিনামূল্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নারীরাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের আলাদা করতে পেরেছিল, কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র পরিচালক লেনিকে বেশ কিছু চলচ্চিত্র (যেমন উইল অফ দ্য উইল ও অলিম্পিয়া) প্রযোজনার জন্য প্রচুর অর্থায়ন দেওয়া হয়েছিল। ইউনিফ্রেড ওয়াগনার অপেরা গায়িকা এলিজাবেথ শোয়ার্জকোফের অংশগ্রহণে বহুল প্রচারিত “বায়রুথ” উৎসবের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি আমেরিকান সংবাদপত্রে "নাৎসি গায়ক" নামেও পরিচিত ছিলেন। হানা রাইচ, একজন যোদ্ধা ও পাইলট যিনি শাসন ব্যবস্থার জন্য বিমান এবং সামরিক প্রকল্প পরীক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন, বিশেষ করে ভি-১। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনিই একমাত্র নারী যিনি রাজ্যে তার মহান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ “আয়রন ক্রস” পদক পেয়েছেন।

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন?

কানাডা গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি: আপনার কি ATIP অ্যাকাউন্ট আছে? না থাকলে কেন আজই প্রয়োজন? আপনি কি কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেছেন? অথবা...